ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ছাত্রীদের তিনটি হলে দুই শিফটে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করবে প্রক্টরিয়াল টিমের দুইজন করে সদস্য। এছাড়া ভাসমান ও ভবঘুরে লোকদের উচ্ছেদে তল্লাশি অভিযান আরও জোরদার করা হবে। সেই সঙ্গে বহিরাগত নিয়ন্ত্রণে অভিযান চলমান থাকবে।
সোমবার (১৯ মে) বিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সিদ্ধান্ত হয়, সকাল ৬টা থেকে সকাল ৯টা ও সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও চলাফেরা নির্বিঘ্ন করতে কবি সুফিয়া কামাল হল, বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল এবং শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলের সামনে প্রতি শিফটে দুইজন করে প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্য নিয়মিত দায়িত্ব পালন করবেন। একইসঙ্গে প্রক্টর অফিসের একটি মোবাইল নম্বর তিন হলের ফটকে দেওয়া থাকবে। প্রয়োজনে ছাত্রীরা সেই নম্বরে যোগাযোগ করেও প্রক্টর অফিসের সহায়তা নিতে পারবেন। এদিকে এই তিন হলের সামনে পুলিশের টহল গাড়ি দেওয়ার জন্যও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে শিগগিরই চিঠি দেওয়া হবে।
এর আগে ভবঘুরে-উদ্বাস্তুদের সরিয়ে নিরাপদ ঢাবি ক্যাম্পাসের দাবিতে প্রক্টর বরাবর পাঁচ দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি প্রদান করে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের ঢাবি শাখার নেতা-কর্মীরা।
স্মারকলিপি প্রদান শেষে সংবাদ সম্মেলনে গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের ঢাবি শাখার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের বলেন, ‘ক্যাম্পাসে ভবঘুরে-ছিনতাইকারী ও অপ্রকৃতিস্থ মাদকসেবীদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল। আমাদের নারী শিক্ষার্থীরা অনেক সময় আতঙ্কে থাকে। সাম্য হত্যার বিচার যখন নিশ্চিত হচ্ছে না, ছয়দিনের মধ্যে। আমরা চাই অবিলম্বে সাম্য হত্যার বিচার নিশ্চিতের পাশাপাশি ভবঘুরে-উদ্বাস্তুদের সরিয়ে যেন নিরাপদ ঢাবি ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা হয়। একই সঙ্গে নারী শিক্ষার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে সেজন্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের দুই সময়ে মোবাইল টিমের সদস্যরা নিয়োজিত থাকে এবং শিক্ষার্থীরা যেন অস্বাভাবিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাহায্য পেতে পারে।’
/আরিফ জাওয়াদ/মাহফুজ