ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সিলেটে হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু খুলনায় মসজিদে ঢুকে ২ মুসল্লিকে গুলি কু‌ড়িগ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ব্যবসায়ীর মৃত্যু ঈশ্বরদীতে ব্রাজিল-মরক্কো খেলা দিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবল উত্তেজনা শুরু ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ১ শিশুর ইনজুরি নিয়ে শঙ্কিত নয় মরক্কো বেনাপোল বন্দরে ন্যায্য মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের কর্মবিরতি স্থগিত এনড্রিককে নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন আনচেলত্তি আরাগচির বিরুদ্ধে তেহরানে বিক্ষোভ ব্যাপন, অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন অধ্যায়ের ৯টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান হাতিয়ায় কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে ওসি প্রত্যাহার মতলবে ৬৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ, নিরাপত্তাহীনতায় লাখো মানুষ জয় দিয়ে শুরু অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ অভিযান কেনেডি সেন্টার থেকে অপসারণ করা হলো ট্রাম্পের নাম ক্রিকেটার নাঈমকে হেনস্থায় প্রত্যাহার খুলশী থানার ওসি আরিফুল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি: সময় নিয়ে দ্বিমত তেহরানের ২৫ মে থেকে বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ পালনের ঘোষণা কুড়িগ্রাম সীমান্তে ৯ জনকে পুশইনের চেষ্টা মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে সোহেল-স্বপ্নার আপিল আজ ইন্টারন্যাশনাল বাথ ডে রবিবার বন্ধ থাকবে রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দোকানপাট সিঙ্গাপুর, কানাডা নয়, বেটার বাংলাদেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ চট্টগ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে মা-মেয়েকে হত্যা মুন্সীগঞ্জে টাকা লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা শেষ হলো ‘রুচি বিউটিগ্রাম সিজন সেভেন’ টিভিতে আজকের খেলা হাইতিকে হারিয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে স্কটল্যান্ড র‌্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনে ‘টেস্ট অফ ল্যাটিন’– সুস্বাদু খাবার আর ফিফা বিশ্বকাপের দারুণ এক উৎসব ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের পাশে ফের অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ
Nagad desktop

আওয়ামী লীগের ‘ক্যানসার’ মোঘলের ফের সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা

প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৫, ০৭:২৭ পিএম
আপডেট: ০৭ আগস্ট ২০২৫, ০৭:২৯ পিএম
আওয়ামী লীগের ‘ক্যানসার’ মোঘলের ফের সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা
লুটপাটের সম্রাট মোগল ওরফে তারিকুল ইসলাম মোঘল। ছবি: সংগৃহীত

জমি জবরদখল, জোরপূর্বক বালু ভরাট, গুম, খুন ও লুটপাটের সম্রাট মোগল ওরফে তারিকুল ইসলাম মোঘল। এ যেন এক মূর্তিমান আতঙ্ক। তার ভয়ে বছরের পর বছর বাড়ি ছাড়া শতশত পরিবার।

গত বছরের পাঁচই আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর আত্মগোপনে থাকে অপরাধ জগতের সম্রাট মোগল ও তার বাহিনী। কিন্তু বছর না যেতেই স্থানীয় বিএনপির আংশিক নেতাদের সহযোগিতায় ফের সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন এই সন্ত্রাস ও তার বাহিনী। মোটা টাকার বিনিময়ে ছাত্র জনতার ওপর নির্বিচারে হামলা চালানোর মামলা থেকে কৌশলে জামিন নিয়েছেন তিনি।

এলাকা সূত্রে জানা যায়, এক সময়ের চা দোকানি মোগল ছিল হত দরিদ্র পরিবারের সন্তান। মামারবাড়ি ছোট্ট দোকানে বসে চা বিক্রি করতেন। পরিবারের কেউ মানুষের বাড়িতে কাজ করে, কেউ বা জুট মিল ও টেক্সটাইলে কাজ করতে টেনেটুনে চালাতেন সংসার। হঠাৎ স্থানীয় শ্রমীক নেতা মোক্তার হত্যাকাণ্ডের পর আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় ফুলেফেপে উঠে মোগল ও তার পরিবার। শুরু হয় তার অপরাধ জগৎ। তার বাবা হারুন অর রশীদ ছিলেন সামান্য টেক্সটাইল মিলের কেরানি।  হঠাৎ আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে যায়। কোটি টাকার  বিলাসবহুল গাড়িতে চড়েন। বর্তমানে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বসবাস করছেন বলে এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে। বিগত আওয়ামী লীগের আমলে কাঞ্চন পৌরসভায় রাম রাজত্ব কায়েম করেছিলেন মোঘল বাহিনী। এ বাহিনীর কথার বাহিরে গেলেই হামলা মামলার স্বীকার হতো নিরীহ লোকজন। 

