গত ৯ অক্টোবর তারিখে দৈনিক খবরের কাগজ পত্রিকা এবং অনলাইনে ‘ভেঙে গেছে সাদিয়া আয়মানের সম্পর্ক/ রনির নতুন প্রেমের গুঞ্জন!’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নির্মাতা রেদওয়ান রনি সম্পর্কিত এবং সংবাদটি তার নজরে এসেছে। প্রতিবেদনটির পরিপ্রেক্ষিতে রেদওয়ান রনির পক্ষে তার যোগাযোগ সমম্বয়ক মো. ইয়াসিফ আকবর স্বাক্ষরিত একটি প্রতিবাদ ই-মেইলের মাধ্যমে আমাদের অফিসে এসেছে।
ওই প্রতিবাদলিপিতে তারা উল্লেখ করেছেন, প্রতিবেদনটিতে ভুল তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রথমত, সংবাদে উল্লিখিত দেশের জনপ্রিয় তরুণ অভিনেত্রী এবং রেদওয়ান রনি দেশের বিনোদন মাধ্যমে অনেকদিন ধরেই কাজ করেন। স্বাভাবিকভাবেই তারা পরিচিত এবং তাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। প্রকাশিত সংবাদে তাদের মধ্যকার সম্পর্ককে ‘প্রেম’-এর সম্পর্ক উল্লেখ করা হয়েছে, যা অবান্তর। যেহেতু তাদের সম্পর্কটি বন্ধুত্বের তাই এখানে ‘প্রেম’-এর গড়া বা ভাঙার প্রসঙ্গটিও ভিত্তিহীন। সেই জনপ্ৰিয় তরুণ অভিনেত্রীও আপনার সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদককে যে বক্তব্য দিয়েছেন (প্রকাশিত) তাতেও তিনি রেদওয়ান রনির সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক বলে উল্লেখ করে সম্পর্কটিকে স্পষ্ট করেছেন।
দ্বিতীয়ত, রেদওয়ান রনি একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)। স্বাভাবিকভাবেই ব্যস্ততার কারণে তিনি অনেকসময় ফোন রিসিভ করতে পারেন না। তা ছাড়া অপরিচিত নম্বরের ফোন তিনি রিসিভ করেন না। পেশাগত কারণে রেদওয়ান রনির কনট্যাক্ট পার্সন হয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা করে থাকি আমি (মো. ইয়াসিফ আকবর)। রেদওয়ান রনিকে যে প্রতিবেদকের প্রয়োজন ছিল, তিনি আমাকে ফোন, এসএমএস বা অনলাইন মাধ্যমে টেক্সট করতে পারতেন। সেটিও করেননি। অর্থাৎ সুযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রতিবেদক তার সর্বোচ্চ চেষ্টাটি না করে দায়সারা কাজ করেছেন। পরবর্তী সময়ে রেদওয়ান রনি সম্পর্কত যেকোনো কাজে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইল।
তৃতীয়ত, জনপ্রিয় তরুণ অভিনেত্রী ছাড়াও আরেকজন নারীর নাম প্রতিবেদনটিতে প্রকাশ করা হয়েছে। নীতিগত কারণে তাদের কারও নাম এখানে প্রকাশ করা হলো না। আরেকজন যে নারীর কথা সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে তিনি রেদওয়ান রনির ‘প্রায় অপরিচিত’ বলা যায়। একটি অনুষ্ঠানে তাদের দেখা ও কথা হয়েছে। অথচ, রেদওয়ান রনির ‘প্রায় অপরিচিত’ এ নারীকে জড়িয়ে প্রতিবেদনে আপত্তিকর তথ্য প্রকাশ করার মাধ্যমে তাকে এবং সেই নারীকে সামাজিকভাবে হেয় করা হয়েছে। এমন ভুল সংবাদ সামাজিক ও পারিবারিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছে জনপ্রিয় তরুণ অভিনেত্রী এবং রেদওয়ান রনিকে। পরিচিত ও পেশাদার মহলেও তারা পরেছেন অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে।
প্রতিবেদকের বক্তব্য
