ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আগারগাঁওয়ে ‘রান ফর আর্থ’ আয়োজন সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডি লেকে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবি ডা. শফিকুর রহমানের ভারতীয় সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদে ধীরাজ শেঠ ‘তুই আসামি, চোখ নামিয়ে কথা বল’—ওসির বিরুদ্ধে নাঈম হাসানের অভিযোগ প্রযুক্তিদক্ষ তরুণরাই গড়বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী সোনারগাঁওয়ে উচ্চশিক্ষার নতুন দিগন্ত, বিশ্ববিদ্যালয় ও পলিটেকনিক হবে: শিক্ষামন্ত্রী জলবায়ু-সহনশীল ও পরিবেশ-বান্ধব পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ বিআইপির আলোচিত সিনেমার সিক্যুয়েল নিয়ে জয়া টেইলর সুইফটের নতুন রেকর্ড পরকালের আয়নায় আপনার কর্মফল দেখেছেন কি? সাংবাদিকতায় দলীয় লেজুড়বৃত্তিমুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন: মোস্তফা কামাল আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফনের তারিখ ঘোষণা নিজেকে সমকামী বলে কটাক্ষের জবাব দিলেন মৌনী ফ্যাশনে বিশ্বকাপ মাদক কারবারে হাজার কোটিপতির উত্থান, দাবি ভূমিমন্ত্রীর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা: পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশকে তুলে ধরে প্রশংসিত সঞ্জয় বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ১ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র এআই উদ্ভাবনে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির কৃতিত্ব, ফাইনালে ‘কগনিভার্স’ ‘সবুজ সাথী’ সম্মাননায় ভূষিত সিলেট সিটি করপোরেশন ঈশ্বরগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের ঝটিকা মিছিল ঘরেই মিলবে কৃত্রিম দিনের আলো চকরিয়া থেকে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির যাত্রা শুরু রাজশাহীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন ভূমিমন্ত্রী বিদেশি ঋণনির্ভর ও লুটপাটের বাজেট জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করবে না: গোলাম পরওয়ার শহিদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত ও পরিবারকে সহায়তা প্রধানমন্ত্রীর রংপুরে অভিনব উপায়ে দল পরিবর্তন করলেন ব্রাজিল সমর্থক সহধর্মিণীকে সঙ্গে নিয়ে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে তারেক রহমান আইভিএফে যমজ সন্তানের জন্ম, ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল না বাবা-মায়ের পরিচয়
Nagad desktop

নেদারল্যান্ডসে উচ্চশিক্ষা, আছে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৫, ১১:৩৪ এএম
নেদারল্যান্ডসে উচ্চশিক্ষা, আছে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ
ম্যাস্ট্রিচ ইউনিভার্সিটি ছবি: সংগৃহীত

নেদারল্যান্ডস উচ্চশিক্ষার জন্য ইউরোপের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্যস্থল। আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশ এবং তুলনামূলক কম খরচের কারণে আন্তজার্তিক শিক্ষার্থীরা দেশটিকে বেছে নেয় উচ্চশিক্ষার জন্য।

ভর্তির যোগ্যতা
নেদারল্যান্ডসের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো একটি জাতীয় মান নিয়ন্ত্রণকারী কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার আওতায় পরিচালিত হয়। ফলে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান অত্যন্ত ভালো। দেশটির বিশ্ববিদ্যালয় এবং কোর্সের ধরন অনুযায়ী এসব প্রোগ্রামের চাহিদাও ভিন্ন হয়ে থাকে। 
দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হতে হলে আপনাকে উচ্চ মাধ্যমিক বা স্কুল ডিপ্লোমা পাসের সনদ দেখাতে হবে। যদি আপনি ডাচ ভাষায় কোর্স করতে চান, তাহলে অবশ্যই ‘ডাচ এনটি টু’ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। আর স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ভর্তি হতে হলে ব্যাচেলর ডিগ্রি থাকতে হবে। সেই সঙ্গে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে। 
আইইএলটিএস পরীক্ষায় কমপক্ষে ৬.৫ স্কোর প্রয়োজন।
অথবা টোফেল পরীক্ষায় পেতে হবে ৫৫০ (পেপার ভিত্তিক) বা ২১৩ (কম্পিউটার ভিত্তিক) স্কোর।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময়
নেদারল্যান্ডসের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বছরে দুবার অর্থাৎ দুটি সেশনে আবেদন করার সুযোগ থাকে। একটি সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর/জানুয়ারি আর অপরটি ফেব্রুয়ারি-জুলাই/আগস্ট পর্যন্ত। ভর্তির ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ঘুরে দেখলে সেখানে সব তথ্য পেয়ে যাবেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওয়েবসাইট সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সোর্স। 

