ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
আরআইবিএর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল ব্র্যাকইউনিভার্সিটির পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস লুপাস চিকিৎসায় যুগান্তকারী সাফল্য, জিন থেরাপিতে সুস্থ ৫ রোগী ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির দাফন ৯ জুলাই ‘লাভ তো দূরের কথা বাড়ি থেকে টাকা দিতে হচ্ছে’ বাজেটের রাজস্ব আদায় বড় চ্যালেঞ্জ: এফবিসিসিআই বরিশালে হাম-ডেঙ্গুর মাঝে উদ্বেগ ছড়াচ্ছে ডায়রিয়াও ভারতের নতুন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ নতুন ভোরের অপেক্ষায় জার্মানি ১৪ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১৪ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল সুইজারল্যান্ডে জনসংখ্যা ১ কোটিতে সীমিত করতে গণভোট যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির সবশেষ পরিস্থিতি রাজশাহীতে বৈরী আবহাওয়ায় লিচুর সর্বনাশ সেলিনা হোসেনের জন্মদিন আজ ময়মনসিংহে হামে উৎকণ্ঠা আর জীবন বাঁচানোর লড়াই ১৯৯৮ সালের পর বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের প্রথম গোল জন ম্যাকগিনের অজিদের আজ ধবলধোলাই করার লগন হাতি বনাম লা ত্রির লড়াই বিশ্বাসের সমুদ্রে ফন ডাইকের তরি ১৪ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি সমতায় বিশ্বকাপ মিশন শুরু ব্রাজিলের স্বপ্নের জাদুকর মুসিয়ালা পথপ্রদর্শক বাকুনা ভিনিসিয়ুসের গোলে সমতায় ফিরল ব্রাজিল পরাশক্তি জার্মানির সামনে পুঁচকে কুরাসাও ডার্কহর্স জাপান, সতর্ক নেদারল্যান্ডস ব্রাজিলের শুরুর একাদশে চমক অতিরিক্ত সময়ের গোলে সুইসদের রুখে দিয়ে কাতারের বাজিমাত ৯২ বছর ধরে বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে হারেনি ব্রাজিল নেইমারকে ছাড়াই নামছে ব্রাজিল, ভাঙছে ৪০ বছরের ঐতিহ্য
Nagad desktop

মাদারগঞ্জে সমবায় সমিতির আমানত ফেরতের দাবিতে মশাল মিছিল

প্রকাশ: ১৬ নভেম্বর ২০২৫, ১০:২৩ পিএম
মাদারগঞ্জে সমবায় সমিতির আমানত ফেরতের দাবিতে মশাল মিছিল
ছবি: খবরের কাগজ

জামালপুরের মাদারগঞ্জে বিভিন্ন সমবায় সমিতিতে আমানত রাখা প্রায় ৩২ হাজার গ্রাহকের ৭২০ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ফেরতের দাবিতে মশাল মিছিল করেছে ভুক্তভোগীরা।

রবিবার (১৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় মাদারগঞ্জে বিভিন্ন সমবায় সমিতিতে আমানতের অর্থ উদ্ধারের দাবিতে সহায়ক কমিটি এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

সহায়ক কমিটির ব্যানারে আয়োজিত এই মশাল মিছিলে কয়েক হাজার গ্রাহক ও কমিটির নেতারা অংশ নেন। উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বালিজুড়ী বাজারের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আয়োজিত সমাবেশে কমিটির আহ্বায়ক শিবলুল বারী রাজু, সদস্য মাহবুব আলম রতন ও সোনা মোল্লা বক্তব্য দেন।

তারা বলেন, গ্রাহকদের আমানতের টাকা ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। কেউ বাড়ি ফিরে যাবে না। সমবায় সমিতির পরিচালকদের গ্রেপ্তার এবং দ্রুত আমানতের অর্থ উদ্ধারে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।

উল্লেখ্য, গত ১১ নভেম্বর থেকে ২৩টি সমবায় সমিতির গ্রাহকরা টানা তিন দিন উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ঘেরাও করেন। সাপ্তাহিক ছুটির কারণে ১৪ ও ১৫ নভেম্বর কর্মসূচিতে বিরতি থাকলেও রবিবার থেকে আবারও আন্দোলন শুরু হয়। এতে উপজেলার সব সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

আসাদ/রিফাত/

বরিশালে হাম-ডেঙ্গুর মাঝে উদ্বেগ ছড়াচ্ছে ডায়রিয়াও

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৪০ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৫০ এএম
বরিশালে হাম-ডেঙ্গুর মাঝে উদ্বেগ ছড়াচ্ছে ডায়রিয়াও
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

