বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যেন বাসের অবস্থান জানতে পারেন, সেই লক্ষ্যে দেশে প্রথমবারের মতো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে জিপিএস ট্রাকিংয়ের অন্তর্ভুক্ত পরিবহন সেবা চালু করার পরিকল্পনা করেছিল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি)। পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হলেও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও তত্ত্বাবধানের অভাবে বর্তমানে বন্ধ হয়ে আছে প্রকল্পটি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাতায়াতের জন্য পরিবহন সেবা থাকলেও অনেক সময় ট্রাফিক জ্যাম, যান্ত্রিক ত্রুটিসহ নানা কারণে বাসের সময়ের তারতম্য হয়। এতে বাসের সঠিক অবস্থান সম্পর্কে জানতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সময়ের তারতম্য হলে অনেক সময় বাসের স্টপেজে অপেক্ষারত থাকতে হয়। এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে শাবিপ্রবির তৎকালীন প্রশাসনের উদ্যোগে বাসে জিপিএস ট্রেকিংয়ের পরিকল্পনা করে। সেই সময়ে ‘মাই সাস্ট’ নামের এই সেবা বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বলে জানিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসন। এটা নিয়ে গত বছরের ৭ জানুয়ারি ‘হাতের মুঠোয় পরিবহন সেবা’ শিরোনামে খবরের কাগজে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। কিন্তু দীর্ঘ দেড় বছরেও এই প্রকল্প সম্পূর্ণভাবে আসেনি। ব্যবহার না হওয়ায় নষ্ট হয়ে গেছে অধিকাংশ ট্রেকিং ডিভাইস। চুক্তিবদ্ধ কোম্পানির সঙ্গেও আর যোগাযোগ নেই বর্তমান প্রশাসনের।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নুর মোহাম্মদ আশিক বলেন, ‘গত বছর পরীক্ষামূলকভাবে মাই সাস্ট অ্যাপ চালুর সময় বাস ট্র্যাকিং ফিচারটি ছিল আমাদের জন্য আশীর্বাদের মতো। এতে টিউশন শেষে সহজেই জানতে পারতাম বাস কোথায় আছে, কতক্ষণে আসবে। এখন ফিচারটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমাদের ভোগান্তি বাড়ছে। যদি এটি আবার চালু করা যায়, আর এর সঙ্গে একটি চ্যাটবট যুক্ত হয়- যেখানে প্রশ্ন করলেই বাসের বর্তমান অবস্থান জানা যাবে, তাহলে শিক্ষার্থীরা আরও উপকৃত হবে। ট্রাফিক জ্যামের কারণে বাস দেরি হলেও আগে থেকেই খবর পেলে স্টপেজে দাঁড়িয়ে অযথা সময় নষ্ট করতে হবে না।’
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক আ ফ ম জাকারিয়া বলেন, ‘বিগত প্রশাসনের আমলে তারা একটা প্রাইভেট কোম্পানির মাধ্যমে এ রকম একটা প্রজেক্ট করার চেষ্টা করেছিলেন। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর ওই কোম্পানি যখন বিল চায়, তখন খোঁজ নিয়ে দেখি, তারা আসলে তেমন কোনো কাজই করেনি। এদিকে অধিকাংশ জিপিএস ট্রেকিং ডিভাইসগুলোও ইতোমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে। খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছিল তারা ভালোভাবে সফটওয়্যার ডেভেলপ বা পাবলিশ করেনি। ট্রেকিংয়ের যে ডিভাইসগুলো দিয়েছিল সেগুলোও নষ্ট। তাই পরে আমরা চুক্তি বাতিল করে দিয়েছি। কিন্তু ভবিষ্যতে আমাদের পরিকল্পনা আছে এটা নিয়ে কাজ করার।’
এ বিষয়ে সাবেক পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘সে সময়ে আমরা ডিভাইসগুলো সাময়িকভাবে চালু করেছিলাম। কিন্তু তখন ডিভাইসগুলো অ্যাপের সঙ্গে খাপ খেতে সময় লাগছিল। পরে আমরা নতুন করে আবার অ্যাপের অর্ডার দিয়েছিলাম। কিন্তু যাদের অ্যাপ দেওয়ার কথা ছিল, তারা সেটা দিতে দেরি করে। পরে আন্দোলন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে কাজটা আর এগোয়নি। সব ডিভাইস এখনো গাড়িতে লাগানো আছে এবং প্রশাসন চাইলে এখনো সেটি চালু করতে পারে। কিন্তু বর্তমানে যারা দায়িত্বে আছেন, তারা আর সেটি নিয়ে কাজ না করায় সেভাবেই আটকে আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে এই প্রযুক্তিটি খুবই জনপ্রিয়। প্রাইভেট গাড়ি বা কোম্পানির মালিক মোটামুটি সবাই এটি ব্যবহার করেন। অ্যাপের মাধ্যমে আমি বাসায় বসে দেখতে পারব বাস এখন কোন জায়গায় আছে। এতে করে আমি কখন বের হব, কোথায় দাঁড়াব বা কোন জায়গায় গেলে বাসটা পাওয়ার সম্ভাবনা আছে এ রকম অনেক উপকার আছে।’
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ শহিদুর রহমান বলেন, ‘প্রযুক্তিটি আইসিটি সেলের অধীনে করা হয়নি। এটা ট্রান্সপোর্ট সেকশন করেছিল। আইসিটি সেন্টার জড়িত ছিল না এখানে। সফটওয়্যার হার্ডওয়্যার দুই-ই কোনো একটা কোম্পানির কাছ থেকে চুক্তি করে নেওয়া হয়েছিল ভাড়ার মতো। পরে পরিবহন প্রশাসক পরিবর্তন হওয়াতে এটা নিয়ে আর কাজ এগোয়নি।’