ঢাকা ১১ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কেমন গেল গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় রাউন্ড কাতারের বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে বসনিয়া গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে কানাডা-সুইজারল্যান্ড কানাডার ফুটবলারের পা ভেঙে ৫ ম্যাচ নিষিদ্ধ কাতারের মিডফিল্ডার ব্রাজিল-স্কটল্যান্ড ম্যাচ নিয়ে শঙ্কা রাজধানীতে আওয়ামী লীগের ২৬ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার বিশ্বকাপে নতুন মাইলফলকের দ্বারপ্রান্তে নেইমার জীবনে আর কিছু চাওয়ার নেই: মেসি ঈশ্বরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালালচক্রের দুই নারীকে কারাদণ্ড শনিবার পৃথিবীর পাশ দিয়ে যাবে বিশাল গ্রহাণু, দেখা যাবে দূরবীক্ষণ যন্ত্রে ব্রাজিল-স্কটল্যান্ড ম্যাচে কারা জিতবে, জানাল সুপারকম্পিউটার ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশের ওপর আসামির হামলা লিবিয়া থেকে ফিরলেন আরও ১৭০ বাংলাদেশি শৈলকুপায় সড়ক দুর্ঘটনায় যুবক নিহত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, চোখ হারালেন আইনজীবী জামালপুরে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু অনলাইন জুয়া এখন ফৌজদারি অপরাধ: অর্থমন্ত্রী ‘আওয়ামী লীগ পালাতে পেরেছে, বিএনপি-জামায়াত যাবে কই’ কুমিল্লায় সোনার বাংলা ট্রেনের ইঞ্জিন ও মেঘনা এক্সপ্রেসের ৪ বগি লাইনচ্যুত বেলকুচিতে টিফিনের পাউরুটি খেয়ে ৮ শিক্ষার্থী অসুস্থ বিশ্বকাপ উপলক্ষে ঢাবিতে বহিরাগতদের প্রবেশে কড়াকড়ি কসম ভঙ্গ করার পর শুধু মুখে দুঃখিত বলা কি যথেষ্ট? ব্যাংক খাত সংস্কারে বিশ্বব্যাংকের ৪৫ কোটি ডলার ঋণ নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলছে: যুবদল নেতা জিয়া তিন বছরের ভিক্ষার সঞ্চয় লুট, নিঃস্ব বৃদ্ধ নূর আলম পার্শ্ববর্তী দেশের বৈষম্যে আমাদের দেশের নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে: ত্রাণমন্ত্রী কাঁচপুর আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের কাজ ছয় মাসে শেষ হবে: সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী এনসিসি ব্যাংক এর ৪১তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত ৩ শিশুসহ ৯ জনের সীমান্তে মানবেতর জীবন ভোলার আদালতের এজলাসে বাদীর বিষপান

তিস্তা নদীতে অবৈধ পাথর উত্তোলন, নদী ভাঙনে গ্রাম বিলীন

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪৭ পিএম
আপডেট: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৫৫ পিএম
তিস্তা নদীতে অবৈধ পাথর উত্তোলন, নদী ভাঙনে গ্রাম বিলীন
ছবি: খবরের কাগজ

নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর ও বালু উত্তোলনের কারণে বেড়েছে নদী ভাঙন, পাথর সিন্ডিকেটের কারণে ডিমলার নদী ভাঙন এত তীব্র আকার ধারণ করেছে যে ইতোমধ্যে খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের কিসামত চর, ভাষানীর চর গ্রাম, নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। আশেপাশের গ্রাম ও মানুষের জীবিকা প্রতিদিন ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উজানে নির্বিচারে পাথর উত্তোলনের ফলে নদীর মাঝখানে জমে ওঠে বিশাল বালুর চর। ইঞ্জিন চালিত নৌকা দিয়ে নদীর তলদেশে গভীর খনন করে সেখান থেকে পাথর উত্তোলন করে জালের মতো ছাঁকনি দিয়ে আলাদা করে নৌকায় রাখা হয়। ভর্তি নৌকা গুলো নদীর পাড় থেকে ট্রাকে করে শঠিবাড়ী বাজার, ডালিয়া বাজার সড়কের ধারে স্তূপ করে রাখা হয়। সেখান থেকে রাতারাতি পাথর বিক্রি করা হয়। অবৈধভাবে পাথর ও বালু উত্তোলন করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে চক্র।

