ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
৬ গোলের ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে হারাল ইংল্যান্ড দুবার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফিরল ক্রোয়েশিয়া ফুটবল তার শক্তি দেখাল, মাঠে আসছেন ভোজিনহার মা বিশ্বমঞ্চে নিস্তেজ রোনালদো রোনালদোর পর্তুগালকে আটকে দিয়ে বিশ্বকাপে ডিআর কঙ্গোর ইতিহাস অনুশীলনে ফিরলেন নেইমার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির খসড়া ফাঁস বিশ্বকাপে প্রথম গোলে পর্তুগালের বিপক্ষে সমতায় কঙ্গো ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করেছে: জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল মেসির পর রোনালদোর কীর্তি পর্তুগালের একাদশে রোনালদো ইরান ও লেবাননে মানবিক সহায়তা দেবে চীন লায়লা বাউলের পাশে দাঁড়াল সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ফের উত্তপ্ত লেবানন, নতুন হামলা ইসরায়েলের চুক্তি না মানলে ইরানে ফের হামলার হুমকি ট্রাম্পের ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন অনুষ্ঠান হবে জুনের শেষ সপ্তাহে ঝিনাইদহে মোটরসাইকেল চোরচক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার জোরপূর্বক মানুষকে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে ভারত—হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দাবি মায়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া হবে, ভারত সীমান্তেও পরিকল্পনা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যারা বলে ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ তাদের থেকে সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী রংপুরের ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় ৬৬৫ নারী নাসার আর্টেমিস থ্রি মিশনের নভোচারীদের নাম চূড়ান্ত নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে দুই শ্রমিক নিহত শেষ যাত্রা জানাজায়, মাঝপথেই থেমে গেল জীবন সাজেকে বিজিবির বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ বিতরণ পিটারসেন অটোমোটিভ মিউজিয়াম অটোমোবাইল ডেস্ক সময় টিভির এমডি জোবায়েরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ZEEHO Bangladesh ও Riding School BD-এর মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর যুক্তরাষ্ট্রে ৫ হাজার ৮০৭ প্রবাসীর হাতে যাচ্ছে এনআইডি হেরোইনসহ মা-বাবা ও ছেলে আটক, বাড়িতে আগুন
Nagad desktop

স্কুলছাত্র হত্যায় ‘ওয়াটার লর্ড’সহ ৮ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৭ জনের যাবজ্জীবন

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৫, ০৪:২০ পিএম
আপডেট: ৩০ জুলাই ২০২৫, ০৪:২০ পিএম
স্কুলছাত্র হত্যায় ‘ওয়াটার লর্ড’সহ ৮ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৭ জনের যাবজ্জীবন
রায় ঘোষণার পর কারাগারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ওয়াটার লর্ড সাইফুল আলমকে। ইনসেটে স্কুলছাত্র সুমেল। ছবি: খবরের কাগজ

সিলেটের বিশ্বনাথে চাউলধনী হাওরে ইজারাদারি প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে গুলি করে স্কুলছাত্র সুমেল আহমদকে (১৫) হত্যা মামলার রায়ে হাওরের প্রভাবশালী ওয়াটার লর্ডসহ (ইজারাদার) আট আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া ১৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড দওয়া হবে।

বুধবার (৩০ জুলাই) সিলেটের অতিরিক্ত দায়রা জজ (প্রথম) আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক সৈয়দা আমিনা ফারহিন এ মামলার রায় দেন।

সিলেটের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মো. কামাল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- হাওরের প্রভাবশালী ‘ওয়াটার লর্ড’ (ইজারাদার) যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাইফুল আলম, নজরুল আলম, সদরুল আলম, সিরাজ উদ্দিন, জামাল মিয়া, মো. শাহিন উদ্দিন, মো. আব্দুল জলিল ও আনোয়ার হোসাইন। 

