ঢাকা ৭ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে নামার আগে ব্রাজিল শিবিরে দুঃসংবাদ শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চে আইভরি কোস্টকে হারাল জার্মানি বিশ্বকাপ জয়ে যে দলকে এগিয়ে রাখলেন ইব্রাহিমোভিচ দুই গোল বাতিল, প্রথমার্ধে পিছিয়ে জার্মানি আইভরি কোস্টের মুখোমুখি জার্মানি, দেখুন একাদশ জোড়া রেকর্ডের সামনে মেসি সুইডেনকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিল নেদারল্যান্ডস দ্বিতীয় ম্যাচের আগে ইংল্যান্ড শিবিরে ধাক্কা বিশ্ব বাবা দিবস আজ ধর্ষণের অভিযোগে ইমামকে গণপিটুনি, পরে পুলিশে হস্তান্তর ব্রায়ান ব্রোবির জোড়া গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে নেদারল্যান্ডস অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে নামার আগে আর্জেন্টিনা শিবিরে দুঃসংবাদ এক দিনে দ্রুততম দুই গোল নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: পাকিস্তানকে ২৩ রানে হারাল বাংলাদেশ উল্লাসের পরদিন ৪০ টন স্মৃতি ছুটিতে গ্রামে গিয়ে ডাকাত হামলায় আহত এসিল্যান্ডসহ ৬ জন মেসির ফাউল: ফিফায় আলজেরিয়ার নালিশ ঈশ্বরগঞ্জে আ.লীগের সাবেক এমপির ফ্যাক্টরিতে লুটপাট ১১ মামলার আসামি বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা বুলবুল আটক বম সম্প্রদায়ের এক অসুস্থ নারীকে হেলিকপ্টারযোগে উদ্ধার করল সেনাবাহিনী উত্তরায় ভূমি গ্যালারিতে চিত্রপ্রদর্শনী দেখে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত রোনালদো-মেসিদের মতো খেলো, অলিম্পিকে ভালো ফল চাই: প্রধানমন্ত্রী ইরানের সঙ্গে চুক্তি করতে গোপনে মরিয়া ছিলেন ট্রাম্প প্রয়োজন হলে প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরেও যাবেন: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে যুক্তরাজ্যকে নেতৃত্বের ভূমিকা অব্যাহত রাখার আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অসাধারণ কৃতিত্ব: ৮ মাসে কোরআন হিফজ, সংবর্ধিত আল-আমীন ব্রাজিল ম্যাচ জেতায় মাথা ন্যাড়া করলেন আর্জেন্টিনার সমর্থক ফরিদপুরে ‘গে গ্রুপ’ ইস্যুতে ৩ জন আটক জামায়াত গণতন্ত্র বিশ্বাস করে না: মির্জা ফখরুল ব্যস্ত জীবন, ভার্চুয়াল বিনোদন: আমরা এখন কোন পথে?

সিলেটের মাজারে দানের টাকার ‘বেহিসেবী’ ঘোচাতে চান ডিসি সারওয়ার

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১২:০৫ এএম
সিলেটের মাজারে দানের টাকার ‘বেহিসেবী’ ঘোচাতে চান ডিসি সারওয়ার
হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। ছবি: খবরের কাগজ

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরােনর (রহ.) মাজারে প্রায় ৭০০ বছরের অধিকাল থেকে দানের টাকা অনেকটা হিসেব ছাড়া খরচ হচ্ছে। এই ‘বেহিসেবী’ ঘোচাতে চান সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলম।

 তিনি জানিয়েছেন, মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসেবে স্বচ্ছতা আনতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) জুমার নামাজের আগে দুটো মাজার পরিদর্শন করে দানের টাকার বিষয়ে সরেজমিন খোঁজ খবর নিয়েছেন ডিসি মো. সারওয়ার আলম। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘মাজারগুলোর আয়-ব্যয়ের মধ্যে কোনো সচ্ছতা নেই। ওদের কাছে কোনো হিসাব নেই। আগামী এক মাস জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে ওয়াক্ফ এস্টেট এবং মাজার কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে হিসাব সংরক্ষণ করবে। এই সময়ের মধ্যে আয়-ব্যয়ের সঠিক চিত্র, দানের উৎস, ব্যয়ের খাত এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হবে।’

