ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
অগ্ন্যুৎপাতে বইছে আগুনের স্রোত, ভাইরাল ভিডিও স্নায়ুচাপ কাটিয়ে জয়ে চোখ মেক্সিকো কোচের গাজীপুরে পোশাক কারখানায় পানি পান করে অসুস্থ ২ শতাধিক শ্রমিক ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ১২০ মোড়ে বসছে এআই ক্যামেরা বিধিনিষেধ আরোপ সময়ের দাবি রাঙামাটির বরকল সীমান্তে বিজিবির অভিযানে রসুন ও সার জব্দ নড়াইলে শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে গণপিটুনি মেসিকে ছাড়িয়ে গেলেন হ্যারি কেইন রিজার্ভ চুরিতে জড়িত ৬৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশের ১০ জন কানাডায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যু সীমানা পুনর্নির্ধারণের জন্য এনডিএর আর ৬ ভোট লাগবে টুকটুক ও চিকু পাঠ থেকে ৩টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও  উত্তর , ৩য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এক শিশু নিহত চট্টগ্রামের নিখোঁজের ২ দিন পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার টিভিতে আজকের খেলা দ্বিতীয় ম্যাচের আগে ‘মুখ বন্ধ রাখতে’ বললেন দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ যেভাবে নির্ধারিত হবে সেরা ৮ ‘তৃতীয় দল’ কুড়িগ্রামে ট্রাক উল্টে রেলপথে, ভোগান্তিতে ট্রেনের যাত্রীরা বিশ্বকাপে হাইড্রেশন ব্রেক নিয়ে দর্শকদের দুয়োধ্বনি হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৫৮ হাজার ৬৩৯ জন বাংলাদেশি জি৭ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘আমিই বস’ লৌহজংয়ে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা আদিতমারীতে শিশু নন্দিনী হত্যার দায় স্বীকার পাওনা টাকার বিরোধেই খুন হন আরিফ আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম ইরানের সঙ্গে চুক্তির ১৪ দফা প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্র আলফাডাঙ্গায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১ জনের মৃত্যু, আহত ৩ নতুন দায়িত্বে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. জাহিদ চট্টগ্রামের অপহরণকারীদের হুমকিমূলক চিরকুট,নিখোঁজ শিশু উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে কলম্বিয়ার শুভ সূচনা
Nagad desktop

এক কৃষি কর্মকর্তার হাতে জিম্মি লাখো দরিদ্র কৃষক

প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৫, ১২:৩৬ পিএম
আপডেট: ০১ আগস্ট ২০২৫, ০২:০৫ পিএম
এক কৃষি কর্মকর্তার হাতে জিম্মি লাখো দরিদ্র কৃষক
মোহাম্মদ বাছিরুল আলম

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার কৃষকরা যখন প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানামুখী সংকট মোকাবিলায় লড়ছেন, তখন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলার সর্বোচ্চ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লাগামহীন দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি বরাদ্দের প্রায় প্রতিটি খাতে নয়ছয় এবং অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে তিনি দুর্নীতির চাষাবাদে মজেছেন- এমনটাই বলছেন অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।

২০২৪ সালের ১৭ এপ্রিল খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কিশোর কুমার মজুমদারের বদলির পর প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা ও তৎকালীন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মংসুইপ্রু চৌধুরী অপুর আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকের দায়িত্ব পান জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ বাছিরুল আলম। প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা হয়েও উপপরিচালকের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন এক বছরেরও বেশি সময় ধরে। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই একের পর এক প্রকল্পে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ জমতে থাকে প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা থেকে হঠাৎ উপপরিচালক বনে যাওয়া বাছিরুল আলমের বিরুদ্ধে। 

সবজি বীজ বিতরণে ৪৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের দায়িত্ব বিরত চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরার সঙ্গে যোগসাজশে শীতকালীন সবজি বীজ বিতরণের নামে ৪৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মোহাম্মদ বাছিরুল আলমের বিরুদ্ধে। গত বছরের শেষ দিকে শীতকালীন সবজি উৎপাদনে সরকারি সহায়তার অংশ হিসেবে খাগড়াছড়ি জেলা সদরসহ ৯ উপজেলার ৮ হাজার কৃষকের মাঝে হাইব্রিড বীজ বিতরণের উদ্যোগ নেয় কৃষি অধিদপ্তর। অভিযোগ পাওয়া গেছে, একটি কোম্পানির সঙ্গে গোপন চুক্তি করে ১ হাজার ২৫০ টাকায় কেনা বীজের মূল্য ১ হাজার ৮০০ টাকা দেখিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বাছিরুল আলম এবং জেলা পরিষদের দায়িত্ব বিরত চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা। এতে প্রকল্পের মোট বরাদ্দের ১ কোটি ৪৪ লাখ টাকার মধ্যে ৪৪ লাখ টাকাই বেহাত করেছেন তারা। 

