রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাসের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন কর্মসূচিতে হামলার পর নানা টানাপোড়েনে তিন মাসেও খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) পরিস্থিতির সমাধান হয়নি। শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক আন্দোলনের কারণে অন্তর্বর্তীকালীন ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় ড. মো. হযরত আলীকে।
এবার শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে যোগদানের ১৮ দিনের মাথায় পদত্যাগ করলেন ভিসি ড. মো. হযরত আলী। এতে নতুন করে অনিশ্চয়তার বেড়াজালে আটকে গেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠিানটি। কবে নাগাদ নতুন ভিসির নিয়োগ হবে কিংবা কবে থেকে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম চালু করা যাবে, জানেন না কেউ।
গতকাল বৃহস্পতিবার ভিসির পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুয়েটের রেজিস্ট্রার ইঞ্জিনিয়ার মো. আনিসুর রহমান।
শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. ফারুক হোসেন জানান, ‘আমরা শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটনায় তার (ভিসি) কাছে বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্নের দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি এককভাবে তা আটকে রাখেন। নিয়মানুযায়ী শৃঙ্খলা কমিটি এ ঘটনায় অভিযুক্তদের শোকজ করেছে। এখন বিচারিক কার্যক্রম শেষ করার কথা। কিন্তু প্রশাসন তা না করায় শিক্ষক সমিতি কঠোর অবস্থান নেয়।’
এদিকে শিক্ষক সমিতি ১৯ মে ভিসির কক্ষে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করলে ক্যাম্পাস ছাড়েন ড. হযরত আলী। পরে ২১ মে শিক্ষক সমিতি তার প্রতি আনুষ্ঠানিক অনাস্থা জানিয়ে কুয়েটে নতুন একজন পূর্ণাঙ্গ ভিসি নিয়োগের দাবি জানায়।
একই দাবিতে গতকাল সকালেও ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করে শিক্ষক সমিতি। ক্যাম্পাসে দুর্বার বাংলা পাদদেশের সামনে মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন কুয়েট শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রফেসর গোলাম কাদের।
শিক্ষক সমিতির নেতারা বলেন, ‘আমরা কুয়েটের অচলাবস্থা নিরসনে একজন পূর্ণাঙ্গ ভিসি নিয়োগের দাবি করেছি। আমরা মনে করি, সাময়িকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত একজন ভিসির পক্ষে দায়িত্ব নিয়ে কুয়েটের দীর্ঘদিনের সংকট নিরসন করা সম্ভব নয়। নতুন ভিসি নিয়োগ হলে তার সঙ্গে শিক্ষক সমিতি বৈঠক করে উদ্ভূত পরিস্থিতি তুলে ধরবে। তারপর তিনি অচলাবস্থা নিরসনে পদক্ষেপ নেবেন। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত হলেই শিক্ষকরা ক্লাসে ফিরবেন।’
এদিকে শিক্ষার্থীরা জানান, ভিসির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে সংকট আরও জটিল হলো। তারা বলছেন, শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কোনো বিবাদ নেই। আমরা বারবার তাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম চালুর অনুরোধ করেছি। কিন্তু তারা তাদের অবস্থানেই অনড় রয়েছেন। এরই মধ্যে কুয়েটে বড় ধরনের সেশনজট তৈরির শঙ্কা দেখা দিয়েছে।’
উল্লেখ্য, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ১ মে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন ভিসি হিসেবে ড. মো. হযরত আলীকে নিয়োগ দেয়। ৩ মে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে ২৫ এপ্রিল শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক আন্দোলনের মুখে সাবেক ভিসি মুহাম্মদ মাছুদকে অব্যাহতি দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।