রংপুরের তারাগঞ্জে নিখোঁজের একদিন পর দ্বিতীয় শ্রেণির পড়ুয়া শিক্ষার্থী সানজিদার (৯) চোখ দাবানো মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২০ জুন) বেলা দেড়টার দিকে বাড়ির অদূরেই পাটখেতে থেকে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতনদের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশ, জনপ্রতিনিধি ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের ভীমপুর কোরানীপাড়া গ্রামের সাইদুল ইসলামের মেয়ে সানজিদাকে শুক্রবার দুপুর থেকে থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সন্ধ্যা পর্যন্ত আত্মীয়-স্বজন প্রতিবেশীদের বাড়িতে খোঁজ করা হয়। তাকে না পেয়ে রাতে মাইকিংও করা হয়। শনিবার সকাল ১১টার দিকে মাঠে কাজ করতে গিয়ে বাড়ির ২০০ মিটার দূরে ডালিয়া সেচ ক্যানেলের ধারে থাকা পাট খেতে ওই শিশুর মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে পুলিশকে খবর দিলে বেলা দেড়টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমেছে। পরিবারে আহাজারি ভারি হয়ে উঠেছে চারপাশ। দূর দুরন্ত থেকে লোকজন ঘটনাস্থল ও সানজিদার বাড়িতে ভিড় করছে।
কোরানীপাড়া গ্রামে সুমন ইসলাম বলেন, 'গতকালকেও বাচ্চাটা খেলাধুলা করল। আজ তার চোখ উল্টানো মরদেহ পাওয়া গেল। নিষ্পাপ শিশুটি কি এমন শত্রু হইল, যে তাকে এমন নির্মমভাবে হত্যা করতে হলো। আমরা হত্যার কারণ ও হত্যাকরীদের শনাক্ত করে দ্রুত বিচার চাই।'
ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন বলেন, 'সানজিদা আমার মেয়ের সঙ্গে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়তো।
বাচ্চাটিকে না পেয়ে তার বাবা-মা গতকাল মাইকিং করেছে। আজ তার মরদেহ পাওয়া গেল। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা তার হত্যাকারীকে শনাক্ত করে দ্রুত আইডির আওতায় এনে বিচার কার্যকর দেখতে চাই।'
তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, '৯ বছর বয়সী শিশু সানজিদার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নতন্ত্রের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পেলেই তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তবে তার চোখ দুটি দাবানো ছিল।'
সেলিম সরকার/রিফাত/