চট্টগ্রামের আনোয়ারায় এক যুবকের বিরুদ্ধে পারিবারিক বিরোধের জেরে কেরোসিন ঢেলে চারটি বসতঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে চারটি বসতঘর পুড়ে গেছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার বরুমছড়া ইউনিয়নের ভরারচর এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আবদুল হাকিম চৌকিদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, এতে তাদের প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। অভিযুক্ত মো. মহিউদ্দিনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ছাড়া ফটিকছড়িতে আগুনে ১৮টি দোকান পুড়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মো. মহিউদ্দিন প্রথমে নিজের ঘরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেন। একইভাবে তিনি তার চাচার ঘরেও আগুন লাগিয়ে দেন। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পাশের আরও দুটি ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
আনোয়ারা ফায়ার স্টেশনের সাব-অফিসার মো. আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি আনুমানিক চার লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলোর মধ্যে একটি সেমিপাকা এবং তিনটি মাটির ঘর ছিল।’
এ বিষয়ে অভিযুক্তের চাচাত ভাই ভুক্তভোগী মো. জয়নাল আবেদিন বলেন, ‘মো. মহিউদ্দিন কেরোসিন দিয়ে প্রথমে নিজের ঘরে এবং পরে আমাদের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আমাদের বিভিন্নভাবে নির্যাতন ও ঝামেলা করে আসছিলেন। এই আগুনে চারটি ঘর পুড়ে আমাদের প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।’
ঘটনাটি নিশ্চিত করে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানা গেছে বসতভিটা ও জায়গা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।’
অন্যদিকে, ফটিকছড়িতে ১৮টি দোকান আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গত শুক্রবার রাত তিনটার দিকে উপজেলার নানুপুর বাজারের মির্জা মার্কেটে এই ঘটনা ঘটে। ব্যবসায়ীদের দাবি, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে গত শুক্রবার গভীর রাতে মির্জা মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফটিকছড়ি ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মৃদুল ফার্মেসির ওষুধের গুদাম, মতি টি স্টোর, বসুন্ধরা ও সোহেল ব্রাদার্স, জাহাঙ্গীর টেইলার্সের কারখানা, মফিজ সওদাগর ও নাজিম সওদাগরের গুদাম এবং একটি মোবাইল মেরামতের দোকান ছিল।
ফটিকছড়ি ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, ‘আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। প্রায় এক কোটি টাকার মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে আগুনের সঠিক কারণ তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে।’