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন- ইলিয়াছ আলী, আব্দুন নুর, জয়নাল আবেদীন, আশিক উদ্দিন, মো. আশকির আলী, মো. অলিদ মিয়া ওরফে ফরিদ মিয়া ও আকবর মিয়া। তাদের প্রত্যেককে যাবজ্জীবান কারাদেণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও দুই বছর করে কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। 

এ ছাড়া দুবছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন- লুৎফুর রহমান, ময়ুর মিয়া, মামুনুর রশিদ, কাউসার রশিদ, দিলাফর আলী, পারভেজ মিয়া, ওয়াহিদ মিয়া, দিলোয়ার হোসেন, আজাদ মিয়া, মুক্তার আলী, আব্দুর রকিব, আঙ্গুর আলী, জাবেদ ইসলাম, শফিক উদ্দিন, মো. মখলিস মিয়া, ফিরোজ আলী, ফখর উদ্দিন।

বিশ্বনাথের চাউলধনী হাওরটি প্রায় ২০ বছর ধরে একাধিক ভুয়া মৎস্যজীবী সমিতির নামে লিজ নিয়ে যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাইফুল আলম হাওর এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন। 

অভিযোগ রয়েছে, যুক্তরাজ্যে বসবাসের সূত্র ধরে সাইফুল নিজেকে হাওরের ইজারাদারিকে ‘ওয়াটার লর্ড’ ঘোষণা দিয়ে হাওর এলাকায় ৩০টি গ্রামের কৃষকদের রেকর্ডিয় জমি, খাল, নালা, ডুবা জোর করে দখল করে লিজের শর্ত অমান্য করে বেআইনিভাবে সেচ দিয়ে মাছ যুক্তরাজ্যে রপ্তানি করে বিক্রি করে। মিঠা পানির মাছের বংশ ও পরিবেশ ধ্বংস করে দেওয়ায় হাওরপারের কৃষকরা আপত্তি করলে তাদেরকে মারপিট, হত্যার হুমকিসহ নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছিল।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ থেকে জানা গেছে, ২০২১ সালের ১ মে চাউলধনী হাওরের ইজারা ব্যবস্থার জন্য রাস্তার পাশ থেকে মাটি কাটা নিয়ে ওয়াটার লর্ড সাইফুল আলম ও চৈতননগর গ্রামের নজির উদ্দিনের পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় সাইফুল আলমের হাতে থাকা বন্দুকের গুলিতে স্কুলছাত্র সুমেল আহমদ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। সে বিশ্বনাথের শাহজালাল (রহ.) উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। এ ঘটনায় ৩ মে বিশ্বনাথ থানায় হত্যা মামলা করেন নিহত সুমেলের চাচা ইব্রাহীম আলী সিজিল।

মামলায় ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১৬ জনকে আসামি করা হয়। ওয়াটার লর্ড সাইফুকে প্রধান আসামি করা হয়। আসামিরা মামলাটিকে ভিন্নখাতে নিতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এ সময় চাউলধনী হাওর এলাকায় আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। সাইফুল ক্ষমতার দাপটে পুলিশকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। হত্যাকাণ্ড সহযোগিতা ও আলামত নষ্ট করার দায়ে বিশ্বনাথের তৎকালীন ওসি শামিম মুসা, এসআই নুর ও ফজলুল হককে ক্লোজ করা হয়। 

তৎকালীন বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) রমা প্রসাদ চক্রবর্তী দীর্ঘ তদন্ত শেষে ৩২ জনের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর এ মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করেন।

গত ১৩ জুলাই মামলাটি যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণার তারিখ ধার্য করা হয়। ওইদিন আদালত ৩০ জন আসামিকে জেলে পাঠান। মামলায় মোট ২৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত রায় দেন। 

আসামিদের মধ্যে মামুনুর রশিদ নামের এক আসামি ছাড়া সবাই রায় ঘোষণার সময় কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। মামুনুর রশিদ ঘটনার পর থেকেই পলাতক। ঘটনার পর পালিয়ে যুক্তরাজ্যে চলে গেলেও প্রধান আসামি ওয়াটার লর্ড সাইফুল আদালতে আত্মসমর্পনের পর থেকে প্রায় পৌঁনে চার বছর ধরে কারাবন্দি রয়েছেন।

