ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু ব্রাজিলের স্বপ্নের জাদুকর মুসিয়ালা পথপ্রদর্শক বাকুনা ভিনিসিয়ুসের গোলে সমতায় ফিরল ব্রাজিল পরাশক্তি জার্মানির সামনে পুঁচকে কুরাসাও ডার্কহর্স জাপান, সতর্ক নেদারল্যান্ডস ব্রাজিলের শুরুর একাদশে চমক অতিরিক্ত সময়ের গোলে সুইসদের রুখে দিয়ে কাতারের বাজিমাত ৯২ বছর ধরে বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে হারেনি ব্রাজিল নেইমারকে ছাড়াই নামছে ব্রাজিল, ভাঙছে ৪০ বছরের ঐতিহ্য পেনাল্টিতে এমবোলোর গোল, এগিয়ে সুইজারল্যান্ড ফিটনেস প্রশ্নে রোনালদো, ‘আমাকে খেলতে দেখেননি?’ ‘জাপানি মেসি’র সঙ্গী উয়েদা এমবাপ্পের সমালোচনা ‘অতিরিক্ত ও অন্যায়’ দেড় দশকের জ্বালানিনীতি ছিল আমদানিনির্ভর: তথ্যমন্ত্রী ইরানের অনুশীলন মাঠের পাশে মরদেহ উদ্ধার ওয়ানডে সিরিজ বাংলাদেশ ইমার্জিংদের ঝিলিকের মৃত্যুর রহস্যে নতুন মোড়, গ্রেপ্তার স্বামী রক্তদান মহৎ কিন্তু নিরাপদ রক্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশ মার্তিনেজকে ঘিরে নতুন শঙ্কা শাহবাগে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ নাটোরে ৭০ দরিদ্র রোগীর বিনামূল্যে ছানি অপারেশন চাকরি মেলায় সাড়া, রাজশাহীতে ৫০ শতাংশ প্রার্থীর তাৎক্ষণিক নিয়োগ ইনজুরিতে ছিটকে গেলেন মাইকেল অলিভার ‘ফেনীর সাংবাদিকতার ইতিহাসে উজ্জ্বল অধ্যায় ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল’ পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী গ্রিন ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত মিসরকে কেন জার্সি পরিবর্তন করতে বলল ফিফা?
Nagad desktop

লক্ষ্মীপুরে মাদককে কেন্দ্র করে এক বছরে ২০ খুন

প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪২ এএম
লক্ষ্মীপুরে মাদককে কেন্দ্র করে এক বছরে ২০ খুন
লক্ষ্মীপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিস। ইনসেটে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শরীফ উদ্দীন। ছবি: খবরের কাগজ

লক্ষ্মীপুরে মাদক কারবার ও সেবনকে কেন্দ্র করে গত এক বছরে (গত বছরের এপ্রিল থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত) শিশুসহ ২০ জন খুন হয়েছে। একই সময়ে গুলিবিদ্ধসহ নানাভাবে আহত হয়েছেন ৫০ জন। জেলার এমন কোনো গ্রাম নেই যেখানে মাদক পাওয়া যায় না। বলা যায়, মাদকের ওপর ভাসছে লক্ষ্মীপুর। যতই দিন যাচ্ছে জেলায় মাদকসেবী ও বিক্রেতার সংখ্যা ততই বাড়ছে। আর মাদককে কেন্দ্র করে বাড়ছে চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও ইভটিজিংসহ নানা ধরনের অপরাধ। মাদকের এই ভয়াবহ বিস্তারের ফলে সচেতন বাবা-মা তাদের সন্তানদের নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। 

লক্ষ্মীপুরের থানা ও ডিবি পুলিশ এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর অভিযান চালিয়ে প্রতিদিনই মাদক উদ্ধার ও কারবারিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে থাকে। কিন্তু তাতে কাজের কাজ কিছুই হয় না। আইনের নানা ফাঁকফোকর দিয়ে মাদক কারবারিরা বেরিয়ে এসে আবার একই কারবারের জড়িয়ে পড়ে। জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে গত ২০ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৫৪৫টি অভিযান পরিচালনা করে। এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে ১১৬টি এবং ১২৫ মাদক কারবারি ও সেবনকারীকে আটক করেছে। অন্যদিকে গত এক বছরে (গত বছরের এপ্রিল থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত) অসংখ্য অভিযান চালায় এবং ২৮৪টি মামলা করে ৩৭৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। 