শুধু নদী নয়, তিস্তার ডানতীর বাঁধঘেঁষে সরকারি খাস জমি দখল করে একই পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন চলছে বছরের পর বছর। কেউ কেউ আবার নিজেদের মালিকানাধীন জমিতে গড়ে তুলেছে ক্ষুদ্র পাথর কারখানা। এর ফলে নদী ভাঙন, পথঘাট ভাঙন এবং জমির মাটি দেবে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে। অনেকে মন্তব্য করে বলেছেন, সিলেটের সাদা পাথরের ন্যায় তিস্তার পাথরও লুট করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কা্রণে খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের কিসামত ও ভাষানীর চর বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়াও তিস্তা ব্যারেজের ভাটি এলাকা হুমকির মুখে পড়েছে।

প্রতিনিয়ত নদী ডান তীরে সরে আসছে। তিস্তা নদীতে বড় ধরনের বন্যা আসলে নদী আসল রূপ ধারণ করে শত শত এলাকা ভাসিয়ে নিয়ে যাবে।

জানা যায়, ভারতের উজান থেকে নেমে আসা তিস্তা নদীর পানি বহুকাল ধরেই উত্তরবঙ্গের জীবন ও জীবিকার অন্যতম উৎস। এই নদীর পাড়ে গড়ে উঠেছে ফসলি জমি, বসতবাড়ি ও দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজ। কিন্তু বর্তমানে নদীটি এক ভয়াবহ সংকটের মুখোমুখি। ডিমলা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় দিন- রাত চলছে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের মহোৎসব। প্রভাবশালী চক্রের মদদে শত শত ইঞ্জিনচালিত নৌকা ব্যবহার করে নদী থেকে অবাধে তুলে নেওয়া হচ্ছে হাজার হাজার ঘনফুট পাথর। কয়েক বছর ধরে চলা এই কর্মকাণ্ডে নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, নদীর তীর ভেঙে যাচ্ছে, এবং ভিটেমাটি হারাচ্ছেন হাজারো পরিবার।

প্রতিদিন উপজেলার বাইশপুকুর, চরখড়িবাড়ি, একতা বাজার, তেলির বাজার, তিস্তা বাজার, কালিগঞ্জ ও ছোটোখাতা গ্রোয়েন বাঁধসহ অন্তত ১৫-২০টি স্থানে প্রশাসনের নীরবতার সুযোগে প্রভাবশালী চক্রের মদদে অব্যাহত রয়েছে এ ধ্বংসযজ্ঞ। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে উত্তরবঙ্গের প্রাণখ্যাত তিস্তা নদী শুধু একটি ভৌগোলিক সংকটই নয়, বরং মানবিক বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

মাছের ব্যাপক হ্রাস, প্রজননস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং তলদেশের নাজুক স্তর নষ্ট হওয়ার কারণে নদীর জৈবিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হচ্ছে। যা তিস্তা ব্যারেজের অদূরে, তিস্তা বাজার, তেলির বাজার, চরখড়িবাড়ি, বাইশপুকুর, কালিগঞ্জ, ভেন্ডাবাড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় পাথর উত্তোলনে প্রায় ১৫টি প্রভাবশালী চক্র জড়িত রয়েছে। পাথর উত্তোলনে শতশত ইঞ্জিন চালিত নৌকা ব্যবহার করা হচ্ছে। নৌকা চলন্ত অবস্থায় শ্যালো ইঞ্জিনচালিত পাখা দিয়ে নদীর তলদেশের বালু সরিয়ে পাথর তুলে পানির ওপরে নিয়ে আসা হয়। এভাবেই নদীর বিভিন্ন স্থানে সক্রিয় টিম পাথর উত্তোলন করছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অতীতে আওয়ামী লীগের নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে গড়ে তোলা টিম পাথর উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ছিল। দেশের প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর সেই দলটি ক্ষমতা হারালেও, বর্তমানে নতুন রূপে আবারও আরেকটি দল সক্রিয় হয়েছে। শত শত ট্রলি দিয়ে নদীর পাড় থেকে পাথর পরিবহনের ফলে তিস্তার ডানতীর প্রধান বাঁধ ও গ্রামীণ রাস্তাঘাট মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এরই মধ্যে ছোটোখাতা তফেল মেম্বারপাড়া, বাইশপুকুর, সীমান্তবর্তী কালিগঞ্জ, বার্ণিরঘাট বিজিবি ক্যাম্প এলাকার গ্রামগুলো ভাঙনের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

এলাকাবাসীদের দাবি, ২০১৬ সালের আগেই প্রভাবশালী একটি চক্র উপজেলা জুড়ে তিস্তা নদী, সরকারি খাসজমি ও নিজস্ব জমি থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন শুরু করে। সেই থেকে প্রতিবছরই নদীভাঙনের কবলে পড়ে কয়েক হাজার মানুষ বারবার বাস্তূহারা হয়েছেন।

