জন্মগত সুবিধা বা সৌভাগ্যের কারণে কিছু মানুষ হয়তো সহজেই সাফল্যের দেখা পান। তবে অধিকাংশ সফলতার পেছনে লুকিয়ে থাকে কঠোর পরিশ্রম, নিরলস চেষ্টা, ত্যাগ, ধৈর্য এবং সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়ার গল্প। সাফল্যের পথ কখনোই মসৃণ নয়; সেখানে ব্যর্থতাও এক অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী। তাই লক্ষ্য অর্জন করতে হলে শুধু সফলতার স্বপ্ন দেখলেই হবে না, ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতাও গড়ে তুলতে হবে। বিস্তারিত জানাচ্ছেন তারেক বিন ফিরোজ
সফল ব্যক্তিরা শ্রমের ফলাফলের ওপরেই নির্ভর করেন
আপনি দৈনিক কতটা কাজ করছেন, কতটা অবদান রাখছেন সেটাই আপনার ভ্যালুর একমাত্র আসল পরিমাপ। অতীতে আপনি যা-ই করে থাকুন না কেন, বর্তমানে কিন্তু দরকার হলে আপনাকে কাজে নেমে পড়তে হবে। কোনো কাজই ছোট নয়। সফল ব্যক্তিরা শুধু তাদের শ্রমের ফলাফলের ওপরেই নির্ভর করে থাকেন।
আরো পড়ুন: নিয়োগ দেবে যমুনা ব্যাংক, আজ থেকেই আবেদন নেওয়া শুরু
কথার ফুলঝুরি ফোটান না
আপনি কত বছর ধরে একটি কাজ করছেন সেটা মুখ্য বিষয় নয়। আপনি কী কী কাজ করেছেন এবং কীভাবে সেগুলোয় সফল হয়েছেন সেটাই মূল বিষয়। সফল ব্যক্তিরা কথার ফুলঝুরি ফোটান না, তারা বিনীতভাবে তাদের কাজের বিবরণ তুলে ধরেন।
সময়কে নিজের মতো করে নিয়ন্ত্রণ করেন
সময়সীমা বেঁধে দিলে সে কাজ আদতে ভালো হয় না। যাকে কাজ করার জন্য দুই সপ্তাহ সময় দেওয়া হয় সে কিন্তু ওইভাবেই তার কার্যক্ষমতা দুই সপ্তাহ অনুযায়ী সমন্বয় করে নেবে। ডেডলাইন ভুলে যতটুকু সময় দরকার, ততটুকু সময় নিয়েই কাজ করুন। আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ শেষ করে তারপর অন্য কাজে মন দিন। গড়পড়তার মানুষ নিজেদের সময়ের বেড়াজালে আটকে ফেলে আর অসাধারণ মানুষ সময়কে তাদের মতো করে নিয়ন্ত্রণ করতে জানে।
কর্মঠ মানুষদের কদর করতে জানুন
আপনার আশপাশের মানুষ যদি আপনাকে সহযোগিতা করতে না পারে তাহলে এটা তাদের দোষ নয়, এটা আপনার দোষ। কারণ, আপনিই তাদের নির্বাচন করেছেন। তারা আপনার পেশাগত বা ব্যক্তিগত জীবনে আছে কারণ আপনি তাদের থাকতে দিয়েছেন। আপনি কোন ধরনের মানুষের সঙ্গে কাজ করতে চান, কোন ধরনের গ্রাহকদের সেবা করতে চান, কোন ধরনের বন্ধু চান–তা ভেবে দেখুন। এরপর সেই ধরনের মানুষের কাছে যেতে হবে। একটা জিনিস মনে রাখবেন–কর্মঠ মানুষ অন্য কর্মঠ মানুষের কদর করে। আর অসাধারণ কর্মচারীরা অসাধারণ বসদের জন্যই কাজ করে থাকে।
ভল্যান্টিয়ারদের জয় সব সময়
সুযোগ পেলে যেকোনো কাজে অংশগ্রহণ করা ভালো। বেশি বেশি কাজ করা শেখার, দক্ষতা অর্জন, অন্যের মন জয় করা এবং নতুন নতুন সংযোগ তৈরি করার সুযোগ সৃষ্টি করে। সাফল্য কাজের মাধ্যমেই আসে। আপনি যত বেশি ভল্যান্টিয়ারিং করবেন, আপনি তত বেশি কাজ করতে পারবেন এবং সফল মানুষের মতো সুযোগ তৈরি করে নিতে পারবেন।
