চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর চর বেতাগী (প্রকাশ নাজির চর) পশ্চিম প্রান্ত থেকে পূর্ব প্রান্ত হয়ে নবনির্মিত চট্টগ্রাম ওয়াসার ভান্ডালজুড়ি পানি শোধনাগার প্রকল্প পর্যন্ত নদী থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন বন্ধের দাবিতে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী এবং ভুক্তভোগীরা।
শনিবার (২ মে) দুপুরে নগরের জামাল খান এলাকায় তারা এই মানববন্ধন করেন।
ভুক্তভোগীরা তাদের বক্তব্যে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানে আজিজুল হকের নেতৃত্বে অবৈধ বালি উত্তোলন মহোৎসব শুরু হয়। রাতদিন ২৪ ঘণ্টা লোডিং ডেজার দিয়ে অবৈধ বালি উত্তোলন করে বাল্কহেডের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ বালি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাচার শুরু করে। জমি দখল, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসার স্বর্গ রাজ্যে পরিণত করা হয়েছে এই এলাকাকে। এখানে প্রতি রাতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে নদী ও নদীর পাড়ে মহড়া চলে।
এ কারণে এলাকার জনগণ আতঙ্কের মধ্যে জীবনযাপন করছে। তাছাড়া অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের কারণে চরবেতাগীতে ফসলি জমি, নদীপাড়ের ফসলি জমি, বসতবাড়ি ও রাস্তা ব্যাপক হারে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে খরনদ্বীপ, শ্রীপুর, জ্যৈষ্ঠপুরা এবং আশপাশের বসতবাড়ি ভাঙনের শিকার হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এতে শত শত পরিবার বাস্তুচ্যুত হবে। তাছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদীর কুলরক্ষা বাঁধের শতকোটি টাকার চলমান প্রকল্পের ব্লক ও জিওব্যাগ নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে সাধারণ জনগণ বিভিন্ন সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে অভিযোগ দিলেও প্রতিকার মিলেনি। গত ৩১ মার্চ গণস্বাক্ষর সম্বলিত অভিযোগ চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়। এখনো কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাই তারা চট্টগ্রাম শহরে এসে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছেন।
এসময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ৮নং শ্রীপুর-খরনদ্বীপ ইউনিয়নের চরবেতাগী ও নদীর পাড়ের আশেপাশে বসবাসরত ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে মো. শরীফ, মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, নজরুল ইসলাম, আজিমুদ্দিন টিটু, মো. আজম, টিটু মিয়া, ইব্রাহিম।
এসএন/