ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
গ্রিন ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত মিসরকে কেন জার্সি পরিবর্তন করতে বলল ফিফা? রবিবার বিশ্ব রক্তদাতা দিবস যে সম্পদ চোখের পলকে ধ্বংস হয়ে যায় রাজধানীতে প্রান্তিক গ্রামের ফুটবল উন্মাদনা, আর্জেন্টিনা–ব্রাজিল ম্যাচ একদিনে ৫ মরদেহ উদ্ধার, বরগুনায় চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ দাউদকান্দিতে শিবির নেতার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ প্রলোভন দেখিয়ে ভোট আদায়কারীরা জনগণের বন্ধু নয়: তারেক রহমান মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করায় আনন্দ মিছিল বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আগারগাঁওয়ে ‘রান ফর আর্থ’ আয়োজন সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডি লেকে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবি ডা. শফিকুর রহমানের ভারতীয় সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদে ধীরাজ শেঠ ‘তুই আসামি, চোখ নামিয়ে কথা বল’—ওসির বিরুদ্ধে নাঈম হাসানের অভিযোগ প্রযুক্তিদক্ষ তরুণরাই গড়বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী সোনারগাঁওয়ে উচ্চশিক্ষার নতুন দিগন্ত, বিশ্ববিদ্যালয় ও পলিটেকনিক হবে: শিক্ষামন্ত্রী জলবায়ু-সহনশীল ও পরিবেশ-বান্ধব পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ বিআইপির আলোচিত সিনেমার সিক্যুয়েল নিয়ে জয়া টেইলর সুইফটের নতুন রেকর্ড পরকালের আয়নায় আপনার কর্মফল দেখেছেন কি? সাংবাদিকতায় দলীয় লেজুড়বৃত্তিমুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন: মোস্তফা কামাল আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফনের তারিখ ঘোষণা নিজেকে সমকামী বলে কটাক্ষের জবাব দিলেন মৌনী ফ্যাশনে বিশ্বকাপ মাদক কারবারে হাজার কোটিপতির উত্থান, দাবি ভূমিমন্ত্রীর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা: পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশকে তুলে ধরে প্রশংসিত সঞ্জয় বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ১ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র এআই উদ্ভাবনে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির কৃতিত্ব, ফাইনালে ‘কগনিভার্স’ ‘সবুজ সাথী’ সম্মাননায় ভূষিত সিলেট সিটি করপোরেশন
Nagad desktop

জুলাই আন্দোলন আমরাই প্রথম কারফিউ ভাঙি

প্রকাশ: ১৮ নভেম্বর ২০২৪, ০২:৫১ পিএম
আমরাই প্রথম কারফিউ ভাঙি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত

জুলাই আন্দোলন ছাত্রদের পাশাপাশি অংশ নিয়েছিল দেশের সর্বস্তরের মানুষ। বিপ্লবে রাজশাহী অঞ্চলের মানুষের ভূমিকাও কম নয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রথম ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস ঘোষণা করা হয়। কারফিউ ভেঙে সর্বপ্রথম ‘শেইম শেইম, ডিক্টেটর’ স্লোগান দেয় রাবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। রাজশাহীতে আন্দোলন ও ছাত্র-জনতার অভ্যূত্থান পরবর্তী বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক গোলাম কিবরিয়া মোহাম্মদ মেশকাত চৌধুরীর সাথে কথা বলেছেন খবরের কাগজের রাবি প্রতিনিধি এস আই সুমন

আপনি সাংবাদিক ছিলেন। সাংবাদিকতা থেকে আন্দোলনে এলেন কীভাবে?