তথ্য অনুসন্ধানকালে জানা যায়, জেলায় রাজনৈতিক শেল্টারে মাদক বিক্রি হচ্ছে। মোবাইল ফোনে ক্রেতা-বিক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ হয়। এরপর বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে টাকা লেনদেন হয়ে থাকে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার গ্রামগুলোয় ফেরি করে, রিকশায়, মোটরসাইকেলে বিক্রি হচ্ছে ইয়াবা ও গাঁজা। এসব সেবনে নেশায় ডুবছে তরুণরা। 

লক্ষ্মীপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সূত্রে জানা যায়, গত এক বছরে মাদকের কারবার নিয়ে জেলায় ২০ জন খুন হয়েছে। তাদের হিসাবমতে, জেলায় মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ৪২ জন। এদের মধ্যে গডফাদার আটজন। এজেন্ট ১৩ জন আর পাইকারি বিক্রেতা রয়েছে ১৯ জন। এদের বেশির ভাগই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রয়েছে। 

অপর একটি সূত্রে জানা যায়, জেলায় মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গত এক বছরে কমপক্ষে গুলিবিদ্ধসহ ৫০ জন আহত হন। 

জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় একসময় গাঁজা ও ফেনসিডিলের আধিক্য থাকলেও এখন ফেনসিডিল নেই বললেই চলে। সে স্থান দখল করে নিয়েছে ইয়াবা। কক্সবাজার থেকে সড়ক ও নদীপথে আসে ইয়াবা। আর ভারত থেকে কুমিল্লা বর্ডার দিয়ে আসে গাঁজা। লক্ষ্মীপুর পৌঁছাতে এ মাদক কয়েক হাত বদল হয়ে থাকে। 

মাদক কারবারিদের একটি সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুরকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে মাদক ভোলা ও চাঁদপুরেও পাচার হয়। নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের সড়কপথে কোনো প্রকার তল্লাশি না থাকায় এবং রাত ১০টার পরে সড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি না থাকায় মাদক কারবারিরা নিরাপদে মাদক পরিবহন করতে সক্ষম হচ্ছে।

গত জানুয়ারি থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মোট ৫৪৫টি অভিযান পরিচালনা করে। এতে মোট মামলা হয়েছে ১১৬টি এবং ১২৫ জন মাদক কারবারি ও সেবনকারীকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ সময় উদ্ধার করা হয়েছে ৪ হাজার ১৩২ পিস ইয়াবা, ১ হাজার ৪০০ গ্রাম গাঁজা, ২৫ বোতল মদ, ২০ হাজার টাকা, ৯টি মোবাইল, ১টি মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত একটি রিকশা, সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশা, পুলিশের লোগোযুক্ত হ্যান্ডকাফ ও ৪টি কার্তুজসহ ১টি দেশীয় পাইপগান।

লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ বিভাগ জানান, গত এক বছরে অভিযানে ১৮ হাজার ৩০০ পিস ইয়াবা, ৫ মণ গাঁজাসহ বেশকিছু বিদেশি ও চোরাই মদ উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় ২৮৪টি মামলায় ৩৭৮ জন গ্রেপ্তার হয়েছে।

এদিকে গত ১২ এপ্রিল জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় একাধিক সদস্য মাদকের কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে উপস্থাপন করেন। রাজনৈতিক মদদ আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘ম্যানেজের’ কারণে আশানুরূপ সুফল আসছে না বলেও সভায় অভিযোগ করা হয়।

গত এক বছরের তথ্য বিশ্লেষণ ও বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, ২০ হত্যাকাণ্ডের মধ্যে সম্প্রতি খুন হন রায়পুর কলেজের এক ছাত্র। এ ঘটনার শুরু হয়, রায়পুরের হায়দারগঞ্জ এলাকায়। পুলিশ ওই এলাকার কয়েকজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে প্রেরণ করে। এই গ্রেপ্তারে ইনফরমারের ভূমিকা পালন করেছেন ওই কলেজছাত্র, এমন সন্দেহে আসামিরা জামিনে এসে তাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এছাড়া মাদক কারবারকে কেন্দ্র করে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বশিকপুরে ঘরের দরজা তালা দিয়ে পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে দুই সন্তানসহ মাকে হত্যা, রামগতির চরকলাকোপা গ্রামে পুত্রবধূ ও শ্বশুরকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা অন্যতম। তা ছাড়া সদর উপজেলার গঙ্গাপুর গ্রামে ছেলের হাতে মা, উত্তর টুমচর গ্রামে ভাইয়ে হাতে ভাই খুন হন। গত বছরের ১৫ নভেম্বর চন্দ্রগঞ্জে মাদক কারবারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ওয়ার্ড বিএনপির নেতা জহিরকে গুলি করে হত্যা এবং উত্তর জয়পুরে মাদকের টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে গত ১৭ জানুয়ারি ফজলে রাব্বি বাবু বন্ধুদের হাতে খুন হন। এছাড়া মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে তেয়ারীগঞ্জ এলাকায় নিজের কন্যাশিশুকে কুপিয়ে হত্যা করেছে বাবা।

