সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন বাজার থেকে চার গরু ব্যবসায়ী ২৮টি গরু কিনে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার সরকারহাট বাজারে বিক্রি করতে আনার সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ভাটিয়ারী এলাকায় অস্ত্রধারী ডাকাতের কবলে পড়ে তারা।
অস্ত্রধারীরা চালক ও ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে ট্রাকসহ গরুগুলো লুট করে নিয়ে যায়। ট্রাক (নং- ঢাকামেট্টো ট- ১২-০১৮০) লুটে করে নেওয়ার সময় গাড়ির চালক, সহকারী ও দুইজনকে রাস্তার পাশে হাত বেঁধে ফেলে দেয়। অপর দুইজন তানভীর ও রুবেলকে হায়েস মাইক্রোবাসে করে কর্ণফুলী টানেলে নিয়ে মারধর করে এবং রেখে চলে যায়।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার সময় ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।
আজ শুক্রবার ভোররাতে চালক ও ব্যবসায়ীদের স্থানীয়রা উদ্ধার করার পর তারা পুলিশের ৯৯৯-এ ফোন করে সহযোগীতা চাইলে পুলিশের টিম এগিয়ে আসে।
গরু লুটের ঘটনায় আটক করা হয় সীতাকুণ্ডের মান্দারিটোলা এলাকার মো. রাশেদ, মুরাদপুর হাসনাবাদ এলাকার ওমর ফারুক ও বাঁশবাড়িয়া এলাকার সৈকত ইসলাম।
পরে জিপিএইস ট্র্যাকারের সাহায্যে সীতাকুণ্ড মডেল থানার পুলিশ টিম অভিযান চালিয়ে লুট হওয়া ২৮ গরুর মধ্যে ট্রাকসহ ২৬টি গরুর উদ্ধার করে। অপর দুই গরু উদ্ধারেও অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ।
সিরাজগঞ্জের গরু ব্যবসায়ী মন্টু প্রামানিক বলেন, তারা চার গরু ব্যবসায়ী সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন বাজার থেকে ২৮টি গরু ক্রয় করে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার সরকারহাট বাজারে বিক্রি করতে নেওয়ার পথে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী এলাকায় অস্ত্রধারী ডাকাতের কবলে পড়েন।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহিদুল ইসলাম বলেন, ট্রাকসহ গরু লুটকারী একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল। তারা গরুগুলো লুট করে নিয়ে যাওয়ার পর পুলিশ খবর পেয়ে জিপিআরএস ট্রেকারে ট্রাকটির স্থান চিহ্নিত করে অভিযানে নামে। লুট হওয়া ২৮ গরুর মধ্যে বাড়বকুণ্ড ও মান্দারিটোলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৬টি গরু উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৩ ডাকাতকে আটক করা হয়েছে। অপর দুই গরু উদ্ধারেও পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানান তিনি।
মুসলেহ/মাহফুজ