ঢাকা ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
৯ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি শেরপুরে নিখোঁজ ৫ ছাত্রের ৩ জনকে জীবিত উদ্ধার তনু হত্যা: দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলে রেড নোটিশের নির্দেশ বোয়ালখালীতে ওমান প্রবাসীকে হত্যা: শোকে পাথর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও মা মবতন্ত্র ও উচ্ছৃঙ্খল রাজনীতি বাড়ছে: যুবদল সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ইউনুছ হাওলাদার আর নেই মরিশাসের শ্রমবাজার খুলতে সমঝোতা চুক্তিতে সম্মত টিআইবি প্রকৃত ঘটনা জাজ করে স্টেটমেন্ট দেয় না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর নিরাপত্তা নিয়ে অস্বস্তিকর বাস্তবতা ঈশ্বরগঞ্জে অটোরিকশাচাপায় শ্রমিকের মৃত্যু গণতন্ত্রে হতাশা এবং নেতৃত্বে অসন্তোষ শরীয়তপুরে প্রধান শিক্ষকের ওপর মব হামলা, আদালতে মামলা কন্যাশিশু নির্যাতন: আর্থ-সামাজিক, সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক সংকট মনপুরায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে মামলা, ছাত্রলীগ নেতা কারাগারে বাজেট বাস্তবায়নে ছলচাতুরি চলবে না: চরমোনাই পীর আকাশসীমা পুনরায় খুলে দিয়েছে ইরাক ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে: মাহদী আমিন যেকোনো সাফল্যে যে দোয়া পড়তেন বিশ্বনবি (সা.) রৌমারীতে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে নারীর মৃত্যু ইন্টার্ন ও ট্রেইনি চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার ইসরায়েলবিরোধী সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা ইরানের শেরপুরে ১২ দিনে পাঁচ শিক্ষার্থী নিখোঁজ, অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ জঙ্গল সলিমপুরে সড়ক নির্মাণকাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী ভাঙ্গায় বিয়েবাড়িতে খাবার নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৭ হালুয়াঘাটে ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল যুবকের কালিহাতীতে ট্রেনে কাটা পড়ে গৃহবধূর মৃত্যু, পাশে মিলল আরেক নারীর মরদেহ ঝিনাইদহে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল জাতীয় মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন ঢাবি পবিপ্রবিতে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান পঞ্চগড় সীমান্তে পুশইনের চেষ্টায় ১০ জনকে ফিরিয়ে নিলো বিএসএফ
Nagad desktop

প্রবাসীর স্ত্রীর গোসলের ভিডিও করে ব্ল্যাকমেইল, অভিযুক্ত চক্রকে রক্ষায় তৎপর থানা পুলিশ!

প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:৩৭ এএম
প্রবাসীর স্ত্রীর গোসলের ভিডিও করে ব্ল্যাকমেইল, অভিযুক্ত চক্রকে রক্ষায় তৎপর থানা পুলিশ!
প্রতীকী ছবি

গোপনে একজন প্রবাসীর স্ত্রীর গোসলের ভিডিও ধারণ করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতে ‘ব্ল্যাকমেইল’ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি রাজধানীর কদমতলী এলাকার একটি বাড়িতে ভিডিও ধারণের এ ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। ওই বাড়ির একটি ফ্ল্যাটে সন্তানসহ বসবাস করতেন ভুক্তভোগী। 

ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে ডিএমপি কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের তদন্তে ঘটনার সত্যতা মেলে। এমনকি জড়িতদের নামও প্রকাশ পায়। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী নারী মামলা করতে গেলে গড়িমসি শুরু করে থানা পুলিশ। জড়িতদের গ্রেপ্তার না করে উল্টো এজাহার থেকে তাদের নাম বাদ দিতে চাপ দেন থানার একজন উপ-পরিদর্শক (এসআই)।

ভুক্তভোগী ও তার স্বজনদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে গোপনে বাথরুমের ‘ভেন্টিলেটর’ দিয়ে গোসলের ভিডিও ধারণ করেছেন বাড়ির মালিক বা তার পরিবারের সদস্যরা। বাড়ির মালিক জাহানারা বেগম, ছেলে ঝন্টু, তার স্ত্রী তানিয়া আক্তার এই অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। তারা ভিডিও ধারণের কিছুদিন পরেই ভুক্তভোগীর কাছে ও তার ইউরোপ প্রবাসী স্বামীকে ফোন করে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেন। 