এছাড়া গত বছরের ১ জুনে মাদক কারবারের দ্বন্দ্বে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর জয়পুরে আজাদ হোসেন বাবলু নামে একজনকে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষ। ১১ জুন রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী গ্রামে মাদক কারবারে বাধা দেওয়ায় বৃদ্ধ বাবা আলী দেওয়ানকে কুপিয়ে হত্যা করে তার ছেলে মামুন। ১১ এপ্রিল সদরের পূর্ব চৌপল্লী গ্রামে মাদক কারবারি রুবেল হোসেন নামে একজনকে গুলি করা হয়। গত ৯ এপ্রিল লক্ষ্মীপুর উত্তর তেমুহনীর নিউ মার্কেটের ছাদে গাঁজা সেবনকালে কলেজছাত্র সিরাজকে নিচে ফেলে দেয় তার তিন বন্ধু। ঢাকায় নেওয়ার পথে সে মারা যায়। স্বামীকে মাদক কারবারে বাধা দেওয়ায় ১৫ মার্চ রাতে পৌরসভার কালু হাজী সড়কের ভাড়া বাসায় ঘুমন্ত স্ত্রী রিনা বেগমের দুই পায়ের রগ কেটে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে জখম ও পাথর দিয়ে হাত-পা থ্যাঁতলে দেয় তার স্বামী আলমগীর।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রায়পুর ও সদর উপজেলার তিনজন ইউপি চেয়ারম্যান ও চারজন রাজনৈতিক ব্যক্তি জানান, গ্রামেও এখন রাজনৈতিক মদদে ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা বিক্রি হচ্ছে। মোবাইলফোনে বিক্রেতার সঙ্গে চুক্তি করে চলার পথে মাদক হাতবদল হয়। বিকাশেও টাকা লেনদেন হচ্ছে।

রায়পুর উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহবুবুল আলম মিন্টু বলেন, মাদক কারবারিরা রাতারাতি কোটিপতি হয়। এ লোভ অন্যদেরও টানে। মামলার দুর্বলতার কারণেই আসামিরা জামিনে বেরিয়ে ফের কারবার করছে। এ নিয়ে আমরা লেখালেখি করলেও লাভ নেই।

লক্ষ্মীপুর জেলা সুজনের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন বলেন, মাদকরোধে আইনের শাসন আর রাজনীতিবিদদের অঙ্গীকার প্রয়োজন। এ কারবারর সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের অনেকেই জড়িত থাকার কথা শোনা যায়। মাদক কারবারিরা রাতারাতি কোটিপতি হয়। এ লোভ অন্যদেরও টানে। এ সংকট রুখতে পারিবারিক-সামাজিক আন্দোলনের পাশাপাশি নৈতিকতা-মূল্যবোধ জাগ্রত করার তাগিদ দিতে হবে।

জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের পরিদর্শক মোহাম্মদ শরীফ উদ্দীন বলেন, লক্ষ্মীপুরে মাদকের ব্যবহার ও বিক্রি আগের চেয়ে তুলনামূলক কিছুটা বেড়েছে। রাজনৈতিক মদদে অনেকে এ কারবার করছেন। তবে আমাদের নিয়মিত অভিযান চলছে। পাশাপাশি বর্ডার এলাকায় নজরদারি বাড়াতে হবে। সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রতি মাসেই আমরা স্কুল-কলেজে আলোচনা সভা এবং বিতর্ক প্রতিযোগিতা করছি। তবেই সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় লক্ষ্মীপুরে মাদক নির্মূল সম্ভব হবে মনে করছি।

পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদন দিলেও মানুষ আদালতে সাক্ষ্য দেয় না। মাদক নির্মূলে পুলিশ আপসহীন। 

নাটোরে ৭০ দরিদ্র রোগীর বিনামূল্যে ছানি অপারেশন

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:৪৬ পিএম
নাটোরে ৭০ দরিদ্র রোগীর বিনামূল্যে ছানি অপারেশন
ছবি: সংগৃহীত