কাগজপত্র সত্যায়ন
ইউরোপীয় অন্যান্য দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো নেদারল্যান্ডসে আবেদন করতে ডকুমেন্টস সত্যায়নের প্রয়োজন পড়ে। আর সত্যায়নের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব পোর্টালে বলা থাকে। আপনার ডকুমেন্টস কার মাধ্যমে সত্যায়ন প্রয়োজন সেটা সম্পূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত।

ভর্তির আবেদন, অফার লেটার ও টিউশন ফি
নেদারল্যান্ডসের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইন আবেদন পোর্টাল ব্যবহার করে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ব্যাচেলর ফলাফল, সিভি, আইইএলটিএস পরীক্ষার স্কোর, জিআরই/জিম্যাট স্কোর, প্রেরণাপত্র, সুপারিশপত্র, ব্যাচেলর থিসিস বা ইন্টার্নশিপ রিপোর্ট ইত্যাদির ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করে থাকে। এগুলোর ভিত্তিতে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্সে ভর্তি হওয়ার সুযোগ দেয় অথবা ছয় মাসের বা এক বছরের  প্রি-মাস্টার্স কোর্স অফার করে থাকে। প্রি-মাস্টার্স কোর্স করার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া যায়। এ ছাড়া আপনি রিসার্চ ভিত্তিক মাস্টার্স প্রোগ্রামে আবেদন করতে পারেন। এই প্রোগ্রামের সুবিধা হলো আপনার পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদন করার পথ অনেকটা প্রশস্ত হয়ে যাওয়া। আর নেদারল্যান্ডসে রিসার্চভিত্তিক মাস্টার্স প্রোগ্রামে প্রচুর রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে আবেদনের সুযোগ আছে। এ ছাড়া রিসার্চভিত্তিক মাস্টার্স প্রোগ্রামে ফুল স্কলারশিপও পাওয়া যায়। দেশটিতে পড়তে বছরে খরচ হতে পারে প্রায় ৮ থেকে ২০ হাজার ইউরো। তবে পোস্ট ডক্টরাল প্রোগ্রামে মাসে প্রায় ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ইউরো বেতন হিসেবে পাওয়া যায় এবং পোস্ট ডক্টরাল প্রোগ্রামে টিউশন ফি দিতে হয় না।

আর্থিক সচ্ছলতার প্রমাণ
আর্থিক সচ্ছলতার প্রমাণ স্বরূপ আপনাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার ইউরো ট্রান্সফার করতে হবে অথবা খরচ করার ব্যাংক গ্যারান্টি দিতে হতে পারে। তবে চিন্তার কিছু নেই- নেদারল্যান্ডসে বসবাসের জন্য আপনার খরচ এই অঙ্কের অনেক কম। আর চাইলে এই অর্থ আপনি পরে তুলে নিতে পারবেন।

ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া
প্রথমত নেদারল্যান্ডসে ভিসা আবেদনের সময় আপনার পাসপোর্টের মেয়াদ থাকতে হবে এবং পাসপোর্ট ১০ বছরের পুরোনো হলে চলবে না। এ ছাড়া ব্যাংক স্টেটমেন্ট থাকতে হবে। জন্মসনদ, ভোটার আইডি থেকে শুরু করে অন্যান্য সব ডকুমেন্টসের সমন্বয়ে আপনাকে আবেদন করতে হবে। 