মেশকাত চৌধুরী: আমি প্রায় ৫ বছর ক্যাম্পাসে সাংবাদিকতা করেছি। করোনাপরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসনকে কেন্দ্র করে যে সিট বাণিজ্য চলত, সেটা নিয়ে গণমাধ্যমে আমার একটা রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। পরে কোনো ধরনের নোটিশ ছাড়াই আমাকে গণমাধ্যম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর সাংবাদিক হিসেবে সে পরিচয়টা আর ছিল না। ফলে আমার হাতে তখন অনেক সময় ছিল। তখন ক্যাম্পাসে আমার বিভিন্ন সোর্স যেমন- শিক্ষক, সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা-কর্মীর সঙ্গে মাফিয়াতন্ত্রের দুঃশাসন থেকে মুক্তির রাস্তা নিয়ে আমরা কথা বলতাম। ’২৪-এর আন্দোলনের প্রথম দিকে আমি একটু বাইরে ছিলাম। এখানে এসে দেখলাম ছোটদের বেশকিছু জায়গায় কৌশলগত ত্রুটি ছিল। শেখ হাসিনা যখন গণহারে সবাইকে রাজাকারের নাতিপুতি বলা শুরু করল, তখন আমি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা শুরু করলাম। গত ১৪ ও ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ হামলা চালায়। এরপর ১৫ জুলাই রাতে আমরা পরিকল্পনা করি, মাত্র ৩০ থেকে ৪০ জন ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীর হাত থেকে ছাত্র-জনতার আন্দোলন করার অধিকার কীভাবে ছিনিয়ে আনতে পারি। এরপর একটা পর্যায়ে আমি চোখের সামনেই দেখলাম, মাদার বখশ হলের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ হিল গালিব পালিয়ে যাচ্ছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েই প্রথম হাসিনার দোসর সম্পূর্ণ ইউনিট ধরে বিতাড়িত হয়েছে।
 
আপনাদের সমন্বয়ক কমিটি ক্যাম্পাস বন্ধ হওয়ার পরে দেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে আপনারা কীভাবে আন্দোলন পরিচালনা করেছেন?

ক্যাম্পাস বন্ধ হওয়ার পর বিভিন্ন গুজবের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে এক ধরনের আতঙ্ক কাজ করছিল। ফলে শিক্ষার্থীরা অনেকেই বাধ্য হয়ে রাজশাহী ছেড়ে যাচ্ছিল। তখন আমরা পরিকল্পনা করলাম যেকোনো মূল্যে রাজশাহীতে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় জনগণ ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সমন্বয় করে আন্দোলন পরিচালনা করার। একপর্যায়ে আমরা শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন পরিচালনা শুরু করলাম। কারণ আমাদের বিশ্বাস ছিল, পুলিশ অন্তত শিক্ষকদের গায়ে হাত তুলবে না। পরবর্তী সময়ে আন্দোলনকে গণপরিসরে ছড়িয়ে দিতে আমরা বিভিন্নভাবে জনগণকে আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করেছি। তাদেরকে জানানো হয়েছে এটা শুধু শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নয়, এ আন্দোলন সবার।
 
ক্যাম্পাস বন্ধ হওয়ার পরই তো ইন্টারনেটও বন্ধ হয়ে যায়। তখন ইন্টারনেট ছাড়া কীভাবে কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় করেছেন? 

যতদিন ইন্টারনেট বন্ধ ছিল ততদিন আমাদের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিল সেলফোন। তখন সবার সঙ্গে যোগাযোগ করছিলাম কিভাবে কী করা যায়, কাকে কাকে নিয়ে কমিটি করা যায়। অনেককেই জিজ্ঞেস করছিলাম থাকবেন কি না? বেশির ভাগ লোকই প্রত্যাখ্যান করেছিল তখন। পরে আমরা সাহস করে দায়িত্বটা কাঁধে নিয়ে নিই। এরপর ইন্টারনেট সচল হওয়ার পর ২৪ ঘণ্টাই আমরা ভিপিএন কানেক্টেড থাকতাম। এর মধ্যে আমরা দেখলাম, মূলধারার মিডিয়াগুলো আর আমাদের সাহায্য করছে না। তারা অনেকেই আন্দোলনকে জামায়াত-শিবিরের আন্দোলন হিসেবে প্রচার করতে থাকে। ফলে আমরা সিদ্ধান্ত নেই সোস্যাল মিডিয়াকেই প্রধানতম মিডিয়ায় রূপান্তর করে ফেলার। তখন আমরা প্রীতিলতা ব্রিগেড করি, আমাদের একটা টেকনিক্যাল টিম ছিল। ফেসবুকে আমাদের যে বড় গ্রুপটা ছিল, সেটাতে কিছু গোপন সমস্যার কারণে আমরা আরেকটা গ্রুপ খুলি- যেটা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়ে। এই গ্রুপের মাধ্যমে আমরা স্থানীয়দেরকেও কানেক্ট করতাম এবং তরুণ প্রজন্মকে আকর্ষণ করতে পারে সে ধরনের প্রোগ্রামগুলো রাখার চেষ্টা করতাম। আন্দোলনকারী বোনদের জন্যে প্রীতিলতা ব্রিগেড তৈরি করলাম। যেন এই স্বৈরাচারী হাসিনার কর্মকাণ্ড মানুষের চিন্তা থেকে সরাতে না পারে- এ লক্ষ্য নিয়ে পুরো আন্দোলনের বিভিন্ন সময়ে হত্যাকাণ্ড ও হামলার ঘটনা তাদের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি এবং জনমত গঠনের চেষ্টা করি। আমাদের শুধু কর্মসূচিটাই কেন্দ্র থেকে দেওয়া হতো। তা ছাড়া কখন কিভাবে কী হবে, সেটা আমরা স্থানীয়ভাবেই পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করতাম। 

