সিলেট জেলায় ১০ লাখ ১৬ হাজার ৫০২ জন শিশুকে টাইফয়েড টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
শনিবার (১১ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় সিলেট সিভিল সার্জন কার্যালয়ে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের নিয়ে টাইফয়েড টিকাদান বিষয়ক পরামর্শ কর্মশালায় এই তথ্য জানানো হয়।
জেলা তথ্য অফিস সিলেটের উদ্যোগে ইউনিসেফের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার।
বিভাগীয় তথ্য অফিসের পরিচালক মীর মোহাম্মদ আসলাম উদ্দিনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় দত্ত, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম, বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সিলেট এর বিভাগীয় উপপরিচালক মো. নূরুল ইসলাম, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সিলেট বিভাগের ডিভিশনাল কো-অর্ডিনেটর ডা. খালিদ আহমেদ ও ইউনিসেফ সিলেট হেলথ অফিসার ডা. মির্জা ফজলে এলাহী।
কর্মশালায় জানানো হয়, আগামী ১২ অক্টোবর থেকে ১৮ কর্মদিবস ব্যাপী টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হতে যাচ্ছে। আসন্ন টিকাদান ক্যাম্পেইন এ ৯ মাস বয়স থেকে ১৫ বছর এর কম বয়সী এবং প্লে গ্রুপ থেকে ৯ম শ্রেণিতে পড়ছে বা এর সমমান সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সকল শিশু এবং কিশোর-কিশোরীদের এক ডোজ টিকা প্রদান করা হবে।
সরকারিভাবে এবং সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই টিকা প্রদান করা হবে। প্রথম ১০ দিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এবং পরের ৮ দিন কমিউনিটি পর্যায়ে ইপিআই টিকাদান কেন্দ্র ও অন্যান্য অস্থায়ী কেন্দ্রে এই টিকা প্রদান করা হবে। টিকার নিবন্ধন করার জন্য ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন দিয়ে vaxepi.gov.bd এই website টি ব্যবহার করতে হবে।
সিলেট জেলায় ১০ লাখ ১৬ হাজার ৫০২ জন শিশুকে এই টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট সিটি করপোরেশনের ১ লক্ষ ৬২ হাজার ৫২২ জন ও সিলেট জেলার ১৩ উপজেলায় ৮ লাখ ৫৩ হাজার ৯৮০ জন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার বলেছেন, গুজব প্রতিরোধে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। যে কোন সংবাদের উৎস পর্যবেক্ষণ করলে গুজব বা অবাঞ্চিত সংবাদ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পাওয়া যাবে। টিকা নিয়ে গুজব ছড়ানোর আরেকটি কারণ হলো অনেক কোম্পানির টিকা নিয়ে ব্যবসা। সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সরকার বিনামূল্যে যে টিকা দিচ্ছে তা বেসরকারি উৎস হতে সংগ্রহ করলে প্রায় ৩০ কোটি টাকা লাগবে।
সভাপতির বক্তব্যে বিভাগীয় তথ্য অফিসের পরিচালক মীর মোহাম্মদ আসলাম উদ্দিন বলেন, টিকা বিষয়ক গুজব প্রতিরোধে সংবাদ পরিবেশন করার পূর্বে ফ্যাক্ট চেক করতে পারলে ভালো। আমাদের সংবাদ হবে জনকল্যাণমূলক। সিলেটের প্রত্যেকেই যেন স্বাস্থ্য সেবা পায় এবং নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী টাইফয়েড টিকার আওতায় আসে সেজন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।
এসএ/