ঢাকা ৩ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
রংপুরের ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় ৬৬৫ নারী নাসার আর্টেমিস থ্রি মিশনের নভোচারীদের নাম চূড়ান্ত নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে দুই শ্রমিক নিহত শেষ যাত্রা জানাজায়, মাঝপথেই থেমে গেল জীবন সাজেকে বিজিবির বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ বিতরণ পিটারসেন অটোমোটিভ মিউজিয়াম অটোমোবাইল ডেস্ক সময় টিভির এমডি জোবায়েরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ZEEHO Bangladesh ও Riding School BD-এর মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর যুক্তরাষ্ট্রে ৫ হাজার ৮০৭ প্রবাসীর হাতে যাচ্ছে এনআইডি হেরোইনসহ মা-বাবা ও ছেলে আটক, বাড়িতে আগুন সমুদ্রের নিচে চীনের নতুন ডেটা সেন্টার সোনারগাঁয়ে স্কুল ফাঁকি দিয়ে মেঘনায় গোসল, দুই স্কুল ছাত্রের মৃত্যু বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমল ৫ শতাংশের বেশি সোনারগাঁয়ে মেঘনায় গোসলে নেমে ২ শিক্ষার্থীর মৃত্যু নৌবাহিনীর ডকইয়ার্ডে নির্মিত হচ্ছে ৫টি ‘রিভারাইন পেট্রল ভেসেল’ স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসরে স্যামসাংয়ের নতুন ল্যাপটপ গুরুদাসপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় বৃদ্ধের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড টাঙ্গাইল মেডিকেলে হঠাৎ পরিদর্শন, অসন্তোষ প্রকাশ প্রতিমন্ত্রী টুকুর চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্কুল ফিডিংয়ে ১৬ শিক্ষার্থী অসুস্থ দুর্নীতির মামলায় আবেদপুত্র সিয়ামের বিচার শুরু যাত্রা ও সার্কাসে অশ্লীলতা বরদাশত নয় : সংস্কৃতিমন্ত্রী আজকে যে কেউ সরকারের বিরুদ্ধে নির্দ্বিধায় বলতে পারে: প্রধানমন্ত্রী যে জগৎ মানুষের অপেক্ষায় আছে চট্টগ্রামে এইডস ঝুঁকি বাড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা মাধবদীর ‘মমতা’ সিনেমা হল বিক্রির বিজ্ঞাপন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নির্ভর করছে মায়ানমারের সদিচ্ছার ওপর: পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাঠে বসে মেসির হ্যাটট্রিকে আর্জেন্টিনার জয় দেখলেন নাদিয়া-নাঈম যুগোপযোগী পাঠদান শিক্ষার্থীদের শেখার অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করবে: গ্লেনরিচে বক্তারা ফরিদপুরে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু বৈশ্বিক শিল্প ইতিহাসের ভূ-রাজনীতিতে নারী শিল্পী
Nagad desktop

ইজ্জতের দাম ৫ লাখ, তিন লাখ গেল মাতব্বরদের পকেটে!

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৫, ১১:০৫ এএম
আপডেট: ২১ অক্টোবর ২০২৫, ১১:০৫ এএম
ইজ্জতের দাম ৫ লাখ, তিন লাখ গেল মাতব্বরদের পকেটে!
ধামরাই থানা

ঢাকার ধামরাইয়ে সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ধামরাই থানায় একটি লিখিত করেন ভুক্তভোগীর পিতা সায়েদ আলী। পরে পুলিশকে কিছু না জানিয়ে ধর্ষণের চেষ্টাকারী সাবেক মেম্বার আতা মিয়াকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেন সোমভাগ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুস্তম আলীর নেতৃত্বে স্থানীয় মাতব্বররা। অভিযোগ, ভুক্তভোগীকে দুই লাখ টাকা দিয়ে বাকি টাকা ভাগ করে নেন মাতব্বররা।

ঘটনাটি গত মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার সোমভাগ ইউনিয়নের চরডাউটিয়া গ্রামের।

জানা যায়, উপজেলার চরডাউটিয়া গ্রামের প্রতিবন্ধী সায়েদ আলীর মেয়েকে ফুসলিয়ে একই গ্রামের মৃত ওয়াহেদ আলীর ছেলে সাবেক ইউপি মেম্বার আতর আলী ওরফে আতা মিয়া তার ফাঁকা বাড়িতে নিয়ে আসেন। তাকে একটি ঘরে নিয়ে দরজা-জানালা আটকিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় মেয়েটির চিৎকারে এলাকাবাসী এসে ঘরের দরজা ভেঙে মেয়েটিকে উদ্ধার করেন এবং আতা মিয়াকে মারধর করেন।