দেশজুড়ে হাম ও ডেঙ্গুর সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই বরিশালে বাড়ছে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা। তীব্র গরম, দূষিত পানি ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে প্রতিদিনই নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। ধারণক্ষমতার চেয়ে অধিক হারে রোগী ভর্তি হওয়ায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং  সদর হাসপাতালে অনেক রোগীকেই মেঝে ও বারান্দায় থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সংক্রামক রোগের এই বহুমুখী চাপ জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।

বরিশাল সদর হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ জুন থেকে ১১ জুন পর্যন্ত আট দিনে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ১৪২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। প্রতিদিন গড়ে ১৭ থেকে ২১ জন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। যদিও অনেক রোগী চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন, তবুও নতুন আক্রান্তের ধারাবাহিকতা উদ্বেগের কারণ হয়ে রয়েছে।

বরিশাল সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, ডায়রিয়া রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যা মাত্র চারটি। রোগীর চাপ সামাল দিতে অতিরিক্ত ছয়টি শয্যা যুক্ত করে মোট ১০টি বেড চালু করা হয়েছে। তবে শয্যার তুলনায় প্রতিদিন রোগী বেশি আসায় অনেককেই হাসপাতালের মেঝে, বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে রোগীর স্বজনদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

চিকিৎসা নিতে আসা আশিকুর রহমান বলেন, ‘হঠাৎ পাতলা পায়খানা ও বমি শুরু হয়। শরীর দুর্বল হয়ে পড়লে হাসপাতালে আসি। এখানে এসে দেখি অনেক রোগী ভর্তি। এখন পর্যন্ত তেমন কোনো ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়নি। হাসপাতাল থেকেই বেশির ভাগ ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা পাওয়া যাচ্ছে।’

তাসলিমা বেগম নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, ‘আমার শ্বশুর ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছি। রোগীর সংখ্যা এত বেশি যে ওয়ার্ডে জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। গরমের কারণে আশপাশের অনেক মানুষও অসুস্থ হচ্ছেন।’
সদর হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ৪ জুন ভর্তি হন ১৩ জন, ৫ জুন ২০, ৬ জুন ১৩, ৭ জুন ১৯, ৮ জুন ২১, ৯ জুন ১৮, ১০ জুন ১৭ এবং ১১ জুন ২১ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে। 

বরিশাল সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মলয় কৃষ্ণ বড়াল বলেন, ‘তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বিশুদ্ধ পানির অভাব এবং নিরাপদ খাদ্য গ্রহণে অসচেতনতার কারণে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালে পর্যাপ্ত স্যালাইন, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী মজুত রয়েছে। পরিস্থিতি আমরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছি।’

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রীষ্ম ও বর্ষার শুরুতে খাবার দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। দূষিত পানির মাধ্যমে রোগজীবাণু সহজে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ফুটানো বা বিশুদ্ধ পানি পান, খাবার ঢেকে রাখা, নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এবং খোলা খাবার এড়িয়ে চলার বিকল্প নেই।

এদিকে দেশে হাম ও ডেঙ্গুর সংক্রমণও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. লোকমান হাকিম বলেন, ‘হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিন এক হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হচ্ছে। একই সময়ে ডেঙ্গুতেও প্রতিদিন ৫০ জনের বেশি নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে। এর মধ্যে ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পেলে স্বাস্থ্য বিভাগের ওপর চাপ আরও বাড়বে।’

তিনি বলেন, ‘জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা এখন খুবই জরুরি, নইলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।’

ডা. লোকমান হাকিম আরও বলেন, ‘ডায়রিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। পর্যাপ্ত স্যালাইন গ্রহণ ও পানিশূন্যতা প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’

ময়মনসিংহে হামে উৎকণ্ঠা আর জীবন বাঁচানোর লড়াই

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:২৮ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৩৯ এএম
ময়মনসিংহে হামে উৎকণ্ঠা আর জীবন বাঁচানোর লড়াই
ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালের বেডে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে এক শিশু। ছবিটি সম্প্রতি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ড থেকে তোলা/ খবরের কাগজ

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে এখন কেবলই উৎকণ্ঠা আর জীবন বাঁচানোর লড়াই। গত তিন মাসে দুই হাজারেরও বেশি শিশু আক্রান্ত ও ৪৯ জনের মৃত্যু পরিস্থিতির ভয়াবহতা ফুটিয়ে তুলেছে। শয্যাসংকটে মেঝেতে ঠাঁই হওয়া অসুস্থ শিশুদের কষ্ট আর স্বজনদের নিরন্তর অপেক্ষা যেন এক নীরব স্বাস্থ্যসংকটের প্রতিচ্ছবি। আইসিইউহীন এই লড়াইয়ে চিকিৎসকদের নিরলস চেষ্টা সত্ত্বেও বাড়ছে উদ্বেগ।
গত মার্চের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হওয়া হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রতিদিন নতুন নতুন শিশু ভর্তি হওয়ায় হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে বাড়ছে চাপ।

