প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উচ্চ পর্যায়ের একটি টিম রংপুর ও গাইবান্ধা জেলায় অ্যানথ্রাক্স সংক্রমণের উৎস ও পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
আজ মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) তিন সদস্যের একটি টিম রংপুরের কাউনিয়া ও পীরগাছায় অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত খামারিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন।
এদিকে, পীরগাছা, কাউনিয়া, মিঠাপুকুরের পর রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলাতে দুই ব্যক্তির শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ পাওয়া গেছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, ওই দুই ব্যক্তির নমুনা আজ সংগ্রহ করে আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে।
প্রাণিসম্পদ বিভাগের উচ্চ পযায়ের অনুসন্ধান টিমটি গতকাল সোমবার আসেন। টিমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কমিটির আহ্বায়ক প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. বয়জার রহমান। অন্য দুই সদস্য হলেন অধিদপ্তরের এপিডেমিওলজি সেলের ডা. ফয়সাল তালকদার ও ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচারের (এফএও) ন্যাশনাল টেকনিশিয়ান অ্যাডভাইজার ডা. তায়ফুর রহমান।
জেলা প্রাণিসম্পদ কাযালয় সূত্র জানায়, প্রতিনিধি দলটি গতকাল তারাগঞ্জের ইকরচালী ইউনিয়নেরর বানিয়াপাড়াতে যান। সেখানে আমিনুল ইসলাম নামে একজন খামারির সম্প্রতি তিনটি গরু মারা গেছে। ওই গুলো পুতে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে গবাদিপশু তিনটি যে গাছ খেয়েছে, তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতিনিধি দলটি আজ রংপুরের কাউনিয়ার ঠাকুরদাস, পীরগাছার আনন্দী ধনীরাম ও মাইটাইল গ্রামে যান। পীরগাছায় এই দু্ই এলাকায় অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে দুই নারী-পুরুষ মারা গেছেন। এ ছাড়া এসব গ্রামে আনথ্রাক্সের আক্রমণে বেশকিছু গরু মারা গেছে। প্রতিনিধি দলটির আগামীকাল বুধবার মিঠাপুকুর ও গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলাতে যাওয়ার কথা রয়েছে।
অনুসন্ধান কমিটির আহ্বায়ক ডা. মো. বয়জার রহমান বলেন, গবাদিপশুর সংগৃহিত ১১টি মাংসের নমুনার মধ্যে ১০টির মধ্যে অ্যানথ্রাক্স পজেটিভ পাওয়া গেছে। আর কিছু নমনা এখনও পাঠাচ্ছে। সেগুলোর নমুনা আমরা পাইনি। আমরা ঘাস ও মাটির নমুনা নিয়েছি। সেগুলো পরীক্ষা করে দেখা হবে।
প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বলছেন, জাতীয় চাহিদা অনুযায়ী গবাদপশুকে অ্যানথ্রাক্সের টিকা দেওয়া হয়। অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত হলে আমরা রিং মডেলে টিকাদান কর্মসূচি চালায়। অর্থাৎ যেসব এলাকায় অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণ পাওয়া যায়, ওই এলাকা ও চারপাশে দেওয়া হয় যাতে সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে। কিন্তু গত সময়ে সিরাজগঞ্জ ছাড়া এত বিস্তৃত আকারে অ্যানথ্রাক্স ছড়ায়নি। তাই আক্রান্ত এলাকাগুলোর সব গবাদিপশুকে অ্যানথ্রাক্সের টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
ডা. মো. বয়জার রহমান বলছেন, অ্যানথ্রাক্স সংক্রমণের সার্বিক পরিস্থিতি পযবেক্ষণ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত ও সুপারিশ করবে।
এদিকে, গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মর্ণেয়া ইউনিয়নের মৌভাষায় বাপ-মেয়ের অ্যানথ্রাক্স উপসর্গ দেখা দেওয়ায় আজ তাদের দু’জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু মো. আলেমুল বাসার বলেন, মৌভাষা এলাকাটি কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ সংলগ্ন। কাউনিয়ার হারাগাছে যেহেতু অ্যানথ্রাক্স রোগী শনাক্ত হয়েছে, তাই এই দুই রোগীকেও সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছে।
সেলিম সরকার/মাহফুজ