চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ৬৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সড়কটি এখন যেন এক মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিনের অবহেলা, ভারী বর্ষণের চাপে সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় শতাধিক গর্ত।
রবিবার (১৪ জুন) সরেজমিনে দেখা যায়, ষাটনল থেকে আমিরাবাদ পর্যন্ত এই ২৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বৃষ্টির পানির চাপে হুমকির মুখে পড়েছে। ইতোমধ্যে অন্তত ১০ থেকে ১২টি স্থানে বড় ধরনের ছিদ্র এবং প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি স্থানে ছোট ছোট গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। আমিরাবাদ, মোহনপুর, ষাটনল, শিকিরচর, এখলাসপুর, জহিরাবাদ, আমিরাবাদ ও জনতাবাজার-সংলগ্ন এলাকাগুলো সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড চাঁদপুর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মতলব উত্তর উপজেলার একটি পৌরসভা ১৪টি ইউনিয়নের মানুষকে নদীভাঙন ও জলোচ্ছ্বাসের হাত থেকে রক্ষার জন্য ১৯৮৭-৮৮ অর্থবছরে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে ৬৪ কিলোমিটার দীর্ঘ মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩২ হাজার ১১০ একর ফসলি জমি সুরক্ষিত রয়েছে। তবে নির্মাণের পর এ পর্যন্ত অন্তত দুবার বাঁধ ভেঙে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে কয়েক শ কোটি টাকার ফসল, ঘরবাড়ি ও সম্পদের ক্ষতি হয়েছিল।
বর্তমানে বেড়িবাঁধের উপর নির্মিত পিচঢালাই সড়কটি মতলব উত্তর উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। শুধু মতলব নয়, ঢাকা, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার যানবাহনও এ সড়ক ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু সড়কের বর্তমান অবস্থা জনদুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ট্রাকচালক মো. সোহেল মিয়া বলেন, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে মালামাল পরিবহন করি। কয়েকটি স্থানে এমন বড় বড় গর্ত হয়েছে যে, সামান্য অসাবধান হলেই গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে রাতের বেলায় চলাচল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুত সংস্কার না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা সুমন আহমেদ জানান, বৃষ্টি হলেই নতুন করে গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক স্থানে সড়কের পিচ উঠে গিয়ে নিচের মাটি ধসে পড়েছে। কোনো কোনো স্থানে সড়কের একাংশ ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে।
অটোরিকশাচালক মো. নাজমুল হাসান বলেন, দিনে কয়েকবার এই রাস্তা দিয়ে যাত্রী নিয়ে যাতায়াত করি। গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে প্রায়ই বিপদে পড়তে হয়। বর্ষার কারণে গর্তগুলো আরও বড় হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বারবার ঝুঁকির বিষয়টি জানানো হলেও স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বর্তমানে স্থানীয় লোকজন ও প্রশাসনের সহযোগিতায় ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে বালুর বস্তা, মাটি ও ইট ফেলে সাময়িক মেরামতের চেষ্টা চলছে। কিন্তু এসব উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে কোনো সমাধান নয়।
মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী সেলিম সাহেদ বলেন, 'বেড়িবাঁধ সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোর বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি। বর্ষা মৌসুমে যাতে জনদুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি না বাড়ে, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।'
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, 'বেড়িবাঁধ সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোর বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এ বিষয়ে মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা হয়েছে।'
শাহাদাত/খাদিজা রুমি/