ঢাকার ধামরাইয়ে সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ধামরাই থানায় একটি লিখিত করেন ভুক্তভোগীর পিতা সায়েদ আলী। পরে পুলিশকে কিছু না জানিয়ে ধর্ষণের চেষ্টাকারী সাবেক মেম্বার আতা মিয়াকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেন সোমভাগ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুস্তম আলীর নেতৃত্বে স্থানীয় মাতব্বররা। অভিযোগ, ভুক্তভোগীকে দুই লাখ টাকা দিয়ে বাকি টাকা ভাগ করে নেন মাতব্বররা।
ঘটনাটি গত মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার সোমভাগ ইউনিয়নের চরডাউটিয়া গ্রামের।
জানা যায়, উপজেলার চরডাউটিয়া গ্রামের প্রতিবন্ধী সায়েদ আলীর মেয়েকে ফুসলিয়ে একই গ্রামের মৃত ওয়াহেদ আলীর ছেলে সাবেক ইউপি মেম্বার আতর আলী ওরফে আতা মিয়া তার ফাঁকা বাড়িতে নিয়ে আসেন। তাকে একটি ঘরে নিয়ে দরজা-জানালা আটকিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় মেয়েটির চিৎকারে এলাকাবাসী এসে ঘরের দরজা ভেঙে মেয়েটিকে উদ্ধার করেন এবং আতা মিয়াকে মারধর করেন।
পরে ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আতা মিয়ার বিরুদ্ধে ধামরাই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।
বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সাবেক ইউপি মেম্বার ও ধামরাই থানা জাতীয় পার্টির সভাপতি আলহাজ মো. আব্দুল মালেক, সোমভাগ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুস্তম আলী, মাতব্বর আব্দুল হালিম, নেদু মিয়া, মানিক, কালাচাঁন, সিদ্দিকসহ স্থানীয় লোকজন আব্দুল মালেককে সভাপতি করে একই দিন সন্ধ্যায় চরডাউটিয়া গ্রামের প্রবাসী আমির আলীর বাড়ীতে সালিশে বসেন।
পরে অভিযুক্ত আতা মিয়াকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করে বিষয়টি ধামাচাপা দিলেও ভুক্তভোগীকে দেওয়া হয় দুই লাখ টাকা। বাকি টাকা নেতা ও মাতব্বররা ভাগ করে নেন।
অভিযোগ করার পরও ধামরাই থানায় বিষয়টি না জানিয়ে প্রহসনের সালিশ করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠে।
এ বিষয়ে সাবেক ইউপি সদস্য ও ধামরাই থানা জাতীয় পার্টির সভাপতি আলহাজ আব্দুল মালেক বলেন, ‘ধর্ষণের চেষ্টা ঘটনায় সালিশের বিষয়ে আমি কিছুই জানতাম না। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় রুস্তম আলী আমাকে ডেকে আমির আলীর বাড়িতে নিয়ে যায়। আমি গিয়ে দেখি পূর্ব থেকেই ১৫-২০ জন মানুষ ওই বাড়ির উঠানে বসে আছে। পরে আমাকে সালিশি বৈঠকের সভাপতি করে বিচার কার্যক্রম শুরু করে। ওই বিএনপি নেতা রোস্তম আলীর পাঠানো ৭ সদস্যের একটি জুড়ি বোর্ড ধর্ষণের চেষ্টাকারী সাবেক ইউপি সদস্য আতা মিয়াকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করে। আমার উপস্থিতিতেই ওই জরিমানার টাকা যৌথভাবে নেদু মাতাব্বর ও বিএনপি নেতা রোস্তম আলীর হাতে দেওয়া হয়।’
এ বিষয়ে বিএনপি নেতা রুস্তম আলী বলেন, ‘মেয়েটির ভবিষ্যৎ চিন্তা করে মামলা না করে গ্রাম্য সালিশি বৈঠকে বিষয়টি মিমাংসা করা হয়। পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এর দুই দিন পর আলহাজ আব্দুল মালেকের বড় ছেলে বিএনপির তরুণ দলের আহ্বায়ক মো. মনিরুজ্জামান মনিরের উপস্থিতিতে ভুক্তভোগীর হাতে জরিমানার ৫ লাখ টাকা তুলে দেওয়া হয়।’
ভুক্তভোগী মেয়ের বাবা বলেন, ‘জরিমানার দুই লাখ টাকা আমার হাতে তুলে দেয় বিএনপি নেতা রুস্তম আলী।’
তবে মাতব্বররা সব টাকা ভুক্তভোগীর পরিবারের হাতে দিয়েছে এর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে ধর্ষণের চেষ্টাকারী সাবেক ইউপি মেম্বার আতা মিয়া বলেন, ‘আমি অপরাধ করেছি তাই ৫ লাখ টাকাও জরিমানা দিয়েছি। পরবর্তীতে কী হয়েছে তা আমি জানি না।’
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ধামরাই থানার উপ-পরিদর্শক ( এস আই) এস এম নায়েবুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় লিখিত একটি অভিযোগ পেয়েছি। তবে মীমাংসার ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। বিষয়টি কেউ আমাকে জানায়নি। এটি গ্রাম্য সালিশি বৈঠকে আপোষ করার অযোগ্য অপরাধ।
রুহুল আমিন/অমিয়/