২০২৪ সালের কোটাবিরোধী আন্দোলনে দাবি পূরণ না করে যখন তৎকালীন সরকারের নির্দেশে ছাত্র জনতার উপর গুলি বর্ষণ করা হয়েছিল তখন আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত জুলাই মাস শেষ হবে না। সেই হিসেবে ৫ আগস্ট ছিল ৩৬ জুলাই। এবং এ ৫ আগস্টই তৎকালীন সরকার প্রধান শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলে ছাত্র জনতার বিজয় হয়। তাই ঐতিহাসিক ‘৩৬ জুলাই’ স্মরণে ও জুলাই আন্দোলনে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন সিলেটের (এমজাস) উদ্যোগে ৩৬টি বৃক্ষরোপণ করা হয়।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) বেলা ১২টায় নগরীর বন্দরবাজার কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় যেখানে সিলেটের সাংবাদিক এটিএম তুরাব নিহত হয়েছিলেন সেখানের সড়ক বিভাজকে এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ‘শহিদের স্মরণে সবুজের অঙ্গীকার’ শিরোনামে সড়ক বিভাজকে সুনালো, হরতকি, তুলশী, দেবদারু, অর্জুন, আমলকী ও চিকরাশি গাছের চারা লাগানো হয়।
আয়োজকরা জানান, জুলাই আন্দোলনে সিলেট বিভাগে নিহত গেজেটভুক্ত ১৪ জন ও আন্দোলনে সিলেটে নিহত প্রথম ব্যক্তিসহ মোট ১৫ জনের নাম ফলক লাগানো হয় গাছে। বৃক্ষরোপণের এ আয়োজনে বিশেষ সহযোগিতা করে সিলেট বন বিভাগ ও ফারমিছ গার্ডেন হোটেল এবং রেস্টুরেন্ট।
এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি নাজমুল কবীর পাভেল, সাধারণ সম্পাদক আশকার ইবনে আমিন লাস্কর রাব্বির, সিলেট উইমেনস জার্নালিস্ট ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাকিলা ববি, এমজাসের আহ্বায়ক মাসুদ আহমদ রনি, যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন হোসেন, সদস্যসচিব এইচ এম শহীদুল ইসলাম দৈনিক শ্যামল সিলেটের ফটো জার্নালিস্ট আজমল আলী, সিলেট ভয়েসের মাল্টিমিডিয়া চিফ লতিফুর রহমান উজ্জল প্রমুখ।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সিলেটের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা বলেন, ‘বৃক্ষরোপণের এ উদ্যোগ শুধু আন্দোলনে শহিদদের স্মরণ নয়, বরং এটি প্রজন্মকে একটি বার্তা দেয়-সততা, সাহস ও সচেতনতার চেতনাকে বাঁচিয়ে রাখার অঙ্গীকার। এ সময় সাংবাদিক নেতারা তাদের সহকর্মী তুরাবের আত্মার মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি দ্রুততম সময়ের মধ্যে দোষীদের আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
রিফাত/