জানা গেছে, দুটো মাজারে প্রতিদিন দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসেন ভক্তরা। কেউ প্রার্থনা নিয়ে, কেউ মানত নিয়ে। সেই সঙ্গে দান করেন অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার, গবাদিপশু ও নানা মূল্যবান সামগ্রী। এসবই মাজারের আয়। আয়-ব্যয়ের হিসেবে স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। তবে এ উদ্যোগে মিশ্র-প্রতিক্রিয়াও দেখা দিয়েছে  মাজারভক্তদের মধ্যে। প্রায় ৭০০ বছরেরও অধিকাল ধরে প্রচলিত ধারায় ব্যহত করতে এমনটি করা হয়েছে কি না, এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধমেও নানা আলোচনা-সমালোচনা ছড়িয়েছে। তারা বলছেন, ‘মাজারে যখন মব হয়, তখন প্রশাসন নীরব থাকে। আর দানের টাকার হিসেব নিতে মাঠে নামছে!’

জানা যায়, সম্প্রতি একটি লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সিলেট সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের সভায় মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অস্পষ্টতার বিষয়টি সামনে আসে। এরপর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সিলেট জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে। দুই মাজারে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ মানত, দান ও নজরানা প্রদান করেন। নগদ অর্থের পাশাপাশি স্বর্ণালঙ্কার, গবাদিপশু, খাদ্যসামগ্রীসহ বিভিন্ন ধরনের দানও জমা পড়ে মাজারে।

স্থানীয়দের মতে, প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার দান আসে এসব মাজারে। কিন্তু সেই দানের টাকা কিভাবে পরিচালিত হয়, কোথায় ব্যয় করা হয় কিংবা কত টাকা আয় হচ্ছে; এসব বিষয়ে কখনোই জনসম্মুখে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয় না। ২০০৩ সালে শাহজালাল (রহ.) মাজারের ঐতিহ্যবাহী গজার মাছের মৃত্যুর ঘটনায় জাতীয়ভাবে আলোচনায় আসে দরগাহ ব্যবস্থাপনার বিষয়টি। সে সময় সংবাদমাধ্যমে মাজারের বিপুল আয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তখন মাজার কর্তৃপক্ষ সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিল, মাজারের দানের অর্থের একটি অংশ বংশানুক্রমিক উত্তরাধিকারীদের ব্যয়ে ব্যবহৃত হয় এবং অবশিষ্ট অর্থ মাজারের রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন কাজে ব্যয় করা হয়। কিন্তু সেই ব্যয়ের কোনো সুসংগঠিত ও জনসম্মুখে উপস্থাপিত হিসাব কখনো দেখা যায়নি। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন ও কৌতূহল রয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, শুক্রবার জেলা প্রশাসকের পরিদর্শনের বিষয়টি নির্ধারিত হয় গত বুধবার অনুষ্ঠিত একটি সভায়। জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সিলেট সিটি করপোরেশন, ওয়াক্ফ এস্টেট, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, মাজার ও মাদরাসা পরিচালনা কমিটির প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা অংশ নেন। সভায় মাজার দুটির বর্তমান আয়-ব্যয়, দান-অনুদান, প্রশাসনিক কাঠামো, সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভা সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন কমিটির পক্ষ থেকে সুসংগঠিত আর্থিক রেকর্ড ও নির্ভরযোগ্য হিসাবপত্র উপস্থাপনের ক্ষেত্রে ঘাটতির বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাজার কর্তৃপক্ষের কাছে হিসাবপত্র চাওয়া হলে তাৎক্ষণিকভাবে পূর্ণাঙ্গ হিসাব উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি বলেও জানা গেছে। সভায় বক্তারা বলেন, শাহজালাল ও শাহপরান (রহ.)-এর মাজারে শুধু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নয়, এটি সিলেটবাসীর ঐতিহ্য, ইতিহাস ও গৌরবের অংশ। তাই এর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। মাজার কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; বরং এটি সমগ্র সিলেটবাসীর সম্পদ। ফলে আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়মিতভাবে সংরক্ষণ, প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে পরিচালনা করা জরুরি। সভায় অংশগ্রহণকারীরা মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসাব ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ, নির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় পরিচালনা এবং নিয়মিত অডিটের বিষয়েও মতামত দেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন সিলেট মহানগর ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা হাবীব আহমদ শিহাব। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘মাজারের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। এতে ভক্তদের আস্থা আরও বাড়বে এবং দানের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’