আলোচিত এ ঘটনার পরপরই চাউলধনী হাওর এলাকায় ৩০ গ্রামের মানুষজনকে নিয়ে ‘চাউলধনী হাওর রক্ষা ও কৃষক বাঁচাও আন্দোলন’ নামের একটি অরাজনৈতিক মোর্চা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছিল। ২০২১ সালের ৬ অক্টোবর সংগঠনটি সিলেটে সংবাদ সম্মেলন করে স্কুলছাত্র হত্যার বিচার দাবি ও চাউলধনী হাওর ইজারামুক্ত করার দাবি জানিয়েছিল।

রায় ঘোষণার পর সংগঠনটির আহ্বায়ক আবুল কালাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘নিহত স্কুলছাত্র সুমেলের পরিবার রায়ে সন্তুষ্ট। তার চাচা নজির উদ্দিন দ্রুত রায় কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন। আর আমাদের দাবি হচ্ছে, হাওরটি ইজারামুক্ত হোক। ১৭৮ দশমিক ৯৮ একর আয়াতনের জলমহাল ভুয়া মৎস্যজীবীর নামে ইজারা বন্দোবস্ত বাতিল করা। সাইফুল যুক্তরাজ্য প্রবাসী হওয়ার সুবাদে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ওয়াটার লর্ড সেজেছিলেন। সেই ওয়াটার লর্ড ব্যবস্থাপনা ভেঙে চাউলধনী হাওরটি মুক্ত দেখতে চাই আমরা। এ জন্য উচ্চ আদালতেও লড়ছি আমরা।’  

পপি/

গফরগাঁওয়ে স্বামীকে ঘরে বেঁধে গৃহবধূকে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:৫০ পিএম
গফরগাঁওয়ে স্বামীকে ঘরে বেঁধে গৃহবধূকে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ
ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে স্বামীকে ঘরে বেঁধে স্ত্রীকে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে উপজেলার পাগলা থানার নিগুয়ারী ইউনিয়নের কুরচাই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর বুধবার (১৭ জুন) গৃহবধূর মা পাগলা থানায় অভিযোগ করেছেন।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগীর পারিবার সূত্রে জানা যায়, ওই গৃহবধূ তার মায়ের বাড়িতে বসবাস করছিলেন। একই বাড়ির পৃথক কক্ষে তিনি স্বামী ও তিন বছর বয়সি সন্তান নিয়ে থাকতেন। রাত ১টার দিকে মুখোশধারী সাত-আটজন দুর্বৃত্ত ঘরে ঢুকে স্বামীকে বেঁধে মারধর করেন। পরে তারা গৃহবধূকে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে প্রায় দেড় শ মিটার দূরে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ করেন। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগীকে চিকিৎসা ও পরীক্ষার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিবদ্ধ করা হবে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

কামরুজ্জামান মিন্টু/আজহার/

জয়পুরহাটে পুত্রবধুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শ্বশুর গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০২:১১ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০২:৪৭ পিএম
জয়পুরহাটে পুত্রবধুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শ্বশুর গ্রেপ্তার
ছবি: খবরের কাগজ

জয়পুরহাট সদর উপজেলার বানিয়াপাড়া এলাকায় পুত্রবধূকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে সাকোয়াত হোসেন আদা নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গতকাল মঙ্গলবার ভিকটিম বাদী হয়ে জয়পুরহাট সদর থানায় মামলা করলে রাতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার সাকোয়াত হোসেন একই এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় বটতলী বাজারের একজন জিলাপি ব্যবসায়ী।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গত ৮ জুন বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে সাকোয়াত হোসেন তার পুত্রবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।

জয়পুরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরে আলম সিদ্দিকী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ

