প্রথম অধ্যায় : মৌলিক মানবিক চাহিদা
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর-৪
উদ্দীপকটি পড়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর লেখ।

(ক) Towle-এর মতে, মৌল মানবিক চাহিদা কয়টি?
(খ) বিনোদন বলতে কী বোঝায়?
(গ) উদ্দীপকে কোন ধরনের মৌলিক মানবিক চাহিদার অপূরণজনিত সমস্যাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
(ঘ) উদ্দীপকে ইঙ্গিত করা মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: (ক) সমাজবিজ্ঞানী Towle-এর মতে, মৌলিক মানবিক চাহিদা ছয়টি।
(খ) নির্মল আনন্দ ও আমোদ-প্রমোদ লাভের পন্থাই হলো বিনোদন। বিনোদনের মাধ্যমে মানুষের মনে উদ্দীপনা জাগ্রত হয়। বিনোদন হলো এমন একটি কার্যক্রম, যা আনন্দ ও তৃপ্তিদায়ক অভিজ্ঞতা অর্জন এবং সৃজনশীল অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ দান করে।
আরো পড়ুন : মৌলিক মানবিক চাহিদা অধ্যায়ের ১টি সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর, ৮ম পর্ব
(গ) উদ্দীপকে মৌলিক মানবিক চাহিদার অন্যতম একটি মানবিক চাহিদা শিক্ষার অপূরণজনিত সমস্যাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। নিরক্ষরতা হলো সাক্ষরতার অভাব। অজ্ঞতা বলতে বোঝায় জানা জ্ঞানের অভাবকে। আর জ্ঞান না থাকলে মানুষের মধ্যে কুসংস্কার জন্মে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, উদ্দীপকে মূলত শিক্ষার অপূরণজনিত সমস্যাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
শিক্ষা হলো দেহ, মন ও আত্মার সুসামঞ্জস্যপূর্ণ বিকাশ। জ্ঞানের প্রসার এবং দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ করে স্কুল-কলেজের মাধ্যমে পাঠদান, প্রশিক্ষণ এবং কোনো বিষয় জানার প্রক্রিয়া হলো শিক্ষা। শিক্ষার মাধ্যমে মানবীয় জ্ঞান ও দক্ষতা ও এক প্রজন্ম থেকে পরবর্তী প্রজন্মে স্থানান্তরিত হওয়ার মধ্য দিয়ে সমাজ টিকে থাকে। তাই শিক্ষাকে জাতির মেরুদণ্ড বলা হয়। যে লেখাপড়া জানে তাকে সাক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন বলা হয়, যা শিক্ষা গ্রহণ ছাড়া সম্ভব নয়। আবার শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে মানুষের ভেতরের অজ্ঞতা ও কুসংস্কার দূর হয়। অতএব এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়, উদ্দীপকে মৌলিক মানবিক চাহিদা শিক্ষার অপূরণজনিত সমস্যাকে তুলে ধরা হয়েছে।
(ঘ) উদ্দীপকে ইঙ্গিত করা মৌলিক মানবিক চাহিদা শিক্ষার চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সেগুলো হলো- প্রথমত সরকার ২০১০ সালে একটি যুগোপযোগী বাস্তবধর্মী শিক্ষানীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করেছে। দ্বিতীয়ত মুখস্থনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন এনে সৃজনশীল ব্যবস্থা প্রচলন করার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের জ্ঞানের বিকাশকে সহজতর করেছে। তৃতীয়ত ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিনামূল্যে বই বিতরণের মাধ্যমে একটি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। চতুর্থত দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের লেখাপড়া সুনিশ্চিত করতে তাদের মধ্যে উপবৃত্তি প্রদান কার্যক্রমের প্রচলন করা হয়েছে। পঞ্চমত সরকার নারী শিক্ষার প্রতি বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেছে। ষষ্ঠত বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সপ্তমত কারিগরি শিক্ষার পাশাপাশি আইসিটি কার্যক্রমের ওপর আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অষ্টমত নতুন নতুন বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ই রয়েছে ১,৩৩,০০২টি। এ ছাড়া বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হয়েছে। নবমত মেয়েদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। দশমত নতুন কারিকুলাম প্রণয়নের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি অঞ্চলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা গ্রহণ করে শিক্ষা কার্যক্রমকে বেগবান করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সরকার বিবিধ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশে শিক্ষার প্রসার ঘটানোর কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
লেখক : প্রভাষক, সমাজকর্ম বিভাগ
শের-ই-বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা
কবীর