এদিকে, জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগে কিছুটা বিস্মিত হয়েছেন মাজার কর্তৃপক্ষ। হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের মোতোয়াল্লি ফতেহ উল্লাহ আল আমান বলেন, ‘প্রশাসন কেন হঠাৎ করে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সে বিষয়ে তারা স্পষ্ট ধারণা পাননি। সভায় অংশগ্রহণের জন্যও পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি। আমাদের কথাও শুনতে রাজি হননি জেলা প্রশাসক। আমরা এটা কিভাবে পেলাম এটাও শোনতে রাজি নন। আমাদের একটা কোর্টের রায় আছে। একটা মামলাও চলমান আছে। কিন্তু তিনি আমাদেরকে কথা বলারও সুযোগ দেননি। আমরা অসহায় হয়ে বসে আছি।’

মাজারে ভক্তদের দান-খয়রাত প্রথা অনুযায়ী ব্যয় হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের হিসাবপত্র রয়েছে, তবে সেগুলো উপস্থাপনের জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সুযোগ পাইনি। তাই কিছু বিষয়ে অসঙ্গতি বা অসম্পূর্ণতা থাকতে পারে। তবে আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।’

ধর্ষণের অভিযোগে ইমামকে গণপিটুনি, পরে পুলিশে হস্তান্তর

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১১:৫৯ পিএম
ধর্ষণের অভিযোগে ইমামকে গণপিটুনি, পরে পুলিশে হস্তান্তর
মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলাম। ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহের ত্রিশালে সাড়ে পাঁচ বছরের শিশু কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলাম (৪৪) নামে মসজিদের এক ইমামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় শনিবার (২০ জুন) রাতে থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা।

গ্রেপ্তার মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলাম টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের বেলুয়া গ্রামর পশ্চিমপাড়া এলাকার মো. মোজাম্মেল হোসেনের ছেলে। তিনি ত্রিশাল উপজেলার ৬ নম্বর ত্রিশাল ইউনিয়নের চিকনা মনোহর এলাকার হাসেন আলী শেখবাড়ী জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব।

ভুক্তভোগী শিশুটি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা। তবে পার্শ্ববর্তী ত্রিশাল উপজেলার একটি গ্রামে পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় বসবাস করত। শিশুর বাবা মাছের একটি প্রজেক্টে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

ভুক্তভোগীর পরিবার ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, মেয়েটি প্রতিদিন চিকনা মনোহর এলাকায় হাসেন আলী শেখবাড়ী জামে মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলামের কাছে পবিত্র কোরআন শিখতে যায়। মেয়ের সঙ্গে ৫ ও ৬ বছরের আরও দুই ছেলে শিশু পবিত্র কোরআন শিখতো। মেয়েটিকে দেরীতে ছুটি দিত ইমাম মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলাম। কিন্তু অপর দুই শিশুকে তাড়াতাড়ি ছুটি দেওয়া হতো। এতে মেয়েটির মায়ের সন্দেহ হলে বিষয়টি নিয়ে স্বামীর সাথে আলোচনা করলে স্বামী তা বিশ্বাস করে না।