এদিকে আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুরের খাতুনে জান্নাত মহিলা কওমি মাদরাসার পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে মাদরাসাটির পরিচালকের স্বামী জায়ের আলীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১৬ জুন) শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে আক্কেলপুর থানায় মামলা করেছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, মাদরাসাটির পরিচালক আফরোজার স্বামী জায়ের আলী দীর্ঘদিন ধরে ওই শিক্ষার্থীকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। গত ১৩ জুন আফরোজা বেগম মাথায় তেল দেওয়ার জন্য ওই শিক্ষার্থীকে তার কক্ষে ডাকেন। একপর্যায়ে তিনি প্রকৃতির ডাকে  সাড়া দিতে বাইরে গেলে কক্ষে থাকা জায়ের আলী শিক্ষার্থীর শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি করেন। শিক্ষার্থীর চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসেন। পরে বিষয়টি পরিবারকে জানানো হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্তের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

তবে আফরোজা বেগম বলেন, ঘটনাটি সত্য নয়। প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

‎আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা বলেন, শিশুটির মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সাগর কুমার/খাদিজা রুমি/

কালুখালীতে অগ্নিদগ্ধ মরদেহ: মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:৩১ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:৪২ এএম
কালুখালীতে অগ্নিদগ্ধ মরদেহ: মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ৩
ছবি: খবরের কাগজ

রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলায় যুবক আশাদুল ইসলামকে হত্যা করে মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঋণের টাকা পরিশোধ নিয়ে বিরোধের জের ধরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় বলে জানায় পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গত ১৫ জুন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কালুখালী উপজেলার মদাপুর ইউনিয়নের সূর্যদিয়া গ্রামের একটি মাদরাসার পেছনের পাটখেত থেকে আশাদুল ইসলামের (২২) অগ্নিদগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি উপজেলার বিল মানুষমারি গ্রামের শাহজাহান মণ্ডলের ছেলে।

ঘটনায় নিহতের বাবা শাহজাহান মণ্ডল বাদী হয়ে কালুখালী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার পর কালুখালী থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে।

পুলিশ জানায়, প্রায় চার মাস আগে আশাদুল ইসলাম মদাপুর গ্রামের কাউসার শেখের ছেলে মিজান শেখের (২৪) কাছ থেকে ৬৮ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। নির্ধারিত সময়ে টাকা পরিশোধ করতে না পারায় দুজনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরই জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মিজান শেখ ও তার সহযোগীরা আশাদুলকে হত্যা করেন। পরে হত্যার আলামত নষ্ট এবং পরিচয় গোপনের উদ্দেশ্যে মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

সহকারী পুলিশ সুপার (পাংশা সার্কেল) দেবব্রত সরকারের নেতৃত্বে কালুখালী থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি যৌথ টিম অভিযান চালিয়ে মামলার তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তাররা হলেন- মদাপুর গ্রামের মিজান শেখ (২৪), পশ্চিম রতনদিয়া গ্রামের আসমত মণ্ডলের ছেলে আনোয়ার মণ্ডল (৪৪) এবং সূর্যদিয়া গ্রামের শাহাজউদ্দীনের ছেলে আব্দুল করিম মোল্লা (৩৫)।

পুলিশ আরও জানায়, মামলার মূল আসামি মিজান শেখ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল, রক্তমাখা একটি হেলমেট, একটি এসএস পাইপ (রড) এবং একটি লোহার ফোল্ডিং স্টিক উদ্ধার করা হয়েছে।

কালুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল বলেন, হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী মিজান শেখ। তার কাছ থেকেই ভিকটিম টাকা ধার নিয়েছিল। ঋণের টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। হত্যার পর মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, যাতে কোনো ধরনের আলামত বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট না থাকে।

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার সঙ্গে জড়িত অন্য অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সুমন বিশ্বাস/খাদিজা রুমি/