সরেজমিন ঘুরে ওয়ার্ডের প্রতিটি কোণেই অসহায়ত্বের দৃশ্য চোখে পড়ে। অনেক শিশুর শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, কারও উচ্চ জ্বর, পাশাপাশি ভুগছে নিউমোনিয়ায়, কারও আবার তীব্র শ্বাসকষ্ট। নির্ধারিত শয্যাসংকটের কারণে অনেককে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। সন্তানের মাথার পাশে বসে থাকা মায়েদের চোখে ঘুম নেই, বাবাদের মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ স্পষ্ট।

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা থেকে আসা সাবিনা ইয়াসমিন মুক্তা জানান, সম্প্রতি তার আট মাস বয়সের শিশু মেয়ে রাইসা তাবাসসুমের শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়ার পর স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেওয়া হয়েছিল। সাময়িকভাবে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়। তবে পরে আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেলে আনা হয়। এখন সাবিনা ইয়াসমিন শুধু অপেক্ষা করছেন সন্তানের সুস্থতার সংবাদ শোনার জন্য।

একই ধরনের উদ্বেগে দিন কাটছে ময়মনসিংহ সদর এলাকার বহু পরিবারের। কেউ হামের পাশাপাশি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত, কেউ আবার হৃদরোগজনিত জটিলতায় ভুগছে। অনেক ক্ষেত্রে একই পরিবারের একাধিক শিশু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। এতে শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকিই নয়, পরিবারগুলোকে পড়তে হচ্ছে চরম মানসিক ও আর্থিক সংকটে।

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার দাপুনিয়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল করিম। তার তিন শিশু ও দুই আপন ভাতিজা হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি আছে।
আব্দুল করিম বলেন, ‘আমার ১৩ বছরের মেয়ে সাদিয়া আক্তার, দুই বছরের ছেলে রাফসান ও ৪ মাস বয়সের আরেক মেয়ে সাইফা আক্তার হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি আছে। এ ছাড়া আমার ৫ বছর বয়সের ভাতিজা জুবায়েদ ও ৩ মাস বয়সের আরেক ভাতিজা আয়ানকে ভর্তি করা হয়েছে। সবাই হামের উপসর্গের পাশাপাশি শাসকষ্ট, জ্বর, কাশি ও পাতলা পায়খানায় ভুগছে। শিশুদের নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছি।’

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্র বলছে, গত ১৭ মার্চ থেকে ১২ জুন সকাল পর্যন্ত (প্রায় তিন মাস) হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২ হাজার ৪৩ শিশু ভর্তি হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ৪৯ শিশুর মৃত্যু পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

চিকিৎসকরা জানান, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে টিকাপ্রাপ্ত ও টিকাবিহীন–দুই শ্রেণির শিশু রয়েছে। তবে অপুষ্টি, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকা ও দেরিতে হাসপাতালে আনার কারণে অনেক ক্ষেত্রে জটিলতা মারাত্মক আকার ধারণ করছে। সংক্রমণ মোকাবিলায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রথমে একটি বিশেষ হাম কর্নার চালু করে। পরে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড খোলা হয়। বর্তমানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত তিনটি মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে।

তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে শিশুদের জন্য পূর্ণাঙ্গ নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) না থাকা। গুরুতর শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত শিশুদের জন্য বিকল্পব্যবস্থা হিসেবে বাবল সিপ্যাপ প্রযুক্তির মাধ্যমে অক্সিজেন সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। 

চিকিৎসকদের মতে, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও জনবল নিশ্চিত করা গেলে শিশুদের জন্য আইসিইউ চালু করা সম্ভব হবে, যা সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম মেডিকেল দলের ফোকালপারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা বলেন, সময়মতো এমআর টিকা গ্রহণ, অবিভাবকদের সচেতনতা, আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখা ও দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে হামের অধিকাংশ জটিলতা প্রতিরোধ করা সম্ভব। এ ছাড়া জটিল অবস্থা সৃষ্টি হওয়ার আগেই শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন খান বলেন, ‘আক্রান্ত শিশুদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। রোগীর চাপ অনেক বেশি হলেও চিকিৎসকরা সমন্বিতভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছেন।’