চোখের নানা সমস্যা স্বত্বেও টাকার অভাবে চিকিৎসা বঞ্চিত নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার ৭০ জন দরীদ্র মানুষ পেতে যাচ্ছে বিনা খরচে চোখের ছানি অপারেশনের সুযোগ।

শনিবার (১৩ জুন) দিনব্যাপী ফ্রি পরীক্ষা-নীরিক্ষা শেেষে ওই ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়। 

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক চক্ষু শিবিরে ওই কর্মসূচী পালিত হয়।

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক ড.মোঃ জিয়াউল হক জিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান,নলডাঙ্গা ডায়াবেটিক সেন্টারে গাক চক্ষু হাসপাতালে ওই চক্ষু শিবিরের আয়োজন করা হয়।

দিনব্যাপী শত শত রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেয়া হয়। এর মধ্যে ৭০ জনকে ছানি অপারেশনের জন্য চিহ্নিত করা হয়।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান,বাছাইকৃত ওই ৭০ জন ছানি  অপারেশনর যোগ্য রোগীকে বগুড়ায় গাক চক্ষু হাসপাতাল পাঠানো হবে।সেখানেই অপারেশন হবে। তবে রোগীদের  যাওয়া, আসা, অপারেশন, ঔষধ, চশমা, ও থাকা খাওয়ার কেন খরচ দিতে হবে না।

দিনব্যাপী ওই চক্ষু চিবিরে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উপজেলা সভাপতি মামুনুর রশিদ মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন,ছাত্র শিবিরের সাবেক জেলা সভাপতি ও বর্তমান কেন্দ্রীয় সহকারী দপ্তর সম্পাদক আফতাব আলী, নলডাঙ্গা শ্রমিক কল্যান ফেডারেশনের পৌরসভা সভাপতি সাইফুল ইসলাম, হাজী কল্যান সমিতির সাধারন সম্পাদক  আবুল হোসেন, নিজাম উদ্দিন ও জিয়ারুল।

কামাল মৃধা/এসএন

চাকরি মেলায় সাড়া, রাজশাহীতে ৫০ শতাংশ প্রার্থীর তাৎক্ষণিক নিয়োগ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:৪০ পিএম
চাকরি মেলায় সাড়া, রাজশাহীতে ৫০ শতাংশ প্রার্থীর তাৎক্ষণিক নিয়োগ
ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীতে দিনব্যাপী এক ব্যতিক্রমধর্মী চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মেলায় অংশ নেওয়া শতাধিক চাকরিপ্রত্যাশীর মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ প্রার্থী প্রাথমিক বাছাই ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরির সুযোগ পেয়েছেন।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে নগরীর কাদিরগঞ্জ এলাকার শাহ ডাইন কনভেনশন সেন্টারে এ চাকরি মেলার আয়োজন করা হয়। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় এবং ‘রেইজ’ প্রকল্পের আওতায় ‘প্রয়াস’সহ তিনটি সামাজিক সংগঠন যৌথভাবে মেলার আয়োজন করে।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, মেলায় সরকারি ও বেসরকারি খাতের ২৭টি প্রতিষ্ঠান এবং তিন শতাধিক চাকরিপ্রত্যাশী অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টলে দক্ষ জনবলের ব্যাপক চাহিদা লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে দক্ষ কর্মী, সেলসম্যান এবং কম্পিউটার অপারেটর পদে নিয়োগের জন্য বিপুলসংখ্যক আবেদন গ্রহণ করা হয়।

মেলায় চাকরিপ্রত্যাশীরা নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সিভি জমা দেন এবং সরাসরি মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান। প্রার্থীদের দক্ষতা ও যোগ্যতা যাচাই শেষে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আবেদনকারীকে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরির জন্য নির্বাচিত করা হয়।

নিয়োগ কার্যক্রমের পাশাপাশি চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য সিভি হালনাগাদ, ক্যারিয়ার উন্নয়ন এবং চাকরির প্রস্তুতি বিষয়ক পরামর্শ ও সেমিনারের আয়োজন করা হয়। ফলে তরুণ চাকরিপ্রত্যাশীরা একই স্থানে চাকরি খোঁজার পাশাপাশি নিজেদের দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগও পান।

আয়োজকরা জানান, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণ-তরুণীদের বিভিন্ন কর্মমুখী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত করা এবং তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করাই এ মেলার মূল উদ্দেশ্য।