আপনারা কখনো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে, আবার কখনো রুয়েটে; আবার কখনো তালাইমারীতে আন্দোলন করেছেন। আন্দোলনের সময় এই স্থান পরিবর্তনের কারণ কী?

আমরা একটা জিনিস দেখতে পাচ্ছিলাম, বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক আন্দোলন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার পর একটু কঠিন হয়ে যায়। এ ছাড়াও শিক্ষানগরী রাজশাহীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে নিয়ে আসা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। কারণ তখন পুলিশ ও ছাত্রলীগের গুন্ডারা রাস্তায় বিভিন্নভাবে তাদের নিপীড়ন করছিল। 

এ ছাড়াও কোনোভাবে সংঘর্ষ হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেটে পালানোর জায়গাও কম। ফলে আমরা আন্দোলন রুয়েট গেটে নিয়ে গেলাম, যেখানে অন্তত ৫ থেকে ৭টা পথ দিয়ে আসা যায়। তখন ওই চিন্তা করে রুয়েটে নিয়ে যাওয়া হয় এবং জমায়েত বড় হতে থাকলে আমরা আস্তে আস্তে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে গণমিছিলগুলো নিয়ে যেতাম। এই জিনিসটা জনগণকে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। এভাবেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকে আমরা রাজশাহীর গণমানুষের মাঝে আন্দোলনে ছড়িয়ে দিলাম।

গোলাম কিবরিয়া মোহাম্মদ মেশকাত চৌধুরী

 

রাজশাহীতে কারফিউ ভাঙলেন কীভাবে? 

১৬ ও ১৭ জুলাইয়ের আন্দোলন দমিয়ে দিতে হাসিনা কারফিউ জারি করল। কারফিউ-পরবর্তীতে সারাদেশে আন্দোলন ঝিমিয়ে পড়ে। এরপর দেশে সর্বপ্রথম কারফিউ ভেঙে দেওয়ার দুঃসাহস দেখান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহসী শিক্ষার্থীরা ও রাজশাহী অঞ্চলের জনগণ। সেদিন ছিল ২৯ জুলাই। আমি সমন্বয়ক হওয়ার পরে প্রথম দিন। জোহা স্যারের মতোই বর্তমান উপাচার্য নকীব স্যার, আরবি বিভাগের মাসুদ স্যার, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সেলিম রেজা নিউটন, আ. আল মামুন স্যারসহ কয়েকজন সাহসী শিক্ষক আমাদের সঙ্গে ছিলেন। এটাই ছিল হাসিনার কারফিউ ভেঙে দেওয়ার প্রথম প্রচেষ্টা। সেদিন আমরা একটা কৌশল অবলম্বন করেছিলাম। আমরা প্রথমে ঘোষণা দিয়েছিলাম মেইন গেট থেকে কাজলা গেটে যাওয়ার। কিন্তু আমরা উল্টো দিকে প্রধান ফটক থেকে বিনোদপুর গেটের দিকে যাত্রা শুরু করি। সে সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজলা রোডে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিয়েছিল। সেই কারফিউ ভেঙে সারা দেশে আমরা সর্বপ্রথম ‘শেইম শেইম, ডিক্টেটর’ স্লোগান দেই।
 
আন্দোলনের সময় সরকারি বাহিনী ও আওয়ামী লীগের হামলার চ্যালেঞ্জগুলো আপনারা কীভাবে মোকাবিলা করেছেন?