উল্লেখ্য, ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ বছর না ঘুরতেই ছলেবলে কৌশলে আবারও মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার অপতৎপরতা শুরু করেছে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ হলেও নানা কায়দায় তারা সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। 

উল্লেখ্য  ৫ আগস্টের পর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা রূপগঞ্জে কার নেতৃত্বে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে সেই প্রশ্ন সবার মুখে মুখে। বিষয়টি অনুসন্ধান করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে থলের বেড়াল। জানা যায়, কাঞ্চন পৌরসভার সাবেক মেয়র ও যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলামের ভাই এবং আওয়ামী সন্ত্রাসী তারিকুল ইসলাম মোঘলই নেতৃত্ব দিচ্ছেন দুই শতাধিক সশস্ত্র আওয়ামী ক্যাডারকে। আর এই কাজে মোঘলকে অস্ত্রের জোগান দিচ্ছে তার অন্য তিন ভাই রফিকুল ইসলাম, সফিকুল ইসলাম এবং নজরুল ইসলাম । অপরভাই সাইফুল ইসলাম জাতীয় পার্টি কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক। যে দল ক্ষমতায় থাকুক না কেন তাদের ক্ষমতা চলে সবসময়।

এদের মধ্যে সফিকুল ইসলামের নামে খুন, গুম, ধর্ষণ ও চাঁদাবাজিসহ ২০টিরও বেশি মামলা রয়েছে। ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের অন্য নেতাকর্মীরা গা ঢাকা দিলেও বিএনপির একাংশের সরাসরি মদদে রূপগঞ্জে আওয়ামী সন্ত্রাসী কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে মোঘল গং। যদিও বিএনপির অনেক নেতাকর্মী মনে করেন, পতিত আওয়ামী লীগের ‘ক্যানসার’ হিসেবে পরিচিত মোঘলকে এভাবে ‘পুনর্বাসনের’ সুযোগ করে দেওয়া ঠিক হচ্ছে না।

এ ছাড়াও ওই এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করা হয় আর চাহিদামতো চাঁদা দিতে ব্যর্থ হলেই গুমের শিকার হতে হত ভুক্তভোগীদের।

 স্থানীয়দের অভিযোগ, কাঞ্চন পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলামের ভাই মোঘল এখন যুবলীগ নেতা থেকে বিএনপির ঘাড়ে সওয়ার হয়েছে। অথচ তার অতীত কর্মকাণ্ড ছিল কট্টর বিএনপিবিরোধী।

রূপগঞ্জ থানা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৪ এপ্রিল প্রতারণার অভিযোগে মোঘলের নামে নারায়ণগঞ্জ আদালতে দুটি সিআর মামলা করা হয়, মামলা দুটি এখনও তদন্তনাধীন রয়েছে। এ ছাড়া রূপগঞ্জ থানায় ২০২৩ সালেও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে তার নামে একটি মামলা (মামলা নং-৩১৬) দায়ের হয়। তার বিরুদ্ধে বাছির হত্যা মামলা, বাদশা মেয়রকে হত্যাচেষ্টা ও আবুল বাশার মেয়রকে মারধরের অভিযোগেও রূপগঞ্জ থানায় মামলা রয়েছে। এ ছাড়াও একই থানায় তার নামে ২০০৯ সালে মারামারির অভিযোগে অপর একটি মামলা (মামলা নং-৩৯) দায়ের করেন এক ভুক্তভোগী।