নাটোরে ৭০ দরিদ্র রোগীর বিনামূল্যে ছানি অপারেশন

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:৪৬ পিএম
নাটোরে ৭০ দরিদ্র রোগীর বিনামূল্যে ছানি অপারেশন
ছবি: সংগৃহীত

চোখের নানা সমস্যা স্বত্বেও টাকার অভাবে চিকিৎসা বঞ্চিত নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার ৭০ জন দরীদ্র মানুষ পেতে যাচ্ছে বিনা খরচে চোখের ছানি অপারেশনের সুযোগ।

শনিবার (১৩ জুন) দিনব্যাপী ফ্রি পরীক্ষা-নীরিক্ষা শেেষে ওই ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়। 

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক চক্ষু শিবিরে ওই কর্মসূচী পালিত হয়।

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক ড.মোঃ জিয়াউল হক জিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান,নলডাঙ্গা ডায়াবেটিক সেন্টারে গাক চক্ষু হাসপাতালে ওই চক্ষু শিবিরের আয়োজন করা হয়।

দিনব্যাপী শত শত রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেয়া হয়। এর মধ্যে ৭০ জনকে ছানি অপারেশনের জন্য চিহ্নিত করা হয়।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান,বাছাইকৃত ওই ৭০ জন ছানি  অপারেশনর যোগ্য রোগীকে বগুড়ায় গাক চক্ষু হাসপাতাল পাঠানো হবে।সেখানেই অপারেশন হবে। তবে রোগীদের  যাওয়া, আসা, অপারেশন, ঔষধ, চশমা, ও থাকা খাওয়ার কেন খরচ দিতে হবে না।

দিনব্যাপী ওই চক্ষু চিবিরে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উপজেলা সভাপতি মামুনুর রশিদ মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন,ছাত্র শিবিরের সাবেক জেলা সভাপতি ও বর্তমান কেন্দ্রীয় সহকারী দপ্তর সম্পাদক আফতাব আলী, নলডাঙ্গা শ্রমিক কল্যান ফেডারেশনের পৌরসভা সভাপতি সাইফুল ইসলাম, হাজী কল্যান সমিতির সাধারন সম্পাদক  আবুল হোসেন, নিজাম উদ্দিন ও জিয়ারুল।

কামাল মৃধা/এসএন

চাকরি মেলায় সাড়া, রাজশাহীতে ৫০ শতাংশ প্রার্থীর তাৎক্ষণিক নিয়োগ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:৪০ পিএম
চাকরি মেলায় সাড়া, রাজশাহীতে ৫০ শতাংশ প্রার্থীর তাৎক্ষণিক নিয়োগ
ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীতে দিনব্যাপী এক ব্যতিক্রমধর্মী চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মেলায় অংশ নেওয়া শতাধিক চাকরিপ্রত্যাশীর মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ প্রার্থী প্রাথমিক বাছাই ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরির সুযোগ পেয়েছেন।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে নগরীর কাদিরগঞ্জ এলাকার শাহ ডাইন কনভেনশন সেন্টারে এ চাকরি মেলার আয়োজন করা হয়। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় এবং ‘রেইজ’ প্রকল্পের আওতায় ‘প্রয়াস’সহ তিনটি সামাজিক সংগঠন যৌথভাবে মেলার আয়োজন করে।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, মেলায় সরকারি ও বেসরকারি খাতের ২৭টি প্রতিষ্ঠান এবং তিন শতাধিক চাকরিপ্রত্যাশী অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টলে দক্ষ জনবলের ব্যাপক চাহিদা লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে দক্ষ কর্মী, সেলসম্যান এবং কম্পিউটার অপারেটর পদে নিয়োগের জন্য বিপুলসংখ্যক আবেদন গ্রহণ করা হয়।

মেলায় চাকরিপ্রত্যাশীরা নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সিভি জমা দেন এবং সরাসরি মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান। প্রার্থীদের দক্ষতা ও যোগ্যতা যাচাই শেষে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আবেদনকারীকে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরির জন্য নির্বাচিত করা হয়।

নিয়োগ কার্যক্রমের পাশাপাশি চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য সিভি হালনাগাদ, ক্যারিয়ার উন্নয়ন এবং চাকরির প্রস্তুতি বিষয়ক পরামর্শ ও সেমিনারের আয়োজন করা হয়। ফলে তরুণ চাকরিপ্রত্যাশীরা একই স্থানে চাকরি খোঁজার পাশাপাশি নিজেদের দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগও পান।

