ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
‘সবুজ সাথী’ সম্মাননায় ভূষিত সিলেট সিটি করপোরেশন ঈশ্বরগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের ঝটিকা মিছিল ঘরেই মিলবে কৃত্রিম দিনের আলো চকরিয়া থেকে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির যাত্রা শুরু রাজশাহীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন ভূমিমন্ত্রী বিদেশি ঋণনির্ভর ও লুটপাটের বাজেট জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করবে না: গোলাম পরওয়ার শহিদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত ও পরিবারকে সহায়তা প্রধানমন্ত্রীর রংপুরে অভিনব উপায়ে দল পরিবর্তন করলেন ব্রাজিল সমর্থক সহধর্মিণীকে সঙ্গে নিয়ে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে তারেক রহমান আইভিএফে যমজ সন্তানের জন্ম, ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল না বাবা-মায়ের পরিচয় ১০ জেলা হাসপাতালে আইসিইউ চালু হচ্ছে রবিবার মানুষকে রোগ সম্পর্কে সচেতন করছে তথ্যপ্রযুক্তি তারেক রহমানের ভিশন বাস্তবায়নে যুবদল অগ্রণী ভূমিকা রাখবে: মির্জা ফখরুল গ্রামীণ কাঁচা সড়ক পাকাকরণ জরুরি‎ আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা এবং রাজস্ব ব্যবস্থায় সংস্কার কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে রিকশাচালককে গণপিটুনি রাজবাড়ীতে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল সৌদি কারাগারে মৃত্যু, ২৮ দিন পর দেশে মরদেহ ইতিহাস গড়ার পথে হন্ডুরাসের রেফারি সিরাজউদ্দৌলা নাটকের ৪টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির বাংলা ১ম পত্র মরক্কো ‘আন্ডারডগ’ নয়, ট্রফি জিততেই মাঠে নামবে: ওয়াহবি তামাকের বিকল্প হিসেবে মলোখিয়া ব্যবহার করছেন গাজার ধূমপায়ীরা চুয়েট জব ফেয়ার-২০২৬: চাকরিপ্রত্যাশীদের পদচারণায় মুখর ক্যাম্পাস জনআকাঙ্ক্ষার বাজেট এবং নানামুখী চ্যালেঞ্জ হাছন রাজাকে উৎসর্গ করে প্রাণ বন্ধের সনে ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তা, পুলিশের এক সোর্স আটক রমেকে রোগীর মৃত্যু ঘিরে চিকিৎসক-স্বজনদের হাতাহাতি গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তা, বিচার দাবি বাবার খুলনায় উপকূলীয় নারীদের জীবনসংগ্রাম নিয়ে আলোকচিত্র প্রদর্শনী
Nagad desktop

জাকসু নির্বাচনে বিভিন্ন অভিযোগ, ভোট বর্জন

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:৫৭ এএম
আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:৫৯ এএম
জাকসু নির্বাচনে বিভিন্ন অভিযোগ, ভোট বর্জন
ছবি: খবরের কাগজ

অনিয়ম ও প্রার্থীদের পাল্টাপাল্টি নানা অভিযোগের মধ্যদিয়ে ৩৩ বছর পর গতকাল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হলো। বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণের কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের পরও কিছু হলে ভোট নেওয়া হয়েছে। রাত ৮টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত ভোট গ্রহণ হয়েছে কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলে। জাকসুতে সবচেয়ে বেশি ভোটার এই হলে। ভোট গ্রহণ শুরুর ৬ ঘণ্টা পর সংবাদ সম্মেলন করে বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে ছাত্রদল।

আর পোলিং এজেন্টসহ কয়েকটি বিষয়ে অসঙ্গতি পাওয়ার অভিযোগ তুলেছে ছাত্রশিবিরের প্যানেল। সমন্বিতভাবে ওঠা বাকি অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে নির্বাচন কমিশনের প্রতি ছাত্র ইউনিয়নের (একাংশ) প্যানেলের অনাস্থা। তাদের অভিযোগ, এই নির্বাচন যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে হচ্ছে না। অনিয়ম শুরু হয়েছে সম্প্রীতির ঐক্যের ভিপি প্রার্থী অমর্ত্য রায়ের প্রার্থিতা জোরপূর্বক এবং ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বাতিল করার মধ্য দিয়ে। ছাত্রদলের প্যানেলের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা বিএনপিপন্থি কয়েকজন শিক্ষকও নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।