পরে ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আতা মিয়ার বিরুদ্ধে ধামরাই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সাবেক ইউপি মেম্বার ও ধামরাই থানা জাতীয় পার্টির সভাপতি আলহাজ মো. আব্দুল মালেক, সোমভাগ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুস্তম আলী, মাতব্বর আব্দুল হালিম, নেদু মিয়া, মানিক, কালাচাঁন, সিদ্দিকসহ স্থানীয় লোকজন আব্দুল মালেককে  সভাপতি করে একই দিন সন্ধ্যায় চরডাউটিয়া গ্রামের প্রবাসী আমির আলীর বাড়ীতে সালিশে বসেন।

পরে অভিযুক্ত আতা মিয়াকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করে বিষয়টি ধামাচাপা দিলেও ভুক্তভোগীকে দেওয়া হয় দুই লাখ টাকা। বাকি টাকা নেতা ও মাতব্বররা ভাগ করে নেন।

অভিযোগ করার পরও ধামরাই থানায় বিষয়টি না জানিয়ে প্রহসনের সালিশ করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠে।

এ বিষয়ে সাবেক ইউপি সদস্য ও ধামরাই থানা জাতীয় পার্টির সভাপতি আলহাজ আব্দুল মালেক বলেন, ‘ধর্ষণের চেষ্টা ঘটনায় সালিশের বিষয়ে আমি কিছুই জানতাম না। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় রুস্তম আলী আমাকে ডেকে আমির আলীর বাড়িতে নিয়ে যায়। আমি গিয়ে দেখি পূর্ব থেকেই ১৫-২০ জন মানুষ ওই বাড়ির উঠানে বসে আছে। পরে আমাকে সালিশি বৈঠকের সভাপতি করে বিচার কার্যক্রম শুরু করে। ওই বিএনপি নেতা রোস্তম আলীর পাঠানো ৭ সদস্যের একটি জুড়ি বোর্ড ধর্ষণের চেষ্টাকারী সাবেক ইউপি সদস্য আতা মিয়াকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করে। আমার উপস্থিতিতেই ওই জরিমানার টাকা যৌথভাবে নেদু মাতাব্বর ও বিএনপি নেতা রোস্তম আলীর হাতে দেওয়া হয়।’

এ বিষয়ে বিএনপি নেতা রুস্তম আলী বলেন, ‘মেয়েটির ভবিষ্যৎ চিন্তা করে মামলা না করে গ্রাম্য সালিশি বৈঠকে বিষয়টি মিমাংসা করা হয়। পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এর দুই দিন পর আলহাজ আব্দুল মালেকের বড় ছেলে বিএনপির তরুণ দলের আহ্বায়ক মো. মনিরুজ্জামান মনিরের উপস্থিতিতে ভুক্তভোগীর হাতে জরিমানার ৫ লাখ টাকা তুলে দেওয়া হয়।’

ভুক্তভোগী মেয়ের বাবা বলেন, ‘জরিমানার দুই লাখ টাকা আমার হাতে তুলে দেয় বিএনপি নেতা রুস্তম আলী।’

তবে মাতব্বররা সব টাকা ভুক্তভোগীর পরিবারের হাতে দিয়েছে এর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে ধর্ষণের চেষ্টাকারী সাবেক ইউপি মেম্বার আতা মিয়া বলেন, ‘আমি অপরাধ করেছি তাই ৫ লাখ টাকাও জরিমানা দিয়েছি। পরবর্তীতে কী হয়েছে তা আমি জানি না।’

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ধামরাই থানার উপ-পরিদর্শক ( এস আই) এস এম নায়েবুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় লিখিত একটি অভিযোগ পেয়েছি। তবে মীমাংসার ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। বিষয়টি কেউ আমাকে জানায়নি। এটি গ্রাম্য সালিশি বৈঠকে আপোষ করার অযোগ্য অপরাধ।

রুহুল আমিন/অমিয়/

গফরগাঁওয়ে স্বামীকে ঘরে বেঁধে গৃহবধূকে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:৫০ পিএম
গফরগাঁওয়ে স্বামীকে ঘরে বেঁধে গৃহবধূকে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ
ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে স্বামীকে ঘরে বেঁধে স্ত্রীকে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে উপজেলার পাগলা থানার নিগুয়ারী ইউনিয়নের কুরচাই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর বুধবার (১৭ জুন) গৃহবধূর মা পাগলা থানায় অভিযোগ করেছেন।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগীর পারিবার সূত্রে জানা যায়, ওই গৃহবধূ তার মায়ের বাড়িতে বসবাস করছিলেন। একই বাড়ির পৃথক কক্ষে তিনি স্বামী ও তিন বছর বয়সি সন্তান নিয়ে থাকতেন। রাত ১টার দিকে মুখোশধারী সাত-আটজন দুর্বৃত্ত ঘরে ঢুকে স্বামীকে বেঁধে মারধর করেন। পরে তারা গৃহবধূকে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে প্রায় দেড় শ মিটার দূরে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ করেন। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগীকে চিকিৎসা ও পরীক্ষার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিবদ্ধ করা হবে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