এ আন্দোলনের সময়গুলোতে কোন দিন কী হবে, এটা ধারণা করা যাচ্ছিল না। এমনকি ৫ আগস্ট হাসিনা পালিয়ে যাবে- আমরা এটাও জানি না। যেখানে হাজার হাজার মানুষ মারা গেছে, সেখানে কোনো ধারণা করা যায় না। সে সময় একটাই চিন্তা থাকে যে এই মাফিয়াতন্ত্র থেকে মুক্তি। মানুষের মুক্তি হলেই আমাদের মুক্তি হয়। তখন বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এর আগেও যারা আন্দোলনে ছিল, তাদের ডিজিএফআই ও ডিবি তুলে নিয়ে যাচ্ছিল। এমনকি একজন সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী বড় ভাইকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আমরা এই চ্যালেঞ্জগুলোকে ত্রাস হিসেবে না নিয়ে সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছি। তারপরও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা গায়ে পড়ে আমাদের ভাইদেরকে শহীদ করেছে। আমরা একটাই চিন্তা করছিলাম, আমাদের পালানোর কোনো পথ নেই। ‘বিপ্লব অথবা মৃত্যু’- এমন যাত্রাই করেছিলাম। মন থেকে দীক্ষিত হয়ে নেমেছিলাম আমরা। ফলে আমাদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতেই হতো।

যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আপনারা আন্দোলন করেছিলেন, বর্তমান বাংলাদেশ সেদিকে যাচ্ছে বলে আপনার মনে হয় কী? 

এ আন্দোলনে পঞ্চম শ্রেণি থেকে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাদ্রাসাসহ সব প্রতিষ্ঠানের সব বয়সের মানুষ ছিল। রিকশাচালক, কুলি, গার্মেন্টস শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ ছিল। এখানে ধর্ম, বর্ণ ও জাতি নির্বিশেষে সবাই যোগ দিয়েছিলেন। এমনকি আওয়ামী লীগেরও যারা এ গণহত্যা মেনে নিতে পারেননি, তারাও যোগ দিয়েছিলেন। যারা ভুলকে ভুল বলতে পারেন, সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলতে পারেন- তারা সবাই এসেছিলেন। তাদের প্রতিশ্রুতি, ৫৩ বছরের প্রতারণা থেকে বের হয়ে একটা সুন্দর বাংলাদেশ। তারা বিচারহীনতার সমাজের পরিবর্তন চেয়েছিলেন। তাদের একটা নতুন বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। তবে একটা ফ্যাসিবাদের পলায়নের পরও তার কাঠামো থেকে যায়। ফ্যাসিবাদের হালুয়া-রুটি খাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরিয়ে দিয়ে একটা জনতার প্রশাসন গড়তে পারলেই একটা সুন্দর বাংলাদেশ হবে। আমি এ দেশের রাজনৈতিক গতি-প্রকৃতি বদলে দিয়ে একটা দারুণ রাজনৈতিক পরিচ্ছন্নতার দিকে যেতে চাই। এটার জন্য আমাদের কার্যক্রম চলছে এবং আমরা এটার জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। যতদিন এটা না হচ্ছে, ততদিন আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।
 
আন্দোলনের পর দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু পরিবেশ বিরাজ করছে বলে আপনার মনে হয় কি? শিক্ষাঙ্গনে কী ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করছেন? 