গোপন একটি সূত্র জানায়, বাছিরুল আলমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী কয়েকজন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সহায়তায় পুরো লেনদেন সম্পন্ন হয়েছিল। অথচ জেলা পরিষদের তৎকালীন মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী সরকারি ক্রয় নীতিমালা (পিপিআর-২০০৬ ও ২০০৮) অনুযায়ী বীজ কেনার জন্য দাপ্তরিক নির্দেশনা দিলেও তা উপেক্ষা করে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বীজ কেনার জন্য একটি কৃষি পুনর্বাসন কমিটি রয়েছে। পদাধিকার বলে কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা এবং সদস্যসচিব ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক বাছিরুল আলম। এ ছাড়াও জেলা পরিষদের সদস্য কংজপ্রু মারমা যাবতীয় বিষয় দেখভালের জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। তবে বীজ কেনা এবং বিতরণের বিষয়ে কোনো কিছুই অবগত নন বলে জানিয়েছেন তিনি।

পেঁয়াজ ও অড়হর বীজ বিতরণেও নয়ছয়

গত মৌসুমে শীতকালীন পেঁয়াজ প্রদর্শনীতে প্রতি কেজি ৬ হাজার টাকায় কেনা বীজের অর্ধেক বিতরণ করে বাকি অংশের টাকা আত্মসাতেরও অভিযোগ উঠেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক বাছিরুল আলমের বিরুদ্ধে। ১৮টি প্রদর্শনীর জন্য প্রতিটি প্রদর্শনীতে ১ কেজি বীজ বিতরণের নির্দেশনা থাকলেও কৃষকদের দেওয়া হয়েছে মাত্র ৫০০ গ্রাম করে। এই খাতেও ৫৪ হাজার টাকা লোপাট হয়েছে।

বীজ পাওয়া কয়েকজন কৃষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তাদের ৫০০ গ্রাম বীজ দেওয়া হলেও কেউ জানতে চাইলে ১ কেজি বীজ পেয়েছেন বলে জানানোর কঠোর নির্দেশনা দেন কৃষি কর্মকর্তারা। তা না হলে পরে আর কোনো ধরনের সহায়তা পাবেন না- এমন হুমকি দেওয়া হয় কৃষকদের। 

শুধু তাই নয়, বীজ সহায়তা প্রকল্পে কাগজে-কলমে ১৭ জন কৃষকের নামে ১ কেজি করে পেঁয়াজ বীজ বিতরণ দেখানো হলেও বাস্তবে কোনো কৃষককেই পেঁয়াজের বীজ দেওয়া হয়নি বলে অধিদপ্তরের একটি গোপন সূত্র জানিয়েছে। আর এতে আত্মসাৎ করা হয়েছে ১ লাখ ২ হাজার টাকা। অপরদিকে অড়হর কর্মসূচিতেও একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ওই কর্মসূচির আওতায় প্রতিজন কৃষক ২ কেজি করে বীজ পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কৃষকদের দেওয়া হয়েছে এক কেজি বা তারও কম। মাঠপর্যায়ে এখনো চলছে বিতরণের নামে এমন ভেলকিবাজি।

৩ দিনের ট্যুর ১ দিনে শেষ করে অর্থ আত্মসাৎ

পারিবারিক পুষ্টিবাগান প্রকল্পেও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে বাছিরুল আলমের বিরুদ্ধে। গত বছরের ডিসেম্বরে ৩০ জন কৃষকের জায়গায় ২০ জনকে নিয়ে ৩ দিনের মোটিভেশনাল ট্যুর মাত্র ১ দিনে শেষ করে মোটা দাগে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। 

গুইমারা উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুমন কান্তি নাথ ও পানছড়ি উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জমির উদ্দিনসহ ওই মোটিভেশনাল ট্যুরে অংশ নেওয়া অন্য কৃষি কর্মকর্তারা অনিচ্ছা সত্ত্বেও স্বীকার করেছেন, মোটিভেশনাল ট্যুরটি দিনে দিনে শেষ করে মাস্টাররোলে তিন দিনের স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল। তবে এর বেশি আর কিছু বলতে রাজি হননি ট্যুরে অংশ নেওয়া কৃষি কর্মকর্তারা। 