প্রতিদিনের মতো শনিবার (২০ জুন) মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলামের কাছে কোরআন শিখতে যায় মেয়েটি। মেয়ে বাড়ীতে আসতে দেরী হওয়ায় মেয়ের মা এদিন বিকেল তিনটায় মসজিদের ভিতরে প্রবেশ করে মেয়ে ও ইমাম মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলামকে উলঙ্গ অবস্থায় দেখতে পায়। মেয়েকে উলঙ্গ অবস্থায় দেখে মেয়ের মায়ের ডাক-চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এসে মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলামকে আটক করে। 

আরও জানা গেছে, মেয়েটির মায়ের ডাক-চিৎকার শুনে এলাকার লোকজন ঘটনাস্থলে এসে উত্তেজিত লোকজন মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলামকে মারধর করে এবং মসজিদের ভিতরে তালাবদ্ধ রেখে থানা পুলিশকে খবর দেয়। থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলামকে হেফাজতে নেয় এবং মেয়েকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মেয়ের বক্তব্য শুনে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ সার্ভিসে পাঠানোর পরামর্শ দেন এবং মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলামকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।

শিশুটির মা বলেন, আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি চাই, যেন ভবিষ্যতে আর কোনো শিশুর সঙ্গে এমন ঘটনা না ঘটে।

ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনসুর আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলামকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। রাতে ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। রাতেই অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিবদ্ধ করে মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাকে ময়মনসিংহ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হবে।

কামরুজ্জামান মিন্টু/এসএন

ছুটিতে গ্রামে গিয়ে ডাকাত হামলায় আহত এসিল্যান্ডসহ ৬ জন

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১১:০৩ পিএম
ছুটিতে গ্রামে গিয়ে ডাকাত হামলায় আহত এসিল্যান্ডসহ ৬ জন
আহত এসিল্যান্ড সাকিব হাছান খাঁন। ছবি: সংগৃহীত

ছুটিতে গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার বেড়াতে এসে সশস্ত্র ডাকাত দলের হামলায় আহত হয়েছেন কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাছান খাঁনসহ অন্তত ছয়জন।

ডাকাত দলটি একটি বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুট শেষে ফেরার পথে  এ হামলা চালায়।

শুক্রবার (১৯ জুন) রাতে উপজেলার হাইজাদী ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনার এখনো কোন মামলা হয়নি। 

পুলিশ জানায়, কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাছান খাঁন ছুটিতে নিজ বাড়ি উপজেলার  ধন্দী গ্রামের  অবস্থান করছিলেন। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে সাকিব হাছান খাঁন মুকুল (৩৮), রাজিব (৩২), রুবেল (৩৬), ফারুক (৩২) ও ডালিয়া (৩৩)-কে গুরুতর আহত করে। আহতদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে ডাকাত দল পালিয়ে যায়।

পরে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ঘটনার বর্ণনায় শনিবার সন্ধ্যায় কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাছান খাঁন খবরের কাগজকে বলেন, রাতে খাবার শেষে পরিবারের সদস্যসহ কয়েকজন বাড়ির পাশের বাজারের দোকানে যাচ্ছিলাম। পথে সশস্ত্র ডাকাত দলের সদস্যরা প্রথম টচ লাইন জ্বালিয়ে আমাদের দেখে। মুহুর্তের মধ্যেই অতর্কিত হামলা চালায়। ডাকাতরা প্রায় ১৪ জনের একটি দল ছিলো। হামলার সময় স্থানীয় লোকজন ছুটে এলে তাদের উপর হামলা শুরু করে। স্থানীয় আরো দুইজন লোক আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে দুই জনের অবস্থা আশংকা জনক বলে জানান তিনি।

