ঢাকা ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
শিকলবাহায় হত‍্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মরদেহ নিয়ে মহাসড়কে বিক্ষোভ অ্যালামনাই প্ল্যাটফর্ম ০২০৪ ব্যাচের বন্ধুদের ঈদ পরবর্তী পুনর্মিলনী মায়ানমারে পাচারকালে দেড় হাজার বস্তা সিমেন্ট আটক ৫২ মরুভূমিতে বিকল ট্রাক, পানির অভাবে ৪৯ জনের মৃত্যু মেধা ও ক্রীড়াবান্ধব জাতি গঠনে সরকার বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ভক্তদের শোডাউন সরকারকে ৭ দিনের আলটিমেটাম ইনকিলাব মঞ্চের প্রথমবার এআই তৈরি করল ‘সুপার-ভ্যাকসিন’ হাদি হত্যা মামলার বাদীকে নিয়ে বোনের প্রশ্ন? জয়পুরহাট সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির টহল জোরদার রাজনীতি এক ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে: মির্জা ফখরুল হজ শেষে দেশে ফিরলেন ২৯৬৯৪ হাজি নারায়ণগঞ্জে ১৭ বন্যপাখি উদ্ধার ও অবমুক্ত হান্নানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির তথ্য ফাঁস, ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ নায়িকা মিমির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট, শেষ দেখে নেওয়ার হুমকি! দোয়া গুরুত্বপূর্ণ এক ইবাদত সংসদ ভবন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র বহনসহ মিছিল-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা কটাক্ষের শিকার আনুশকা কলকাতার মেয়র পদ ছাড়লেন ফিরহাদ হাকিম চট্টগ্রামে কাফনের কাপড় পরে যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল হরোস্কোপের গোলকধাঁধায় ভবিষ্যৎ ভাবনা বিয়ে করলেন উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের মানসিকতা সরকারের নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী দিনে দিনেই ঘুরে আসুন মৈনট ঘাট থেকে পাবনায় ২০০ একর জমির ওপর বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী সবার সহযোগিতায় বাসডুবিতে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি: নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী নতুনধারার ‘কেমন বাজেট চাই’ শীর্ষক গোলটেবিল লক্ষ্মীপুরে হাসপাতালে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরকে বলাৎকার, ওয়ার্ডবয় আটক
Nagad desktop

প্রথম ধাপের থেরাপি শেষে যেমন আছেন ইলিয়াস কাঞ্চন

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৫, ০১:৪২ পিএম
প্রথম ধাপের থেরাপি শেষে যেমন আছেন ইলিয়াস কাঞ্চন
ইলিয়াস কাঞ্চন। ছবি: সংগৃহীত

বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন। ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এই অভিনেতার পরিবার জানিয়েছে, প্রথম ধাপের কেমোথেরাপি সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। ইলিয়াস কাঞ্চন লন্ডনে তার মেয়ে ইসরাত জাহানের বাসায় অবস্থান করছেন। 

ইলিয়াস কাঞ্চনের জামাতা আরিফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আপাতত শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। চিকিৎসকরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন তাকে। ছয় সপ্তাহের রেডিওথেরাপি শেষ হয়েছে, এখন চার সপ্তাহ চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে থাকতে হবে।’ 

ডিসেম্বরের শেষ দিকে চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলেও জানান তিনি। এই নায়কের সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তার মেয়ে ও জামাতা। 

উল্লেখ্য, গত ২৬ এপ্রিল অসুস্থ হয়ে পড়লে ইলিয়াস কাঞ্চনকে লন্ডনের হারলি স্ট্রিট ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। পরে ৫ আগস্ট লন্ডনের উইলিংটন হাসপাতালে তার মাথায় অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। 

/এমএস 

নায়িকা মিমির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট, শেষ দেখে নেওয়ার হুমকি!