খণ্ডকালীন চাকরি ও জীবনযাত্রার ব্যয়
নেদারল্যান্ডসের খণ্ডকালীন চাকরির সুযোগ খুব কম এবং বেশির ভাগ কাজ রেস্টুরেন্টেই সীমাবদ্ধ। তবে কর্তৃপক্ষ আপনাকে সপ্তাহে ১৬ ঘণ্টা কাজ করার সুযোগ দেবে। কাজ করে পড়াশোনার ব্যয় চালানো কষ্টকর। তবে পড়াশোনা শেষ করার পর চাকরি খোঁজার জন্য নেদারল্যান্ডস কর্তৃপক্ষ আপনাকে এক বছরের ভিসা দেবে। আপনি যদি প্রযুক্তিগত শিক্ষা লাভ করেন কিংবা আইটিবিষয়ক দক্ষতা থাকে তবে নেদারল্যান্ডসে আপনার সুযোগ অনেক। দেশটিতে একজন শিক্ষার্থী শেয়ার ফ্ল্যাট নিলে প্রতি মাসে খরচ পড়বে ২৬০ থেকে ৩৫০ ইউরো। খাওয়া-দাওয়া বাবদ ৩০০ ইউরোর মতো খরচ হতে পারে। তবে চেষ্টা করলে থাকার জন্য ভার্সিটির মাধ্যমে হোস্টেল অথবা বাসা পাওয়া সম্ভব।

কোর্স শেষে চাকরি ও স্থায়ী বসবাসের সুযোগ
নেদারল্যান্ডসে কোর্স শেষ করার পর শিক্ষার্থীরা এক বছরের ভিসার মাধ্যমে চাকরি খুঁজতে পারেন। এই সময়ের মধ্যে চাকরি পেলে ওয়ার্ক পারমিটে রূপান্তর সম্ভব। স্থায়ী বসবাসের (PR) জন্য অন্তত পাঁচ বছর নেদারল্যান্ডসে থাকতে হয়। তবে এই সময়ে টানা ছয় মাসের বেশি দেশের বাইরে থাকলে আবেদন যোগ্যতা হারাতে পারেন। দেশটিতে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যায় আট বছর থাকার পর। তবে শিক্ষার্থী হিসেবে কাটানো সময়ের অর্ধেক গণনা হবে যেমন- পাঁচ বছর পড়াশোনা করলে ২.৫ বছর ধরা হবে।

লেখক: শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

/রিয়াজ

এআই উদ্ভাবনে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির কৃতিত্ব, ফাইনালে ‘কগনিভার্স’

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৬:১০ পিএম
এআই উদ্ভাবনে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির কৃতিত্ব, ফাইনালে ‘কগনিভার্স’
মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ‘কগনিভার্স’ দল। ছবি:খবরের কাগজ

দেশের অন্যতম বৃহৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা ‘দ্য ইনফিনিটি এআই বিল্ডফেস্ট ২০২৬’-এর চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিয়েছে সিলেটের মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ‘কগনিভার্স’ দল।

রাজধানীর ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতার ফাইনাল রাউন্ডে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংখ্য মেধাবী দল ও প্রতিযোগীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এই সাফল্য অর্জন করেন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী রাতুল সাহা রায় (৫৯তম ব্যাচ), শুভ সূত্রধর (৫৯তম ব্যাচ) এবং অনিদ্র পাল (৬২তম ব্যাচ)।

শনিবার (১৩ জুন) মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির জনসংযোগ শাখা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ শাখা জানায়, ‘দ্য ইনফিনিটি এআই বিল্ডফেস্ট ২০২৬’ মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান তৈরির একটি জাতীয় প্রতিযোগিতা। এতে অংশগ্রহণকারী দলগুলো বাস্তব সমস্যার প্রযুক্তিভিত্তিক সমাধান, বুদ্ধিমান সফটওয়্যার, যন্ত্রশিক্ষণ এবং আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ব্যবহারিক প্রয়োগ উপস্থাপন করে। মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ‘কগনিভার্স’ দল জিওগ্রাফি ও অ্যাস্ট্রনমি বিষয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আলোকে সমস্যার সমাধান নিয়ে কাজ করে চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেয়।

প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করে বাংলাদেশ ক্লাউড ক্যাম্প, সহ-আয়োজক হিসেবে ছিল ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি। এছাড়া বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতাটির কৌশলগত, প্রযুক্তিগত ও করপোরেট অংশীদার হিসেবে যুক্ত ছিল। প্রযুক্তি সহযোগীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস, লাভেবল, রোবাস্ট, ক্যারিয়ার ক্যানভাস, ডায়ানাহোস্ট এবং অ্যাস্ট্রোনাস টেকসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