উপায় না দেখে ভুক্তভোগী নারী কদমতলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নম্বর ১৪৪০) করেন। সেই জিডির তদন্তে নেমে অভিযোগের সত্যতা পায় ডিএমপির সিটিটিসি ইউনিটের সিটি সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ। পরে তারা একটি তদন্ত প্রতিবেদন দিয়ে থানাপুলিশকে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেও নির্দেশনা দেয়। কিন্তু থানাপুলিশ বাড়ি মালিক তথা ‘ব্ল্যাকমেইল’ চক্রের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের আর্থিক সুবিধা নিয়ে ভুক্তভোগীর অভিযোগকে আর তেমন আমলে নিচ্ছে না বলে দাবি করা হয়েছে। 

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এই অপরাধী চক্রকে মদদ দিয়ে যাচ্ছেন কদমতলী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবদুল আউয়াল। কেননা, সিটিটিসির তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর ভুক্তভোগী জড়িতদের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করতে গেলেও এসআই আউয়াল তাদের নাম ছাড়াই অভিযোগ দিতে চাপ দেন। এমনকি বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলেও তার আগেই এসআই আউয়াল বিষয়টি নিয়ে ওসির কাছে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেন। যদিও সেই ওসি অতি সম্প্রতি বদলি হয়েছেন অন্য থানায়।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কদমতলী থানার এসআই আবদুল আউয়াল খবরের কাগজকে বলেন, ‘আসামিদের নাম তো তদন্ত করলে এমনি চলে আসত। তাই নাম উল্লেখ না করে অজ্ঞাত আসামি হিসেবে মামলা করতে ভুক্তভোগীকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কোনো চাপ বা আসামিপক্ষের সঙ্গে আমার সখ্যের বিষয় নেই। তাছাড়া আমি আসামিদের বাড়িও চিনি না, কোনো দিন কথাও হয়নি।’ 

থানা সূত্রে জানা যায়, ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার ওই নারী কদমতলী থানায় গত ১৯ অক্টোবর একটি জিডি করেন। তদন্তে সহায়তার জন্য ২৩ অক্টোবর ডিএমপির সিটিটিসি ইউনিটের কাছে আবেদন করেন জিডির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আবদুল আউয়াল। ভুক্তভোগীর ফোন পরীক্ষা, নম্বর অনুসন্ধান ও প্রযুক্তিগত তদন্তে সিটিটিসি অভিযোগের সত্যতা পায়। জিডির অজ্ঞাত তিন নম্বরের ব্যবহারকারীসহ সংশ্লিষ্টদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য, জাতীয় পরিচয়পত্র শনাক্ত করে সিটিটিসির সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ। 

অনুসন্ধানে উঠে আসে জিডিতে থাকা অভিযুক্ত দুটি মোবাইল ফোন নম্বরের একটি তানিয়া আক্তার নামে একজনের এবং অন্যটি তার শ্বশুর মৃত দুলাল মিয়ার নামে নিবন্ধিত। তাদের এই সিম এই অপরাধে ব্যবহার করা হয়েছে। এরপর সিটিটিসি কর্মকর্তারা অভিযুক্তদের ওই মোবাইল নম্বরে ফোন করেন এবং ব্ল্যাকমেইলিংয়ের বিষয়টি নিয়ে কথা বললেই সতর্ক হয়ে যায় চক্রটি। পরে সিটিটিসির তদন্ত প্রতিবেদনটি গ্রহণ করেন এসআই আবদুল আউয়াল। এরই মধ্যে ভুক্তভোগী ও তার স্বজনরাও সবকিছু জেনে যান। সে অনুসারে ভুক্তভোগী নারী সুবিচার পাওয়ার আসায় থানায় গিয়ে একাধিকবার আসামিদের নাম উল্লেখ করে মামলা করতে চাইলেও টালবাহানা শুরু করেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আবদুল আউয়াল। 

ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করে খবরের কাগজকে বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন থানায় পৌঁছালেও এসআই আবদুল আউয়াল তিন সপ্তাহ তা গোপন রাখেন এবং মামলা নিতে বিভিন্ন অজুহাত দেখাতে থাকেন। পরে থানার অন্য কর্মকর্তার মাধ্যমে নিশ্চিত হই, সিটিটিসির তদন্ত প্রতিবেদন থানায় পৌঁছেছে। তাকে ফোন করে প্রতিবেদন ‘রিসিভ করার’ বিষয়ে বললেও তিনি অস্বীকার করেন। এ কারণে তদন্ত কর্মকর্তা থানায় এসে আমার সঙ্গে অপেশাদার আচরণ করেন। পরে চাপের মুখে তিনি প্রতিবেদন বের করলেও অভিযুক্তদের নাম বাদ দিয়ে মামলায় কেবল মোবাইল নম্বর ও অজ্ঞাতনামা আসামি উল্লেখ করতে চান। এতে আপত্তি জানালে তিনি অপেশাদার আচরণ করেন। 

সিটিটিসি সূত্রে জানা গেছে, জিডির অভিযোগ তদন্তে সত্য প্রমাণিত হয়েছে বলে প্রতিবেদন দেয় সিটিটিসি। ওই প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম-পরিচয়, ভুক্তভোগীর স্বজনদের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠানো মানহানিকর ছবি ও ভিডিওর প্রমাণ মিলেছে। অবশ্য সেই তদন্ত প্রতিবেদনের একটি কপি খবরের কাগজের কাছেও সংরক্ষিত আছে।

ভুক্তভোগীর স্বজনরা জানান, ভুক্তভোগীর স্বামী ইউরোপ প্রবাসী। ২০২৪ সালের অক্টোবরে কদমতলী থানার ধোলাইপাড়ের ধনিয়া এলাকার ওই ভাড়া বাসায় ওঠেন ভুক্তভোগী নারী। ঘটনা সম্পর্কে তারা জানান, চলতি বছরের জুনের শুরুতে বাড়ির মালিক জাহানারা বেগম ভুক্তভোগীর ফ্ল্যাটের বাথরুম সংস্কার করার কথা জানান। এ কারণে ভুক্তভোগী পাশের এলাকায় তার বোনোর বাসায় চলে যান। জুলাইতে কাজ শেষ হলে তাকে আবার ফ্ল্যাটে উঠতে বলা হয়। কিন্তু ফ্ল্যাটের ‘সংস্কার’ করা বাথরুমে কয়েক দিন পানি ব্যবহার করা যাবে না বলে জানান বাড়িওয়ালা। একপর্যায়ে ভুক্তভোগীকে বাড়িওয়ালা তার নিজের ফ্ল্যাটের বাথরুম ব্যবহার করার কথা বলেন। সেই সময়েই টার্গেট করে পরিকল্পিতভাবে ভুক্তভোগী নারীর গোসলের ভিডিও ধারণ করেন বাড়িওয়ালা পরিবারের সদস্যরা। এরপর বাড়িওয়ালা পরিবারের আচরণ পাল্টে যেতে থাকে। একপর্যায়ে গত সেপ্টেম্বরে ভুক্তভোগী নারী বাসাটি ছেড়ে দেওয়ার কথা জানিয়ে দিলে তখনই শুরু হয় ব্ল্যাকমেইলিং। ভুক্তভোগীর হোয়াটসঅ্যাপে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও পাঠিয়ে দেড় লাখ টাকা দাবি করা হয়; অর্থ না দিলে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। ওই ভিডিও দেখে ভুক্তভোগী বুঝতে পারেন, ভিডিওটি বাড়িওয়ালার বাসার বাথরুমে। এভাবে পরে ভুক্তভোগীর স্বামীসহ আরও একাধিক স্বজনের কাছে ভিডিও-ছবি পাঠিয়ে টাকার জন্য চাপ দিতে থাকেন অভিযুক্তরা।

এ বিষয়ে জানতে ওই বাড়িওয়ালা পরিবারের একটি নম্বরে ফোন করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

বোয়ালখালীতে ওমান প্রবাসীকে হত্যা: শোকে পাথর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও মা

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ১০:২৯ পিএম
বোয়ালখালীতে ওমান প্রবাসীকে হত্যা: শোকে পাথর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও মা
ছবি: খবরের কাগজ

