চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গন্ডামারা ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের পূর্ব বড়ঘোনা মিজান বাড়ি এলাকায় এক অসহায় কৃষকের ধানক্ষেতে কীটনাশক প্রয়োগ করে ফসল নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (২২ মার্চ) রাতে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটার পর সোমবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হয়।
জানা গেছে, পূর্ব বড়ঘোনা গ্রামের মৃত গোলাম হোছনের ছেলে কৃষক মাওলানা আবুল কালাম বাড়ির পাশে তার নিজ জমিতে ধানের চাষ করেন। একই এলাকার কবির আহমদের ছেলে মনজুর আহমদের সঙ্গে তার পূর্ব শত্রুতা ছিল। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে রাতের আঁধারে কীটনাশক প্রয়োগ করে পুরো ধান ধ্বংস করে দেন।
সোমবার সকালে স্থানীয় লোকজন দেখেন, রাতের আঁধারে কৃষক মাওলানা আবুল কালামের ধানক্ষেতে ঘাস পোড়ানোর কীটনাশক প্রয়োগ করে। এতে পুরো ধান ক্ষেতের রঙ পরিবর্তন ও বিবর্ণ হয়ে ফসলি জমি ধ্বংস হয়ে যায়। মারা যায় মাঠের সব ধান গাছ।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মাওলানা আবুল কালাম অভিযোগ করে জানান, স্থানীয় মনজুর আহমদ নামের এক ব্যক্তি পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তার জমিতে বিষ প্রয়োগ করেছেন। এতে তার স্বপ্নের ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী কৃষক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় মোহাম্মদ ওসমান, ওমর ফারুক ও মাহমুদুল হাসান জানান, ওই ব্যক্তি প্রতি বছরই কেননা কোনোভাবে লোকজনের ফসল নষ্ট করে। সে কারো সালিশ বিচার মানেনা। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ইউপি সদস্য আলী হোসেন জানান, ঘটনাটি আমি শুনেছি। অভিযুক্ত ব্যক্তি ও পরিবারকে স্থানীয় সালিশ বিচারে উপস্থিত হতে বলেছি। এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা শুধু একজন কৃষকের নয়, পুরো সমাজের জন্যই হুমকিস্বরূপ।
বাঁশখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র সরকার জানান, কারো সঙ্গে ব্যক্তিগত শক্রতা ও রেষারেষি থাকলে ফসলের ক্ষেতের ওপর তার প্রয়োগ ঘটানো অত্যন্ত অমানবিক। অভিযোগ পেলে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হবে।
বাঁশখালীতে কীটনাশক প্রয়োগে ধ্বংস করে দেওয়া ধানি জমির একাংশ। ছবি: খবরের কাগজ
শফকত হোসাইন/সুমন