৪০ লাখ টাকার কৃষিযন্ত্র গায়েব

২০২৩ সালের নভেম্বরে ইউএনডিপি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে খাগড়াছড়ির চারটি উপজেলার জন্য ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে চারটি রাইচ হার্ভেস্টার যন্ত্র কেনা হয়। তবে বাছিরুল আলম ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই শেখ হাসিনা সরকারের পতনের ঠিক এক মাস আগে পানছড়ি উপজেলার রাইচ হার্ভেস্টার যন্ত্রটি গায়েব হয়ে যায়। অভিযোগ পাওয়া গেছে, খাগড়াছড়ি আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা খগেন্দ্র ত্রিপুরার সঙ্গে যোগসাজশে কৃষকদের জন্য কেনা রাইচ হার্ভেস্টার যন্ত্র বিক্রি করে অর্থ লোপাট করেছেন বাছিরুল আলম। ৪০ লাখ টাকার ওই কৃষিযন্ত্র এক বছর ধরে গায়েব। অথচ রহস্যজনক কারণে এ বিষয়ে একেবারেই নির্বিকার কৃষি বিভাগ ও জেলা পরিষদ।

ঢাকায় জমি, বাড়ি-গাড়ি-ফ্ল্যাট

এত সব অনিয়মের নেপথ্যে রয়েছে বাছিরুল আলমের বিত্তবৈভবের বিস্তার। ঢাকার মিরপুরের শেওড়াপাড়া এলাকায় বিলাসবহুল বাড়ি, উত্তরা এলাকায় কোটি টাকার প্লট, জমি ও ব্যক্তিগত দামি গাড়ি রয়েছে তার- এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে। 

এদিকে ঢাকায় নিজের বাড়ি ও ফ্ল্যাট থাকার কথা স্বীকার করলেও বাকি সব অভিযোগই প্রত্যাখ্যান করেছেন খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক বাছিরুল আলম। বাছিরুল আলম বলেন, ‘আমার পুরান ঢাকায় পৈতৃক বাড়ি এবং মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় নিজের ফ্ল্যাট রয়েছে, এ কথা সত্যি। তবে এসব সম্পদ আমার বেতনের টাকায় কেনা। এর বাইরে আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে তার কোনোটারই ভিত্তি নেই। আমার বিভাগের কিছু কর্মকর্তার অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলা নিয়ে কথা বলায় আমার বিরুদ্ধে তারা ষড়যন্ত্র করছে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের কাছে ন্যস্ত। আর পদাধিকার বলে কৃষি পুনর্বাসন কমিটির আহ্বায়ক হলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান। এতসব অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের দায়িত্বরত চেয়ারম্যান ও কৃষি পুনর্বাসন কমিটির আহ্বায়ক জিরুনা ত্রিপুরার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ সদস্য ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আহ্বায়ক কংজ্যপ্রু মারমা বলেন, ‘আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্বে থাকলেও বীজ কেনার বিষয়ে কিছুই জানা নেই আমার। তবে মোটিভেশনাল ট্যুরে তিন দিনের প্রশিক্ষণ এক দিনে শেষ করার অভিযোগটি আমিও শুনেছি। এর বাইরে আপাতত কিছুই বলতে চাইছি না।’

নড়াইলে শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে গণপিটুনি

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:২৭ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম
নড়াইলে শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে গণপিটুনি
ছবি: খবরের কাগজ

নড়াইলে শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে মিন্টু গাজীকে (৪৫) গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা। তাকে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) রাত ১২টার দিকে পৌরসভার দুর্গাপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটক মিন্টু গাজী দুর্গাপুর এলাকার খালেক গাজীর ছেলে ও সম্পর্কে শিশুটির সৎবাবা।

পুলিশ ও ​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল পৌরসভার দুর্গাপুর এলাকার মিন্টু গাজী বুধবার রাত ১২টার দিকে সৎমেয়েকে (১২) নিয়ে মাছ ধরার কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। দুর্গাপুর রেলষ্টেশনের পাশে নিয়ে তাকে যৌন হয়রানি করে। এ সময় স্থানীয়রা তাকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। পুলিশ তাকে আটক করে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে হাসপাতালের বারান্দায় পুলিশ পাহারায় চিকিৎসা চলছে। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