একটা বিষয় খেয়াল করবেন, শুধু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা যদি বলি আমরা দেখিয়েছি- ছাত্রলীগ কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন খাত থেকে প্রায় ১ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সিটবাণিজ্যের মাধ্যমে। শিক্ষার্থীরা তার পরিবর্তে আবেদন করে নিয়মানুযায়ী সিট পাচ্ছে। এ ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির জন্য শিক্ষার একটা অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আগের পরিস্থিতি থেকে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। সার্বিকভাবে দেশটা উন্নত হচ্ছে, তবে কিছু জায়গায় স্বজনপ্রীতি রয়েছে।

ধন্যবাদ আপনাকে।
আপনাকেও ধন্যবাদ।

হাসান

গ্রিন ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:২১ পিএম
গ্রিন ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত
নবীনবরণ অনুষ্ঠান শেষে ফটোসেশনে অংশ নেন আমন্ত্রিত অতিথি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত

বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম যোগাযোগ বিভাগের ২৬০তম ব্যাচকে (সামার-২০২৬) বরণ করে নিয়েছে গ্রিন ইউনিভার্সিটি।

 শনিবার (১৩ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্বাচল আমেরিকান সিটির নিজস্ব ক্যাম্পাসে এই নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়।

বিভাগের  চেয়ারপারসন ড. হাবীব মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. খাজা ইফতেখার উদ্দিন আহমেদ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এম শহীদুল্লাহ।

গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য রাখেন দৈনিক খবরের কাগজের বার্তা সম্পাদক রোকেয়া রহমান।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য দেন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম যোগাযোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. অলিউর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. খাজা ইফতেখার উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির যুগে সাংবাদিকতা মূলত মানবীয় সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তির যুগলবন্দিতে পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে ডেটা বিশ্লেষণ, তথ্য যাচাই, অডিও-ভিডিও তৈরি ও স্বয়ংক্রিয় প্রতিবেদন তৈরিতে এআই একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। তবে সঠিক নৈতিকতা ও তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করাই এখন গণমাধ্যমের মূল চ্যালেঞ্জ।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে সাংবাদিকতা কীভাবে আরও ফলপ্রসূ করা যায় সে বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করা জরুরি। শুধু পুঁথিগত পড়াশোনার মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখলেই হবে না, বর্তমান সময়ের জব মার্কেটের জন্য প্রয়োজনীয় টুলসগুলোর ওপর দক্ষতা অর্জন করতে হবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে স্কিল ডেভেলপমেন্টের পাশাপাশি নিজেকে ভালো মানুষ হিসেবে গড়তে হবে।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক ও প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ বায়েজীদ খান, প্রভাষক জান্নাতুল ফেরদৌস মীম ও নাজমুন্নাহার উর্মি।
অনুষ্ঠানে ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করেন জেএমসি ল্যাব কো-অর্ডিনেটর কাজী মাহাদী মুনতাসির। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোরডটকমের প্রতিবেদক জুবায়ের আহমেদ, জেএমসি মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি ও মেন্টার ইমু আক্তার মিম। 

নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম যোগাযোগ বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। 

অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন ফাইয়াজ সরকার ও নাজিফা তাবাস্সুম তাজ। পরে  গ্রুপ ফটোসেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

এসএন/

এআই উদ্ভাবনে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির কৃতিত্ব, ফাইনালে ‘কগনিভার্স’

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৬:১০ পিএম
এআই উদ্ভাবনে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির কৃতিত্ব, ফাইনালে ‘কগনিভার্স’
মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ‘কগনিভার্স’ দল। ছবি:খবরের কাগজ

দেশের অন্যতম বৃহৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা ‘দ্য ইনফিনিটি এআই বিল্ডফেস্ট ২০২৬’-এর চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিয়েছে সিলেটের মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ‘কগনিভার্স’ দল।

রাজধানীর ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতার ফাইনাল রাউন্ডে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংখ্য মেধাবী দল ও প্রতিযোগীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এই সাফল্য অর্জন করেন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী রাতুল সাহা রায় (৫৯তম ব্যাচ), শুভ সূত্রধর (৫৯তম ব্যাচ) এবং অনিদ্র পাল (৬২তম ব্যাচ)।

শনিবার (১৩ জুন) মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির জনসংযোগ শাখা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ শাখা জানায়, ‘দ্য ইনফিনিটি এআই বিল্ডফেস্ট ২০২৬’ মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান তৈরির একটি জাতীয় প্রতিযোগিতা। এতে অংশগ্রহণকারী দলগুলো বাস্তব সমস্যার প্রযুক্তিভিত্তিক সমাধান, বুদ্ধিমান সফটওয়্যার, যন্ত্রশিক্ষণ এবং আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ব্যবহারিক প্রয়োগ উপস্থাপন করে। মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ‘কগনিভার্স’ দল জিওগ্রাফি ও অ্যাস্ট্রনমি বিষয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আলোকে সমস্যার সমাধান নিয়ে কাজ করে চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেয়।

