৪ মাস পূর্বে সাগরে মাছ শিকারের সময় ইঞ্জিন বিকল হয়ে মায়ানমার জলসীমানা প্রবেশকালে ১৪ জন বাংলাদেশি জেলেকে আটক করেছে আরাকান আর্মি এবং পরবর্তীতে নাফনদী জিরো লাইনে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেছে।
আরাকান আর্মির হাতে আটক হওয়া বাংলাদেশি জেলেরা হলেন বরিশাল, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা নূরু ইসলাম (৫৫), নোয়াখালীর সুবর্ণচরের মো. নূর উদ্দিন (৩০), বরিশালের মো. রাসেল (২৭), নোয়াখালীর মো. সোহাগ (২২), মো. কামরুল (৪০), নূর আলম (৫০), মো. সিরাজ (২০), চট্টগ্রামের হালিশহরের মো. সুমন (২০), মো. সোহাগ, আনোয়ারার শাহাব উদ্দিন (২০), আইয়ুব (৪০), মনির হোসেন (২০), আব্দুল লুসন (৪০) ও রাসেল (৩০)।
শনিবার (৯ মে) দুপুর ২টায় টেকনাফ ব্যাটালিয়ন-২ বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর মুবাশশির নাকীব তরফদার এবং লেফটেন্যান্ট ফুয়াদ রহমানের নেতৃত্বে দুটি ফাইবার স্পিডবোট ও একটি কাঠের ট্রলার নিয়ে নাফ নদীর জিরো লাইন এলাকা থেকে আরাকান আর্মির কাছ থেকে ১৪ জন জেলেকে যাচাই-বাছাই করে বিজিবির হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তাদের টেকনাফ ট্রানজিট জেটিঘাটে এনে রাখা হয়।
আরাকান আর্মির হেফাজত থেকে ফেরত আসা চট্টগ্রাম-নোয়াখালীর শাহজাহান জানান, কক্সবাজার থেকে দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে তাদের ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। পরে তারা প্রায় ১২ দিন সাগরে ভাসতে ভাসতে মিয়ানমারের জলসীমায় প্রবেশ করেন। সেখান থেকে অন্য একটি ট্রলারের সহায়তায় কিছুটা এগোলে আরাকান আর্মি তাদের আটক করে নিয়ে যায়।
তিনি বলেন, পরে তাদের একটি সীমিত ও অস্বাস্থ্যকর স্থানে রাখা হয়, যেখানে পর্যাপ্ত খাবারও দেওয়া হতো না। তাদের ট্রলারের প্রধান মাঝিসহ মোট চারজন এখনও আরাকান আর্মির হেফাজতে রয়েছে।
শাহজাহান আরও জানান, প্রায় চার মাস পর আজ তাদের নাফ নদী হয়ে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিজিবি তাদের ট্রানজিট জেটি ঘাটে এনে খাবারের ব্যবস্থা করে। বিজিবির সহায়তায় তারা দেশে ফিরতে পেরেছেন, এজন্য তারা কৃতজ্ঞ।
টেকনাফে ব্যাটালিয়ান ২ বিজিবির সুত্রে জানা যায়, মাছ শিকারের সময় মায়ানমার জলসীমানা প্রবেশকালে ১৪ জন জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি। দীর্ঘ ৪ মাস পর নাফনদীর জিরো লাইন থেকে ১৪ জন জেলেকে হস্তান্তর করেছে আরাকান আর্মি। যাচাই-বাছাই করে পরবর্তীতে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
উল্লেখ্য, টেকনাফ ব্যাটালিয়ন-২ বিজিবির সূত্রে জানা গেছে, মায়ানমার আরাকান আর্মি মংডু শহর দখল নেওয়ার পর থেকে মায়ানমার জলসীমা অতিক্রমের কারণে প্রায় সময় জেলেদের আটক করে নিয়ে যায়। গত বছরের ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালে এপ্রিল মাস পর্যন্ত মাছ ধরার সময় আরাকান আর্মি মোট ৩৭৮ জন জেলেকে আটক করেছে। পরবর্তীতে বিজিবি কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন বাহিনীর সহযোগিতায় বিভিন্ন ধাপে মোট ২১০ জন জেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এখনও আরাকান আর্মির হেফাজতে রয়েছে আনুমানিক ১৬৮ জন জেলে। আটক জেলেদের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলেও অসংখ্যক জেলে এখনও আরাকান আর্মির হেফাজতে।
মোঃ শাহীন/এসএন