স্থানীয় সূত্র জানায়, অন্তত দেড় ডজন মামলার আসামি হওয়ার পরও প্রতিবারই মোঘল থেকেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। অভিযোগ রয়েছে, ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর হওয়ার ‍সুবাদে ও বড় ভাই মেয়র হওয়ার কারণেও সে প্রতিবার পার পেয়েছে। পুলিশের কাছেও পেয়েছে বাড়তি সুবিধা। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক  ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান ভূঁইয়ার অত্যন্ত কাছের ও বিশ্বস্ত লোক ছিলেন মোঘল।  অথচ একসময় নুন আনতে পান্তা ফুরানোর অবস্থা ছিল তার।

আরও অভিযোগ রয়েছে, ভূমিদস্যুতার মাধ্যমে মোঘল এখন শতকোটি টাকার মালিক হয়েছে। চলাফেরা করে বিলাসবহুল গাড়িতে। বসবাসের জন্য তৈরি করেছে প্রাসাদের মতো বাড়ি। বানিয়েছে চোখধাঁধানো ডিজাইনের বাগানবাড়ি। যেখানে নিয়মিত বসে আনন্দ জলসা। অথচ দৃশ্যমান কোনো আয় না থাকলেও খাসজমি দখল, অন্যের জমি জবরদখল করে বিক্রি করাই মোঘলের প্রধান কাজ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কাঞ্চন পৌর এলাকায় মোঘল বাহিনীর রয়েছে অবৈধ অস্ত্রের বিশাল ভাণ্ডার। দেশি-বিদেশি পিস্তল, শটগান, দা-ছুরিসহ নানা অস্ত্রে সজ্জিত থাকে এই বাহিনী। মোঘলের ফাঁসির দাবিতে কাঞ্চন এলাকায় বহুবার বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন হয়েছে। মোঘলের ছোট ভাই শফির বিরুদ্ধেও রয়েছে ট্রিপল মার্ডারের অভিযোগ। 

সম্প্রতি মোঘল দেশে ফেরায় আতঙ্কে দিন পার করছেন স্থানীয়রা। যদিও তার ভয়ে এখনও প্রকাশ্যে মুখ খুলতে নারাজ অনেকেই। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা জানান, কেন্দুয়া এলাকায় তৈরি মোঘলের সুরম্য অট্টালিকা সবার নজর কাড়ে। বাইরে নামফলকে লেখা ‘তাওহিদ নূর প্রাসাদ’। হোল্ডিং নম্বর-০১৭৬০০। দেশে ফেরার পর তাকে ওই বাড়িতে বসবাস করতে দেখা না গেলেও গভীর রাতে সেখানে তার আসা-যাওয়া রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

কাঞ্চন পৌর এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মোঘলের বাহিনীতে রয়েছে অবৈধ অস্ত্রধারী দুই শতাধিক ক্যাডার। তার ক্যাডার বাহিনীর ভয়ে তটস্থ ওই এলাকার মানুষ। মোঘলের বিরুদ্ধে তাদের অভিযোগেরও শেষ নেই। কাঞ্চন পৌর এলাকা ও কেন্দুয়ার মানুষ যেন এই মোঘল ‘সাম্রাজ্য’-এর প্রজা!

এই অপরাধী নানা যোগসাজশের মাধ্যমে স্থায়ী জামিন লাভেরও অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

সুমন/

খুলনায় মসজিদে ঢুকে ২ মুসল্লিকে গুলি

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০১:০৩ পিএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০১:০৫ পিএম
খুলনায় মসজিদে ঢুকে ২ মুসল্লিকে গুলি
ছবি: খবরের কাগজ

খুলনার দৌলতপুরে মসজিদে ঢুকে দুই মুসল্লিকে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। এতে দুজনেই গুরুতর আহত হয়েছেন। এর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

রবিবার (১৪ জুন) ফজরের নামাজের সময় দৌলতপুর বিএল কলেজ রোডে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির বিদ্যুৎ জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।

​আহতরা হলেন- লোকমান হাকিম (৫৫) ও  আলম শেখ (৫৬)।

স্থানীয়রা জানায়, ওজোপাডিকো বিদ্যুৎ জামে মসজিদে অন্যান্য মুসল্লিদের সঙ্গে লোকমান হাকিম ও আলম শেখ ফজরের নামাজ আদায় করছিলেন। নামাজ চলাকালীন কয়েকজন মসজিদে ঢুকে তাদেরকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলিবিদ্ধ হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তারা মসজিদে লুটিয়ে পড়েন।

দুজনকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে লোকমান হাকিমের অবস্থার অবনতি হলে তাকে  উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। গুলিবিদ্ধ আলম শেখ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 

খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে। ​পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

মাকসুদ/আমান

মধুখালীতে ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিকে কুপিয়ে ৩ লাখ টাকা ছিনতাই

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:১৭ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:০৩ এএম
মধুখালীতে ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিকে কুপিয়ে ৩ লাখ টাকা ছিনতাই
ছবি: খবরের কাগজ

ফরিদপুরের মধুখালীতে রবিউল আউয়াল আলফাদ নামে ওষুধ কোম্পানির এক বিক্রয় প্রতিনিধিকে কুপিয়ে জখম করে তিন লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (১৩ জুন) রাত ৮টার দিকে উপজেলার নওপাড়া বাজার থেকে বাগাট বাজার আঞ্চলিক সড়কের তারাপুর খেয়াঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী জানায়, একমি কোম্পানির (ভেটেরিনারি ডিভিশন) মধুখালী উপজেলার বিক্রয় প্রতিনিধি রবিউল আউয়াল আলফাদ নওপাড়া বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে কালেকশন শেষে বাগাট বাজারের উদ্দেশে রওনা দেন। পথে নওপাড়া ইউনিয়নের তারাপুর খেয়াঘাট এলাকায় একাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে দুর্বৃত্তরা তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাকে কুপিয়ে নগদ তিন লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন।
 
এ বিষয়ে রবিউল আউয়াল আলফাদ বলেন, ‘সারা দিন মধুখালী উপজেলার বিভিন্ন বাজার গিয়ে বকেয়া টাকা কালেকশন করি। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নওপাড়া বাজার থেকে কালেকশনের টাকাসহ বাগাট বাজারের উদ্দেশে রওনা হই। পথে তারাপুর খেয়াঘাট নির্জন এলাকায় পৌঁছালে দুটি মোটরসাইকেল নিয়ে একাধিক ব্যক্তি মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে আমাকে কুপিয়ে জখম করে। এ সময় আমার কাছে থাকা তিন লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আমার চিৎকারে এগিয়ে এসে উদ্ধার করে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।’
 
মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকদেব রায়ের মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার কল করেও পাওয়া যায়নি।
 
এ বিষয়টি নিয়ে ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) মো. আজম খান জানান, বিষয়টি জানার পর একজন উপ-পরিদর্শকের (এসআই) নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা ওই বিক্রয় প্রতিনিধিকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যায়। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে কাজ চলছে।

এনকেবি নয়ন/তামান্না রুপা/

সোনারগাঁয় নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে যুবদল নেতাসহ দুইজন গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম
সোনারগাঁয় নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে যুবদল নেতাসহ দুইজন গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের জামপুর ইউনিয়নের সিরাব এলাকায় এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে যুবদল নেতা মো. শহীদ মিয়াসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। 

গ্রেপ্তাররা হলেন, জামপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. শহীদ মিয়া (৪০) ও একই এলাকার শাহিন মিয়া।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে তাদের নারায়ণগঞ্জ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ভুক্তভোগী নারীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 
 
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভূক্তভোগী নারী তার স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে সিরাব এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। গত ১০ জুন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি রান্নাঘরে কাজ করছিলেন। এ সময় অভিযুক্ত যুবদল নেতা শহীদ মিয়াসহ কয়েকজন তার মুখ চেপে ধরেন। সন্তানদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক পাশের একটি চারতলা ভবনের নিচতলার একটি কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে তার হাত ও মুখ বেঁধে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে অভিযুক্তরা তাকে কক্ষে রেখে চলে যায়। সন্ধ্যায় তার স্বামী বাড়িতে ফিরে আসলে ভুক্তভোগী নারী ঘটনার বিস্তারিত জানান।

শুক্রবার সকালে সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। 

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম সারোয়ার বলেন, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