প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করে বাংলাদেশ ক্লাউড ক্যাম্প, সহ-আয়োজক হিসেবে ছিল ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি। এছাড়া বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতাটির কৌশলগত, প্রযুক্তিগত ও করপোরেট অংশীদার হিসেবে যুক্ত ছিল। প্রযুক্তি সহযোগীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস, লাভেবল, রোবাস্ট, ক্যারিয়ার ক্যানভাস, ডায়ানাহোস্ট এবং অ্যাস্ট্রোনাস টেকসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

এ সাফল্যের জন্য ‘কগনিভার্স’ দল এখন অভিনন্দিত হচ্ছে। মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি জিওগ্রাফি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির (মুগাস) সভাপতি ও ইইই বিভাগের সিনিয়র লেকচারার আহমেদ ইসতিয়াকুর রহমান অভিনন্দন বার্তায় দলের সদস্যদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই অর্জন অত্যন্ত গৌরবের। জাতীয় পর্যায়ের এমন প্রতিযোগিতায় চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছানো তাদের মেধা, সৃজনশীলতা ও কঠোর পরিশ্রমের স্বীকৃতি।’ মুগাসের কোষাধ্যক্ষ ও সিএসই বিভাগের লেকচারার ইশরার নাজাহ চৌধুরী বলেন, ‘এই সাফল্য বর্তমান ও ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি ও গবেষণাভিত্তিক কর্মকাণ্ডে আরও উৎসাহিত করবে।’

অভিনন্দন জানিয়েছেন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী। এক অভিনন্দন বার্তায় তিনি বলেন, ‘জাতীয় পর্যায়ের এই অর্জন কেবলই ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরঞ্চ এটি মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির প্রযুক্তিগত শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনী চিন্তা ও চর্চারও একটি উজ্জ্বল প্রতিফলন।’ ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান তানভীর এমও রহমান চৌধুরী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করে বলেন, ‘ধারাবাহিকভাবে শিক্ষার্থীরা তাদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তির স্বাক্ষর রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম আরও সমুন্নত রাখবে।’

এসএন/

চুয়েট জব ফেয়ার-২০২৬: চাকরিপ্রত্যাশীদের পদচারণায় মুখর ক্যাম্পাস

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৪:৩৭ পিএম
চুয়েট জব ফেয়ার-২০২৬: চাকরিপ্রত্যাশীদের পদচারণায় মুখর ক্যাম্পাস
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘চুয়েট জব ফেয়ার-২০২৬’।

শনিবার (১৩ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্কেটবল মাঠে আয়োজিত এ চাকরি মেলা ছিল তিন দিনব্যাপী ‘চুয়েট ক্যারিয়ার ফেস্ট ২০২৬’-এর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।

সকাল থেকেই চাকরি মেলায় শিক্ষার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্কেটবল মাঠজুড়ে স্থাপিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টলে ভিড় করেন চাকরিপ্রত্যাশীরা। কেউ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কর্মপরিবেশ, নিয়োগ প্রক্রিয়া ও ক্যারিয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন, আবার কেউ সরাসরি জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) জমা দেন। পুরো এলাকা দিনভর ছিল উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত।

মেলায় এন. মোহাম্মদ গ্রুপ, বিএসআরএম, প্রাণ, সিনজেনটা, ইস্পাহানিসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় একাধিক প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের বিভিন্ন সুযোগ সম্পর্কে ধারণা দেন।

