সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রবিবার (২৫ জানুয়ারি) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। সেই সঙ্গে কমেছে মূল্যসূচক। পাশাপাশি লেনদেনও কমেছে।
ডিএসইর মতো অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) দাম কমার তালিকায় রয়েছে বেশি প্রতিষ্ঠান। ফলে বাজারটিতে কমেছে মূল্যসূচক। সেই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।
এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই দাম কমার তালিকায় চলে আসে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান। ফলে লেনদেনের শুরুর দিকেই সূচক ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। মাঝে দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ায় সূচক কিছুটা ঊর্ধ্বমুখীও হয়। কিন্তু লেনদেনের শেষ ঘণ্টায় শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়িয়ে দেন এক শ্রেণির বিনিয়োগকারী। এতে দাম বাড়ার তালিকা থেকে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান দাম কমার তালিকায় চলে আসে। ফলে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি সব কটি মূল্যসূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১০৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ২২৫টির। ৬০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৭২টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১০৩টির দাম কমেছে এবং ৩২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ১০টি কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে ৬৩টির দাম কমেছে এবং ৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩৫টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৫৯টির এবং ২১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ৭টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৩টির দাম কমেছে এবং ১৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স তার আগের দিনের তুলনায় ২৭ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৭২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৭ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক তার আগের দিনের তুলনায় ১৫ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯৪৭ পয়েন্টে নেমে গেছে।
সব কটি মূল্যসূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৫২৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। তার আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৫৩৬ কোটি ১২ টাকা। লেনদেন কমেছে ৯ কোটি ৬২ লাখ টাকা।
লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের শেয়ার। কোম্পানিটির ১৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সোনালি পেপারের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৩ কোটি ৫১ লাখ টাকার। ১৩ কোটি ৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে আনোয়ার গ্যালভানাইজিং।
এ ছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, সামিট এলায়েন্স পোর্ট, প্রগতি ইন্স্যুরেন্স, সিটি ব্যাংক এবং অ্যাপেক্স ইস্পিনিং।
রবিবার ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর মাঝে দাম বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে এসেছে এশিয়া ইন্স্যুরেন্স পিএলসি। কোম্পানিটির ইউনিট দাম ৩ টাকা ৪০ পয়সা বা ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিল এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিটির শেয়ার দাম ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তৃতীয় স্থানে থাকা ট্রাস্ট ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার দাম ৮ দশমিক ৭০ শতাংশ বেড়েছে।
এছাড়াও, ডিএসইতে দাম বৃদ্ধির শীর্ষ দশে থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হচ্ছে- পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, সোনালি পেপার, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স, ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স, সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স এবং কনফিডেন্স সিমেন্ট পিএলসি।
এদিন ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর মাঝে দরপতনের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে ফ্যামিলিটেক্স (বিডি) লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ার দাম ১ পয়সা বা ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ কমেছে।
তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিল ম্যাকসন্স স্পিনিং মিলস্ পিএলসি। কোম্পানিটির শেয়ার দাম ৪ দশমিক ২৬ শতাংশ কমেছে। তৃতীয় স্থানে থাকা নিউ লাইন ক্লোথিংসের শেয়ারের দাম ৫ দশমিক ২৬ শতাংশ কমেছে।
ডিএসইতে দরপতনের শীর্ষ দশে থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হলো- তাল্লু স্পিনিং, ইসলামিক ফাইন্যান্স ও ইনভেস্টমেন্ট, সি অ্যান্ড এ টেক্সটাইলস, আনলিমা ইয়ার্ন, ফার্স্ট জনতা ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড, ফার্স্ট বাংলাদেশ ফিক্সড ইনকাম ফান্ড এবং মালেক স্পিনিং মিলস পিএলসি।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ১৩ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৫৪ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬৬টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৭১টির এবং ১৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৯ কোটি ২৭ লাখ টাকা। তার আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।