আইরিশ স্ক্যান প্রযুক্তি ব্যবহার করে অফিসে অনুপস্থিত থাকলেও হাজিরা নিশ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ওই কর্মকর্তার নাম ডা. সানজিদা ইসলাম জেসমিন।
গত এপ্রিল মাসে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর এক লিখিত অভিযোগ থেকে এই তথ্য জানা যায়। তবে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে গত শুক্রবার (২০ জুন)।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ডা. সানজিদা নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকেও মোবাইল ফোনে সংরক্ষিত আই কন্ট্রাক্ট স্ক্যান প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিজিটাল হাজিরা দিতেন। এতে সহায়তা করতেন তার ব্যক্তিগত সহকারী মো. ফিরোজ খান। ফলে, শারীরিকভাবে অনুপস্থিত থাকলেও সময়মতো দাপ্তরিক উপস্থিতি ও প্রস্থানের রেকর্ড রাখা হতো।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, তিনি অফিসে অনুপস্থিত থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রে স্বাক্ষর, ফাইল অনুমোদনসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন, যা প্রশাসনিক নিয়মনীতি লঙ্ঘনের শামিল।
মাঠপর্যায়ের বেশ কয়েকজন পরিবার কল্যাণ সহকারী ও পরিদর্শক অভিযোগ করেন, প্রশিক্ষণ, বদলি, ইনসেনটিভ এবং ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণের সুযোগ পেতে তাদের অর্থ দিতে বাধ্য করা হয়। এসব ক্ষেত্রে জনপ্রতি ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়াও, সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেতে চাঁদা দিতে হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাইলে ডা. সানজিদা ইসলাম জেসমিন বলেন, কে, কী অভিযোগ করেছে, তা না জেনে এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, অফিসে উপস্থিত না থেকে ভিডিও কলে হাজিরা দেওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। ইতিমধ্যে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে।
হাসিবুর রহমান/সুমন/