ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
শেষ হলো ‘রুচি বিউটিগ্রাম সিজন সেভেন’ টিভিতে আজকের খেলা হাইতিকে হারিয়ে 'সি' গ্রুপের শীর্ষে স্কটল্যান্ড র‌্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনে ‘টেস্ট অফ ল্যাটিন’– সুস্বাদু খাবার আর ফিফা বিশ্বকাপের দারুণ এক উৎসব ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের পাশে ফের অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ বাংলাদেশ নারী দলের টি-টোয়েন্টি অভিযান আজ শুরু বিশ্ববাজারে কেন কমছে সোনার দাম? হাতিয়ায় পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, পালিয়ে বেড়াচ্ছে পরিবার দুপুরের মধ্যে ১০ অঞ্চলে ঝড়ের শঙ্কা সালমান (রা.) কীভাবে সত্যকে চিনলেন? নিজের বিরুদ্ধেও অনিয়ম-দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের আহ্বান এমপি মুশফিকুর রহমানের মরক্কো-ব্রাজিল দ্বৈরথে কাঁপল মেটলাইফ, গ্যালারিতে ৮০ হাজারের মহাসমুদ্র! চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তে যুবক আটক, বিএসএফের মারধরের অভিযোগ রংপুরে চিকিৎসককে মারধর: মায়ের মরদেহ পেতে কান ধরে উঠবস যুবকের সিলেট সিটি করপোরেশনে চলতি বছরে ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণ করা হবে: সিসিক প্রশাসক চুয়াডাঙ্গায় ট্রেনে কাটা পড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু সুবর্ণচরে নারীকে পিটিয়ে পদ হারালেন যুবদল নেতা সেনবাগে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের মধুখালীতে ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিকে কুপিয়ে ৩ লাখ টাকা ছিনতাই ‘রোদে লিচু পোড়ায় ক্ষতির মুখে চাষি-ব্যবসায়ী’ প্রস্তাবিত বাজেটে বিএনপির নেতা-কর্মীরা খুশি ‘ফেবারিট’ তুরস্কের সামনে আত্মবিশ্বাসী অস্ট্রেলিয়া পরিদর্শন নেই, অরক্ষিত রেলপথ বাংলাদেশ সাইবার সিকিউরিটি অলিম্পিয়াড ২০২৬ এর জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত ‘লিচুর ন্যায্য দাম পেতে সংরক্ষণ সুবিধা জরুরি’ বিনিয়োগ বাড়াতে নেওয়া হয়েছে সাহসী উদ্যোগ, বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ আরআইবিএর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল ব্র্যাকইউনিভার্সিটির পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস রাজবাড়ীতে ‘ভুয়া মামলার’ গ্যাঁড়াকলে শিক্ষক দম্পতি: সাক্ষীদের অস্তিত্ব ও তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন লুপাস চিকিৎসায় যুগান্তকারী সাফল্য, জিন থেরাপিতে সুস্থ ৫ রোগী ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির দাফন ৯ জুলাই
Nagad desktop

টেকনাফে সিএনজি তল্লাশি করে ১ লাখ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:২৭ পিএম
টেকনাফে সিএনজি তল্লাশি করে ১ লাখ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বড় হাবিব পাড়া সংলগ্ন টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ সড়কে সিএনজি তল্লাশি চালিয়ে এক লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১৫।

র‍্যাব জানায়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সন্ত্রাসবাদ দমনসহ অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করে আসছে বাহিনীটি। এরই ধারাবাহিকতায় চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১২ জানুয়ারি কক্সবাজার র‍্যাব-১৫ এর সিপিসি-১ (টেকনাফ ক্যাম্প) এর একটি চৌকস আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে।

র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের বড় হাবিবপাড়া এলাকায় টেকনাফ থেকে শাহপরীর দ্বীপগামী পাকা সড়কে চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়। এ সময় একটি সন্দেহভাজন সিএনজি অটোরিকশা থামিয়ে তল্লাশি চালানো হলে চালক সাইফুল ইসলাম (২১)-কে আটক করা হয়। 

পরে তার দেখানো মতে অটোরিকশার পেছনের যাত্রী আসনের পেছনের মালামাল রাখার স্থান থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার করা ইয়াবার মধ্যে ছিল গাজী পাম্পের ছবি সংযুক্ত একটি পুরাতন লাল-সাদা রঙের কার্টুনের ভেতরে সাদা পলিথিনে মোড়ানো ১০টি প্যাকেট। প্রতিটি প্যাকেটে ৫০টি করে মোট ৫০০টি নীল রঙের বায়ুরোধক জিপারযুক্ত পলি প্যাকেট ছিল। উদ্ধার করা ইয়াবার সংখ্যা এক লাখ পিস। এছাড়াও অভিযানে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম কক্সবাজারের উখিয়া রাজাপালং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পাতাবাড়ী (হাঙ্গরঘোনা) এলাকার বাসিন্দা। তার পিতার নাম নাজির হোসেন।