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম
নায়িকা মিমির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট, শেষ দেখে নেওয়ার হুমকি!
ছবি: সংগৃহীত

কলকাতার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা মিমি চক্রবর্তী। এবার তিনি আইনি জটিলতায় পড়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁর একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মিমি চক্রবর্তী ও আয়োজক তনয় শাস্ত্রীর মধ্যে শুরু হওয়া আইনি বিরোধ আবারও নতুন মোড় নিয়েছে। অভিযোগকারী তনয় শাস্ত্রীর আবেদনের ভিত্তিতে বনগাঁ আদালতে মিমির বিরুদ্ধে চার্জশিট গঠিত হয়েছে। 
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২ জুন বনগাঁ আদালতে চার্জশিট গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। অভিযোগ, এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন না মিমি চক্রবর্তী। তার পরিবর্তে আদালতে হাজির হন তার আইনজীবী।
বিষয়টি নিয়ে তনয় শাস্ত্রী বলেন, ‘একদিনও মিমি চক্রবর্তী আদালতে আসেননি।
গত ২ জুন মিমির পরিবর্তে আদালতে এসেছিলেন তার আইনজীবী। তিনি একের পর এক তারিখ নিয়ে যাচ্ছেন আদালতের কাছ থেকে। এভাবেই তিনি গোটা ব্যাপারটা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। অবশেষে আমার আইনজীবী ও বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি চার্জশিট গঠনের আবেদন করেন আদালতে।’
তনয়ের অভিযোগ, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কারণে তাকে জেলেও যেতে হয়েছে। তাই তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।অ
তিনি বলেন, ‘মিমি অন্যায় করেছেন তার শাস্তি পেতেই হবে। আদালতে হাজিরা দিতেই হবে ওকে। আমিও এর শেষ দেখে ছাড়ব। উনি অপরাধ করেছেন। বিনা অপরাধে আমাকে জেলে পাঠিয়েছেন। এর জন্য ওকে শাস্তি ভোগ করতেই হবে।’
উল্লেখ্য, ঘটনার সূত্রপাত বনগাঁর একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে। আয়োজকদের দাবি, নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে অনুষ্ঠানে পৌঁছান মিমি চক্রবর্তী। তনয় শাস্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠান পরিচালনার অনুমতি ছিল রাত ১২টা পর্যন্ত। সময় শেষ হয়ে আসায় তিনি অভিনেত্রীকে মঞ্চ থেকে নামতে অনুরোধ করেছিলেন। তনয় দাবি করেছেন, তিনি কোনো অসম্মানজনক আচরণ করেননি। তবে অনুষ্ঠান শেষে মিমি স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করলে সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তনয়কে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে জামিনে মুক্ত হয়ে মিমির বিরুদ্ধে বনগাঁ আদালতে দুটি মামলা করেন তনয় শাস্ত্রী। মামলাগুলোর একটি মানহানি এবং অন্যটি মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি চুক্তিভঙ্গের অভিযোগও তোলা হয়েছে। অনুষ্ঠানের জন্য অগ্রিম দেওয়া ২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ফেরত চেয়েছেন তনয়।

কটাক্ষের শিকার আনুশকা

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম
কটাক্ষের শিকার আনুশকা
ছবি: সংগৃহীত

আবারও বিতর্কে জড়ালেন বলিউড অভিনেত্রী আনুশকা শর্মা। এবার হোমিওপ্যাথি নিয়ে একটি মন্তব্য করে বিপাকে পড়েছেন অভিনেত্রী। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক রাজন শঙ্করন এবং শিল্পোদ্যোগী নমিতা থাপারের কথোপকথনের ভিডিও শেয়ার করে আনুশকা জানান, হোমিওপ্যাথি এবং রাজন শঙ্করনের পরামর্শ তাকেও স্বাস্থ্যের দিক থেকে সাহায্য করেছে।
আনুশকা লিখেছেন, ‘হোমিওপ্যাথি আমার জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং চিকিৎসক রাজন শঙ্করনেরও বড় ভূমিকা আছে। স্বাস্থ্যসচেতন জীবনযাপন সম্পর্কে তার ভাবনাকে আমি মূল্য দিই।’
আনুশকার শেয়ার করা ভিডিওতে আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় হোমিওপ্যাথির ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়। প্রতিটি চিকিৎসাপদ্ধতির সহাবস্থানের কথাও বলা হয় সেই ভিডিওতে। 
ভিডিওটিতে রাজন বলেন, ‘হোমিওপ্যাথি আসলে রোগের চিকিৎসা করে না, মানুষের চিকিৎসা করে। মানুষকে সুস্থ করার মাধ্যমে তার রোগও সেরে ওঠে। হোমিওপ্যাথি সবার চিকিৎসা করতে পারে।’
আনুশকা এই ভিডিও শেয়ার করতেই তাকে এক হেপাটোলজিস্ট কটাক্ষ করেন। তিনি সমাজমাধ্যমে ‘দ্য লিভার ডক’ নামে পরিচিত। আনুশকা, নমিতা থাপার ও রাজনকে ‘অশিক্ষিত তারকা’ বলেও আক্রমণ করেন তিনি। 
একটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘‘হোমিওপ্যাথি হলো জল, অ্যালকোহল এবং চিনি দিয়ে তৈরি ‘ওষুধ’। দাম দিয়ে চিনির বড়ি কেনা ছাড়া আর কিছু নয়।’’
তবে এই কটাক্ষ নিয়ে আর মুখ খোলেননি আনুশকা। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তর্ক শুরু হয়েছে।

