রমজান মাস আসতে দেড় মাস বাকি। কিন্তু এরই মধ্যে চিনি ও ডালের দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে গেছে। বিক্রেতারা বলছেন, কোম্পানি থেকে বস্তায় ২০০ টাকা বাড়িয়েছে। এ জন্য বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। মুড়িকাটা পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমলেও পুরোনো পেঁয়াজ ১২০ টাকার কমে মিলছে না। শুধু তা-ই নয়, শীতের ভরা মৌসুমেও বেগুন, কাঁচা মরিচ, করলা, পটোল ১০০ থেকে ১৪০ টাকার কমে পাওয়া যাচ্ছে না। চালের দামও কমেনি। গরু ও খাসির মাংসের দাম কেজিতে বেড়েছে ৫০ টাকা। তেলাপিয়া, পাঙাশ মাছের দামও বেড়েছে। তবে আগের মতো ডিম-মুরগির দাম স্থিতিশীল রয়েছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিভিন্ন বাজার ঘুরে সংশ্লিষ্ট ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
রমজান মাস এলেই চিনি, ডাল, ছোলা, পেঁয়াজের চাহিদা দ্বিগুণ ছাড়িয়ে যায়। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও দাম বাড়তে শুরু করে। অন্য বছরের মতো
এবারও সেই পথে হাঁটা শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। দেড় মাস আগেই চিনির দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে গেছে। মিল থেকেই বাড়ানো হয়েছে। এ জন্য খুচরা বিক্রেতারাও বেশি দামে বিক্রি করছেন।
দামের ব্যাপারে বাংলাদেশ চিনি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল হাশেম খবরের কাগজকে বলেন, ‘সম্প্রতি সিটি গ্রুপ থেকে চিনি সরবরাহ কমিয়েছে। কিন্তু চাহিদা তো কমেনি। এ জন্য দাম কিছুটা বেড়েছে।’ বিভিন্ন বাজারের খুচরা ব্যবসায়ীরাও বলছেন, প্রতি বস্তায় ২০০ টাকা বেড়েছে। এ জন্য আগে ৯৫ টাকা কেজি বিক্রি করা হলেও কয়েক দিন ধরে ১০০ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজারের দীপক এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী দীপক দেব, মনির স্টোরের মো. আনোয়ারসহ অন্য বাজারের খুচরা বিক্রেতারা খবরের কাগজকে জানান, আগে কম দামে কেনার কারণে ৯৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কিন্তু কয়েক দিন ধরে দাম বাড়ায় ১০০ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে। চিকন মসুর ডালের দামও বেড়েছে বলে তারা জানান। আগে ১৬০ টাকা কেজি বিক্রি করা হলেও কয়েক দিন ধরে ১৬৫ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে।
এদিকে রমজান ঘনিয়ে আসায় পেঁয়াজের দামও কমছে না। মুড়িকাটা পেঁয়াজের কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। অবশ্য মাসখানেক আগে এটি আরও বেশি দামে (১৫০ টাকায়) বিক্রি হয়। এ নিয়ে দেশে হইচই পড়লে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার ৫ ডিসেম্বর প্রতিদিন দেড় হাজার টন করে পেঁয়াজ আমদানি করার অনুমতি দেয়। সেই পেঁয়াজ প্রথমে ১৪০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও বর্তমানে ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পুরোনো পেঁয়াজ এখনো ১২০ টাকার কমে মেলে না। তবে আগের মতোই আদার কেজি ১৬০ থেকে ২০০ টাকা ও রসুন ১১০ থেকে ১৮০, নতুন আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি বিক্রি করতে দেখা যায়।
টমেটো, কাঁচা মরিচ, বেগুন, করলা, পটোলের কেজি ১০০ টাকার বেশি
রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে শীতের সবজির সরবরাহ বেড়েছে। তার পরও কমছে না বহু সবজির দাম। গতকালও বেগুন ৮০ থেকে ১২০ টাকা, টমেটো ৮০ থেকে ১১০, করলা ১০০ থেকে ১২০, পটোল ১৪০, কাঁচা মরিচ ১২০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হয়। তবে বাঁধাকপি ও ফুলকপির পিস ৩০ থেকে ৫০ টাকা, মুলার কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঢ্যাঁড়সের কেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা; বরবটি, কচুরলতি ৮০, শিম ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়।
কমছে না চালের দাম
সারা দেশে আমন ধান উঠলেও কমেনি চালের দাম। ভরা মৌসুমেও মোটা চাল (গুটি স্বর্ণা) ৫০ থেকে ৫২ টাকা ও আটাশ চাল ৫৮ থেকে ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন কোম্পানির মিনিকেট চাল চড়া দামেই ৭০ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হয়। মৌসুমের সময়ও আতপ চাল বেশি দামে কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। এ ব্যাপারে টাউন হল বাজারের মাদারীপুর রাইস এজেন্সির বিক্রয়কর্মী সাগর ও কারওয়ান বাজারের আল্লাহর দান রাইস এজেন্সির আব্দুল আওয়ালসহ অন্য চাল বিক্রেতারা খবরের কাগজকে বলেন, ‘বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন মিলমালিকরা। এ জন্য ধানের মৌসুমেও চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। কমছে না দাম। কারণ খেতের ধান তোলা হলেও নতুন চাল তারা বাজারে ছাড়ছেন না। আগের চালই বেশি দামে বিক্রি করছেন।’
চড়া দামে মাছ-মাংস বিক্রি
আগের মতোই ডিমের দাম খুচরা পর্যায়ে সাদাটা ১১০ ও লাল ডিম ১২০ টাকা ডজন, দেশি মুরগি ৫৮০ টাকা কেজি, সোনালি মুরগি ২৬০ থেকে ২৮০, ব্রয়লার মুরগি ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে গরুর মাংসের দাম বেড়ে ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা ও খাসির মাংসের দামও বেড়ে ১ হাজার ২০০ টাকায় ঠেকেছে। আগে কম দামে বিক্রি হলেও কয়েক দিন ধরে চাষের পাঙাশ, তেলাপিয়া, সিলভার কার্প মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা বেড়ে ২২০ টাকা, ২৫০ ও ২৪০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়।