র‍্যাব জানায়, গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়াধীন।

রবিবার রাত ৮টা ১৫ মিনিটে কক্সবাজার র‍্যাব-১৫ এর সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী পরিচালক আ. ম. ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

শাহীন/মাহফুজ

হাতিয়ায় পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, পালিয়ে বেড়াচ্ছে পরিবার

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:৫২ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:৩৪ এএম
হাতিয়ায় পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, পালিয়ে বেড়াচ্ছে পরিবার
ছবি: খবরের কাগজ

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে এক কিশোরীকে (১২) ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ ও তাদের পেষোয়াদের ভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে ভুক্তভোগীর পরিবারটি। 

গত কয়েক মাস আগে এই ঘটনা ঘটলেও ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করেও প্রতিকার পাননি তারা। 

শনিবার (১৩ জুন) ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার মায়ের ঘটনার বিস্তারিত বিবরণসহ একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ পরিদর্শক খোরশেদ আলমকে জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরীর মা ও ভাই জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের মেসে রান্নাবান্নার কাজ করত। সে সুবাদে কিশোরীও সেখানে মাঝে মধ্যে যাতায়াত করতো। 

ভুক্তভোগী কিশোরী জানায়, সে যখন স্কুলে বা বিকালে দোকানে যেতো, তখন খোরশেদ আলম তদন্ত কেন্দ্রের পাশের রাস্তার ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে প্রায়ই বাসার তিনতলার ব্যালকনি থেকে ডাকতেন। প্রথম দিকে ভুক্তভোগী ভয়ে যেতো না। পরবর্তীতে বাসার ঘর ঝাড়ু দেওয়া, কাপড় ধোয়া এবং বিছানা ঠিক করার অজুহাতে ডেকে নেওয়া হতো। বাসায় ডেকে নিয়ে খোরশেদ আলম তাকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে। কিশোরী এতে বাধা দিলে তাকে ও মাকে একেবারে মেরে ফেলার হুমকি দেন। ধর্ষণের পর তাকে মুখ বন্ধ রাখার জন্য ৫০০ বা ১০০০ টাকা দিয়ে বিদায় করা হতো এবং 'মোবাইল' কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হতো। 

লোকলজ্জা ও সামাজিক মানসম্মানের ভয়ে ভুক্তভোগী প্রথমে বিষয়টি কাউকে জানায়নি উল্লেখ করে বলেন, সর্বশেষ ৫ জানুয়ারি বিকালে কিশোরীর মা খোরশেদ আলমের বাসার দরজার সামনে গিয়ে ভুক্তভোগীকে ডাকলে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা তাকে ধমক দিয়ে বাথরুমে লুকিয়ে থাকতে বাধ্য করেন এবং তার মাকে মিথ্যা কথা বলে বিদায় করে দেন। পরবর্তীতে রাতে মা তাকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করলে কিশোরী সব সত্য ঘটনা খুলে বলেন। 

কিশোরীর মা বলেন, আমার মেয়েকে ধর্ষণের বিষয়টি আমরা পুলিশের হাতিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারকে জানিয়েছিলাম। এ বিষয়ে তার কাছে লিখিত জবানবন্দিও দিয়েছি। কিন্তু তিনি টাকার বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দিয়েছেন। স্থানীয় রাকিব ও স্বর্ণকার কবির নামে দুই জন পুলিশের পক্ষ নিয়ে আমাদের থেকে জোরপূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছিল। আমরা এখন ভয়ে বাড়িতে যেতে পারি না। গত চার মাস ধরে আমরা পালিয়ে বেড়াচ্ছি। 

তবে অভিযোগের বিষয়ে আইসি খোরশেদ আলমের বক্তব্য জানা যায়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন,  অনেক আগে এ ধরনের একটি অভিযোগ উঠেছিল। তখন এই অভিযোগের ভিত্তিতে হাতিয়া সার্কেল কর্মকর্তা একটি তদন্ত করেছিলেন। তদন্তে এর সত্যতা মেলেনি বলে জানতে পেরেছি। কিন্তু রবিবার (১৪ জুন) আবার এই ধরনের একটি ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাৎক্ষণিক ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বর্তমানে কোনও লিখিত কিংবা মৌখিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী কিশোরী কিংবা তার পরিবারের পক্ষ থেকেও আমার সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করা হয়নি।

নোয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনা সত্যতা পেলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

সাকিব/খাদিজা রুমি

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তে যুবক আটক, বিএসএফের মারধরের অভিযোগ

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:৩৭ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:৩৬ এএম
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তে যুবক আটক, বিএসএফের মারধরের অভিযোগ
ছবি: খবরের কাগজ

