আপনার টিমের কোনো সদস্য যদি প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ না করেন, তবে তা পুরো প্রতিষ্ঠানের কর্মদক্ষতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে কোনো সদস্যের আক্রমণাত্মক বা অসহযোগিতামূলক আচরণ টিমের পরিবেশ ও উৎপাদনশীলতার জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে, তাই সমস্যা গুরুতর হওয়ার আগেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এমন পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করার জন্য নিচে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ তুলে ধরা হলো–
আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন
আপনি যদি অবাধ্য কর্মীকে মোকাবিলা করার পরিকল্পনা করে থাকেন, তাহলে আগে থেকেই সম্ভাব্য পরিস্থিতির বিষয়ে প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন। যদি পরিস্থিতি খারাপ হয় তা কতই-বা খারাপ হতে পারে এবং তখন কী কী করা উচিত–এই প্রশ্ন নিজেকে করুন আর দেখবেন আপনি নিজেই কয়েকটি উত্তর পেয়ে যাবেন। এই মোকাবিলার ফলে ওই কর্মী হয়তো নিজেকে গুটিয়ে নেবে বা আরও বেশি বাধ্য হয়ে পড়বে। আপনিও হয়তো আপনার মেজাজ ঠিক রাখতে পারবেন না। যেকোনো কিছুই হতে পারে। সব সম্ভাবনা লিখে রাখুন, তারপর সে অনুযায়ী নিজের প্রত্যাশা নির্ধারণ করে ভয় কাটিয়ে ওই কর্মীর সঙ্গে কথা বলুন।
সহানুভূতি নিয়ে এগিয়ে যান
আপনি হয়তো আপনার অবাধ্য কর্মীর ব্যবহারে অসন্তুষ্ট হতে পারেন। কিন্তু আপনি চাইলেই আপনার কর্মীর ব্যবহারে কিছুটা পরিবর্তন আনতে পারেন। যখন আপনি সহানুভূতি নিয়ে তার দিকে এগিয়ে যাবেন, তখন দেখবেন প্রাতিষ্ঠানিক পদমর্যাদা একটি কার্যকর আলাপের ক্ষেত্রে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।
আরো পড়ুন: রক্তখেকো পাখি ‘ড্রাকুলা ফিঞ্চ’
হতে পারে ওই কর্মী অন্য কোনো কারণে চিন্তিত বা সমস্যার মধ্যে আছে। তার কাছে গিয়ে আন্তরিকভাবে তা জানতে চান, দেখবেন প্রয়োজনীয় আশ্বাস পাওয়ার পর ওই কর্মী তার সব কথাই অকপটে আপনার কাছে তুলে ধরবে। ধীরে ধীরে অবাধ্য কর্মী বাধ্যও হয়ে যেতে পারে।
হাঁটুন আর আলাপ করুন
হাঁটা যেমন শরীরের জন্য উপকারী, ঠিক তেমনি এর অন্যান্য উপকারও আছে। আপনি আপনার অবাধ্য কর্মীর সঙ্গে হেঁটে হেঁটে আলাপ করুন, যেখানে অফিসের কোনো প্রভাব থাকবে না। অফিসের বাইরে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে হয়তো নতুন বোধোদয় হতে পারে। এছাড়া আলাপের গোপনীয়তাও রক্ষা হবে।
কর্মীর মতামত নিন
কর্মীর সঙ্গে আলোচনার সময় শুধু কর্মীর অক্ষমতার ওপর জোর দেওয়া সুফল বয়ে আনবে না। কর্মীর ত্রুটির কথা বলতে পারলে আপনাকে আপনার নিজের ম্যানেজমেন্ট স্টাইলের ত্রুটির কথাও বলা উচিত। আর আপনার কর্মীকেও সুযোগ দিন কীভাবে সমস্যার সমাধান করা যায় সে বিষয়ে তার মতামত দেওয়ার। একটি সুন্দর ম্যানেজমেন্টই পারে যেকোনো কর্মক্ষেত্রের পরিবেশকে সুন্দর করতে। তাই কর্মী ও ম্যানেজমেন্টের মধ্যে ভালো সম্পর্ক থাকা উচিত।
তারেক/