বিয়ে করলেন উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৬:৫৩ পিএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০৭:১২ পিএম
বিয়ে করলেন উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী
ছবি: সংগৃহীত

বিয়ে করেছেন আলোচিত উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী। শুক্রবার (৫ জুন) রাজধানীর বাংলামোটরের একটি রেস্তোরাঁয় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। দীপ্তির স্বামী মুশতাক ইবনে আইয়ুব। তিনি পেশায় একজন শিক্ষক ও গবেষক। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনকোলজি বিষয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন তিনি। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগে অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর হিসেবে কর্মরত রয়েছেন তিনি।
বিয়ের খবরটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে দীপ্তি চৌধুরী বলেন, ‘আজকে আমাদের আকদ হয়েছে। ধুমধাম আয়োজনে বিবাহোত্তর সংবর্ধনায় সবাইকে আমন্ত্রণ জানাব। সবার কাছে দোয়া কামনা করছি।’
সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও দর্শকরা নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানিয়েছেন।

কন্যাসন্তানের বাবা-মা হলেন শাকিব ও বুবলী

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম
কন্যাসন্তানের বাবা-মা হলেন শাকিব ও বুবলী
ছবি: সংগৃহীত

এবার কন্যাসন্তানের বাবা-মা হলেন শাকিব খান ও চিত্রনায়িকা শবনম বুবলী। ৫ জুন শুক্রবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে খবরটি জানিয়েছেন বুবলী নিজেই। শাকিব খান ও বুবলীর ঘর আলোকিত করে আসা কন্যাসন্তানের নাম রেখেছেন শার্লিন খান।
এক ফেসবুক পোস্টে বুবলী লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আমাদের পরিবারে একটি কন্যাসন্তানের আগমন হয়েছে। এই আনন্দের মুহূর্তে যারা আমাদের জন্য দোয়া করেছেন এবং শুভকামনা জানিয়েছেন, তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আমাদের মেয়ের জন্য সবার দোয়া কামনা করছি।’
এই ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বুবলীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন ভক্ত-অনুরাগীরা। প্রায় একমাস পর কন্যাসন্তানের জন্মের কথা জানালেন এই নায়িকা। 
উল্লেখ্য, শবনম বুবলী ২০১৮ সালের ২০ জুলাই শাকিব খানকে বিয়ে করেন। এরপর ২০২০ সালের ২১ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করে শাকিব ও বুবলীর একমাত্র ছেলে শেহজাদ খান বীর।

৫ জুন পপ গুরু আজম খানের মৃত্যুবার্ষিকী

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম
৫ জুন পপ গুরু আজম খানের মৃত্যুবার্ষিকী

শুক্রবার (৫ জুন) দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদক-এ ভূষিত কিংবদন্তি বীর মুক্তিযোদ্ধা, বাংলা ব্যান্ড সংগীতের পথিকৃৎ, ব্যান্ড সংগীত আন্দোলনের অন্যতম প্রধান পুরোধা এবং রক অ্যান্ড পপ গুরু আজম খানের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী।

বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাসে যে কয়েকজন শিল্পীর নাম চিরকাল শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং গৌরবের সঙ্গে উচ্চারিত হবে, তাঁদের মধ্যে সর্বাগ্রে রয়েছেন রক অ্যান্ড পপ গুরু আজম খান। তিনি শুধু একজন শিল্পী ছিলেন না; তিনি ছিলেন একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলনের প্রতীক, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের তরুণ সমাজের কণ্ঠস্বর এবং বাংলা ব্যান্ড সংগীতের অন্যতম প্রধান স্থপতি।