এ সাফল্যের জন্য ‘কগনিভার্স’ দল এখন অভিনন্দিত হচ্ছে। মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি জিওগ্রাফি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির (মুগাস) সভাপতি ও ইইই বিভাগের সিনিয়র লেকচারার আহমেদ ইসতিয়াকুর রহমান অভিনন্দন বার্তায় দলের সদস্যদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই অর্জন অত্যন্ত গৌরবের। জাতীয় পর্যায়ের এমন প্রতিযোগিতায় চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছানো তাদের মেধা, সৃজনশীলতা ও কঠোর পরিশ্রমের স্বীকৃতি।’ মুগাসের কোষাধ্যক্ষ ও সিএসই বিভাগের লেকচারার ইশরার নাজাহ চৌধুরী বলেন, ‘এই সাফল্য বর্তমান ও ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি ও গবেষণাভিত্তিক কর্মকাণ্ডে আরও উৎসাহিত করবে।’

অভিনন্দন জানিয়েছেন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী। এক অভিনন্দন বার্তায় তিনি বলেন, ‘জাতীয় পর্যায়ের এই অর্জন কেবলই ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরঞ্চ এটি মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির প্রযুক্তিগত শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনী চিন্তা ও চর্চারও একটি উজ্জ্বল প্রতিফলন।’ ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান তানভীর এমও রহমান চৌধুরী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করে বলেন, ‘ধারাবাহিকভাবে শিক্ষার্থীরা তাদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তির স্বাক্ষর রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম আরও সমুন্নত রাখবে।’

এসএন/

চুয়েট জব ফেয়ার-২০২৬: চাকরিপ্রত্যাশীদের পদচারণায় মুখর ক্যাম্পাস

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৪:৩৭ পিএম
চুয়েট জব ফেয়ার-২০২৬: চাকরিপ্রত্যাশীদের পদচারণায় মুখর ক্যাম্পাস
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘চুয়েট জব ফেয়ার-২০২৬’।

শনিবার (১৩ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্কেটবল মাঠে আয়োজিত এ চাকরি মেলা ছিল তিন দিনব্যাপী ‘চুয়েট ক্যারিয়ার ফেস্ট ২০২৬’-এর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।

সকাল থেকেই চাকরি মেলায় শিক্ষার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্কেটবল মাঠজুড়ে স্থাপিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টলে ভিড় করেন চাকরিপ্রত্যাশীরা। কেউ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কর্মপরিবেশ, নিয়োগ প্রক্রিয়া ও ক্যারিয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন, আবার কেউ সরাসরি জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) জমা দেন। পুরো এলাকা দিনভর ছিল উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত।

মেলায় এন. মোহাম্মদ গ্রুপ, বিএসআরএম, প্রাণ, সিনজেনটা, ইস্পাহানিসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় একাধিক প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের বিভিন্ন সুযোগ সম্পর্কে ধারণা দেন।

প্রাণ গ্রুপের নিয়োগ ও মানবসম্পদ বিভাগের সহকারী ম্যানেজার মো. জুবায়ের হোসেন খবরের কাগজকে জানান, “আজকের এই মেলার পরিবেশ অসাধারণ। গত দুই-তিন বছরের তুলনায় এবার প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আমরা বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছি। প্রোডাকশন, মেইনটেন্যান্স, সাপ্লাই চেইন, আইটি প্রভৃতি ক্ষেত্রে আমরা তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল, যন্ত্রকৌশল, বস্তু ও ধাতব কৌশল  বিভাগের শিক্ষার্থীদের প্রতি আমাদের আগ্রহ রয়েছে। নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যপুস্তক জ্ঞানের পাশাপাশি ইতিবাচক উপস্থাপনার দিকেও আমাদের নজর থাকে। ”

টেকসই ও নিরাপদ কৃষি নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান সিনজেনটার সহকারী ম্যানেজার প্রদীপ্ত সাহা জানান, “অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও উদ্দীপনা আমাদের মুগ্ধ করেছে। প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইইই, যন্ত্রকৌশল, মেকাট্রনিক্স বিভাগ থেকে আমরা প্রতিবছরই ইন্টার্ন শিক্ষার্থী নেই। ইতোমধ্যেই চুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী নুসরাত ও পরশ আমাদের প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত আছেন। দক্ষতা ও নিজেকে উপস্থাপনায় পারদর্শী শিক্ষার্থীরা যাতে আমাদের সাথে যুক্ত হয়, সেই আশাবাদ ব্যক্ত করছি।”

