চলতি অর্থবছরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) মোট আটটি সভা হয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর দুটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। তড়িঘড়ি করে এই দুই সভায় ৪৭টি প্রকল্প বাস্তবায়নে ৯১ হাজার ৬১১ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বা উন্নয়ন বাজেটের ৪০ শতাংশ। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।
রাজনৈতিক সরকারের আমলে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর একনেক সভা বন্ধ থাকত। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন গত ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। এরপর গত ২৩ ডিসেম্বর এবং গতকাল রবিবার একনেক সভা হয়। এ রকম সভা করা সমীচীন হয়েছে কি না–এমন প্রশ্নের উত্তরে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘আমরা তাড়াহুড়ো করছি না। মাঝে ২টি একনেক সভা না হওয়ায় গত দুই একনেকে একটু বেশি করে প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। ১৯৯৬ সালেও আমি পরিকল্পনা ও অর্থ উপদেষ্টা ছিলাম। সেই মেয়াদেও একনেক সভা করেছি। তবে নির্বাচনের আগে গতকালের একনেক সভাই শেষ বলা যায়।’
তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক সরকার নির্বাচনের আগে বেশি প্রকল্প পাস করে। কিন্তু আমরা তা নই। নির্বাচনের আগে আর একনেক সভা করা সমীচীন কি না, তা দেখার বিষয়। তবে জাতীয় প্রয়োজনে হতে পারে। আগে আইন দ্বারা বিধিবদ্ধ সরকারে ছিলাম। বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকার দেশ চালাচ্ছে। জনগণের স্বার্থেই একনেক সভা করা হচ্ছে। কারও ব্যক্তিস্বার্থে নয়।’
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসির এক সাবেক নির্বাচন কমিশনার খবরের কাগজকে বলেন, ‘তফসিলের পর রাষ্ট্রের সর্বময় কর্তৃত্ব নির্বাচন কমিশনের। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী, ‘নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তফসিল ঘোষণার পর হইতে নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধানের জন্য প্রয়োজনীয় সব নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষ এ নির্দেশ পালনে বাধ্য থাকিবে। অর্থাৎ তফসিল ঘোষণার পর সরকার দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ চালাতে পারলেও নির্বাচন কমিশনের অনুমতি ছাড়া নতুন প্রকল্প অনুমোদন বা ভোটে প্রভাব ফেলতে পারে–এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। একনেক বৈঠক আইনগতভাবে পুরোপুরি নিষিদ্ধ না হলেও নতুন প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে তা নিয়মবহির্ভূত হিসেবে বিবেচিত হয়। আরপিও অনুযায়ী নির্বাচনের সময়ে রাজনৈতিক, তত্ত্বাবধায়ক বা অন্তর্বর্তী–সব সরকারই নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মানতে বাধ্য।’
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, তফসিল ঘোষণার দেড় মাস পর গতকাল ২০২৫-২৬ অর্থবছরের অষ্টম সভায় চট্টগ্রাম শহরের লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের চতুর্থবার সংশোধন করা হয়। এটিসহ মোট ২৫টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে খরচ ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ১৯১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ঋণ হচ্ছে ৩২ হাজার ১৮ কোটি টাকা, বাকি টাকা সরকারি কোষাগার থেকে খরচ করার জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়।
সভায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হচ্ছে–রাঙামাটি (মানিকছড়ি)-মহালছড়ি-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন এবং মুন্সীগঞ্জ সড়ক বিভাগের অধীন তিনটি আঞ্চলিক ও একটি জেলা মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতায় চট্টগ্রাম শহরের লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী প্রকল্প।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীনে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ের শক্তিবৃদ্ধিকরণ এবং পারকি পর্যটন সুবিধা উন্নয়ন প্রকল্প। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘স্যানিটেশনে নারী উদ্যোক্তা’ ও কুমিল্লা জেলার গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ফাঁড়ি, তদন্ত কেন্দ্র, নৌ-পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশ স্থাপনা নির্মাণ এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় নির্মাণ প্রকল্প। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অধীন দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার হয়ে মায়ানমার সীমান্তের ঘুমধুম পর্যন্ত ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী প্রকল্প।
যুব উন্নয়ন ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত যুবদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি প্রকল্প। পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের অধীন সিলেট টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন ও সিলেট টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট স্থাপন সংশোধনী প্রকল্প।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন এক হাজার শয্যার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সাধারণ হাসপাতাল স্থাপন এবং স্বাস্থ্য ও পুষ্টিসেবা উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বিদ্যালয়বহির্ভূত শিশুদের বিকল্প শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ প্রকল্প রয়েছে। সভায় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ছয়টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। এগুলো হলো নদীভাঙন রোধ, ড্রেজিং, চাঁপাইনবাবগঞ্জে রাবার ড্যাম নির্মাণ ও আড়িয়াল বিল এলাকার সমন্বিত পানি ও ভূমি ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ প্রকল্প।
গতকালের সভায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের প্রথম সংশোধনী অনুমোদন দেওয়া হয়। এ ছাড়া সভায় ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের ১০টি প্রকল্প সম্পর্কে একনেক সভাকে অবহিত করা হয়।
