বর্তমান বিশ্বে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় অন্যতম নাম হলো আয়ারল্যান্ড। ইউরোপের এই সবুজ দ্বীপটি শুধু তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যের জন্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, নিরাপদ পরিবেশ ও ক্যারিয়ার গঠনের অসাধারণ সুযোগের জন্যও শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ করে। দেশটির অন্যতম অফিসিয়াল ভাষা ইংরেজি হওয়ায় অনেক কোর্স রয়েছে ইংরেজি ভাষায়। তাই আপনার জন্যও হতে পারে দেশটি বিদ্যাশিক্ষার অন্যতম গন্তব্য।
আয়ারল্যান্ডে পড়তে যাওয়ার জন্য ন্যূনতম যোগ্যতা
আয়ারল্যান্ডে বছরে দুটি সেমিস্টার পড়ানো হয়। একটি সেমিস্টার চলে আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আর অন্য সেমিস্টার চলে জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত।
ব্যাচেলর প্রোগ্রামে যদি এই দেশে পড়তে চান তাহলে এইচএসসি পাস করতে হবে। আর আইইএলটিএসে ৫.৫ থেকে ৬ পয়েন্ট পেতে হবে অথবা টোফেলের সিবিটিতে ২১৩ বা আইবিটিতে ৭৯ থেকে ৮০ পয়েন্ট হতে হবে। অন্যদিকে, আপনি যদি মাস্টার্স প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে চান তাহলে ব্যাচেলর ডিগ্রি থাকতে হবে। আপনাকে আইইএলটিএসে ৬ থেকে ৬.৫ পয়েন্ট পেতে হবে অথবা টোফেলের সিবিটিতে ২১৩ থেকে ২৩৭ বা আইবিটিতে ৭৯ থেকে ৯৩ পয়েন্ট থাকতে হবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে জিআরই/জিম্যাটও গ্রহণ করা হয়ে থাকে।
আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা সাধারণত আগস্ট থেকে ডিসেম্বরের সেমিস্টারে ভর্তি হয় দেশটিতে। আবেদন করতে আপনাকে দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি শাখা বরাবর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফিসহ আবেদনপত্র পাঠাতে হবে।
ইউনিভার্সিটিতে আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:
- সব একাডেমিক ডকুমেন্টস ও মার্কশিট
- পাসপোর্ট/জাতীয় পরিচয়পত্রের কপিঅ্যাপ্লিকেশন ফরম
- আইইএলটিএসের সনদ
- অ্যাপ্লিকেশন ফি পরিশোধের প্রমাণ কপি
আয়ারল্যান্ডে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন ফি বিভিন্ন রকমের। সাধারণত এই ফি ৪৫ থেকে ৯০ ইউরো পর্যন্ত হয়ে থাকে। আবেদন করার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আবেদন যাচাই-বাছাই করে যথার্থ মনে করলে তারা সরাসরি আপনাকে অফার লেটার পাঠিয়ে দেবে দ্রুত।
পড়াশোনার খরচের সম্ভাব্য হিসাব ও বৃত্তি
আয়ারল্যান্ডে ব্যাচেলর ডিগ্রির ক্ষেত্রে বছরে ১০ হাজার ৫০০ থেকে ১৫ হাজার ১৫০ ইউরো এবং মাস্টার্স ডিগ্রির ক্ষেত্রে ৭ হাজার ৪০০ থেকে ১৫ হাজার ৭২০ ইউরো টিউশন ফি লাগে। তবে কলেজে পড়াশোনা করতে প্রায় ৩০ শতাংশ খরচ কম হয়। দেশটিতে প্রতি মাসে ৩০০ থেকে ৫০০ ইউরো দিয়ে অনায়াসে থাকা, খাওয়া, যাতায়াত ও অন্যান্য খরচ মেটাতে পারবেন শিক্ষার্থীরা।
আয়ারল্যান্ডে ব্যাচেলর পর্যায়ে বৃত্তির সুযোগ কম হলেও মাস্টার্স প্রোগ্রামে সুযোগ তুলনামূলক বেশি। এই দেশে প্রায় ১০০ এর মতো বিভিন্ন ধরনের বৃত্তির অফার করা হয়ে থাকে।
আয়ারল্যান্ডে আবাসন ব্যবস্থা ও জীবনযাপন খরচের ধারণা
আয়ারল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে নিজস্ব উন্নত আবাসন ব্যবস্থা। তবে এই আবাসন ব্যবস্থা কিছুটা ব্যয়বহুল। তাই অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে থাকে। শহর ভেদে এই দেশে আপনাকে প্রতি মাসে জীবন ধারণের জন্য ৫০০ থেকে ৮০০ ইউরোর মতো খরচ করতে হতে পারে।
আর্থিক সচ্ছলতার প্রমাণ
আয়ারল্যান্ডে ভিসার জন্য আপনাকে ব্যাংকে প্রায় ১০ হাজার ইউরো দেখাতে হবে। আর যদি আপনার খরচ বহন করে অন্য কোনো স্পন্সর, তাহলে তাকে নোটারাইজড অঙ্গীকারনামা দিতে হবে যে, তিনি আপনার সব খরচ বহন করবেন। তার জন্য আপনার স্পন্সরের ছয় মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্টের প্রয়োজন পড়বে।
ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া ও ডকুমেন্টস চেকলিস্ট
আয়ারল্যান্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ে আপনার ভর্তি নিশ্চিত হওয়ার পর আপনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি অফার লেটার পাবেন। যেটি পাওয়ার পর আপনি ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। কিন্তু আয়ারল্যান্ডের এম্বাসি বাংলাদেশে নেই। তাই আপনাকে যোগাযোগ করতে হবে দিল্লির আয়ারল্যান্ড এম্বাসির সঙ্গে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা:
- পূরণ করা ভিসার আবেদন ফরম
- পাসপোর্ট ও ছবি
- সিভি এবং স্টেটমেন্ট অব পারপাস
- সব নম্বরপত্র ও সনদের কপি
- নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (শেষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে)
- অফার লেটার
- ব্যাংক সলভেন্সি পেপার
- ছয় মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট
- পুলিশ ক্লিয়ারেন্স
- হেলথ ইনস্যুরেন্স ও মেডিকেল রিপোর্ট
খণ্ডকালীন চাকরি ও স্থায়ী বসবাসের সুযোগ
আয়ারল্যান্ডে আপনি সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা কাজ করার সুযোগ পাবেন। তবে গ্রীষ্মকালে সেটা বেড়ে হবে সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা। একটা বিষয় আপনাকে মনে রাখতে হবে- দেশটিতে কাজ করে পুরো টিউশন ফি জোগাড় করা শিক্ষার্থীদের জন্য বেশ কঠিন। আর পাঁচ বছর আয়ারল্যান্ডে বৈধভাবে থাকার পর স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আপনি আবেদন করতে পারবেন। সূত্র: Studyspice.com
লেখক: শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
/রিয়াজ