জাল ভিসায় ইউরোপে মানব পাচারের অভিযোগ

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:০৫ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
জাল ভিসায় ইউরোপে মানব পাচারের অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

জাল ‘শেনজেন’ ভিসায় ইউরোপের দেশ ইতালিতে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তার মোহাম্মদ আখলাছুর রহমান (৪০) বিমানের জুনিয়র অফিসার (গ্রাউন্ড সার্ভিস, আইএনএস গেট) হিসেবে কর্মরত। গতকাল মঙ্গলবার (১৬জুন) ভোরে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার নিলক্ষীয়া বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি।
 
গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির সিরিয়াস ক্রাইম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লা জানান, ইতালিতে চাকরি ও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে মানব পাচারকারী একটি চক্র কয়েকজন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকায় চুক্তি করে। চুক্তির ২০ লাখ টাকা অগ্রিম নিয়ে তাদের নেপাল ও ইতালিগামী টিকিট, বোর্ডিং পাস এবং ইতালির ভুয়া শেনজেন ভিসা সরবরাহ করে চক্রটি।

সিআইডি জানায়, গত ২৬ মে বিমানের একটি ফ্লাইটে ইতালির উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর রোমের ফিউমিচিনো লিওনার্দো দা ভিঞ্চি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তারা পৌঁছালে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ভিসাগুলো পরীক্ষা করে জাল বলে শনাক্ত করেন। পরে ভুক্তভোগীদের আটক রেখে দুই দিন পর ২৮ মে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। দেশে ফিরলে ইমিগ্রেশন পুলিশ, সিআইডি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার বিস্তারিত তথ্য দেন। সেই তদন্তে উঠে আসে, মানব পাচারকারী চক্রটি বৈধ কর্মসংস্থানের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে জাল ভিসা সরবরাহের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছে। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় মামলা করা হয়েছে। পরে গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্তে বিমানের ওই জুনিয়র অফিসার আখলাছুর রহমানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিললে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার বদরুল আলম বলেছেন, এ ধরনের অপকর্মে একাধিক সংস্থার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জড়িত থাকার প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। মানব পাচারে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মানব পাচার চক্রের মূল হোতা ও অন্যান্য সহযোগীকে শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশে কর্মসংস্থান বা অভিবাসনের ক্ষেত্রে শুধু সরকার অনুমোদিত ও বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানান সিআইডির এই কর্মকর্তা।

গোপালগঞ্জে যৌতুকের জন্য স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ১০:১১ পিএম
গোপালগঞ্জে যৌতুকের জন্য স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন
প্রতীকী ছবি

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় যৌতুকের দাবিতে শিল্পী বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ইকবাল সিকদারের বিরুদ্ধে। হতভাগা শিল্পী বেগম তিন সন্তানের জননী ছিলেন। মাকে হারিয়ে তার দুই মেয়ে ও এক ছেলে এখন দিশেহারা।

সোমবার (১৫ জুন) সকালে কোটালীপাড়া উপজেলার রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের বুরুয়াবাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘাতক ইকবালের বাড়ি উপজেলার রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের বুরুয়ারবাড়ী গ্রামে।

নিহত শিল্পী বেগমের ভাই ছারোয়ার কাজী অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকসহ নানা অজুহাতে আমার বোনের ওপর নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন স্বামী ইকবাল সিকদার। গত রবিবার রাতে তাকে পুনরায় অমানুষিক নির্যাতন ও বেদম মারপিট করা হয়। মারধরের একপর্যায়ে শিল্পী বেগমের মৃত্যু হলে ঘাতক স্বামী মরদেহটি গোয়ালঘরে ফেলে পালিয়ে যান। আমরা আমার বোনের হত্যাকারীর ফাঁসি চাই।

কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রিয়াদ মাহমুদ জানান, সকালে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী ইকবাল সিকদার পলাতক থাকলেও, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিযুক্তের বড় ভাই জাকির সিকদারকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বাদল সাহা/নাঈম