চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় তৌহিদ গ্রুপ ও রফিক মেম্বার গ্রুপের দ্বন্দ্বের জেরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে রফিক মেম্বার গ্রুপের মো. রেদোয়ান (২০) এবং তার সঙ্গে থাকা মো. রাকিব (২০) ও মো. জোবায়ের (২০) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়নের কুমিরাঘোনা দক্ষিণ চাকফিরানী সরকারি বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আহত রাকিব একই ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের সিকদার পাড়ার মো. ইউনুসের, জোবায়ের বায়তুশ শরফ আদর্শ পাড়ার মো. ফরিদের ও রেদোয়ান ঘনিয়ার পাড়ার বাদশা মিয়ার ছেলে।
তাদের মধ্যে রাকিব চোখে, পেটে ও গলায় এবং জোবায়ের হাতে গুলি লেগেছে। তারা দুজনেই চট্টগ্রাম নগরীতে চাকরি করেন এবং ঈদের ছুটিতে গ্রামে এসেছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রফিক মেম্বার গ্রুপের সদস্য রেদোয়ান বেশ কিছুক্ষণ কুমিরাঘোনা বাজারে অবস্থানের পর তৌহিদ গ্রুপের প্রধান তৌহিদের বাড়ির সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় তার সঙ্গে রাকিব ও জোবায়েরও ছিলেন। রেদোয়ানকে দেখার সঙ্গে সঙ্গে পূর্ব শত্রুতার জেরে তৌহিদ বাহিনীর সদস্যরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি করলে তিনিসহ রাকিব ও জোবায়েরের শরীরের বিভিন্ন অংশে গুলি লাগে। পরবর্তীতে তাদেরকে উদ্ধার করে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাকিব ও জোবায়েরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।
আহত মো. রাকিবের মা মেহেরুন্নেছা বলেন, ‘আমার ছেলে রাকিব ও জোবায়ের চট্টগ্রাম নগরীতে একটি খাবার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে। তারা দুজনেই ঈদুল আজহার ছুটিতে বাড়িতে এসেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুনরায় চাকরিতে ফিরে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। এ সময় আমি আমার ছেলেকে কিছু রুটি ও মাংস দিয়ে বিদায় দিয়েছিলাম। এর কিছুক্ষণ পর তার শরীরে গুলি লাগার খবর পেয়ে হাসপাতালে যাই। সেই থেকে এখনো পর্যন্ত হাসপাতাল অবস্থান করছি। এ ছাড়াও আমার ছেলের সঙ্গে কোনো গ্রুপের সম্পৃক্ততা নাই।’
লোহাগাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রশান্ত কুমার ভৌমিক খবরের কাগজকে বলেন, ‘রফিক মেম্বার গ্রুপের রেদোয়ানকে দেখার সঙ্গে সঙ্গে তৌহিদ গ্রুপের সদস্যরা গুলি করলে বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’
এর আগে গত ১৮ মে উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়নে তৌহিদ গ্রুপের গুলিতে মো. আকিব (২০) ও কাইয়ুম শরিফ (১৯) নামে দুই ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক গুলিবিদ্ধ হন।
আরিফুল ইসলাম/অমিয়/