‘পৌষ তোদের ডাক দিয়েছে, আয় রে চলে, আয় আয় আয়। ডালা যে তার ভরেছে আজ পাকা ফসলে, মরি হায় হায় হায়...।’
বাংলা মাসে পৌষ আসতে দেরি হলেও অগ্রহায়ণের প্রথম দিন নবান্ন উৎসবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) যেন মূর্ত হয়ে ওঠে রবি ঠাকুরের এই গানে।
শনিবার (১৬ নভেম্বর) সকাল সাড়ে সাতটায় নবান্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে মুখরিত হয়ে উঠেছিল ঢাবির চারুকলার বকুলতলা ও ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) পায়রা চত্বর।
এ সময় লোকজ খাবার আর শিল্পীদের সুরের মূর্ছনা, নৃত্য ও আবৃত্তিতে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছিল ঢাবি।
চারুকলার বকুল তলায় ‘এসো মিলি সবে নবান্নের উৎসবে’ প্রতিপাদ্যে শিল্পী হাসান আলীর বাঁশির সুরের মূর্ছনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় এবারের আয়োজন। দুই ভাগে অনুষ্ঠিত হওয়া এবারের আয়োজনের প্রথম পর্ব শুরু হয়ে চলে দুপুর পর্যন্ত। আর দ্বিতীয় ভাগের পরিবেশনা দুপুর দুুইটা থেকে শুরু হয়ে চলে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত।
একক সংগীত, দলীয় সংগীত, একক নৃত্য, দলীয় নৃত্য পরিবেশনা, আবৃত্তিসহ নানা অনুষ্ঠানে বরাবরের মতই ছিল এবারের আয়োজন।
১৪০৬ বঙ্গাব্দে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে প্রথম এই উৎসব শুরু হয়েছিল। পরে ১৪০৭ সালের ৩ অগ্রহায়ণ এ আয়োজন চলে যায় ঢাবির চারুকলার বকুলতলায়। সেই থেকে প্রতিবছর অগ্রহায়ণে চারুকলায় নবান্ন উৎসব পালন করা হয়। জাতীয় নবান্নোৎসব উদযাপন পর্ষদের এবারের আয়োজনের মধ্য দিয়ে ২৫ বছর পূর্তি হলো নবান্ন উৎসবের।
এ আয়োজন উৎসর্গ করা হয়, জাতীয় নবান্নোৎসব উদযাপন পর্ষদের সাবেক সহ-সভাপতি প্রয়াত হাসিনা মমতাজকে। শুরুতেই হাসিনা মমতাজকে স্মরণ করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধানবিজ্ঞানী ড. জীবন কৃষ্ণ বিশ্বাস।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জীবন কৃষ্ণ বিশ্বাস বলেন, ‘এমন অনুষ্ঠানে আসতে পেরে মনে হচ্ছে সত্যিই ধানের খেত থেকে উঠে আসা মানুষ। আমাদের ধানের ফলন বেড়েছে। যারা ধানের খেতে কাজ করে, তারাই আসল কৃষিবিজ্ঞানী। আমাদের সমৃদ্ধির জন্য তারা সবচেয়ে বেশি কাজ করে। কিন্তু পদ্ধতিগত কারণে তাদেরই আমরা সুস্থ অবস্থায় দেখতে পাই না, তাদের অভাব যায় না। আমাদের এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’
বাজারে এক জাতের চাল অন্য জাতের নামে বিক্রি হচ্ছে এমন প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘ধানের যে জাত সে নামেই বাজারে চাল থাকতে হবে। কিন্তু বাজারে নানা নামে চাল বিক্রি করে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। তাই আপনাদের দোকানে গিয়ে জিজ্ঞাসা করতে হবে যে, আমি এই জাতের চাল চাই।’
এতে শিক্ষাবিদ ও আবৃত্তিশিল্পী ও জাতীয় নবান্ন উৎসব উদযাপন পর্ষদের সহসভাপতি কাজি মদিনার সভাপতিত্বে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক, পর্ষদের সহসভাপতি সঙ্গীতা ইমামের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক নাঈম হাসান সুজা, আফরোজা হাসান শিল্পী ও সাবরিনা হাবিব নিপু ও অন্যরা।
এ ছাড়া পর্ষদের সভাপতি লায়লা হাসান চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে থাকায় তার লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সহ-সভাপতি মানজার চৌধুরী সুইট।
অন্যদিকে টিএসসির পায়রা চত্বরে বিপ্লবী সাংস্কৃতিক ঐক্যের আয়োজনে পহেলা অগ্রহায়ণকে ঘিরে বাংলার আদি নববর্ষের আয়োজন। দিনব্যাপী এই আয়োজনকে ঘিরে ছিল শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মেলা ও জুলাই বিপ্লবের তথ্যচিত্র প্রদর্শন।
আরিফ জাওয়াদ/মেহেদী/এমএ/