পাঁচ মাস বন্ধ থাকার পর রবিবার (২০ অক্টোবর) থেকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এতে করে যেন নতুনভাবে প্রাণ ফিরে পেল শাবিপ্রবি ক্যাম্পাস।
দীর্ঘদিন পর ক্যাম্পাস খোলায় ক্লাসে অংশ নিতে পেরে আনন্দিত শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সৌরভ কুমার উকিল বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর ক্লাসে ফিরতে পেরে অনেক ভালো লাগছে। এত দিন বন্ধ থাকার ফলে লেখাপড়া থেকে যে বিমুখতা তৈরি হয়েছে, আশা করি সেটা থেকে এখন পরিত্রাণ পাব।’
ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ওয়াকিল বলেন, ‘বন্ধের আগে পরীক্ষা শুরু হলেও কিছু পরীক্ষা বাকি ছিল। আমরা প্রায় এক সিমেস্টার সেশনজটে পড়ে গিয়েছি। এখান থেকে উত্তরণ করাটা অনেক সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করব দ্রুত সেশনজট দূর করতে যেন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’
দীর্ঘদিন পর ক্যাম্পাস খোলায় এবং দেশের বর্তমান পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেসুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে সব নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তার ব্যাপারে আলোচনা করেছি। তাদের আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন ক্যাম্পাসের শৃঙ্খলা বজায় থাকে।’
শাবিপ্রবিতে মব ভায়লেন্সের আশঙ্কা আছে কি না জানতে চাইলে প্রক্টর বলেন, ‘আমি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ক্যাম্পাসে এমন কিছু হতে দেব না। এরকম কিছু করার আগে তাদের আগে আমার মুখোমুখি হতে হবে। আর যদি কোনো শিক্ষার্থী ক্লাস বা পরীক্ষায় অংশ নিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে, তারা যেন আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। সিলেটের যেকোনো জায়গা থেকে নিরাপত্তার সঙ্গে তাদের ক্যাম্পাসে এনে ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।’
গত ২৬ মে গ্রীষ্মকালীন ছুটি ও পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার পর ২৩ জুন বিশ্ববিদ্যালয় খোলার কথা থাকলেও বন্যার কারণে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তারপর ৩০ জুনের আগ পর্যন্ত কয়েকটি বিভাগে পরীক্ষা নিলেও আবার ১ জুলাই থেকে সর্বজনীন পেনশন-সংক্রান্ত বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রস্তাবিত সুপারগ্রেডে অন্তর্ভুক্তকরণ এবং স্বতন্ত্র বেতন স্কেলের দাবিতে সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে যান শিক্ষকরা। তারপর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফলে ক্লাস-পরীক্ষা আর চালু হয়নি।