রাজশাহী কলেজে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ম্যুরাল শিক্ষার্থীরা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কলেজের শহিদ মিনার প্রাঙ্গণের এই আবক্ষ ম্যুরালটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সেখানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং সাউন্ড বক্সের গানের তালে তালে নেচে গেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
এর আগে রাজশাহী কলেজে অবস্থিত শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জুতা নিক্ষেপ ও লাঠিসোঁটা দিয়ে আঘাত করে ভাঙচুর করার চেষ্টা করেন। তারা ম্যুরালের সামনে দাঁড়িয়ে ‘জ্বালো, জ্বালো, আগুন জ্বালো,’ ‘একশন টু একশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘ফ্যাসিবাদের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না’, ‘আবু সাঈদ মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ’-সহ নানা স্লোগান দেন। পরে বেলা ২টার দিকে ‘জয় বাংলা, জিতবে আবার নৌকা’ গানের তালে তালে নেচে-গেয়ে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ সময় একদল শিক্ষার্থী ভেঙে পড়া সেই ম্যুরালের ওপর নেচে-গেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
আন্দোলনকারীরা জানান, যারাই এই দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করবে তাদের পরিণতি এমন হবে। এমন দৃষ্টান্ত স্থাপনে রাজশাহী কলেজ ক্যাম্পাসে ফ্যাসিবাদ ও মুজিববাদের চিহ্ন শেষ করে দেওয়া হলো। তারা আরও জানান, স্বৈরাচার যখন রাজনীতিতে ফিরতে কর্মসূচি ঘোষণা করবে তখনই ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের মোকাবিলা করবে।
জানা যায়, ২০১৯ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর রাজশাহী কলেজ প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালটি উদ্বোধন করা হয়। ২৫ ফুট উঁচু ও ২২ ফুট প্রস্থ এই ম্যুরালটিকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ‘আবক্ষ ম্যুরাল’ বলে দাবি করা হতো। কলেজের প্রশাসনিক ভবনের পশ্চিম অংশে এই ম্যুরালটি নির্মাণে ইট, বালু, রড, পাথর, মার্বেল ও টাইলসের ব্যবহার করা হয়েছে। এতে কলেজ কর্তৃপক্ষের নিজস্ব অর্থায়নে ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ করা হয়।
শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাঙচুরের পরে শিক্ষার্থীরা শেখ রাসেল ও এ এইচ এম কামারুজ্জামানের নামে থাকা দুটি ভবনের নামফলক মুছে নতুন নামকরণ করেন। এ ছাড়া নতুন একটি ভবনেরও নামকরণ করা হয়। তারা রাজশাহী কলেজের নবনির্মিত একাডেমিক ভবনের নতুন নামকরণ করেন ‘শহিদ আলী রায়হান ভবন’, এ এইচ এম কামারুজ্জামান ভবনের নাম পরিবর্তন করে ‘শহিদ সাকিব আনজুম ভবন’ এবং শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবের নতুন নাম রাখেন ‘বিজয়-২৪ ল্যাব’। এসব নতুন নামের ব্যানার তারা ভবনগুলোতে ঝুলিয়ে দেন।
এর আগে, গত বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সব নামফলক, গ্রাফিতি ও দেওয়াল লিখন মুছে দেন রাজশাহী কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।