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তে জুলফিকার (২২) নামে এক বাংলাদেশি যুবককে আটক করে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ভারতের সীমান্তরক্ষীর (বিএসএফ) বিরুদ্ধে।

শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যার আগে দর্শনা-গেদে আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটক জুলফিকার দর্শনা জয়নগর গ্রামের কালু মৌলভীর ছেলে। তিনি দর্শনা পৌর এলাকার রামনগর বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের দাবি, শনিবার বিকেলের দিকে কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে সীমান্তবর্তী এলাকায় লাকড়ি কুড়াতে যান জুলফিকার। এ সময় চেকপোস্টের মাঝামাঝি এলাকা থেকে বিএসএফ তাকে ধাওয়া করে আটক করে। 

তার সঙ্গে থাকা আরও দুই-তিনজন পালিয়ে আসতে সক্ষম হলেও জুলফিকারকে বিএসএফ সদস্যরা নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, জুলফিকার দর্শনা-গেদে সীমান্তের রেললাইনের পাশে ভারতীয় অংশে থাকা নিরাপত্তা বেষ্টনী কাটার চেষ্টা করছিল। এ সময় বিএসএফ তাকে আটক করে এবং পরবর্তীতে ভারতীয় পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে ভারতীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে।

মিজানুর রহমান/তামান্না রুপা/

রংপুরে চিকিৎসককে মারধর: মায়ের মরদেহ পেতে কান ধরে উঠবস যুবকের

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:৩০ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:৩২ এএম
রংপুরে চিকিৎসককে মারধর: মায়ের মরদেহ পেতে কান ধরে উঠবস যুবকের
রংপুর মেডিকেলে চিকিৎসককে মারধরের পর পরিচালকের কার্যালয়ে রিফাত হোসেনের কান ধরে উঠবস করার দৃশ্য। —ছবি: খবরের কাগজ

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে রোগীর ছেলে রিফাতের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মরদেহ আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে।

স্বজনদের দাবি, একপর্যায়ে অভিযুক্ত রিফাত হোসেনকে কান ধরে ওঠবস করানোর পর মায়ের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে হাসপাতাল পরিচালকের কার্যালয়ে ঘটনাটি ঘটে। এর আগে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত হাসপাতালে জরুরি বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ ছিল।

রোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোরে রংপুর নগরের নিউ জুম্মাপাড়া এলাকার মাহবুবুর রহমানের স্ত্রী নুর নাহার বেগমকে (৫৫) রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় অক্সিজেন দেওয়ার কথা বললে চিকিৎসকরা ভর্তির কাজ সম্পন্ন করে আসার পরামর্শ দেন। এর মধ্যেই রোগীর মৃত্যু হয়।

এ সময় চিকিৎসকদের অবহেলার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মৃতের ছোট ছেলে রিফাত। একপর্যায়ে রিফাত ও চিকিৎসকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় ডা. নাঈম বকশীকে মারধর করার অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন। একপর্যায়ে শনিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জরুরি বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ করে দেন তারা।

রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, নুর নাহার বেগমের মৃত্যুর পরও তার মরদেহ হাসপাতালের আইসিইউতে আটকে রাখা হয় এবং রোগীর স্বজনদের দেখতে দেওয়া হয়নি। পরে মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে তুলে বাড়িতে নেওয়ার সময় কয়েকজন ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থী বাধা দেন। একপর্যায়ে অ্যাম্বুলেন্স থেকে মরদেহ নামিয়ে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন রোগীর স্বজনেরা।

শনিবার দুপুরে হাসপাতালের মর্গের সামনে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের দেখা যায়। এ সময় তারা চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনায় বিচার দাবি করেন।

তবে মরদেহ আটকে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেন ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ আসিফ। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “চিকিৎসকদের মারধরের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে আমরা আন্দোলন করছি। তবে কোনো মরদেহ আটকে রাখা হয়নি।”

একপর্যায়ে চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত রিফাত হোসেন হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়ে অবস্থান করছেন- এমন খবর পান চিকিৎসকরা।

পরে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা পরিচালকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন। এ সময় অভিযুক্ত রিফাত হোসেনকে প্রকাশ্যে কান ধরে ওঠবস করানোর দাবিতে তারা স্লোগান দিতে থাকেন। পরবর্তীতে পরিচালকের কার্যালয়ের ভেতরে রিফাতকে কান ধরে ওঠবস করানোর পর তার মায়ের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

অন্যদিকে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের দাবিতে স্বজনরা মহাসড়ক অবরোধ করেন।

এ সময় নুরুজ্জামান রিন্টু বলেন, “ভোরবেলা থেকে এখন পর্যন্ত মায়ের মুখটা দেখতে পারলাম না। মারা যাওয়ার পরও মা কষ্ট পাবেন, এটা ভাবতে পারিনি। আমি আমার মায়ের লাশ দাফন করতে পারছি না। সরকারি মেডিকেলে চিকিৎসা নিতে এসে যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে মানুষ কীভাবে আসবে? আমি আমার মায়ের লাশ চাই।”