চাকরি মেলায় অংশ নেওয়া যন্ত্রকৌশল বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী সিয়াম ইসলাম বলেন, “একসঙ্গে এতগুলো প্রতিষ্ঠানের কাছে সিভি জমা দেওয়ার সুযোগ পাওয়া সত্যিই দারুণ অভিজ্ঞতা। এতে চাকরির বাজার সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পাওয়া যায় এবং নিজের প্রস্তুতি যাচাই করার সুযোগ তৈরি হয়।”

চুয়েট ক্যারিয়ার ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অংকন চৌধুরী বলেন, “চাকরি মেলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা করপোরেট জগতের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের সুযোগ পেয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে তারা নিজেদের ক্যারিয়ার পরিকল্পনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা লাভ করতে পেরেছে।”

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুপুর ১ পর্যন্ত আয়োজিত এ চাকরি মেলায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঁচ শতাধিক জীবনবৃত্তান্ত জমা পড়েছে। 

উল্লেখ্য, গত ১১ জুন শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী ‘চুয়েট ক্যারিয়ার ফেস্ট ২০২৬’-এর প্রথম দিনে অনুষ্ঠিত হয় হুয়াওয়ে প্রযুক্তিগত কর্মশালা এবং অন-ক্যাম্পাস নিয়োগ পরীক্ষা। দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত হয় উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন, রবি আজিয়াটা প্রযুক্তিগত কর্মশালা, করপোরেট সেশন, বিসিএস ও ব্যাংক চাকরি প্রস্তুতিবিষয়ক আলোচনা এবং কেস কম্পিটিশন ‘প্রেজেন্টএক্স’-এর সেমিফাইনাল ও ফাইনাল পর্ব।

উৎসবের শেষ দিনে চাকরি মেলার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও উদ্যোক্তা উন্নয়নবিষয়ক সেমিনার, করপোরেট দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালা, সমাপনী অনুষ্ঠান এবং পুরস্কার বিতরণের আয়োজন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘চুয়েট ক্যারিয়ার ফেস্ট ২০২৬’-এর সফল সমাপ্তি ঘটে।

ইবাদ হোসেন/এসএন

পরিবেশ রক্ষায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ জাককানইবির এক শিক্ষার্থীর

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৩:২৩ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৩:৩৩ পিএম
পরিবেশ রক্ষায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ জাককানইবির এক শিক্ষার্থীর
ছবি: সংগৃহীত

ট্রেন ছুটে চলেছে নড়াইল থেকে ঢাকার পথে। আর ওই ছুটে চলা সময়েই প্রকৃতিকে সাজানোর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) শিক্ষার্থী শেখ সাকিবুর রহমান। তিনি নড়াইল থেকে ঢাকায় রূপসী বাংলা এক্সপ্রেসে যাওয়ার পথে এবং জাহানাবাদ এক্সপ্রেসে ঢাকা থেকে নড়াইলে ফেরার পথে রেললাইনের দুই ধারে ২০ হাজার খেজুর বীজ ও এক হাজার কাঁঠালের বীজ ছড়িয়েছেন।

মঙ্গলবার (৯ জুন) গাছ বন্ধু নেটওয়ার্কের সহযোগিতায় তিনি গাছের বীজ ছড়ানোর মতো মহৎ একটি কাজ করেন।

শেখ সাকিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের একজন শিক্ষার্থী। বীজ ছড়ানোর বিষয়ে তিনি খবরের কাগজকে বলেন, কিছু পাগলামিতে যদি কিছু জীবনের জন্ম হয় তো আমি এমন পাগলামি বারবার করতে চাই। গাছ আমাদের বন্ধু। আর তাল গাছ, খেজুর গাছ এগুলো বজ্রপাত প্রতিরোধী। এজন্য গাছ লাগানোর ক্ষেত্রে আমি এই দুটো গাছ বেশি লাগাই যেন বজ্রপাতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হয়। কিন্তু আজ পৃথিবীতে অতিরিক্ত হারে গাছ কাটা হচ্ছে। যা নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করছে প্রকৃতিতে। চারিদিকে যখন গাছ কাটার মহোৎসব চলছে, তখন আমি প্রকৃতিতে কিছু প্রাণের সঞ্চার করার জন্য এই বীজ ছড়িয়েছি। সবুজ ছড়িয়ে পড়ুক সারা বিশ্বে।

উল্লেখ্য, তিনি এর আগেও এমন সামাজিক কাজকর্ম করেছেন। গত ১১ মে নিজ উদ্যোগে নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবন সংলগ্ন পুকুরের প্লাস্টিক ও অপচনশীল বর্জ্য পরিষ্কার করেন।

