চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর আবাসিক এলাকার পাশের পাহাড় ও টিলা কেটে আবাসিক প্লট তৈরি করা হচ্ছে। আবাসিক এলাকার পাশে উচ্চমূল্যে বিক্রির জন্য পাহাড় কেটে মাটি সরিয়ে প্লট তৈরি করছে একটি চক্র।
স্থানীয়দের দাবি, দিনের পর দিন পাহাড় কেটে ট্রাকে করে মাটি সরিয়ে নেওয়া হলেও কারা এ কাজ করছে, সে বিষয়ে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য নেই। ফলে পরিবেশ ধ্বংসের পাশাপাশি ভবিষ্যতে প্লট তৈরির জন্য কাটা পাহাড়ে ধসের ঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি সলিমপুর আবাসিক এলাকার পাশের কয়েকটি টিলায় ভারী যন্ত্র (স্কেভেটর) ব্যবহার করে মাটি কাটা হচ্ছে। কাটা মাটি বিভিন্ন স্থানে বিক্রির জন্য ট্রাকে করে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অথচ প্রকাশ্যে এমন কর্মকাণ্ড চললেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে না।
সোমবার (২০ জুলাই) রাতে স্কেভেটর নিয়ে সলিমপুর সিডিএ আবাসিক এলাকার পূর্ব পাশে পাহাড় কাটার দৃশ্য দেখা যায়। স্কেভেটর দিয়ে মাটি কেটে তা বিক্রি করছে পাহাড় খেকোরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জনৈক নাছির ও সাইমন নামে ব্যক্তিরা স্থানীয় জুবাইরের মাধ্যমে আবাসিক প্লট তৈরি করে বিক্রির উদ্দেশ্যে পাহাড়-টিলা কাটাচ্ছেন।
সিডিএ আবাসিক এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত গার্ড (দারোয়ান) মাসুদ করিম বলেন, গত সপ্তাহে স্কেভেটর এনে টিলা ভরাট করে সমতল করেন মোহাম্মদ নাছির। তিনি আবাসিক এলাকার প্লট বিক্রির ব্রোকার। সোমবার রাতে স্কেভেটরটি সরিয়ে নেওয়া হয়। বিষয়টি স্থানীয় পুলিশকে মুঠোফোনে জানানো হলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেনি বলে জানান তিনি।
তবে নাছির, সাইমন ও জুবায়েরের মোবাইলফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেন। পাহাড় কাটার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও জানান তারা। তবে নাছির জানান, তিনি বিভিন্ন সময় সিডিএর আবাসিক প্লট বৈধ প্রক্রিয়ায় বেচাকেনা করে থাকেন।
পরিবেশবাদীদের মতে, পাহাড় ও টিলা কাটা শুধু পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের পরিপন্থী নয়, এতে পাহাড়ের স্থিতিশীলতাও নষ্ট হয়। বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বাড়ে এবং আশপাশের বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়ে।
সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুসলেহ উদ্দীন/রিফাত/