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, “হাসপাতালে যে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি অত্যন্ত দুঃখজনক। রোগীটিকে শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে আনা হয়। আনার পরই তিনি মারা যান। সিসিটিভি ফুটেজ দেখেছি, সেখানে ডাক্তারের কোনো ভুল ছিল না। কোনো কারণ ছাড়াই সামনে থাকা ডাক্তারকে মারধর করা হয়েছে।”

মরদেহ আটকে রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মরদেহ আটকে রাখার বিষয়টি সঠিক নয়। পরিস্থিতি এমন হয়েছিল যে সেখানে অনেক লোকজন ছিল, ফলে মরদেহটি গাড়িতে তোলা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। সবার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কিছু সময় মরদেহটি মর্গে রাখা হয়। পরে আমরা মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছি।”

তিনি আরও বলেন, “এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা অভিযোগ করব, এজাহার দেব। অভিযুক্তকে পুলিশের দায়িত্বে দেওয়া হয়েছে।”

শনিবার রাত ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম নাজমুল কাদের বলেন, “এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।”

সেলিম সরকার/আজহার

সিলেট সিটি করপোরেশনে চলতি বছরে ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণ করা হবে: সিসিক প্রশাসক

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:৩০ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:২৫ এএম
সিলেট সিটি করপোরেশনে চলতি বছরে ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণ করা হবে: সিসিক প্রশাসক
ছবি: সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করছেন সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত সারাদেশে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন হয়েছে।

 শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে দক্ষিণ সুরমার এসফল্ট মাঠে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণ এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। অতীতে নির্বিচারে বৃক্ষনিধনের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। এই বাস্তবতা উপলব্ধি করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে সারা দেশে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মহৎ উদ্যোগ নিয়েছেন।

তিনি বলেন, সিলেট সিটি করপোরেশনের আয়তন তুলনামূলকভাবে সীমিত হলেও আমরা উপযুক্ত স্থান চিহ্নিত করে ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। আজ যে এসফল্ট মাঠে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হচ্ছে, এখানে প্রায় দুই হাজার বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হবে। ভবিষ্যতেও নগরীর খালি ও উপযুক্ত স্থানগুলোতে পর্যায়ক্রমে বৃক্ষরোপণ অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানে সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার বলেন, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণের জন্য উপযুক্ত স্থান চিহ্নিত করার কাজ চলমান রয়েছে। যেখানে যেখানে পরিবেশগতভাবে উপযোগী স্থান পাওয়া যাবে, সেখানে বৃক্ষরোপণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে সিটি করপোরেশনের সচিব মোঃ আশিক নূর, ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আলী আকবর, নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ উল্লাহ, নির্বাহী প্রকৌশলী (পূর্ত) রজি উদ্দিন খানসহ সিসিকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সকল নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বৃক্ষরোপণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান সিসিক প্রশাসক।

শাকিলা ববি/খাদিজা রুমি/

চুয়াডাঙ্গায় ট্রেনে কাটা পড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
চুয়াডাঙ্গায় ট্রেনে কাটা পড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু
ছবি: খবরের কাগজ

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মোমিনপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে ইকবাল হোসেন মালিতা (৫৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। 

শনিবার (১৩ জুন) বিকেল ৩টার দিকে মোমিনপুর রেলস্টেশন সংলগ্ন কবরস্থানের পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

নিহত ইকবাল হোসেন মালিতা আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর ইউনিয়নের কান্তপুর গ্রামের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং মৃত আলতাব হোসেন মালিতার ছেলে।

রেলওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খুলনা থেকে চিলাহাটি অভিমুখী রকেট এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় তার একটি পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

নিহতের বড় ভাই জানান, ইকবাল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং ভবঘুরের মতো ঘুরে বেড়াতেন। চারদিন আগে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরিবারের সদস্যদের কাছে তিনি আত্মহত্যার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছিলেন। এছাড়া তিনি মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে পরিবারের দাবি। জীবিকার তাগিদে তিনি বিভিন্ন ট্রেনে ভিক্ষাবৃত্তি করতেন।

চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে ফাঁড়ি পুলিশের উপপরির্দশক এসআই জগদীশ জানান, বিকেল ৩টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যুর সত্যতা পায়। পরে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয় এবং তার পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে নিহত ব্যক্তি মাদকাসক্ত ছিলেন এবং মাদক ইনজেকশন ব্যবহার করতেন। তার বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলাও রয়েছে। তার স্ত্রী মারা গেছেন এবং তার চার কন্যা সন্তান রয়েছে। তিনি বিভিন্ন সময় ট্রেনে ঘুরে বেড়াতেন।

মিজানুর রহমান/অন্তরা