এক সময় লাভজনক হিসেবে পরিচিত ঠাকুরগাঁওয়ের লিচু ব্যবসা। কিন্তু চলতি মৌসুমে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে বাগান মালিক ও ফল ব্যবসায়ীরা।
ফলন কম হওয়া, আবহাওয়ার অনুকূলে না থাকা, ঝড় ও বৃষ্টির কারণে জেলার অনেক বাগান মালিক, ফল ব্যবসায়ীরা বড় অঙ্কের লোকসানের মুখে পড়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি বছর লিচু উৎপাদন কম হওয়ায় ব্যবসায়ীরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তেমনি বাগান কিনে পুঁজি হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন অনেকেই।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মুন্সিরহাট এলাকার ফল ব্যবসায়ী হারুন অর রশিদ বলেন, আমি দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর আম ও লিচুর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আগে এই ব্যবসা থেকে ভালো লাভ হতো। কিন্তু গত দুই বছর ধরে গাছে লিচুর ফলন কমে যাওয়ায় ধারাবাহিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছি। দুই বছরে প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
চলতি বছর আম ও লিচু মিলিয়ে সাতটি বাগান কেনেন, যার মধ্যে চারটি ছিল লিচুর বাগান। প্রত্যেকটি বাগানে প্রায় ৮ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেও প্রায় ৪ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বাগানবাড়ি এলাকার ফল ব্যবসায়ী ফরিদ আলীও একই চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, এ বছর লিচুর ফলন কম থাকায় এবং ঝড়-বৃষ্টিতে ক্ষতি হওয়ায় প্রায় ৬ লাখ টাকার লোকসানে পড়েছেন। অনেকেই ঋণ করে বাগান কিনেছে, তারা আরও বিপদে আছে।
সদর উপজেলার কয়েকজন বাগান মালিক জানান, অনেক গাছে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কম মুকুল এসেছিল। আবার যে পরিমাণ ফল হয়েছিল, ঝড়-বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ায় তার একটি অংশ ঝরে গেছে। ফলে বাজারে চাহিদা থাকলেও তার যোগান দিতে পারছি না।
স্থানীয় কয়েকজন ক্রেতারা জানান, আগের তুলনায় লিচুর দামও বেশি। ফলন কম হওয়ায় বাজারে সরবরাহ সীমিত থাকায় দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, চলতি বছর আবহাওয়ার প্রভাব ও কিছু প্রাকৃতিক কারণে ফলনের ওপর প্রভাব পড়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা উপ-পরিচালক মাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। কোথায় কী ধরনের সমস্যা হয়েছে, তা দেখা হচ্ছে। কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে’।
ফল ব্যবসায়ী ও বাগান মালিকদের দাবি, কৃষিখাতের অন্যান্য ফসলের মতো ফলচাষ ও ফল ব্যবসাকেও সরকারি সহায়তার আওতায় এনে সহজ শর্তে ঋণ, প্রণোদনা এবং ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। তাহলে এই খাতের সঙ্গে জড়িত মানুষ নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন।
নবীন/আমান