বিশ বছর ধরে চরম অর্থকষ্ট আর পাহাড়সম সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিন সন্তানকে বুকে আগলে বড় করেছিলেন মা গুলতাজ বেগম। ভেবেছিলেন, সুদিন বুঝি এবার এল। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই সুখের দেখা পাওয়ার আগেই স্তব্ধ হয়ে গেল একটি পরিবারের সব স্বপ্ন। নিখোঁজ হওয়ার চার দিন পর চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর দুর্গম পাহাড়ি এলাকার একটি লিচু বাগান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ওমান প্রবাসী মো. ওমর ফারুকের (২৫) হাত-পা বাঁধা মরদেহ।

শনিবার (৬ জুন) সকালে বোয়ালখালীর জ্যৈষ্ঠপুরা এলাকার একটি পাহাড়ি লিচু বাগানে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক যুবকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে ফারুকের মরদেহ শনাক্ত করেন।

এ ঘটনায় একদিকে বুকফাটা আর্তনাদে মূর্ছা যাচ্ছেন মা, অন্যদিকে স্বামীর ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছেন কয়েকদিন পরই সন্তানের জন্ম দিতে যাওয়া তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী। যে শিশুটি পৃথিবীর আলো দেখবে, সে আর কোনোদিন তার বাবাকে ডাকতে পারবে না—এই নির্মম সত্য যেন কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না পরিবারটি।

নিহত ওমর ফারুক চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া সরফভাটা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মীরেরখীল এলাকার ওসমান আলীর মেঝ ছেলে। প্রায় সাত বছর ওমানে প্রবাস জীবন কাটিয়ে দেড় বছর আগে তিনি দেশে ফেরেন এবং বিয়ে করে নতুন সংসার জীবন শুরু করেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুন (মঙ্গলবার) বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি ফারুক। আত্মীয়-স্বজনসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো হদিস মেলেনি। 

নিহত ফারুকের মা বুকফাটা কান্না জনিত কণ্ঠে বলেন “আজ সুখের সময় কেন আমার বুকের মানিককে এভাবে হত্যা করা হলো! আমার ছেলের স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা, আর কয়েকদিন পরই সন্তান পৃথিবীর মুখ দেখবে। সেই শিশুটি তার বাবাকে কোথায় পাবে?

মরদেহ উদ্ধারের স্থান ও আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হিলাল উদ্দিন আহমেদ জানান, যেহেতু মরদেহটি বোয়ালখালী থানা এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, তাই মূল মামলা এবং আইনি প্রক্রিয়া বোয়ালখালী থানাতেই সম্পন্ন হবে। ঘটনার সুষ্ঠু রহস্য উদ্ঘাটনে রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ বোয়ালখালী পুলিশকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে এবং একটি ছায়াতদন্ত চালাচ্ছে।

এই নৃশংস ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালী এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। ক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয় এলাকাবাসী। রেমিট্যান্স যোদ্ধা ফারুকের এমন করুণ পরিণতি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না কেউ। নিহত ফারুকের পরিবার ও এলাকাবাসীর এখন একটাই দাবি— অনতিবিলম্বে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করা হোক এবং জড়িত খুনিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হোক।

তৈয়্যবুল ইসলাম/নাঈম

হালুয়াঘাটে ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল যুবকের

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম
হালুয়াঘাটে ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল যুবকের
হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিহতের স্বজনরা। ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে প্রকাশ্য দিবালোকে ছুরিকাঘাতে হেলাল উদ্দিন (২৯) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। 

সোমবার (৮ জুন) বিকেল চারটার দিকে পৌরশহরে উপজেলা ভূমি অফিসের পেছনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত হেলাল পৌর শহরের কাঁচারীপাড়া এলাকার মৃত আলী হোসেনের ছেলে। তিনি অটোরিকশা চালাতেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হেলালের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় তার পেটে ছুরি দিয়ে আঘাত করে ওই যুবকেরা। এ অবস্থায় সে দৌড়ে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নিতে চাইলে ঘাতকরা সেখানেও তার ওপর হামলা করে। পরে ঘটনাস্থল থেকে তারা পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় হেলালকে স্থানীয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার কিছুক্ষণ পর তার মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে হালুয়াঘাট সার্কেল এএসপি মো. মিজানুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে হালুয়াঘাট থানায় হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন।

কামরুজ্জামান মিন্টু/নাঈম

রামুতে জোড়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০১:২৭ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০১:৩৬ পিএম
রামুতে জোড়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারে পাহাড়তলী এলাকার আলোচিত আসিফ ও হৃদয় হত্যা মামলার প্রধান আসামি জিয়াউর রহমান জিয়াকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

