কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মালবাহী একটি ট্রাক উল্টে সিএনজি অটোরিকশা ও ইজিবাইকের উপর চাপা দিলে তিন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন।
সোমবার (১০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার ৮নং মুন্সিরহাট ইউনিয়নের ফেলনা গ্রামে ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা ঘটে।
চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হিলাল উদ্দিন আহমেদ তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহতরা হলেন—চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার নাটাপাড়ার কালা মিয়ার ছেলে মমতাজ মিয়া, নাঙ্গলকোট উপজেলার মহেশ্বর গ্রামের আবুল বাশার এবং তার স্ত্রী মোরশেদা বেগম।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন—একই গ্রামের নিহত আবুল বাশারের ছেলে আবু তৈয়ব, বাঙ্গড্ডা গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে আব্দুর রহিম, অটোচালক মাহবুবুল হক (পিতা আলী হোসেন), এবং আনোয়ারা বেগম (পিতা আবুল কালাম)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় লাকসাম–চৌদ্দগ্রাম আঞ্চলিক সড়কের ফেলনা কাজী বাড়ির সামনে চৌদ্দগ্রামমুখী একটি মালবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীতমুখী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি ইজিবাইকের উপর উল্টে পড়ে। এতে সিএনজি ও ইজিবাইক দুটিই ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে।
খবর পেয়ে স্থানীয়রা ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুইজন পুরুষ ও একজন নারীসহ তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার করেন। নিহতরা সবাই সিএনজি অটোরিকশার যাত্রী। আহত পাঁচজনকে উদ্ধার করে প্রথমে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়; পরে তাদের অবস্থার অবনতি হলে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহতদের মধ্যে আব্দুর রহিম, আনোয়ারা বেগম, আবু তৈয়ব এবং এক অজ্ঞাত ব্যক্তির অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে উদ্ধার কার্যক্রম সম্পন্ন করে।
প্রত্যক্ষদর্শী হাফেজ মর্তুজা ও নাসরিন বেগম বলেন, সিএনজি ও ইজিবাইক চালকদের অসচেতনতা এবং গতি নিয়ন্ত্রণের অভাবেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে তিনজন মারা গেছেন, আহতদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
চৌদ্দগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ মেহেদী হাসান বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ওসি মোহাম্মদ হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে যায়। ট্রাক, সিএনজি ও ইজিবাইকের ত্রিমুখী সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা গেছে।
জহির/মেহেদী/