যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার নাভারণ ইউনিয়নের রঘুনাথপুর ডাঙ্গী গ্রামে মসজিদের বর্ধিতকরণ কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সদ্য বিএনপি নেতা পরিচয়দানকারী ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে। ২০ দিন ধরে ওই মসজিদের বর্ধিতকরণ কাজ বন্ধ রয়েছে। এ নিয়ে মসজিদ কমিটি ও মুসল্লিদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অভিযুক্ত ইসমাইল হোসেন নিজেকে ঝিকরগাছা উপজেলার ৭নং নাভারণ ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির ১ নম্বর সদস্য বলে দাবি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও মুসল্লিরা জানান, জায়গা সংকটের কারণে রোদ ও বৃষ্টিতে ভিজে অনেক কষ্ট করে গ্রামের মুসল্লিরা প্রতি জুমার নামাজ আদায় করেন। এ নিয়ে কয়েকটি শুক্রবার জুমার নামাজের আগে মুসল্লিদের সঙ্গে আলোচনা করেন মসজিদ কমিটির সদস্যরা। আলোচনা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে মসজিদের বর্ধিতকরণ কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মসজিদ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি সহায়তা, মুসল্লি ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের দান-অনুদানের টাকায় মসজিদটি বর্ধিতকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সে অনুযায়ী সিমেন্টের খুঁটি, টিনসহ অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী এনে কাজ শুরু করা হয়।
কিন্তু তাতে বাধা দেন সদ্য বিএনপি নেতা পরিচয়দানকারী ইসমাইল হোসেন। তার দাবি, মসজিদের বর্ধিতকরণ কাজ করতে হলে তার অনুমতি ছাড়া করা যাবে না। একথা বলেই তিনি সিমেন্টের দুটি খুঁটিতে লাথি মেরে ভেঙে ফেলেন। পরে বিষয়টি মসজিদ কমিটির সভাপতি ইব্রাহীম খলিল নাভারণ ইউনিয়ন বিএনপি নেতা ও উপজেলা বিএনপির সদস্য নুরুজ্জামান কনককে জানান। বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে যেকোনো মুহূর্তে গ্রামে ভয়াবহ সংঘর্ষের মতো ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে মুসল্লিদের অভিযোগ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মসজিদকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা ঠিক নয়।
মসজিদ কমিটির সভাপতি ইব্রাহীম খলিল জানান, আমাদের মসজিদে জায়গা সংকট থাকায় অনেক কষ্ট করে চাঁপাচাপি করে গ্রামের মুসল্লিরা প্রতি জুমার নামাজ আদায় করেন। গত ৩ জুলাই শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে মুসল্লিদের সঙ্গে মসজিদ কমিটি আলোচনা করে সর্বসম্মতিক্রমে বর্ধিতকরণ কাজের উদ্যোগ নেয়। সে অনুযায়ী সিমেন্টের খুঁটি ও টিন এনে কাজ শুরু করলেই হঠাৎ আমার দুলাভাই বিএনপি নেতা ইসমাইল হোসেন তাতে বাধা দেন। এ সময় তিনি সিমেন্টের দুটি খুঁটিতে লাথি মেরে ভেঙে ফেলেন। এ সময় আমি বাধা দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি আমাকে মারতে তেড়ে আসেন। তার অনুমতি ছাড়া মসজিদের বর্ধিতকরণ কাজ করা যাবে না বলেও তিনি জানান। পরে গ্রামবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলে ইসমাইল দৌড়ে তার ঘরের মধ্যে চলে যান। দুদিন পর ইসমাইল গ্রামের আওয়ামী লীগ কর্মী লাল্টুসহ ১০-১২ জনকে ডেকে নিয়ে বলেন, মসজিদের কাজ এখানে করতে দেওয়া হবে না। পরে আমি বিষয়টি স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতাকে অবহিত করি।
এরপর ইসমাইল আমাকে বলেন, ‘বিএনপি নেতাদের জানিয়ে কোনো লাভ হবে না। কনক হাজি যে মাপের নেতা, আমিও সে মাপের নেতা। কনক হাজি আমার কী বিচার করবে? সেই থেকে আমাদের মসজিদের বর্ধিতকরণ কাজ ২০ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে।’
ইব্রাহীম খলিল ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, ‘মসজিদ হলো আল্লাহর ঘর, একটি পবিত্র স্থান। ইসমাইল হোসেন এত বড় একটি অপরাধ করলেও গ্রামের কেউ এর প্রতিবাদ করেনি। আমি মসজিদ কমিটির সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
স্থানীয় জুয়েল বলেন, ‘ইসমাইল হোসেন বিএনপি নেতা। সেই দাপট দেখিয়ে তিনি মসজিদের কাজ করতে দিচ্ছেন না।’
এ বিষয়ে ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে জানতে চাইলে তার মোবাইলফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, ‘নাভারণ ইউনিয়নে বিএনপির কোনো কমিটিই নেই। ইসমাইল হোসেন নামে নাভারণে কোনো বিএনপি নেতাকে আমি চিনি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘মসজিদ একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। বিএনপির পরিচয় দিয়ে কেউ মসজিদের কাজে বাধা দিলে অভিযোগ পেলে আমরা তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিবো।
নজরুল ইসলাসম/রিফাত/