কেউ আশ্রয় নিয়েছেন আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে, কেউবা বাঁধের ধারে অস্থায়ী ছাউনি গেড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এছাড়া নদীর পাড় থেকে বিভিন্ন স্থানে পাথর পরিবহনের সময় ট্রাক্টর ও ট্রলির পানি ঝরে পড়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণের ডানতীরের প্রধান বাঁধ ও স্থানীয় সড়কগুলোর বেহাল দশা হয়েছে। অনেক সড়ক চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে চলে পাথর পরিবহনের এ কার্যক্রম।

চরখড়িবাড়ি এলাকার বাসিন্দা কৃষক হাফেজ আলী মোল্লা বলেন, গত চার বছরে আমি দুবার বাড়িঘর হারিয়েছি। এক সময়ের ভাষানীর চর আজ সম্পূর্ণ বিলীন। বসতভিটা হারানোর বেদনা আমি ছাড়া আর কেউ বুঝবে না।

ছোটোখাতা তফেল মেম্বারপাড়ার বাসিন্দা হানিফ উদ্দিন প্রামানিক বলেন, অবৈধ পাথর উত্তোলনের কারণে চর খগাখড়িবাড়ি এলাকায় বিলীন হয়েছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একতার বাজার। এমনকি বিজিবির ক্যাম্পও ভাঙনের শিকার হয়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একইসঙ্গে ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার মানুষ হয়ে পড়েছেন গৃহহারা।

এছাড়া পাথর পরিবহনের কারণে উপজেলার কাঁচা-পাকা সব সড়কের অবস্থাই ভেঙে বেহাল, যা এখন চলাচলের প্রায় অযোগ্য।

পাথর ব্যবসায়ীদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করে অবৈধ উত্তোলন বন্ধের অনুরোধ জানালেও স্থানীয় অসাধু মহল তা কর্ণপাত করেনি।

পরিবেশবিদরা বলছেন, তিস্তা নদী থেকে এভাবে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন অব্যাহত থাকলে নদী তীরবর্তী জনপদের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে। কারণ, নদীর তলদেশ থেকে নির্বিচারে পাথর ও বালু তোলায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করছে।

দীর্ঘমেয়াদে এ ভাঙনের ফলে হাজারো মানুষকে বারবার বাস্তুহারা হতে হবে, গ্রামীণ অবকাঠামো ধ্বংস হবে, এমনকি কৃষিজমি ও জীববৈচিত্র্য চিরতরে হারিয়ে যাবে। 

তাই পরিবেশবিদরা অবিলম্বে অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধ করে বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা এবং নদী ও পরিবেশ রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, ‘তিস্তা নদীতে পাথর বা বালুমহাল নেই। এছাড়া নদী থেকে পাথর বালু উত্তোলনে নিষেজ্ঞাধাও রয়েছে। নদীর বালু, পাথরের উত্তোলনের বিষয়ে দেখার দায়িত্ব প্রশাসনের।
তিনি আরও বলেন, নদীর ভাঙন রোধে বিভিন্ন অবকাঠামো রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, নদী ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসন শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করবে।

মমিনুর/নাঈম

ঈশ্বরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালালচক্রের দুই নারীকে কারাদণ্ড

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম
ঈশ্বরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালালচক্রের দুই নারীকে কারাদণ্ড
ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ হাসপাতালে দালাল বিরোধী অভিযানে দুই নারীকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বুধবার (২৪ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টায় ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সানজিদা রহমান অভিযানটি পরিচালনা করেন।

অভিযানে দিলরুবা সুলতানা ও পলি আক্তারকে আটক করা হয়। পরে ওই দুই নারীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১ (এক) মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের প্রতারণার মাধ্যমে ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে ভালো চিকিৎসার কথা বলে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিতো তারা। এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযান চালানো হয়। এসময় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাকির হোসেনসহ পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিলেন।

ফয়সাল/এএফ

ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশের ওপর আসামির হামলা

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম
ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশের ওপর আসামির হামলা
ঠাকুরগাঁও সদর থানা। ছবি: খবরের কাগজ