কামরুজ্জামান মিন্টু/আজহার/

জয়পুরহাটে পুত্রবধুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শ্বশুর গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০২:১১ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০২:৪৭ পিএম
জয়পুরহাটে পুত্রবধুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শ্বশুর গ্রেপ্তার
ছবি: খবরের কাগজ

জয়পুরহাট সদর উপজেলার বানিয়াপাড়া এলাকায় পুত্রবধূকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে সাকোয়াত হোসেন আদা নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গতকাল মঙ্গলবার ভিকটিম বাদী হয়ে জয়পুরহাট সদর থানায় মামলা করলে রাতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার সাকোয়াত হোসেন একই এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় বটতলী বাজারের একজন জিলাপি ব্যবসায়ী।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গত ৮ জুন বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে সাকোয়াত হোসেন তার পুত্রবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।

জয়পুরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরে আলম সিদ্দিকী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ

এদিকে আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুরের খাতুনে জান্নাত মহিলা কওমি মাদরাসার পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে মাদরাসাটির পরিচালকের স্বামী জায়ের আলীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১৬ জুন) শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে আক্কেলপুর থানায় মামলা করেছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, মাদরাসাটির পরিচালক আফরোজার স্বামী জায়ের আলী দীর্ঘদিন ধরে ওই শিক্ষার্থীকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। গত ১৩ জুন আফরোজা বেগম মাথায় তেল দেওয়ার জন্য ওই শিক্ষার্থীকে তার কক্ষে ডাকেন। একপর্যায়ে তিনি প্রকৃতির ডাকে  সাড়া দিতে বাইরে গেলে কক্ষে থাকা জায়ের আলী শিক্ষার্থীর শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি করেন। শিক্ষার্থীর চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসেন। পরে বিষয়টি পরিবারকে জানানো হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্তের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

তবে আফরোজা বেগম বলেন, ঘটনাটি সত্য নয়। প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

‎আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা বলেন, শিশুটির মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সাগর কুমার/খাদিজা রুমি/

কালুখালীতে অগ্নিদগ্ধ মরদেহ: মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:৩১ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:৪২ এএম
কালুখালীতে অগ্নিদগ্ধ মরদেহ: মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ৩
ছবি: খবরের কাগজ

রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলায় যুবক আশাদুল ইসলামকে হত্যা করে মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঋণের টাকা পরিশোধ নিয়ে বিরোধের জের ধরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় বলে জানায় পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গত ১৫ জুন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কালুখালী উপজেলার মদাপুর ইউনিয়নের সূর্যদিয়া গ্রামের একটি মাদরাসার পেছনের পাটখেত থেকে আশাদুল ইসলামের (২২) অগ্নিদগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি উপজেলার বিল মানুষমারি গ্রামের শাহজাহান মণ্ডলের ছেলে।

ঘটনায় নিহতের বাবা শাহজাহান মণ্ডল বাদী হয়ে কালুখালী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার পর কালুখালী থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে।

পুলিশ জানায়, প্রায় চার মাস আগে আশাদুল ইসলাম মদাপুর গ্রামের কাউসার শেখের ছেলে মিজান শেখের (২৪) কাছ থেকে ৬৮ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। নির্ধারিত সময়ে টাকা পরিশোধ করতে না পারায় দুজনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরই জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মিজান শেখ ও তার সহযোগীরা আশাদুলকে হত্যা করেন। পরে হত্যার আলামত নষ্ট এবং পরিচয় গোপনের উদ্দেশ্যে মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

সহকারী পুলিশ সুপার (পাংশা সার্কেল) দেবব্রত সরকারের নেতৃত্বে কালুখালী থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি যৌথ টিম অভিযান চালিয়ে মামলার তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তাররা হলেন- মদাপুর গ্রামের মিজান শেখ (২৪), পশ্চিম রতনদিয়া গ্রামের আসমত মণ্ডলের ছেলে আনোয়ার মণ্ডল (৪৪) এবং সূর্যদিয়া গ্রামের শাহাজউদ্দীনের ছেলে আব্দুল করিম মোল্লা (৩৫)।