কাজ করে প্রাপ্য অর্থ বুঝে নেন
বৈধভাবে টাকা আয় করা অবশ্যই আনন্দের। অনৈতিক ছাড়া অন্য যেকোনো কিছু আপনি করতে পারেন যদি আপনার গ্রাহক তার জন্য ভালো অঙ্কের টাকা দিতে রাজি থাকে। গ্রাহকরা হয়তো বেশি কিছু চাইতে পারে, যা আপনি সাধারণত করে থাকেন না, সে ক্ষেত্রে ওই বেশি কাজটুকু করে নিয়ে আপনার প্রাপ্য অর্থ বুঝে নিন। আপনি যা করতে ভালোবাসেন সেটাই যদি আপনি করেন তাহলে একটি ভালো বিজনেস প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন। তবে গ্রাহকরা যা চায় সে অনুযায়ী কাজ করলে আপনি একটি সফল বিজনেস প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন। সফল মানুষরা কিন্তু এভাবেই সফল হয়েছেন।
ইগোকে দূরে রাখুন
কাজের মধ্যে ইগোকে টেনে আনবেন না। নিজের ইগো ব্যক্তিগত সময়ে প্রয়োগ করুন। যারা আপনাকে দিয়ে কাজ করাবে, কাজের জন্য টাকা দেয় তাদের পূর্ণ অধিকার আছে কাজের ব্যাপারে আপনাকে যেকোনো কিছু বলার। তাই অভিযোগ না করে যারা কাজের জন্য আপনাকে টাকা দেবে তাদের চাহিদা অনুযায়ী আপনার কাজকে সমন্বয় করে নিন।
সফল ব্যক্তিরা এক্সট্রা কাজ করেন
এক্সট্রা কাজ কেউ করে না ঠিকই, কিন্তু তা করলে নতুন সম্ভাবনা আপনার কাছে ধরা দিতে পারে। একটু বেশি সময় ধরে কাজ করুন, আরেকটু গবেষণা করুন। নির্দেশের জন্য অপেক্ষা না করে কাজ করতে থাকুন। কোনো কিছু করতে গেলে আরও এক্সট্রা কী করা যায় তা ভাবুন, এমন কিছু যা অন্যরা হয়তো করে না। হয়তো এটি করা কঠিন তবে সেটাই কিন্তু আপনার বিশেষত্ব তৈরি করে দেবে, যা আপনার সাফল্য নিশ্চিত করবে। সফল ব্যক্তিরা এক্সট্রা কাজ করেই কর্মজীবনে সফলতা পেয়েছেন।
ব্যর্থতাকে আপন করে তা থেকে শিক্ষা নেন
অধিকাংশ সফল মানুষ তাদের সফলতার কারণ হিসেবে নিজের প্রশংসা করে, মাঝে মধ্যে হয়তো কেউ কেউ অন্যদের কৃতজ্ঞতাও স্বীকার করে। কিন্তু যখন তাদের ব্যর্থতার কারণ জানতে চাওয়া হয় তখন তারা বাচ্চাদের মতো নানা অজুহাত দাঁড় করায়। কেউ বলে অর্থনৈতিক মন্দা, কেউ বলে বাজারের অবস্থা ভালো না বা সাপ্লায়াররা ঠিকমতো সরবরাহ দিতে পারেনি। ফলে ব্যর্থতার দায় সব সময় অন্য কারও বা অন্য কিছুর ওপর গিয়ে পড়ে।
নিজেদের দায় স্বীকার না করার ফলে ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা হয়ে ওঠে না। হয়তো আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে কোনো কিছুর কারণে আপনি ব্যর্থ হয়েছেন, তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হয়তো তা আপনার নিজের ভুলের জন্যই হয়েছে। ব্যর্থ সবাই হয়, একবার নয়, অনেকবার। এই ব্যর্থতার কারণে আজকে কেউ কেউ সফল হতে পেরেছে। তাই ব্যর্থতাকে ভয় না পেয়ে আপন করে নিন। তা থেকে শিখুন এবং দায় এড়িয়ে যাবেন না। নিশ্চিত হোন যে পরের বার এমনটি আর হবে না।
তারেক/