প্রথমত, এর আগেও দেশের প্রথম সারির বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাদিয়া আয়মান ও রনির প্রেম নিয়ে নানা ধরনের সংবাদ প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে ২৭ অক্টোবর ২০২৪ দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকার অনলাইনে ‘প্রেমের গুঞ্জন, রনির প্রিয়তমা সাদিয়া!’, কালের কণ্ঠ পত্রিকায় ‘প্রেমে মজেছেন সাদিয়া আয়মান-রেদওয়ান রনি!’, দেশ রূপান্তর পত্রিকায় ‘যে কারণে মনে হচ্ছে সাদিয়া আয়মান সম্পর্কে জড়িয়েছেন!’, মানবজমিন পত্রিকায় ‘নির্মাতা রনির প্রেমে মজেছেন সাদিয়া আয়মান!’, দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় ‘রেদওয়ান রনি-সাদিয়া আয়মানের প্রেমের গুঞ্জন’ এবং ২৮ অক্টোবর সময়ের আলো পত্রিকায় ‘টক অব দ্য টাউন রনি-সাদিয়ার প্রেম’সহ আরও অন্যান্য পত্রিকায় তাদের প্রেমবিষয়ক বিভিন্ন শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
সেসব সংবাদে সাদিয়া আয়মান ও রেদওয়ান রনির প্রেম নিয়ে নানা ধরনের ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাদিয়াকে ‘প্রিয়তমা’ বলে ডেকেছেন রনি এবং রনিও সাদিয়ার জীবনে সেরা উপহার বলে সংবাদগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব থেকেই প্রতীয়মান হয় যে, সাদিয়া ও রনির মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কারণ সেসব সংবাদ নিয়ে সাদিয়া আয়মান বা রেদওয়ান রনির পক্ষ থেকে কোনো প্রতিবাদ বা মিথ্যা সংবাদ বলে কোনো ধরনের বক্তব্য প্রদান করা হয়নি। যেহেতু সেসব সংবাদের কোনো প্রতিবাদ করা হয়নি তাতেই প্রমাণিত হয় দুজনের প্রেম ছিল।
দ্বিতীয়ত, রেদওয়ান রনি একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)। ব্যস্ততার কারণে অনেকসময় ফোন রিসিভ করতে পারেন না। পেশাগত কারণে রেদওয়ান রনির কনট্যাক্ট পার্সন হয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা করার দাবি করেন মো. ইয়াসিফ আকবর নামে এক ব্যক্তি। প্রকাশিত সংবাদে রেদওয়ান রনি একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কোথাও উল্লেখ করা হয়নি। এখানে নির্মাতা রনির ব্যক্তিগত প্রেম-সম্পর্ক নিয়ে তথ্য দেওয়া হয়েছে; যার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের কোনো সম্পর্ক নেই। আর মো. ইয়াসিফ আকবর নামে যে ব্যক্তি নিজেকে রেদওয়ান রনির কনট্যাক্ট পার্সন হিসেবে দাবি করেছেন। কিন্তু এ-সংক্রান্ত তথ্য আমাদের জানা নেই।
তৃতীয়ত, জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মানের সঙ্গে কথা বলে তার বক্তব্য হুবহু প্রকাশ করা হয়েছে; যার কল রেকর্ড প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। এ ছাড়া প্রতিবেদনে আরেকজন নারীর নাম প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়েছে সেই নতুন প্রেমিকা রেদওয়ান রনির ‘প্রায় অপরিচিত’। একটি অনুষ্ঠানে তাদের দেখা ও কথা হয়েছে। যেহেতু দেখা ও কথা হয়েছে তাহলে কীভাবে একজন ‘প্রায় অপরিচিত’ হন?