সদর থানার ভরাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ’এ ঘটনায় সদর থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

​শরিফুল ইসলাম/খাদিজা রুমি/

চট্টগ্রামের নিখোঁজের ২ দিন পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:০২ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
চট্টগ্রামের নিখোঁজের ২ দিন পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের পটিয়ায় নিখোঁজের দুই দিন পর পাঁচ বছর বয়সী শিশু মো. জায়হানের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে পটিয়া পৌরসভার দক্ষিণ গোবিন্দারখীল এলাকার একটি ময়লার ভাগাড় থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

নিহত জায়হান স্থানীয় গ্যারেজ ব্যবসায়ী শাহজাহানের একমাত্র ছেলে। সে এলাকার একটি নূরানি মাদরাসায় পড়াশোনা করত।

পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিরা একই পরিবারের সদস্য এবং তাদের বসতঘরের পেছনের অংশ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে বাড়ির সামনের সড়কে খেলতে গিয়ে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায় জায়হান। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান মেলেনি। একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা ধারণা করেন, হয়তো সে পাশের পুকুরে পড়ে গেছে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুকুরে তল্লাশি চালানো হলেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পরে বিষয়টি পটিয়া থানাকে অবহিত করে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর শাহজাহানের ঘরে একটি হাতে লেখা চিঠি পাওয়া যায়। সেখানে শিশুটিকে ফিরিয়ে দেওয়ার শর্ত হিসেবে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ চিঠিটি জব্দ করে এবং প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে।

স্বজনদের দাবি, অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে শিশুটিকে অপহরণ করা হয়েছিল। পরে ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাকে হত্যা করে মরদেহ গোপন করার চেষ্টা করা হয়। তাদের অভিযোগ, সন্দেহভাজনরা পুরো সময়জুড়ে পরিবারের সঙ্গে শিশুটিকে খোঁজার ভান করে গেছে।

পটিয়া থানার  ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, উদ্ধার হওয়া মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং জড়িত থাকার সন্দেহে আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

রাফিউল আলভী/খাদিজা রুমি/

লৌহজংয়ে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:৫৬ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১১:২০ এএম
লৌহজংয়ে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা
ছবি: খবরের কাগজ

মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে সোহেল মুন্সী (৩৯) নামে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

বুধবার (১৭ জুন) রাতে উপজেলার গাওদিয়া ইউনিয়নের কালুরগাঁও গ্রামে নিজ বাড়ির উঠানে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলেও আগুন দেওয়া হয়।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, নিহত সোহেল বুধবার রাতে রাতে খেয়ে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। সন্তান নিয়ে পাশের ঘরে শ্বাশুড়ির সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিলেন তার স্ত্রী নুপুর। গভীর রাতে বাড়ির ওঠানে আগুন দেখতে পেয়ে সোহেলের স্ত্রী ও মা ঘর থেকে বেড়িয়ে এসে দেখেন ওঠানে সোহেলের রক্তাক্ত দেহ পড়ে আছে এবং তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে আগুন জলছে। কে বা কারা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর হত্যা করে।

বিষয়টি স্থানীয়রা পুলিশকে জানালে ভোরে পুলিশ গিয়ে সোহেলের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ শ্রীনগর-সিরাজদিখান সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আনিছুর রহমান জানান, গভীর রাতে ঘর থেকে বের করে দুর্বৃত্তরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। কি কারণে এ হত্যাকাণ্ড তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মঈনুদ্দীন সুমন/খাদিজা রুমি/

পাওনা টাকার বিরোধেই খুন হন আরিফ

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:৪০ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১১:২১ এএম
পাওনা টাকার বিরোধেই খুন হন আরিফ
ছবি: খবরের কাগজ

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার শিলমন্দি এলাকার আলোচিত আরিফ হোসেন (৩৭) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরেই আরিফকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে জানায় সংস্থাটি।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার প্রধান আসামি নুর মোহাম্মদ (৩০) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরও কয়েকজনের নাম বলেছেন।

মুন্সীগঞ্জ পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আছমা আরা জাহান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার শিলমন্দি এলাকার বাসিন্দা আরিফ হোসেনের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানার চরকিশোরগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা নুর মোহাম্মদের ৪৯ হাজার টাকা পাওনা নিয়ে বিরোধ ছিল। বিরোধের জেরে গত ১৩ জুন রাতে নুর মোহাম্মদ তার সহযোগীদের নিয়ে আরিফকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

