মহান একুশে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার প্যারিস শহরে নবনির্মিত স্থায়ী শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার সিটি অব প্যারিসে এই ঐতিহাসিক স্থায়ী শহিদ মিনার নির্মাণের প্রথম ও মূল প্রস্তাবকারী প্রবাসী বাংলাদেশি সংগঠন, ‘ইন্টারন্যাশনাল মাদার ল্যাংগুয়েজ ডে সেলিব্রেশন (আইএমএলডিসি)’ প্যারিস সিটি হলের সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ পালনের কর্মসূচি পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানে আইএমএলডিসি’র প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সফিকুল ইসলাম টিটো, ইসমাইল হোসেন, সাইফ আলম হিমু এবং সাইফুর রহমান ওসমানী জিতু।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্যারিস শহরের মেয়র মাইকেল এম. ভার্গাস, যিনি শহিদ মিনার নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদনের অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা।
মেয়র ভার্গাস তার বক্তব্যে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রে ক্যালিফোর্নিয়ার প্যারিসে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ ছিল প্রবাসী বাংলাদেশি সংগঠন আইএমএলডিসি ও পেরিস সিটি হলের একটি যৌথ উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন।” তিনি আরও বলেন, “২০২৬ সালের একুশে উদ্যাপনের সামগ্রিক দায়িত্ব আপনাদের ওপর অর্পিত হয়েছিল। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও আজকের আয়োজনের মাধ্যমে আপনারা দায়িত্ববোধ ও অঙ্গীকারের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। পেরিস সিটি হলের পক্ষ থেকে ‘ইন্টারন্যাশনাল মাদার ল্যাংগুয়েজ ডে সেলিব্রেশন (আইএমএলডিসি)’ কে এজন্যে আন্তরিক ধন্যবাদ ও সাধুবাদ জানাই।”
এছাড়াও আইএমএলডিসি’র পক্ষ থেকে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন সফিকুল ইসলাম টিটো, ইসমাইল হোসেন, সাইফ আলম হিমু এবং সাইফুর রহমান ওসমানী জিতু। এছাড়া ‘বাংলাদেশি কমিউনিটি অব ইংল্যান্ড এম্পায়ার (বিসিআইই)’–এর সভাপতি মঞ্জুর অপু, সিনিয়র উপদেষ্টা জিল্লুর রহমান নিরু, সমাজসেবক আশিক আলম প্রমুখ।
উল্লেখ্য, প্যারিস সিটি হলের শতভাগ অর্থায়নে প্রায় ১ লক্ষ ৮৮ হাজার মার্কিন ডলার ব্যয়ে এই স্থায়ী শহিদ মিনার নির্মিত হয়। মেয়র ভার্গাস ও সিটি কাউন্সিল সদস্যদের সমর্থন ও আন্তরিক সহযোগিতায় রিভারসাইড কাউন্টির পেরিস শহরে সিটি হল চত্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে একটি স্থায়ী ঐতিহাসিক শহিদ মিনার বাস্তবায়িত হয়।
২০২৩ সালে প্রবাসী বাংলাদেশি সংগঠন ‘ইন্টারন্যাশনাল মাদার ল্যাংগুয়েজ ডে সেলিব্রেশন (আইএমএলডিসি)’ প্রথম এই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের প্রস্তাব প্যারিস সিটির কাছে উপস্থাপন করে। এটি ছিল মেয়রের সঙ্গে একটি যৌথ উদ্যোগ। পরবর্তীতে লস অ্যাঞ্জেলেসে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেটও এ প্রচেষ্টায় যুক্ত হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় তথ্য, নকশা ও সমন্বয়ের দায়িত্ব আইএমএলডিসি নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে এবং ২০২৩ সালেই নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালে বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, প্যারিস সিটির মেয়র, কাউন্সিল সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন দেশের কনসাল জেনারেল, যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, প্রবাসী বাংলাদেশি সংগঠন ও গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শহিদ মিনারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সম্পন্ন হয়। একই অনুষ্ঠানে শহিদ মিনার সংলগ্ন Cesar E. Chavez Library-এ ‘বাংলাদেশ কর্নার’ নামে একটি বাংলা পাঠাগারও উদ্বোধন করা হয়।
বিজ্ঞপ্তি/এসএন