১৯৫০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার আজিমপুরে জন্মগ্রহণ করেন আজম খান। কৈশোর থেকেই খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং সংগীতচর্চার প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল প্রবল। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি অস্ত্র হাতে দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তিনি ২ নম্বর সেক্টরের একজন সম্মুখসমরের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেশের স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

স্বাধীনতার পর যুদ্ধের রণাঙ্গন থেকে ফিরে এসে তিনি হাতে তুলে নেন গিটার। নতুন স্বাধীন বাংলাদেশের তরুণদের জন্য নতুন ভাষা, নতুন সুর এবং নতুন সাংস্কৃতিক চেতনার সূচনা করেন তিনি। সত্তরের দশকের শুরুতে ‘ক্রান্তি শিল্পী গোষ্ঠী’-তে গান পরিবেশনের মাধ্যমে তাঁর সংগীতযাত্রা শুরু হয়। 

পরবর্তীতে তিনি গঠন করেন কিংবদন্তি ব্যান্ড ‘উচ্চারণ’, যা বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করে।

যে সময়ে ব্যান্ড সংগীতকে অনেকেই ‘অপসংস্কৃতি’ বলে আখ্যায়িত করতেন, সেই সময় আজম খান এবং উচ্চারণ সাহসিকতার সঙ্গে বাংলা ভাষায় রক, পপ এবং ফোক উপাদানের সমন্বয়ে নতুন ধারার সংগীত পরিবেশন করেন। তাঁদের পরিবেশনা শুধু জনপ্রিয়তাই পায়নি, বরং বাংলা ব্যান্ড সংগীতকে জাতীয় সংস্কৃতির মূলধারায় প্রতিষ্ঠিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

উচ্চারণ এবং আজম খানের জনপ্রিয় গানের তালিকায় রয়েছে— হৃদয় সাগর মরুভূমি, বাংলাদেশ, মা গো মা, সালেকা মালেকা, আলাল ও দুলাল, প্রেম চিরদিন দূরে দূরে, অভিমানী, পাপড়ি, জীবন সাথী, চুপ চুপ চুপ, হায় আল্লাহ, আসি আসি, জীবনে কিছু পাবো না প্রভৃতি। এই গানগুলোর অনেকগুলোই আজ বাংলা ব্যান্ড সংগীতের ক্লাসিক হিসেবে বিবেচিত হয় এবং নতুন প্রজন্মের কাছেও সমানভাবে জনপ্রিয়।

বাংলাদেশে ব্যান্ড সংগীতকে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে আজম খানের অবদান ছিল অসামান্য। তিনি এমন এক সময়ে ব্যান্ড সংগীতকে জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন, যখন এ ধারার সংগীতকে অনেকেই সন্দেহের চোখে দেখতেন। তাঁর সাহসী পদক্ষেপ, ভিন্নধর্মী সংগীতচিন্তা এবং সাধারণ মানুষের ভাষায় কথা বলা গানগুলো তরুণ সমাজকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। তাঁর হাত ধরেই পরবর্তী সময়ে দেশের অসংখ্য ব্যান্ড গড়ে ওঠে এবং বাংলা ব্যান্ড সংগীত আজকের মর্যাদায় পৌঁছায়।

সংগীতজীবনে তিনি দেশ-বিদেশে অসংখ্য সম্মাননা লাভ করেন। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে কিংবদন্তি ব্যান্ড সোলস-এর ২০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে তাঁকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে চ্যানেলে আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড-এ তাঁকে আজীবন সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।

বাংলাদেশ সরকার তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মরণোত্তরভাবে দেশের সর্বোচ্চ দুই রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদান করে— একুশে পদক (২০১৯) এবং স্বাধীনতা পদক (২০২৫)।

তবে আজম খান নিজে পুরস্কার ও সম্মাননার চেয়ে মানুষের ভালোবাসাকেই বেশি মূল্য দিতেন। তিনি প্রায়ই বলতেন— “আমার সবচেয়ে বড় পুরস্কার আমার গানের প্রতি মানুষের ভালোবাসা।”

দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করার পর ২০১১ সালের ৫ জুন তিনি মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু তাঁর মৃত্যু কেবল শারীরিক প্রস্থান; তাঁর গান, দর্শন, সংগ্রাম এবং সাংস্কৃতিক আন্দোলন আজও বেঁচে আছে লাখো মানুষের হৃদয়ে।

উচ্চারণ ব্যান্ডের বিভিন্ন সময়ের লাইন-আপ 

১৯৭২ সালে উচ্চারণের প্রথম লাইন-আপে লিড ভোকালে ছিলেন আজম খান, লিড গিটারে ইশতিয়াক রহমান, বেজ গিটারে ল্যারি, রিদম গিটারে নীলু, ড্রামসে ইদু, কঙ্গায় হাবলু এবং সাইড ভোকালে ছিলেন বাবু। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে ব্যান্ড সংগীতের প্রথম দিককার পরীক্ষামূলক ও সাহসী যাত্রাগুলোর অন্যতম ছিল এই লাইন-আপ।
১৯৭৬ সালে উচ্চারণ পুনর্গঠিত হলে আজম খানের সঙ্গে যুক্ত হন লিড গিটারিস্ট নয়ন হক মুন্সী, রিদম গিটার ও সাইড ভোকালে দুলাল জোহা, বেজ গিটারে ফুয়াদ নাসের, কঙ্গায় কাজল এবং ড্রামসে পেয়ারু খান। এই লাইন-আপের সময়েই ‘আলাল ও দুলাল’-এর মতো গান ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং উচ্চারণ দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যান্ডে পরিণত হয়।

উচ্চারণ ব্যান্ডের বর্তমান সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত

আশির দশকে উচ্চারণের সংগীতায়োজনে নতুন মাত্রা যোগ করেন রকেট। এ সময় আজম খানের সঙ্গে লিড গিটারে রকেট, বেজ গিটারে মাসুম হায়দার, রিদম গিটার ও সাইড ভোকালে দুলাল জোহা এবং ড্রামসে বাবু নিয়মিত পারফর্ম করতেন। ‘অভিমানী’, ‘জীবন সাথী’ এবং ‘পাপড়ি’র মতো জনপ্রিয় গান এই সময়ে ব্যাপক শ্রোতাপ্রিয়তা অর্জন করে।
নব্বইয়ের দশক থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত আজম খানের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে প্রায় অর্ধশতাধিক সংগীতশিল্পী কাজ করেছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন রেবেল (ভোকাল), ইফরান (লিড গিটার), জুবরান (বেজ গিটার), তপু (ড্রামস) এবং আরও অনেক প্রতিভাবান সংগীতশিল্পী, যারা বিভিন্ন সময়ে উচ্চারণের মঞ্চ ও রেকর্ডিং কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন।

উচ্চারণ ব্যান্ডের পুনর্গঠন ও বর্তমান কার্যক্রম

আজম খানের পরিবারের প্রত্যক্ষ সমর্থনে এবং তাঁর সৃজনকর্মের কপিরাইট ও রয়্যালটি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান কুল এক্সপোজার-এর উদ্যোগে, চ্যানেল আই ও ইমপ্রেস টেলিফিল্মের সহযোগিতায় কিংবদন্তি ব্যান্ড উচ্চারণ নতুনভাবে পুনর্গঠিত হয়ে আবারও নিয়মিত কার্যক্রম শুরু করেছে।

বর্তমানে উচ্চারণ ব্যান্ডের লাইন-আপে রয়েছেন দুলাল জোহা (ভোকাল ও রিদম গিটার), পেয়ারু খান (ভোকাল ও পারকাশন), সেকান্দার আহমেদ খোকা (বেজ গিটার), পার্থ মজুমদার (লিড গিটার), প্রেম (সাইড ভোকাল ও কিবোর্ড) এবং বাপ্পি (ড্রামস)।

ইতোমধ্যে উচ্চারণ অংশগ্রহণ করেছে টিএমএমএস-চ্যানেলে আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড, চ্যানেল আই মিউজিক ফেস্ট, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রবীন্দ্র সরোবরে অনুষ্ঠিত কনসার্ট, বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠান এবং দেশের নানা সাংস্কৃতিক আয়োজনে। তাদের পরিবেশনা দেশ-বিদেশের অসংখ্য দর্শক-শ্রোতার প্রশংসা অর্জন করেছে।

/এসএল