পুলিশ আরও জানায়, মামলার মূল আসামি মিজান শেখ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল, রক্তমাখা একটি হেলমেট, একটি এসএস পাইপ (রড) এবং একটি লোহার ফোল্ডিং স্টিক উদ্ধার করা হয়েছে।

কালুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল বলেন, হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী মিজান শেখ। তার কাছ থেকেই ভিকটিম টাকা ধার নিয়েছিল। ঋণের টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। হত্যার পর মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, যাতে কোনো ধরনের আলামত বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট না থাকে।

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার সঙ্গে জড়িত অন্য অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সুমন বিশ্বাস/খাদিজা রুমি/

জাল ভিসায় ইউরোপে মানব পাচারের অভিযোগ

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:০৫ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
জাল ভিসায় ইউরোপে মানব পাচারের অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

জাল ‘শেনজেন’ ভিসায় ইউরোপের দেশ ইতালিতে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তার মোহাম্মদ আখলাছুর রহমান (৪০) বিমানের জুনিয়র অফিসার (গ্রাউন্ড সার্ভিস, আইএনএস গেট) হিসেবে কর্মরত। গতকাল মঙ্গলবার (১৬জুন) ভোরে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার নিলক্ষীয়া বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি।
 
গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির সিরিয়াস ক্রাইম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লা জানান, ইতালিতে চাকরি ও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে মানব পাচারকারী একটি চক্র কয়েকজন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকায় চুক্তি করে। চুক্তির ২০ লাখ টাকা অগ্রিম নিয়ে তাদের নেপাল ও ইতালিগামী টিকিট, বোর্ডিং পাস এবং ইতালির ভুয়া শেনজেন ভিসা সরবরাহ করে চক্রটি।

সিআইডি জানায়, গত ২৬ মে বিমানের একটি ফ্লাইটে ইতালির উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর রোমের ফিউমিচিনো লিওনার্দো দা ভিঞ্চি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তারা পৌঁছালে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ভিসাগুলো পরীক্ষা করে জাল বলে শনাক্ত করেন। পরে ভুক্তভোগীদের আটক রেখে দুই দিন পর ২৮ মে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। দেশে ফিরলে ইমিগ্রেশন পুলিশ, সিআইডি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার বিস্তারিত তথ্য দেন। সেই তদন্তে উঠে আসে, মানব পাচারকারী চক্রটি বৈধ কর্মসংস্থানের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে জাল ভিসা সরবরাহের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছে। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় মামলা করা হয়েছে। পরে গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্তে বিমানের ওই জুনিয়র অফিসার আখলাছুর রহমানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিললে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার বদরুল আলম বলেছেন, এ ধরনের অপকর্মে একাধিক সংস্থার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জড়িত থাকার প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। মানব পাচারে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মানব পাচার চক্রের মূল হোতা ও অন্যান্য সহযোগীকে শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশে কর্মসংস্থান বা অভিবাসনের ক্ষেত্রে শুধু সরকার অনুমোদিত ও বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানান সিআইডির এই কর্মকর্তা।

গোপালগঞ্জে যৌতুকের জন্য স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ১০:১১ পিএম
গোপালগঞ্জে যৌতুকের জন্য স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন
প্রতীকী ছবি

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় যৌতুকের দাবিতে শিল্পী বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ইকবাল সিকদারের বিরুদ্ধে। হতভাগা শিল্পী বেগম তিন সন্তানের জননী ছিলেন। মাকে হারিয়ে তার দুই মেয়ে ও এক ছেলে এখন দিশেহারা।

সোমবার (১৫ জুন) সকালে কোটালীপাড়া উপজেলার রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের বুরুয়াবাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘাতক ইকবালের বাড়ি উপজেলার রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের বুরুয়ারবাড়ী গ্রামে।

নিহত শিল্পী বেগমের ভাই ছারোয়ার কাজী অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকসহ নানা অজুহাতে আমার বোনের ওপর নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন স্বামী ইকবাল সিকদার। গত রবিবার রাতে তাকে পুনরায় অমানুষিক নির্যাতন ও বেদম মারপিট করা হয়। মারধরের একপর্যায়ে শিল্পী বেগমের মৃত্যু হলে ঘাতক স্বামী মরদেহটি গোয়ালঘরে ফেলে পালিয়ে যান। আমরা আমার বোনের হত্যাকারীর ফাঁসি চাই।

কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রিয়াদ মাহমুদ জানান, সকালে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী ইকবাল সিকদার পলাতক থাকলেও, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিযুক্তের বড় ভাই জাকির সিকদারকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বাদল সাহা/নাঈম