এ ঘটনায় মামলা হয়নি জানিয়ে আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কিন্তু এখনো ডাকাতদের  শনাক্ত করা যায়নি। পুলিশ তদন্ত চলমান রেখেছে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এ ঘটনায় পুলিশের পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে বলে জানান আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)আসাদুর রহমান। তিনি বলেন, স্থানীয়দের তথ্য মতে ডাকাতেরা লুটের মালপত্রসহ যাওয়ার পথে সামনে যাকে সামনে পেয়েছে, তাকে কুপিয়ে পালিয়েছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাছান খাঁন গলায় ও বুকে আঘাত পেয়েছেন। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে আড়াইহাজারের বাড়ি ফিরেছেন। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে।

এদিকে হামলার আগে পার্শ্ববর্তী রাইনাদী-আতাদী এলাকার সুমন নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে ডাকাত দলের সদস্যরা অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট করে বলে জানান স্থানীয়রা৷  দুটি ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। তবে স্থানীয়রা দ্রুত ডাকাত চক্রকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

বিল্লাল হোসাইন/এসএন 

বম সম্প্রদায়ের এক অসুস্থ নারীকে হেলিকপ্টারযোগে উদ্ধার করল সেনাবাহিনী

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১০:৩২ পিএম
বম সম্প্রদায়ের এক অসুস্থ নারীকে হেলিকপ্টারযোগে উদ্ধার করল সেনাবাহিনী
ছবি: সংগৃহীত

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের দুর্গম এলাকা থেকে বম সম্প্রদায়ের অসুস্থ এক নারীকে হেলিকপ্টারযোগে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। উদ্ধারের পর তাকে চট্টগ্রামের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।  

আইএসপিআর জানিয়েছে, বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার দুর্গম পার্বত্য এলাকায় বসবাসরত রামকিল বম (৭৪) শনিবার (২০ জুন) আকস্মিকভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত হন। গুরুতর অসুস্থ হয়ে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন দেখা দেয়। পরে খবর পেয়ে মানবিক দায়িত্ববোধ ও জনসেবার অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার ও চিকিৎসা সহায়তার উদ্যোগ গ্রহণ করে। বান্দরবান রিজিয়নের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বৃহস্পতিবার বিকেলে সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ওই নারীকে দুর্গম এলাকা থেকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম সিএমএইচে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আইএসপিআর জানায়,  বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলের সকল সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়ন এবং জরুরি মানবিক সহায়তা প্রদানে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

আলমগীর হোসেন/রিফাত/

অসাধারণ কৃতিত্ব: ৮ মাসে কোরআন হিফজ, সংবর্ধিত আল-আমীন

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:৩২ পিএম
অসাধারণ কৃতিত্ব: ৮ মাসে কোরআন হিফজ, সংবর্ধিত আল-আমীন
ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার এক শিশু মাত্র আট মাসে সম্পূর্ণ পবিত্র কোরআন মজিদ মুখস্থ করে এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

 ১০ বছর বয়সি এই শিশুর নাম আল-আমীন। তিনি উপজেলার সেন্টার বাজারস্থ মারকাযুল হুফফাজ ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, আল-আমীন হাতিয়া উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব বিরবিরি গ্রামের বাসিন্দা ও ওমান প্রবাসী নেছার উদ্দিনের ছেলে। তিন ভাইবোনের মধ্যে সে সবার ছোট। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় মনোযোগী ও মেধাবী হিসেবে পরিচিত ছিল আল-আমীন।

শনিবার (২০ জুন) দুপুরে সেন্টার বাজার মারকাযুল হুফফাজ ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসায় তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত থেকে তার এ অসাধারণ অর্জনের প্রশংসা করেন।

মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হাফেজ মওলানা রফিকুল ইসলাম জানান, ২০২৫ সালে আল-আমীন নাজেরা বিভাগে ভর্তি হয়। পরে হিফজ বিভাগে ভর্তি হয়ে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও অধ্যবসায়ের সঙ্গে কোরআন মুখস্থ করতে থাকে। মাত্র ৮ মাস ৩ দিনের মধ্যেই সে সম্পূর্ণ কোরআন হিফজ সম্পন্ন করে, যা সত্যিই বিস্ময়কর।