প্রাণ গ্রুপের নিয়োগ ও মানবসম্পদ বিভাগের সহকারী ম্যানেজার মো. জুবায়ের হোসেন খবরের কাগজকে জানান, “আজকের এই মেলার পরিবেশ অসাধারণ। গত দুই-তিন বছরের তুলনায় এবার প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আমরা বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছি। প্রোডাকশন, মেইনটেন্যান্স, সাপ্লাই চেইন, আইটি প্রভৃতি ক্ষেত্রে আমরা তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল, যন্ত্রকৌশল, বস্তু ও ধাতব কৌশল  বিভাগের শিক্ষার্থীদের প্রতি আমাদের আগ্রহ রয়েছে। নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যপুস্তক জ্ঞানের পাশাপাশি ইতিবাচক উপস্থাপনার দিকেও আমাদের নজর থাকে। ”

টেকসই ও নিরাপদ কৃষি নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান সিনজেনটার সহকারী ম্যানেজার প্রদীপ্ত সাহা জানান, “অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও উদ্দীপনা আমাদের মুগ্ধ করেছে। প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইইই, যন্ত্রকৌশল, মেকাট্রনিক্স বিভাগ থেকে আমরা প্রতিবছরই ইন্টার্ন শিক্ষার্থী নেই। ইতোমধ্যেই চুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী নুসরাত ও পরশ আমাদের প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত আছেন। দক্ষতা ও নিজেকে উপস্থাপনায় পারদর্শী শিক্ষার্থীরা যাতে আমাদের সাথে যুক্ত হয়, সেই আশাবাদ ব্যক্ত করছি।”

চাকরি মেলায় অংশ নেওয়া যন্ত্রকৌশল বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী সিয়াম ইসলাম বলেন, “একসঙ্গে এতগুলো প্রতিষ্ঠানের কাছে সিভি জমা দেওয়ার সুযোগ পাওয়া সত্যিই দারুণ অভিজ্ঞতা। এতে চাকরির বাজার সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পাওয়া যায় এবং নিজের প্রস্তুতি যাচাই করার সুযোগ তৈরি হয়।”

চুয়েট ক্যারিয়ার ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অংকন চৌধুরী বলেন, “চাকরি মেলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা করপোরেট জগতের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের সুযোগ পেয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে তারা নিজেদের ক্যারিয়ার পরিকল্পনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা লাভ করতে পেরেছে।”

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুপুর ১ পর্যন্ত আয়োজিত এ চাকরি মেলায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঁচ শতাধিক জীবনবৃত্তান্ত জমা পড়েছে। 

উল্লেখ্য, গত ১১ জুন শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী ‘চুয়েট ক্যারিয়ার ফেস্ট ২০২৬’-এর প্রথম দিনে অনুষ্ঠিত হয় হুয়াওয়ে প্রযুক্তিগত কর্মশালা এবং অন-ক্যাম্পাস নিয়োগ পরীক্ষা। দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত হয় উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন, রবি আজিয়াটা প্রযুক্তিগত কর্মশালা, করপোরেট সেশন, বিসিএস ও ব্যাংক চাকরি প্রস্তুতিবিষয়ক আলোচনা এবং কেস কম্পিটিশন ‘প্রেজেন্টএক্স’-এর সেমিফাইনাল ও ফাইনাল পর্ব।

উৎসবের শেষ দিনে চাকরি মেলার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও উদ্যোক্তা উন্নয়নবিষয়ক সেমিনার, করপোরেট দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালা, সমাপনী অনুষ্ঠান এবং পুরস্কার বিতরণের আয়োজন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘চুয়েট ক্যারিয়ার ফেস্ট ২০২৬’-এর সফল সমাপ্তি ঘটে।

ইবাদ হোসেন/এসএন

পরিবেশ রক্ষায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ জাককানইবির এক শিক্ষার্থীর

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৩:২৩ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৩:৩৩ পিএম
পরিবেশ রক্ষায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ জাককানইবির এক শিক্ষার্থীর
ছবি: সংগৃহীত

ট্রেন ছুটে চলেছে নড়াইল থেকে ঢাকার পথে। আর ওই ছুটে চলা সময়েই প্রকৃতিকে সাজানোর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) শিক্ষার্থী শেখ সাকিবুর রহমান। তিনি নড়াইল থেকে ঢাকায় রূপসী বাংলা এক্সপ্রেসে যাওয়ার পথে এবং জাহানাবাদ এক্সপ্রেসে ঢাকা থেকে নড়াইলে ফেরার পথে রেললাইনের দুই ধারে ২০ হাজার খেজুর বীজ ও এক হাজার কাঁঠালের বীজ ছড়িয়েছেন।

