শেরপুরে দুইদিনের ব্যবধানে পৃথকস্থানে শিশু ও তরুণী ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন অভিযুক্তরা।
শনিবার (২৩ মে) দুপুরে ও শুক্রবার (২২ মে) রাতে পৃথকদুটি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী ওই শিশুর পরিবার ও ভুক্তভোগী তরুণী নিজে।
ধর্ষণের শিকার হওয়া ওই শিশু (১১)। সে শহরের ঢাকলহাটি এলাকার বাসিন্দা এবং তরুণী (২০) সদরের চরখারচর এলাকায় বাসিন্দা।
শিশু ধর্ষণের অভিযুক্ত কাওসার মিয়া (২৪) শহরের ঢাকলহাটি এলাকার বাসিন্দা। আর তরুণী ধর্ষণের অভিযুক্ত মামুন মিয়া (৪০) সদরের চরখারচর এলাকার বাসিন্দা।
ভুক্তভোগী ওই পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ৩/৪ মাস আগে ওই শিশুটিকে নানা প্রলোভন দেখিয়ে কাওসার মিয়া তাদের বাড়ি ও বিভিন্নস্থানে একাধিকবার ধর্ষণ করলে তিন মাসের অন্ত:স্বত্তা হয়ে হয়ে পড়ে সে। এরপর বিষয়টি কাউকে না বলতে হুমিকে দেয় অভিযুক্ত কাওসার। পরবর্তীতে বিষয়টি কাওসারের পরিবার জানতে পেরে জোরপূর্বক অকাল গর্ভপাত করানোর ঔষধ খাওয়ালে সে গর্ভপাত করে। ফলে প্রচন্ড রক্তক্ষরণে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে শুক্রবার বিকেলে শিশুটিকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এ ঘটনার পর থেকেই মামলা না করাসহ বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছে অভিযুক্ত ও তার পরিবার।
অন্যদিকে, সদরের চরখারচর এলাকার ওই তরুণী বাড়ির পাশের পরিত্যক্ত একটি জায়গা থেকে তার লালন-পালন করা একটি গরু আনতে যায়। এ সময় বৃষ্টি শুরু হলে সে ওই জায়গার পাশে একটি দোকানে দাঁড়ায়।
কিন্তু দোকানের মালিক মামুন দোকান থেকে বের হয়ে পেছন থেকে ওই তরুণীকে টেনে-হেচড়ে দোকানের একটি ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য হুমকি দেয়। পরবর্তীতে ওই নারী বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যতেন দমন আইনে একটি মামলা করেন।
সূত্র জানিয়েছে, শিশু ধর্ষণের ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে কাওসার মিয়াকে প্রধান আসামী করে ৫জনের নামে মামলা করেছেন। মামলায় অপর আসামী হলেন- কাওসার মিয়ার বাবা শাহীন মিয়া (৪৫), মা কল্পনা বেগম (৪২) ও একই এলাকার কালু মন্ডলের ছেলে সুন্নত আলী (৬৫) এবং তার মেয়ে রোকশানা বেগম (৪৪)।
আর তরুণী ধর্ষণের ঘটনায় মামুন মিয়াকে প্রধান আসামী করে তিনজনের নামে মামলা করেছে ওই তরুণী।
আসামীরা হলেন- চরখারচর এলাকার আতিক (৩৫) ও জাকির হোসেন (৪৫)।
এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের হয়েছে। এসব মামলা ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পাশাপাশি আসামীদের ধরতে অভিযান চলছে।
শাকিল/রিফাত/