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের কালিতলা বাজার এলাকায় আসামি ধরার অভিযানের সময় আসামির স্বজন ও সহযোগীদের হামলায় পুলিশের এক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ও এক কনস্টেবল আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা ও হামলার অভিযোগে এক নারীসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পূর্ব ফকদনপুর কালিতলা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট (এনআই) অ্যাক্টের একটি চেক প্রত্যাখ্যান মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি মো. সুমনকে (৪২) গ্রেপ্তারের জন্য সদর থানার এএসআই মো. সারোয়ার জাহানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালায় এবং বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আসামি সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারের পরপরই সুমনের স্বজন ও সহযোগীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। তারা পুলিশ সদস্যদের ঘিরে ধরে মারধর করে এবং আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।

এ ঘটনায় এএসআই মো. সারোয়ার জাহান ও কনস্টেবল মো. আব্দুস সালাম আহত হন। পরে তারা থানায় খবর দিলে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে সুমনের মা পারুল বেগম (৫৫) ও আসামি সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত অন্যরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

আহত পুলিশ সদস্যদেরকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তারা থানায় ফিরে যান।

ঘটনার পর এএসআই সারোয়ার জাহান বাদী হয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজাহান আলী বলেন, সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে পুলিশ হামলার শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নবীন/নাঈম

শৈলকুপায় সড়ক দুর্ঘটনায় যুবক নিহত

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম
শৈলকুপায় সড়ক দুর্ঘটনায় যুবক নিহত
ছবি: খবরের কাগজ

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় সড়ক দুর্ঘটনায় জয়ন্ত সরকার (১৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন) বিকালে উপজেলার নিত্যানন্দপুর ইউনিয়নের রঘুনন্দনপুর গ্রামের মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। নিহত যুবক পৌরসভার ঝাউদিয়া গ্রামের বিনানন্দ সরকারের ছেলে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, বন্ধুদের সঙ্গে মোটরসাইকেলযোগে উপজেলার বকশিপুর গ্রামে গঙ্গা পূজা দেখতে যাচ্ছিলেন জয়ন্ত। মোটরসাইকেলের চালক তিনি ছিলেন। পথে রঘুনন্দনপুর গ্রামের মোড়ে পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে থাকা একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে তিনি ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে বন্ধুরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আলমগীর/এএফ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, চোখ হারালেন আইনজীবী

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ১০:২৩ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, চোখ হারালেন আইনজীবী
শ্যামল চন্দ্র দাস/ ছবি: খবরের কাগজ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে ট্রেনে দুর্বৃত্তদের ছোড়া পাথরের আঘাতে একচোখের দৃষ্টি হারিয়েছেন শ্যামল চন্দ্র দাস (৪৫) নামে এক আয়কর আইনজবী।

সোমবার (২২ জুন) রাতে আশুগঞ্জর উপজেলার তালশহর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আঘাতের পর অস্ত্রোপচার করেও শ্যামলের চোখ রক্ষা করা যায়নি।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে পারিবারিক কাজে ঢাকায় যান শ্যামল। কাজ শেষ করে সেদিন রাতেই চট্টগ্রামগামী তুর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনে করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফিরছিলেন তিনি। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে ট্রেনটি তালশহর রেলওয়ে স্টেশন অতিক্রম করার সময় বাইরে থেকে হঠাৎ করে পাথর ছুড়তে থাকে দুর্বৃত্তরা।

এতে করে পাথরের আঘাতে শ্যামলের ডান চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে নেমে তাকে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

পরে মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত টানা কয়েক ঘণ্টা অস্ত্রোপচার করেও তার চোখটি রক্ষা করা যায়নি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শাহ আলম জানান, ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় যাত্রী আহত হওয়ার খবর শুনেছেন। তবে ফাঁড়িতে কেউ অভিযোগ করা হয়নি বলে জানান তিনি।

আজিজুল/আমান

জামালপুরে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ১০:১২ পিএম
জামালপুরে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু
ছবি: খবরের কাগজ

জামালপুরের মাদারগঞ্জে মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে রুস্তম আলী (৪৭) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার ৫ নম্বর জোড়খালী ইউনিয়নের ফুলজোড় উত্তরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রুস্তম আলী একই এলাকার সোহরাব আলীর ছেলে। তিনি পেশায় কৃষক ছিলেন।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যার দিকে রুস্তম আলী মাঠে থাকা গরু বাড়িতে নিয়ে আসার জন্য বের হন। তখন হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বৃষ্টি শুরু হয়। তিনি গরু নিয়ে ফেরার পথে তার ওপরে বজ্রপাত হলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে স্থানীয় লোকজন তার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসেন।

এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশিস রায় বলেন, বজ্রপাতে রুস্তম আলী নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

আসমাউল আসিফ/নাঈম