তিনি আরও  বলেন, একজন শিক্ষার্থীর কোরআন হিফজ সম্পন্ন করতে সাধারণত দুই থেকে আড়াই বছর সময় লাগে। সেখানে আল-আমীন অল্প সময়ে এ কৃতিত্ব অর্জন করেছে। আমরা তার জন্য দোয়া করি, আল্লাহ তায়ালা যেন তাকে দ্বীনি জ্ঞান ও উত্তম চরিত্রে সমৃদ্ধ করে দেশের একজন যোগ্য আলেম হিসেবে গড়ে তোলেন।

মাদরাসার শিক্ষকরা জানান, আল-আমীন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও একাগ্রচিত্তের শিক্ষার্থী। নিয়মিত অনুশীলন এবং গভীর মনোযোগের কারণেই সে স্বল্প সময়ে এমন সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ইয়াসিন আরাফাত পারভেজ খবরের কাগজকে  বলেন, আল-আমীনকে ছোটবেলা থেকেই চিনি। সে খুবই ভদ্র ও মেধাবী। তার এই অর্জনে আমরা গর্বিত।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুফতি ফজলুর রহমান (সারোয়ার) কাসেমী, সেন্টার বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আনোয়ার হোসাইন এবং মওলানা হাফেজ নিজাম উদ্দিন। এছাড়াও আল-আমীনের মা, মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

আল-আমীনের মা-বাবা তাদের সন্তানের জন্য সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন, যেন সে ভবিষ্যতে আরও বড় ইসলামী শিক্ষাবিদ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।

উল্লেখ্য, সেন্টার বাজার মারকাযুল হুফফাজ ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসায় বর্তমানে নাজেরা ও হিফজ বিভাগে প্রায় ৯০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।

হানিফ উদ্দিন সাকিব/এসএন

ব্রাজিল ম্যাচ জেতায় মাথা ন্যাড়া করলেন আর্জেন্টিনার সমর্থক

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম
ব্রাজিল ম্যাচ জেতায় মাথা ন্যাড়া করলেন আর্জেন্টিনার সমর্থক
ফয়সাল আহমেদ জুমান। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপে ব্রাজিল-হাইতি ফুটবল ম্যাচে ব্রাজিল জিতলে মাথা ন্যাড়া করা হবে এমন বাজি ধরে চুল খোয়ালেন আর্জেন্টিনার এক সমর্থক। পরে মাথা ন্যাড়া করে ওয়াদা রক্ষা করেন আর্জেন্টিনার সমর্থক ফয়সাল আহমেদ জুমান (২৩)। 

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার সূর্যনগর গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।

ফয়সাল দীর্ঘদিন ধরে আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

জানা গেছে, শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক আইডি থেকে তিনি ঘোষণা দেন, হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে ব্রাজিল জয়ী হলে তিনি মাথা ন্যাড়া করবেন। 

শনিবার সকালে বিশ্বকাপ ম্যাচে হাইতিকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে ব্রাজিল। ম্যাচ শেষ হতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া নিজের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসেন ফয়সাল। আর্জেন্টিনার জার্সি গায়েই নিজের মাথা ন্যাড়া করেন তিনি। এ সময় ঘটনাটি দেখতে ভিড় করেন স্থানীয় ফুটবলপ্রেমী ও কৌতূহলী মানুষজন। মুহূর্তেই বিষয়টি এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। অনেকেই ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। পরে সেগুলো ব্যাপকভাবে শেয়ার হলে বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় নানা আলোচনা।

বাজি পূরণের পর ফয়সাল আহমেদ জুমান বলেন, ‘ঘটনাটি ঘটেছে খেলাধুলা বিনোদনের একটি বড় মাধ্যম। আমি ব্রাজিল সমর্থকদের সঙ্গে বাজি ধরেছিলাম। ব্রাজিল জিতেছে, তাই কথা অনুযায়ী মাথা ন্যাড়া করেছি।’

রিফাত/