দেশের বিভিন্ন স্থানে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর (আইএসপি) কার্যালয়ে সন্ত্রাসী হামলা, ভাঙচুর, চাঁদাবাজি ও নেটওয়ার্ক দখলের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি)। একই সঙ্গে এসব ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
রবিবার (১৪ জুন) রাজধানীর বনানীতে আইএসপিএবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত ৯ জুন দিবাগত রাতে ঢাকার মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়ায় অবস্থিত ‘ডট ইন্টারনেট’-এর প্রধান কার্যালয়সহ রাজধানীর বাড্ডা, চাঁদপুর সদর, কুমিল্লার দেবিদ্বার, গাজীপুর ও বগুড়ায় ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে একযোগে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়।
আইএসপিএবি নেতারা বলেন, এই হামলা শুধু নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের ওপর আক্রমণ নয়, বরং দেশের তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো ও ডিজিটাল অর্থনীতির ওপর সরাসরি আঘাত।
হামলার বিবরণ দিয়ে সংগঠনটি জানায়, একদল সন্ত্রাসী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যালয়ে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এতে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ও অবকাঠামোর মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হয়েছেন।
কোটি কোটি গ্রাহকের কাছে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিতে আইএসপি খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে উল্লেখ করে নেতারা বলেন, এ ধরনের ঘটনা ডিজিটাল নিরাপত্তা, বিনিয়োগের পরিবেশ এবং সেবার ধারাবাহিকতা নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ৬টি দাবি জানানো হয়:
* হামলায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা।
* অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
* তথ্যপ্রযুক্তি ও ইন্টারনেট অবকাঠামোকে ‘গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ’ বিবেচনা করে নিরাপত্তা জোরদার করা।
* ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।
* ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের নিরাপদ কার্যক্রম নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া।
* আইএসপি প্রতিষ্ঠানগুলোতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় থানাকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া।
নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দেশের ডিজিটাল রূপান্তর ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির এই সময়ে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি অন্যথায় এই খাতে বিনিয়োগ ও সেবা—উভয় ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
আইএসপিএবি আশা প্রকাশ করেছে, সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করবে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আইএসপিএবি সভাপতি মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম, মহাসচিব নাজমুল করিম ভূঁঞা, সহ-সভাপতি নেয়ামুল হক খান, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব আলম রাজু, যুগ্ম মহাসচিব ফুয়াদ মোহম্মদ শরফুদ্দিন এবং কোষাধ্যক্ষ মইন উদ্দিন আহমেদসহ সংগঠনের পরিচালকরা।
জয়ন্ত সাহা/আমান