অন্যদিকে তফসিল ঘোষণার ১২ দিন পর গত ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সপ্তম সভায় কর্ণফুলী টানেল (আনোয়ারা) থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার জাতীয় মহাসড়কের গাছবাড়িয়া পর্যন্ত সংযোগ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় ১৪টি নতুন প্রকল্পসহ মোট ২২টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। এসব প্রকল্পের জন্য খরচ ধরা হয় ৪৬ হাজার ৪২০ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিদেশি ঋণ ধরা হয় ৩০ হাজার ৪৮২ কোটি টাকা, বাকি টাকা সরকারের কোষাগার থেকে খরচ করার জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টা এবং একনেক চেয়ারপারসন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া পরিকল্পনা উপদেষ্টা ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের যে ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেন, তা একনেক সভায় অবহিত করার জন্য উপস্থাপন করা হয়। সভা শেষে সংবাদ সম্মেলন করে পরিকল্পনা উপদেষ্টা কিছুই জানাননি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
২৩ ডিসেম্বরের সভায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হচ্ছে–কর্ণফুলী টানেল (আনোয়ারা) থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার জাতীয় মহাসড়কের গাছবাড়িয়া পর্যন্ত সংযোগ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প, সড়ক বিভাগাধীন দিনাজপুর হিলি (স্থলবন্দর)-ডুগডুগি ঘোড়াঘাট জাতীয় মহাসড়ক (এন-৫২১) যথাযথ মানে উন্নীতকরণসহ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বিদ্যমান সরু/জরাজীর্ণ কালভার্টসমূহ পুনর্নির্মাণ এবং বাজার অংশে রিজিডপেভমেন্ট ও ড্রেন নির্মাণ (১ম সংশোধিত) প্রকল্প ও ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তর প্রকল্প: সাপোর্ট টু ঢাকা (কাঁচপুর)-সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ এবং উভয় পাশে পৃথক সার্ভিস লেন নির্মাণ (১ম সংশোধিত) প্রকল্প।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ‘নারায়ণগঞ্জের আলীগঞ্জে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আটটি ১৫ তলা ভবনে ৬৭২টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্প। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পগুলো হচ্ছে–‘ঢাকা ওয়াসা প্রশিক্ষণ এবং গবেষণা একাডেমি স্থাপন প্রকল্প, সিলেট সিটি করপোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও অবকাঠামো নির্মাণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্প, জলবায়ু সহনশীল জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প, পটুয়াখালী জেলার গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প ও সিলেট বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্প।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মোংলা কমান্ডার ফ্লোটিলা ওয়েস্ট (কমফ্লোট ওয়েস্ট)-এর অবকাঠামো উন্নয়ন (১ম সংশোধিত) প্রকল্প ও সাভারে আর্মি ইনস্টিটিউট অব ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মর্ডানাইজেশন অ্যান্ড এক্সপানশন অব ইস্টার্ন রিফাইনারি (ইবিএল) প্রকল্প, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ‘দুস্থ শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র পুনর্নির্মাণ কোনাবাড়ী, গাজীপুর (১ম সংশোধিত) প্রকল্প, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অব ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড নার্সিং এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ প্রকল্প। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস-এর উন্নয়ন (৩য় সংশোধিত) প্রকল্প।
এ ছাড়া সভায় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘রাঙামাটি পার্বত্য জেলার কর্ণফুলী এবং সংযুক্ত নদীসমূহের (কাচালং, রাইখিয়ং ও শলকনদী) টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প, গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন প্রকল্প, সুরমা-কুশিয়ারা নদী অববাহিকার উন্নয়ন এবং বন্যা ও সমন্বিত পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (১ম পর্যায়)’, ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট দ্বিতীয় সংশোধন প্রকল্প, কৃষি মন্ত্রণালয়ের ‘বগুড়া কৃষি অঞ্চলের টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ‘দারুল আরকাম ইসলামী শিক্ষা পরিচালনা ও সুসংহতকরণ (২য় পর্যায়) প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়।
যা বলছেন বিশিষ্টজনরা:
একনেক সভা করার ব্যাপারে ভালোভাবে বিবেচনা করা দরকার: ড. জাহিদ হোসেন, বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ
এটা কোন ধরনের সরকার দেখতে হবে। এটা রাজনৈতিক না, অন্তর্বর্তী সরকার। তাই অন্য সরকারের সঙ্গে তুলনা করা যায় না। একনেক সভা করতে পারে, আবার না-ও করতে পারে। এটা তাদের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে। তবে যেহেতু নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে, তাই একনেক সভা করার ব্যাপারে ভালোভাবে বিবেচনা করা দরকার সরকারকে।
এই সরকার ভোট চায় না, নেতিবাচকভাবে দেখার কিছু নেই: প্রফেসর ড. মোস্তাফিজুর রহমান, সম্মাননীয় ফেলো, সিপিডি
অন্য সরকারের সঙ্গে এই সরকারের পার্থক্য রয়েছে। তাই রাজনৈতিক সরকার তফসিল ঘোষণার পর রুটিন কাজ করে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যাপারে কী করতে পারবে না, তা বলা নেই। তাই উন্নয়ন প্রকল্প চলতে পারে। এডিপি কার্যকর করতে একনেক সভা চলমান রাখতে পারে। কারণ রাজনৈতিক সরকার ভোট চায়, এই সরকার তা চায় না। তাই নেতিবাচকভাবে দেখার কিছু নেই।
ঢালাওভাবে প্রকল্পের অনুমোদন দিলে প্রশ্নবিদ্ধ হবে: ড. ইফতেখারুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)
আইনে বা সংবিধানে অন্তর্বর্তী সরকারের কথা কোথায় লিপিবদ্ধ নেই। বিচার, রাষ্ট্রসংস্কার ও নির্বাচনের জন্য ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এই সরকার দেশে আসে। কাজেই কী করা যাবে আর কী করা যাবে না, তার বাধ্যবাধকতা নেই। কাজেই তফসিল ঘোষণার পর দুই একনেক সভায় যে ৯২ হাজার কোটি টাকার অনুমোদন দিয়েছে সরকার, তাতে ভুল করেছে বলা যাবে না। তবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ না হলে বিবেচনা করতে পারত। ঢালাওভাবে বেশি করে প্রকল্পের অনুমোদন দিয়ে থাকলে ঠিক করেনি বলা যায়। সে রকম করা হলে তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে থাকবে।