অনুষ্ঠানে শতফুল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক নাজিম উদ্দীন মোল্লার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) টুকটুক তালুকদার।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)-এর উপমহাব্যবস্থাপক মো. রফিকুল ইসলাম, রেইজ প্রকল্পের পিকেএসএফ উপ-প্রকল্প সমন্বয়কারী গোলাম জিলানী, প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক হাসিব হোসেন এবং শাপলা গ্রাম উন্নয়ন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মোহসিন আলীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এনায়েত করিম/এসএন

‘ফেনীর সাংবাদিকতার ইতিহাসে উজ্জ্বল অধ্যায় ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল’

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম
‘ফেনীর সাংবাদিকতার ইতিহাসে উজ্জ্বল অধ্যায় ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল’
ছবি: সংগৃহীত
ফেনীর সাংবাদিকতার অঙ্গনে দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের যে আলোকবর্তিকা জ্বালিয়ে রেখেছিলেন এনটিভি ও জনকণ্ঠের প্রবীণ সাংবাদিক ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল, তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে নাগরিক শোকসভা করেছে ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটি। তিনি এ সংগঠনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন।
 
শোকসভায় বক্তারা বলেন, ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল শুধু একজন সাংবাদিক ছিলেন না, তিনি ছিলেন ফেনীর সংবাদজগতের এক প্রতিষ্ঠান। তার মৃত্যুতে ফেনীর সাংবাদিকতায় এমন এক শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, যা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
 
শনিবার (১৩ জুন) বিকালে শহরের রাজাঝির দিঘির পশ্চিম পাড়ে ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটি প্রাঙ্গণে এ শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন। সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলাল, জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুফতি আবদুল হান্নান, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী, ফেনী আদালতের জিপি নুরুল আমীন খান, জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক আ ন ম আবদুর রহিম।
 
বক্তারা বলেন, ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল ছিলেন ফেনীর চারণ সাংবাদিক। তিনি সংবাদকে কেবল পেশা হিসেবে নয়, মানুষের অধিকার ও জনস্বার্থ রক্ষার হাতিয়ার হিসেবে দেখতেন। তিনি চলে গেলেও তার সততা, মানবিকতা, পেশাদারিত্ব এবং সাংবাদিকতার প্রতি দায়বদ্ধতা ফেনীর সংবাদজগতে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার কর্মময় জীবন আগামী দিনের সাংবাদিকদের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
 
তারা আরও বলেন, ফেনীর সাংবাদিক সমাজে ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল ছিলেন একটি নির্ভরতার নাম। পেশাগত প্রতিযোগিতার ঊর্ধ্বে উঠে তিনি সহকর্মীদের সহযোগিতা করতেন। সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন, নতুনদের পথ দেখানো এবং সত্য প্রকাশে আপসহীন অবস্থানের জন্য তিনি সবার কাছে সম্মানিত ছিলেন। তার মৃত্যুতে শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো জেলার সংবাদমাধ্যম অঙ্গন একজন অভিভাবককে হারিয়েছে।
 
শোকসভায় স্মৃতিচারণ করে আরও বক্তব্য রাখেন ফেনী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবু তাহের ও আবদুর রহিম, ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান দারা, ফেনী সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান, ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি আরিফুল আমিন রিজভী, শুকদেব নাথ তপন ও এনামুল হক পাটোয়ারী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক যতন মজুমদার, মরহুমের মামাতো ভাই নাসির উদ্দিন হায়দার সাইমুন, সাংস্কৃতিক সংগঠক শান্তি চৌধুরী, সহকর্মী আক্তার হোসেন, টেলিভিশন জার্নালিস্ট ক্লাবের সভাপতি আতিয়ার সজল, ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির সহসভাপতি মো. মাঈন উদ্দিন, সাংবাদিক ইউনিয়ন ফেনীর সভাপতি সিদ্দিক আল মামুন, ফেনী সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মনির, ইউনিটির নির্বাহী সদস্য নুর উল্লাহ কায়সার, কোষাধ্যক্ষ শফি উল্লাহ রিপন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ নিলয়।
 
অনুষ্ঠানে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেন মরহুমের একমাত্র ছেলে রুথান মাহমুদ। 
 
শোকসভার শেষে মরহুম ওছমান হারুন মাহমুদ দুলালের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন ফেনী কোর্ট জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মীর হোসেন।
 