সোমবার (৮ জুন) ভোরে রামু উপজেলার উখিয়ার ঘোনা (গনিয়া কাটা) এলাকা থেকে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন র‌্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক আ ম ফারুক।

গ্রেপ্তার জিয়া কক্সবাজার পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের পাহাড়তলী ইসলামপুর এলাকার মৃত নজির আহমেদের ছেলে।

আ ম ফারুক জানান, গত ২ জুন রাতে পাহাড়তলী এলাকার ইসলামপুরে আসিফ ও হৃদয় নামে দুই যুবককে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহত আসিফের বাবা মো. ইসমাইল বাদী হয়ে ৫ জুন কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে র‌্যাব গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মামলার প্রধান আসামি জিয়াউর রহমান জিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জিয়া আত্মগোপনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তার অপরাধের ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এ জোড়া হত্যা মামলাসহ তার বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর থানায় দুটি হত্যা মামলা, একটি মাদক মামলা এবং বিভিন্ন অভিযোগে মোট আটটি মামলা রয়েছে।

তারেকুর রহমান/খাদিজা রুমি/

যশোরে স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যার চেষ্টা

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ১২:৫০ পিএম
যশোরে স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যার চেষ্টা
যশোর

যশোরে স্বামীর ছুরিকাঘাতে ছামিনা আক্তার নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী নিজ শরীরেও ছুরি দিয়ে আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

সোমবার (৮ জুন) ভোরে শহরের শেখহাটি তমালতলা এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। 

নিহত ছামিনা আক্তার পাশের গ্রাম তরফ নওয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। আর স্বামী সুজনের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়। 

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৮ জুন) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বাসায় অবস্থানকালে নেশার টাকার বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে সুজন ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রী ছামিনা আক্তারকে ধারালো ছুরি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন। 

পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ছামিনাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর সুজন নিজ শরীরেও ছুরি দিয়ে একাধিক স্থানে আঘাত করে গুরুতর আহত হয়েছেন। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে একই হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি যশোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

নিহত ছামিনার মামা পিয়াস জানান, সুজন আগে বিদেশে কর্মরত ছিলেন। প্রায় ছয় মাস আগে ভালোবেসে তারা বিয়ে করেন এবং পরে আলাদা ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। বর্তমানে সুজন বেকার ছিলেন এবং পুনরায় বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এর মধ্যেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। 

যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শাকিরুল ইসলাম জানান, ছামিনাকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। এছাড়া সুজনের শরীরেও একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল বলেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তারা আত্মীয়তার সম্পর্কের মধ্যে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে আলাদাভাবে বসবাস করতেন। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এইচ আর তুহিন/অন্তরা

গাইবান্ধায় প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে নিহত ছোট ভাই, আশঙ্কাজনক বড় ভাই

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ১০:১১ এএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ১০:২১ এএম
গাইবান্ধায় প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে নিহত ছোট ভাই, আশঙ্কাজনক বড় ভাই
প্রতীকী ছবি

গাইবান্ধা জমি সংক্রান্ত বিরোধে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে ছোট ভাই রুমন (১৮) নিহত হয়েছেন। আহত বড় ভাই রুহিতের (২০) অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ সময় খুনিরা পালিয়ে গেলেও দুই নারীকে আটক করেছে পুলিশ।

রবিবার (৭ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে গাইবান্ধা সদরের পূর্ব পিয়ারাপুরে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী খবরের কাগজকে জানান, পূর্ব পিয়ারাপুর গ্রামের রাকিবের সঙ্গে মৃত ফারুকের ছেলে রুহিতের দীর্ঘদিন ধরে জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এক পর্যায়ে রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উভয়ের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা শুরু হলে রাকিব  ছুরি দিয়ে রুহিতকে আঘাত করেন।

এ সময় রুহিতের ছোট ভাই রুমন এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করেন রাকিব। পরে স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় সহোদর রুহিত ও রুমনকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রুমনকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত রুহিত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন রবিবার রাত সাড়ে ১২টায় খবরের কাগজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি বলেন, এ ঘটনায় খুনিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাকিবের মা বেবি বেগম ও তার স্ত্রী ইতি বেগমকে আটক করা হয়েছে। থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে' বলেও জানান তিনি।

মিলন খন্দকার/থিও