এ ছাড়াও ১৬ মে তিনি বিভিন্ন দেয়াল ও বেলকনিতে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো ৪৫-৫০টি বটগাছের চারা সংগ্রহ করে ত্রিশাল উপজেলার বিভিন্ন রাস্তা ঘুরে ঘুরে রাস্তার পাশ দিয়ে ও বিভিন্ন ব্রিজের পাশে রোপণ করেন।

তাসনিম রাফি/তামান্না রুপা/

শাবিপ্রবি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ জ্বালানিপ্রতিষ্ঠানে ড. সাকিব

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম
শাবিপ্রবি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ জ্বালানিপ্রতিষ্ঠানে ড. সাকিব
কর্মস্থলে সহকর্মীদের সঙ্গে ড. আহমেদ নাজমুস সাকিব। ছবি : সংগৃহীত

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রাক্তন শিক্ষার্থী ড. আহমেদ নাজমুস সাকিব যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় জ্বালানিপ্রতিষ্ঠান ডিটিই এনার্জির সিনিয়র প্রকৌশলী পদে যোগদান করেছেন। 

এই অর্জন শুধু তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবদান। বহির্বিশ্বে ড. সাকিবের কর্মদক্ষতা বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সক্ষমতার আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। 

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড পলিমার সায়েন্স বিভাগের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সাকিব যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ খাতের অন্যতম বড় প্রতিষ্ঠান ডিটিই এনার্জির বিদ্যুৎ, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রতিষ্ঠানটি লাখো গ্রাহককে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়ার পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রযুক্তির উন্নয়নেও কাজ করছে।

এমন একটি প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র প্রকৌশলী হিসেবে ড. সাকিবের যোগদান তার দক্ষতা ও গবেষণা সক্ষমতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বহন করে।

শাবিপ্রবির কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড পলিমার সায়েন্স বিভাগ থেকে একাডেমিক ভিত্তি গড়ে তোলা ড. সাকিব শুরু থেকেই গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনী কাজের প্রতি আগ্রহী ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে অর্জিত জ্ঞান, গবেষণাভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছেছেন। 

তার পদায়নে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান বিশ্বে জ্বালানি খাতে প্রযুক্তিগত রূপান্তর এবং টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় দক্ষ প্রকৌশলীদের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। ড. আহমেদ নাজমুস সাকিবের এই সাফল্য বাংলাদেশের তরুণ প্রকৌশলীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

ইসফাক আলী/আজহার

গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির অগ্রণী ভূমিকা

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১২:১৮ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ১২:৩০ পিএম
গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির অগ্রণী ভূমিকা
ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ব্যবহারিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক প্রকৌশল শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদে আধুনিক ল্যাবরেটরি, ফলাফলভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা বা Outcome-Based Education (OBE), ডিজিটাল লার্নিং প্ল্যাটফর্ম, গবেষণামুখী পরিবেশ এবং শিল্প-সংযুক্ত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

প্রকৌশল শিক্ষায় তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের বিষয় টিকে গুরুত্ব দিয়ে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে বর্তমানে ৫৫টিরও বেশি আধুনিক ও সুসজ্জিত ল্যাবরেটরি রয়েছে।

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, মেকাট্রনিক্সসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ল্যাব কার্যক্রম, প্রজেক্ট ডিজাইন, গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর অনুশীলনের মাধ্যমে বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে।

বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার গুরুত্ব বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়টি একটি সমন্বিত ডিজিটাল লার্নিং প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা লাইভ ক্লাস, লেকচার, অ্যাসাইনমেন্ট, একাডেমিক মূল্যায়ন, আলোচনা ফোরাম এবং অন্যান্য শিক্ষাসহায়ক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারে। পাশাপাশি সমৃদ্ধ ই-লাইব্রেরির মাধ্যমে দেশি-বিদেশি গবেষণা জার্নাল, ই-বুক ও একাডেমিক প্রকাশনায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল শিক্ষা যুগোপযোগী কারিকুলামের পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত Outcome-Based Education (OBE) কাঠামোর আলোকে পরিচালিত হয়। এই পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষার ফলাফলের ওপর নয়, বরং সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, উদ্ভাবনী চিন্তা, গবেষণার সামর্থ্য এবং পেশাগত প্রস্তুতির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের গুণগত মান নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের Institutional Quality Assurance Cell (IQAC) সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

