হলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা জিন হ্যাকম্যান। পাঁচ দশকের অভিনয় জীবনে দুবার অস্কার জেতার পাশাপাশি আরও তিনবার মনোনীত হয়েছেন এই মার্কিন অভিনেতা। ২০০৪ সালে হৃদরোগজনিত কারণে অভিনয় থেকে স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়ার পর থেকে স্ত্রীকে নিয়ে নিউ মেক্সিকোর সান্তা ফেতে নিজ বাড়িতে থাকতে শুরু করেছিলেন তিনি। এবার সেই বাড়িতেই স্ত্রী বেটসি আরাকাওয়া এবং তাদের কুকুরের সঙ্গে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে এই মার্কিন অভিনেতাকে।
কর্তৃপক্ষ তাদের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, তারা এখানে কোনো ধরনের অপরাধ সংঘটনের বিষয়ে সন্দেহ করছে না।অভিনয় জীবনের শেষ দিকে জিনকে হলিউডের সবচেয়ে সম্মানিত এবং আর্থিকভাবে সক্ষম তারকাদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হতো। পাঁচ দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে ৮০টির বেশি ছবিতে কাজ করেছেন তিনি। কঠিন ও জটিল চরিত্র পর্দায় ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি কমেডিতে নিজের বহুমুখী প্রতিভা ফুটিয়ে তুলতে এই অভিনেতার বিশেষ খ্যাতি ছিল।
মূলত জিন হ্যাকম্যানের ক্যারিয়ারের মোড় ঘুড়ে যায় ১৯৬৭ সালে ‘বনি’ ও ‘ক্লাইড’ ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে। এর পরই প্রথম অস্কার মনোনয়ন অর্জন করেন তিনি। সেবার জিততে না পারলেও ১৯৭১ সালে ‘দ্য ফ্রেঞ্চ কানেকশন’ সিনেমায় গোয়েন্দা ‘জিমি পপেই ডয়েল’ চরিত্রে অভিনয় করে সেরা অভিনেতা হিসেবে প্রথম অস্কার জিতেছিলেন জিন। পরে ১৯৯২ সালে ‘ওয়েস্টার্ন’ ছবিতে সেরা অভিনেতা হিসেবে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডস ঘরে তোলেন এই খ্যাতিমান তারকা।
যদিও এই অভিনেতার জীবন কখনোই সহজ ছিল না। অনেক বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে তিনি সফলতার চূড়ায় পৌঁছেছিলেন। অভিনয়ে আসার আগে তিনি রেডিও অপারেটর, দারোয়ান, ডিস্ক জকি, এমনকি দারোয়ানের চাকরিও করেছেন। ১৯৩০ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার সান বার্নার্ডিনোতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন জিন হ্যাকম্যান।
/ তাসনিম তাজিন