আয়োজকরা জানান, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণ-তরুণীদের বিভিন্ন কর্মমুখী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত করা এবং তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করাই এ মেলার মূল উদ্দেশ্য।

অনুষ্ঠানে শতফুল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক নাজিম উদ্দীন মোল্লার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) টুকটুক তালুকদার।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)-এর উপমহাব্যবস্থাপক মো. রফিকুল ইসলাম, রেইজ প্রকল্পের পিকেএসএফ উপ-প্রকল্প সমন্বয়কারী গোলাম জিলানী, প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক হাসিব হোসেন এবং শাপলা গ্রাম উন্নয়ন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মোহসিন আলীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এনায়েত করিম/এসএন

‘ফেনীর সাংবাদিকতার ইতিহাসে উজ্জ্বল অধ্যায় ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল’

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম
‘ফেনীর সাংবাদিকতার ইতিহাসে উজ্জ্বল অধ্যায় ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল’
ছবি: সংগৃহীত
ফেনীর সাংবাদিকতার অঙ্গনে দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের যে আলোকবর্তিকা জ্বালিয়ে রেখেছিলেন এনটিভি ও জনকণ্ঠের প্রবীণ সাংবাদিক ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল, তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে নাগরিক শোকসভা করেছে ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটি। তিনি এ সংগঠনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন।
 
শোকসভায় বক্তারা বলেন, ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল শুধু একজন সাংবাদিক ছিলেন না, তিনি ছিলেন ফেনীর সংবাদজগতের এক প্রতিষ্ঠান। তার মৃত্যুতে ফেনীর সাংবাদিকতায় এমন এক শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, যা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
 
শনিবার (১৩ জুন) বিকালে শহরের রাজাঝির দিঘির পশ্চিম পাড়ে ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটি প্রাঙ্গণে এ শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন। সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলাল, জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুফতি আবদুল হান্নান, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী, ফেনী আদালতের জিপি নুরুল আমীন খান, জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক আ ন ম আবদুর রহিম।
 
বক্তারা বলেন, ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল ছিলেন ফেনীর চারণ সাংবাদিক। তিনি সংবাদকে কেবল পেশা হিসেবে নয়, মানুষের অধিকার ও জনস্বার্থ রক্ষার হাতিয়ার হিসেবে দেখতেন। তিনি চলে গেলেও তার সততা, মানবিকতা, পেশাদারিত্ব এবং সাংবাদিকতার প্রতি দায়বদ্ধতা ফেনীর সংবাদজগতে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার কর্মময় জীবন আগামী দিনের সাংবাদিকদের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
 
তারা আরও বলেন, ফেনীর সাংবাদিক সমাজে ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল ছিলেন একটি নির্ভরতার নাম। পেশাগত প্রতিযোগিতার ঊর্ধ্বে উঠে তিনি সহকর্মীদের সহযোগিতা করতেন। সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন, নতুনদের পথ দেখানো এবং সত্য প্রকাশে আপসহীন অবস্থানের জন্য তিনি সবার কাছে সম্মানিত ছিলেন। তার মৃত্যুতে শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো জেলার সংবাদমাধ্যম অঙ্গন একজন অভিভাবককে হারিয়েছে।
 
শোকসভায় স্মৃতিচারণ করে আরও বক্তব্য রাখেন ফেনী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবু তাহের ও আবদুর রহিম, ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান দারা, ফেনী সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান, ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি আরিফুল আমিন রিজভী, শুকদেব নাথ তপন ও এনামুল হক পাটোয়ারী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক যতন মজুমদার, মরহুমের মামাতো ভাই নাসির উদ্দিন হায়দার সাইমুন, সাংস্কৃতিক সংগঠক শান্তি চৌধুরী, সহকর্মী আক্তার হোসেন, টেলিভিশন জার্নালিস্ট ক্লাবের সভাপতি আতিয়ার সজল, ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির সহসভাপতি মো. মাঈন উদ্দিন, সাংবাদিক ইউনিয়ন ফেনীর সভাপতি সিদ্দিক আল মামুন, ফেনী সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মনির, ইউনিটির নির্বাহী সদস্য নুর উল্লাহ কায়সার, কোষাধ্যক্ষ শফি উল্লাহ রিপন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ নিলয়।
 
অনুষ্ঠানে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেন মরহুমের একমাত্র ছেলে রুথান মাহমুদ। 
 
শোকসভার শেষে মরহুম ওছমান হারুন মাহমুদ দুলালের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন ফেনী কোর্ট জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মীর হোসেন।
 
এসএন/