মঙ্গলবার (৯ জুন) গাছ বন্ধু নেটওয়ার্কের সহযোগিতায় তিনি গাছের বীজ ছড়ানোর মতো মহৎ একটি কাজ করেন।

শেখ সাকিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের একজন শিক্ষার্থী। বীজ ছড়ানোর বিষয়ে তিনি খবরের কাগজকে বলেন, কিছু পাগলামিতে যদি কিছু জীবনের জন্ম হয় তো আমি এমন পাগলামি বারবার করতে চাই। গাছ আমাদের বন্ধু। আর তাল গাছ, খেজুর গাছ এগুলো বজ্রপাত প্রতিরোধী। এজন্য গাছ লাগানোর ক্ষেত্রে আমি এই দুটো গাছ বেশি লাগাই যেন বজ্রপাতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হয়। কিন্তু আজ পৃথিবীতে অতিরিক্ত হারে গাছ কাটা হচ্ছে। যা নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করছে প্রকৃতিতে। চারিদিকে যখন গাছ কাটার মহোৎসব চলছে, তখন আমি প্রকৃতিতে কিছু প্রাণের সঞ্চার করার জন্য এই বীজ ছড়িয়েছি। সবুজ ছড়িয়ে পড়ুক সারা বিশ্বে।

উল্লেখ্য, তিনি এর আগেও এমন সামাজিক কাজকর্ম করেছেন। গত ১১ মে নিজ উদ্যোগে নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবন সংলগ্ন পুকুরের প্লাস্টিক ও অপচনশীল বর্জ্য পরিষ্কার করেন।

এ ছাড়াও ১৬ মে তিনি বিভিন্ন দেয়াল ও বেলকনিতে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো ৪৫-৫০টি বটগাছের চারা সংগ্রহ করে ত্রিশাল উপজেলার বিভিন্ন রাস্তা ঘুরে ঘুরে রাস্তার পাশ দিয়ে ও বিভিন্ন ব্রিজের পাশে রোপণ করেন।

তাসনিম রাফি/তামান্না রুপা/

শাবিপ্রবি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ জ্বালানিপ্রতিষ্ঠানে ড. সাকিব

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম
শাবিপ্রবি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ জ্বালানিপ্রতিষ্ঠানে ড. সাকিব
কর্মস্থলে সহকর্মীদের সঙ্গে ড. আহমেদ নাজমুস সাকিব। ছবি : সংগৃহীত

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রাক্তন শিক্ষার্থী ড. আহমেদ নাজমুস সাকিব যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় জ্বালানিপ্রতিষ্ঠান ডিটিই এনার্জির সিনিয়র প্রকৌশলী পদে যোগদান করেছেন। 

এই অর্জন শুধু তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবদান। বহির্বিশ্বে ড. সাকিবের কর্মদক্ষতা বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সক্ষমতার আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। 

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড পলিমার সায়েন্স বিভাগের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সাকিব যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ খাতের অন্যতম বড় প্রতিষ্ঠান ডিটিই এনার্জির বিদ্যুৎ, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রতিষ্ঠানটি লাখো গ্রাহককে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়ার পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রযুক্তির উন্নয়নেও কাজ করছে।

এমন একটি প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র প্রকৌশলী হিসেবে ড. সাকিবের যোগদান তার দক্ষতা ও গবেষণা সক্ষমতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বহন করে।

শাবিপ্রবির কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড পলিমার সায়েন্স বিভাগ থেকে একাডেমিক ভিত্তি গড়ে তোলা ড. সাকিব শুরু থেকেই গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনী কাজের প্রতি আগ্রহী ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে অর্জিত জ্ঞান, গবেষণাভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছেছেন। 

তার পদায়নে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান বিশ্বে জ্বালানি খাতে প্রযুক্তিগত রূপান্তর এবং টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় দক্ষ প্রকৌশলীদের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। ড. আহমেদ নাজমুস সাকিবের এই সাফল্য বাংলাদেশের তরুণ প্রকৌশলীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

ইসফাক আলী/আজহার