পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় বিশ্ব কবিতা দিবসে কৃষ্ণপুর নজরুল চর্চা কেন্দ্র এবং কথাশিল্প আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্র যৌথভাবে ‘শুধু কবিতার জন্য’ শিরোনামে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
শনিবার (২১ মার্চ) মহাবোধি সোসাইটি হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানটির সহযোগিতায় ছিল নজরুল গবেষণাকেন্দ্র ছায়ানট (কলকাতা)।
অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনা ও পরিচালনায় ছিলেন নজরুল সঙ্গীতশিল্পী ও গবেষক সোমঋতা মল্লিক এবং বাচিকশিল্পী পীতম ভট্টাচার্য।
তিন ঘণ্টাব্যাপী এই অনুষ্ঠানে একক এবং দলীয়ভাবে প্রায় ৬০ জন বাচিকশিল্পী অংশ নেন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, জীবনানন্দ দাশের কবিতা দিয়ে শুরু করে বর্তমান সময়ের স্বনামধন্য কবিদের কবিতা তাদের কণ্ঠে পরিবেশিত হয়।
অনুষ্ঠানে স্বরচিত কবিতাও পাঠ করা হয়।
বিশ্ব কবিতা দিবসে বিশিষ্ট বাচিকশিল্পী সতীনাথ মুখোপাধ্যায় এবং তরুণ প্রতিভাবান কবি তন্ময় মণ্ডলকে বিশেষ সম্মান দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে শিশুশিল্পীদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।
অনুষ্ঠানে একক কবিতায় অংশ নেন- উৎপল চৌধুরী, সুরজিৎ সেন, রাজশ্রী বসু, শিউলি ভট্টাচার্য, রুনা মুখার্জী, শর্মিষ্ঠা রায়, মিতালী মুখার্জী, সায়ন্তনী বসু, অর্পিতা জানা সাহু, সোমা রায়, অন্বেষা মুখার্জী, মৃন্ময়ী দে মুখার্জী, মনীষা রায়, শিখা বসাক, গুঞ্জন দাস, তৃপ্তি ভট্টাচার্য, ইতি সরকার, পিয়ালী চক্রবর্তী রায়, কানন দাস রায়, মিতালী ভট্টাচার্য্য, সহেলী মন্ডল, সুস্মিতা সাহু, শিপ্রা কুমার।
দলীয় পরিবেশনায় অংশ নেন- রুমা চ্যাটার্জীর পরিচালনায় ছন্দ বদ্ধ ও পুষ্পিতা মিত্রর পরিচালনায় অন্য স্বপ্ন-এর শিল্পীরা।
অমর কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রুতি নাট্যরূপ ‘দেবদাস’ পরিবেশিত হয়। এতে অংশ নেন তন্ময় দে বিশ্বাস ও কাকলি ব্রহ্মচারী।
কবিতাকে ভালোবেসে তাদের জয়যাত্রা অব্যাহত থাকুক। সাহিত্যের প্রয়োজনে কবিতার চুলচেরা বিশ্লেষণ যেমন প্রয়োজন, ঠিক তেমনই কবিতার প্রতি মানুষের সাবলীল ভালবাসাও কবিতাকে জনমানসে বহুদিন জনপ্রিয় করে রাখে।
এ প্রসঙ্গে চেতনার কবি নজরুল চমৎকারভাবে বলেছিলেন - ‘একটি কবিতা নিয়ে চুলচেরা বিচার করলে - লেবু কচলে তেতো করানোই হয়; চুপে চুপে রসপান করে যেতে থাকেন। এই যে পান-করা শক্তি, এই যে রসলোকের তৃষ্ণা এ আসে না খ্যাতিতে।’
এভাবেই কবিতাপ্রেমীরা কবিতাকে ভালোবাসুন, তার রস আস্বাদন করুন - বিশ্ব কবিতা দিবসে এই হোক আমাদের ব্রত।
অনুষ্ঠানে দর্শকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
অমিয়/