IQAC-এর মাধ্যমে নিয়মিত একাডেমিক অডিট, পাঠদান পদ্ধতির মূল্যায়ন এবং ধারাবাহিক মানোন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষার উৎকর্ষ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে IQAC বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও সচেতনতামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে।

ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের অন্যতম শক্তি হলো এর দক্ষ ও গবেষণামুখী শিক্ষকবৃন্দ। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০ জনের বেশি অভিজ্ঞ ও যোগ্যতাসম্পন্ন পূর্ণকালীন শিক্ষক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৫০ জনের বেশি পিএইচডি ডিগ্রিধারী শিক্ষক ও গবেষক কর্মরত আছেন। তাঁদের শিক্ষা, গবেষণা ও একাডেমিক নেতৃত্ব শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সমৃদ্ধ শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করেছে।

ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ নিয়মিতভাবে গবেষণা কার্যক্রমে আর্থিক সহায়তা প্রদান, গবেষণা অনুদান বা Research Grant বরাদ্দ এবং বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্পে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করে থাকে। শিক্ষক ও গবেষকদের আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা, জার্নাল প্রকাশনা, সম্মেলনে অংশগ্রহণ এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও তহবিল প্রদান করা হচ্ছে। এর ফলে গবেষণামুখী শিক্ষার পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরাও গবেষণা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

শিল্প-সংযোগ আরও শক্তিশালী করতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ১০০টিরও বেশি সমঝোতা স্মারক বা MoU স্বাক্ষরিত হয়েছে। এসব সহযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টার্নশিপ, শিল্প-সংযুক্ত প্রশিক্ষণ, যৌথ গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কনসালটিং ফার্ম, নির্মাণপ্রতিষ্ঠান, সফটওয়্যার কোম্পানি এবং প্রযুক্তি খাতে
ইন্টার্নশিপ ও প্রকল্পভিত্তিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছে।

নিয়মিত সেমিনার, ওয়ার্কশপ, ইন্ডাস্ট্রি ভিজিট, টেকনিক্যাল প্রতিযোগিতা এবং ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট কার্যক্রমের মাধ্যমেও শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্র- উপযোগী দক্ষতা অর্জনে উৎসাহিত করা হয়।

কর্মজীবী ও ডিপ্লোমা প্রকৌশলী শিক্ষার্থীদের জন্যও বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ একাডেমিক ব্যবস্থা রয়েছে। তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব ও সময়ের বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে শুক্রবার ও শনিবার তাত্ত্বিক ক্লাসের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ল্যাব ক্লাস পরিচালনা করা হয়। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে পরিবহন সুবিধা প্রদান করা হয়।

শিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার প্রতিফলন হিসেবে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন র‌্যাঙ্কিংয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। WURI Ranking 2026-এ বিশ্বের উদ্ভাবনী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ১৩৩তম স্থান এবং বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ৪র্থ অবস্থান অর্জন করেছে।

পাশাপাশি Financial Impact-Driven Technology Transfer (C8) ক্যাটাগরিতে ৭ম, Digital and AI Transformation in Strategy and Management (B3) ক্যাটাগরিতে ৮ম, Funding for Sustainability (B5) ক্যাটাগরিতে ১৫তম, Future-Oriented Responses to Global Uncertainty and
Geopolitical Risk (A7) ক্যাটাগরিতে ২১তম এবং Industrial Application (A3) ক্যাটাগরিতে ২৪তম স্থান অর্জন করেছে। একইভাবে QS Asia University Rankings 2026 এবং UI GreenMetric World University Rankings 2025-এও বিশ্ববিদ্যালয়টির অর্জন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এর ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতা, উদ্ভাবনী সক্ষমতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক উৎকর্ষতার স্বীকৃতি বহন করে।

ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ আধুনিক অবকাঠামো, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কারিকুলাম, গবেষণামুখী শিক্ষা, শিল্প-একাডেমিক সহযোগিতা এবং দক্ষ শিক্ষকবৃন্দের সমন্বয়ে জাতীয় ও বৈশ্বিক চাহিদা পূরণে সক্ষম প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদ তৈরির লক্ষ্যে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।দেশের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ওমানবসম্পদ বিকাশেও বিশ্ববিদ্যালয়টি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

বিজ্ঞপ্তি