ইমরান হোসেন/খাদিজা রুমি/

বরগুনায় প্যানেল চেয়ারম্যানের ওপর হামলা, গণপিটুনিতে যুবক নিহত

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:১৯ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:৩৯ এএম
বরগুনায় প্যানেল চেয়ারম্যানের ওপর হামলা, গণপিটুনিতে যুবক নিহত
বরগুনার সদর হাসপাতালে নিহত ইব্রাহিমের মরদেহ নিয়ে আসার পর উৎসুক জনতার ভিড়। ছবি: খবরের কাগজ
বরগুনার সদর উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নে প্যানেল চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফাকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় পাল্টা গণপিটুনিতে ইব্রাহিম হোসেন কালু নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার সহযোগী তৌহিদ ইসলাম শুভ গুরুতর আহত হয়েছেন।
‎শুক্রবার (১২ জুন) ইউনিয়নের ডেমা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
 
নিহত ইব্রাহিম হোসেন কালু একই গ্রামের সোনা গাজীর ছেলে। আহত তৌহিদ ইসলাম শুভ একই গ্রামের রহিমের ছেলে।
‎পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য, বিকেলে ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফার ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। 
‎স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, এ হামলার সঙ্গে ইব্রাহিম হোসেন কালু ও তার সহযোগীরা জড়িত ছিলেন। পরে ঘটনাস্থলে থাকা ক্ষুব্ধ লোকজন কালু ও তার সহযোগীদের ওপর হামলা চালায়।
‎স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, এলাকায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে কালুকে ঘিরে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। 
‎তবে কালুর স্বজন ও সমর্থকদের দাবি, তাকে পরিকল্পিতভাবে হামলার শিকার হতে হয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে বের হওয়া প্রয়োজন।
‎সন্ধ্যায় গুরুতর আহত অবস্থায় কালু ও শুভকে উদ্ধার করে বরগুনা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কালুকে মৃত ঘোষণা করেন। শুভকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে আহত ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফাকেও উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানো হয়েছে।
‎এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
 
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
‎বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলীম জানান, ইব্রাহিম হোসেন কালুর বিরুদ্ধে মাদক, ডাকাতি ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অস্ত্র মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং পরে জামিনে মুক্তি পান।
‎ওসি বলেন, 'প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিরোধের জেরে ইউপি সদস্যের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরে গণপিটুনিতে কালু নিহত হন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।ঝ
 
মহিউদ্দিন অপু/আজহার/

পাবনায় ছেলের সামনে বাবাকে হত্যা, আরও একজন গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:১৬ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:৫৮ এএম
পাবনায় ছেলের সামনে বাবাকে হত্যা, আরও একজন গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত

পাবনা সদর থানা এলাকায় ছেলের সামনে হোসেন আলী নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আরেক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে মোট চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলো।

শুক্রবার (১২ জুন) রাত সাড়ে ১১টায় সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার রূপবাটি এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সাইদুল নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।
 
র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুন পাবনা সদর থানায় করা চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার পর থেকেই আসামিরা আত্মগোপনে চলে যায়। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র‌্যাব গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। পরে শাহজাদপুর উপজেলার রূপবাটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাইদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে মতিয়ার রহমান (৪০), শরীফ প্রামাণিক (৩৫) ও মনিরুল ইসলাম (২৮) নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ৮ জুন সন্ধ্যা ৬টার দিকে পাবনা সদর উপজেলার লস্করপুর মাছুমবাজার জামেয়া আশরাফিয়া মাদরাসার মেইন গেইট সংলগ্ন লাইব্রেরির সামনে পাকা রাস্তার ওপর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। সেখানে নিজ ছেলের সামনেই ভিকটিম হোসেন আলীকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

পাবনার পুলিশ সুপার জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে চরমপন্থি সংগঠন পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি এবং পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি লাল পতাকা এই দুইটি বাহিনীর আঞ্চলিক নেতা ও সদস্যদের মধ্যে আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জের ধরে প্রায় এক মাস আগে হোসেন আলীকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। তবে হত্যাকাণ্ডে এর বাইরে অন্য কোনো কারণ বা যোগসূত্র আছে কি না সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী  আফছানা খাতুন (৪৫) বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় ৯ জনের নামোল্লেখ এবং আরও ১০-১২ জন অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।

আমিনুল ইসলাম/খাদিজা রুমি/