তদন্তে জানা যায়, ঘটনার রাতে নুর মোহাম্মদ কৌশলে আরিফকে ডেকে নেন। পরে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সহযোগীদের সহায়তায় তাকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ ঘটনাস্থলের পাশে ফেলে রেখে আসামিরা পালিয়ে যায়।

পরদিন ১৪ জুন ভোর আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের শিলমন্দি এলাকার একটি ঘাসের জমিতে আরিফের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের মা ফরিদা বেগম বাদী হয়ে মুন্সীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলাটি অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। তদন্তকারী দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে।

তদন্তের একপর্যায়ে গত ১৬ জুন রাত ৮টা ৪০ মিনিটে নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর এলাকা থেকে প্রধান আসামি নুর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই অভিযানে তার ভাই আকাশকেও আটক করা হয়।

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে নুর মোহাম্মদ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দিতে তিনি পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের বিষয়টি তুলে ধরে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন এবং ঘটনায় অংশ নেওয়া অন্যান্য সহযোগীদের নামও প্রকাশ করেন।

নুর মোহাম্মদ ও আকাশ গ্রেপ্তার হলেও বাকি আসামিরা এখনও পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানায় পিবিআই।

মঈনুদ্দীন সুমন/খাদিজা রুমি/

চট্টগ্রামের অপহরণকারীদের হুমকিমূলক চিরকুট,নিখোঁজ শিশু

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:২৩ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:৪০ এএম
চট্টগ্রামের অপহরণকারীদের হুমকিমূলক চিরকুট,নিখোঁজ শিশু
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ গোবিন্দার খীল এলাকার পূর্বপাড়া গ্রামে ঘর থেকে বের হয়ে খেলতে গিয়েছিল পাঁচ বছরের শিশু জায়হান। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরিবারের উদ্বেগ ধীরে ধীরে রূপ নেয় আতঙ্কে। আর সেই আতঙ্ককে আরও বাড়িয়ে দেয় একটি হাতে লেখা চিঠি, যেখানে শিশুটিকে অপহরণের দাবি করে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ চেয়েছে দুর্বৃত্তরা।

মঙ্গলবার (১৬ জুন)  দুপুরে ঘটে এ ঘটনা। অপহরণ করা শিশু মো. জায়হান স্থানীয় গ্যারেজ ব্যবসায়ী শাহজাহানের একমাত্র সন্তান।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার দুপুরেও বাড়ির সামনের রাস্তায় খেলাধুলা করছিল জায়হান। দুপুর ১২টার পর তাকে আর দেখা না গেলে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। আশেপাশের বাড়ি, আত্মীয়-স্বজনের বাসাসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেও কোনো সন্ধান মেলেনি। এমনকি শিশুটি পুকুরে পড়ে যেতে পারে এমন আশঙ্কায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাড়ির সামনের পুকুরেও ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু কোথাও তার হদিস পাওয়া যায়নি।

সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন মা-বাবা। একপর্যায়ে বিষয়টি পটিয়া থানাকে জানিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়লে শিশুটির বাড়িতে ভিড় করেন স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিকেল তিনটার দিকে ঘটে নতুন ঘটনা। পরিবারের সদস্যরা ঘরের সামনের একটি কক্ষের বিছানায় একটি হাতে লেখা চিঠি দেখতে পান। ধারণা করা হচ্ছে, বাড়িতে মানুষের ভিড়ের সুযোগ নিয়ে অজ্ঞাত কেউ চিঠিটি সেখানে রেখে যায়।

চিঠিতে দাবি করা হয়, শিশুটি অপহরণকারীদের হেফাজতে রয়েছে। তাকে জীবিত ফিরে পেতে হলে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। পাশাপাশি পুলিশ বা অন্য কাউকে জানালে শিশুটির ক্ষতি করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি পরিবারের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয় চিঠিতে।

চিঠি পাওয়ার পর পরিবার ও এলাকাবাসী নিশ্চিত হন যে এটি পরিকল্পিত অপহরণের ঘটনা। খবর পেয়ে পটিয়া থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে চিঠিসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে এবং তদন্ত শুরু করে।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা এবং প্রযুক্তিনির্ভর একাধিক টিম একযোগে কাজ করছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া চিঠিটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অপহরণকারীদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

একমাত্র সন্তানকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় দিন কাটছে শাহজাহান ও তার পরিবারের। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং শিশুটির দ্রুত ও নিরাপদ উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

রাফিউল আকরাম আলভী/খাদিজা রুমি/