এসএন/

একদিনে ৫ মরদেহ উদ্ধার, বরগুনায় চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:১৪ পিএম
একদিনে ৫ মরদেহ উদ্ধার, বরগুনায় চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

বরগুনায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জেলায় চরম উদ্বেগ, আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার দুপুর থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত সদর, পাথরঘাটা ও বামনা উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে এসব মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। 

২৪ ঘন্টায় বরগুনায় আত্মহত্যা, পিটুনি, রহস্যজনক মৃত্যুর ও অস্বাভাবিক মৃত্যু থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উৎকণ্ঠার যেমন জন্ম দিয়েছে তেমনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। তবে পুলিশ বলছে, প্রতিটি ঘটনাই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ চলছে। 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া পাঁচজনের মধ্যে তিনজনের ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া গেছে, একজন নিহত হয়েছেন পিটুনিতে এবং অপর একজন অটোরিকশাচালকের মরদেহ সড়কের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে তিনজন সদর উপজেলার বাসিন্দা। আর বাকি দুজন পাথরঘাটা ও বামনা উপজেলার।

শনিবার সকালেই সদর উপজেলার আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়নের লেমুয়া গ্রামে নিজ বসতঘর থেকে মোসা. কনা (৩৪) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

একই সময়ে সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের নলী এলাকায় সালেহা বেগম (৯৩) নামে এক বৃদ্ধার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এর আগে শুক্রবার সদর উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নে একটি সহিংস ঘটনার জেরে ইব্রাহিম হোসেন কালু (২৮) নামে এক যুবক নিহত হন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্যকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে ক্ষুব্ধ জনতা পাল্টা হামলা চালিয়ে কালুকে পিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আলীম বলেন, দুই নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং পিটুনিতে নিহতের ঘটনাটিও গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে পুলিশ নিজ উদ্যোগে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে।

এদিকে পাথরঘাটা উপজেলায় মিজানুর রহমান (৪৫) নামে এক অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার ভোরে পৌরসভার পানি উন্নয়ন বোর্ডের দক্ষিণ পাশের সড়ক থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত মিজানুর রহমান স্থানীয় ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। 

পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার রাতে খাবার শেষে তিনি ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। রাত দেড়টা থেকে দুইটার মধ্যে কোনো এক সময় বাড়ি থেকে বের হয়ে যান এবং এরপর আর ফেরেননি। ভোরে স্থানীয়রা সড়কের পাশে তার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন।

পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এনামুল হক বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে শনিবার দুপুরে বামনা উপজেলার কলাগাছি এলাকা থেকে এহসান (১৮) নামে এক কলেজছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়রা জানান, ঘটনাস্থলে তার কানে হেডফোন ছিল। যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।

বামনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি জব্দ করা হয়েছে। বিস্তারিত তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

মহিউদ্দিন অপু/এসএন

সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডি লেকে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৩০ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৩১ পিএম
সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডি লেকে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু
ছবি: খবরের কাগজ

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি লেকে গোসল করতে নেমে কিশোরীসহ একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। 

শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যা পর্যন্ত দক্ষিন কদমতলী এলাকায় ডিএনএ লেক থেকে একে একে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন- গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার মনোহরদী এলাকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে রাশেদুজ্জামান, নড়াইলের কালিয়া থানার রঘুনাথপুর এলাকার বাসিন্দা আকরাম মিয়ার ছেলে মো. গালিব এবং মেয়ে সুরাইয়া আক্তার। তারা সিদ্ধিরগঞ্জের দক্ষিণ কদমতলী এলাকার অ্যাডভোকেট জালাল মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া ছিলেন।

প্রতক্ষদর্শী ও পরিবারের সদস্যরা জানায়, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শ্যালক ও শালিকাকে নিয়ে গোসল করতে ডিএনপি খালে নামে দুলাভাই রাশেদুজ্জামান। প্রায় আধঘন্টা পর তাদের কোন খোঁজ খবর না পাওয়ায় তাদের খোঁজাখুজি শুরু করেন পরিবারের লোকজন। খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এসে খালে তল্লাশি শুরু করে।

উপ-সহকারি পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন জানান, খালে তিনঘন্টা ব্যাপী তল্লাশি চালিয়ে প্রথমে দুলাভাই রাশেদুজ্জামান ও শ্যালক গালিবের মৃতদেহ উদ্ধার করে। পরে আরও এক ঘন্টা পর শ্যালিকা সুরাইয়া আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরসহ পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

বিল্লাল হোসাইন/রিফাত/