জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বিতর্কিত ভূমিকা এবং আন্দোলনে জড়িত শিক্ষার্থীদের হুমকিসহ নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) তিন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এছাড়া অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের হুমকি, নারী শিক্ষার্থীদের পোশাক নিয়ে অবমাননার অভিযোগে এক শিক্ষক এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জেরে আরেক শিক্ষককে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে খবরের কাগজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী।
গতকাল সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম।
সাময়িক বরখাস্ত শিক্ষকরা হলেন- লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আ ক ম জামাল উদ্দীন, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।
একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষকরা হলেন- উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজমল হোসেন ভূঁইয়া এবং বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিব।
উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী খবরের কাগজকে বলেন, ‘আইন উপদেষ্টার সুপারিশক্রমে জুলাই অভ্যুত্থানে নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া অধ্যাপক আজম সাহেবের বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের হুমকি, নারী শিক্ষার্থীদের পোশাক নিয়ে অবমাননার অভিযোগে একাডেমিক কমিটি থেকে সুপারিশ আসে। এটিও আইন উপদেষ্টার মতামতের উপর ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে।’
শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নানা অভিযোগের ভিত্তিতে একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশ অনুয়ায়ী বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানে বিতর্কিত ভূমিকা অবস্থান নেওয়াতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা লাভলু মোল্লা শিশিরকেও (মুহাম্মদ লাভলু মোল্লা) সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সিন্ডিকেটের ওই সভায় ছাত্রদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক এরশাদ হালিমকে স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।
তদন্ত প্রতিবেদন সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় অনুমোদন পায়। ফলে স্থায়ী বহিষ্কার হতে পারেন অধ্যাপক এরশাদ।
এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, ‘রসায়নের ওই শিক্ষকের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়েছে, এখন ট্রাইব্যুনাল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।’
আরিফ জাওয়াদ/খাদিজা রুমি/