অনিয়ম ও অভিযোগের কারণে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে নতুন তফসিলের মাধ্যমে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়ে জাকসু নির্বাচন বয়কট করেছে সম্প্রীতির ঐক্য, সংশপ্তক পর্ষদ, স্বতন্ত্র অঙ্গীকার পর্ষদ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তবে শিবিরসমর্থিত প্যানেল নেতারা বলেছেন, পরাজয় জেনেই ভোট বর্জন করেছে ছাত্রদলের প্যানেল নেতারা।

 
এদিকে হাতে ভোট গণনার কারণে নির্বাচনের ফল প্রকাশে বিলম্ব হতে পারে। নির্বাচন কমিশনের সদস্যসচিব অধ্যাপক রশিদুল আলম খবরের কাগজকে জানিয়েছেন, ‘ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে গণনা হওয়ায় ফলাফল জানতে শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।’

জানা গেছে, জাকসু নির্বাচনে ভোট গ্রহণের পাঁচ ঘণ্টা পর শুরু হয়েছে গণনা। গতকাল রাত ১০টা ১৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে ভোট গণনার কার্যক্রম শুরু হয়।

কোন হলে কত ভোট পড়েছে
নির্বাচন কমিশন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আল বেরুনী হলে ২১১ ভোটের বিপরীতে ১২৫, আ ফ ম কামাল উদ্দিন হলে ৩৪১ ভোটের বিপরীতে ২১৬, মীর মশাররফ হোসেন হলে ৪৬৪ ভোটের বিপরীতে ৩১০, নওয়াব ফয়জুন্নেসা হলে ২৮০ ভোটের বিপরীতে ১৩৭, শহিদ সালাম-বরকত হলে ২৯৯ ভোটের বিপরীতে ২২৪, মওলানা ভাসানী হলে ৫১৪ ভোটের বিপরীতে ৩৮৪, জাহানারা ইমাম হলে ৩৬৭ ভোটের বিপরীতে ২৪৭, প্রীতিলতা হলে ৩৯৯ ভোটের বিপরীতে ২৪৬, বেগম খালেদা জিয়া হলে ৪০৯ ভোটের বিপরীতে ২৪৯, ১০ নং (ছাত্র) হলে ৫৪১ ভোটের বিপরীতে ৩৮১, শহিদ রফিক-জব্বার হলে ৬৫৬ ভোটের বিপরীতে ৪৭০, বেগম সুফিয়া কামাল হলে ৪৫৬ ভোটের বিপরীতে ২৪৬, ১৩ নং (ছাত্রী) হলে ৫৩২ ভোটের বিপরীতে ২৭৯, ১৫ নং (ছাত্রী) হলে ৫৭১ ভোটের বিপরীতে ৩৩৮, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলে ৩৫০ ভোটের বিপরীতে ২৬১, রোকেয়া হলে ৯৫৫ ভোটের বিপরীতে ৬৮০, ফজিলাতুন্নেছা হলে ৮০৩ ভোটের বিপরীতে ৪৮৯, বীর প্রতীক তারামন বিবি হলে ৯৮৪ ভোটের বিপরীতে ৫৯৫, ২১ নং (ছাত্র) হলে ৭৩৫ ভোটের বিপরীতে ৫৬৪, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলে ৯৯১ ভোটের বিপরীতে ৮১০, শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ হলে ৯৪৭ ভোটের বিপরীতে ৭৫২ ভোট পড়েছে।

ভোট গ্রহণে ধীরগতি, দীর্ঘ লাইন
বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি আবাসিক হলে স্থাপিত ২২৪টি বুথে সকাল ৯টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। তবে অনেক হলে ভোট গ্রহণের গতি ধীর থাকায় দীর্ঘ লাইন তৈরি হয় এবং সময়মতো ভোট শেষ না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলে ৯৮০ জন ভোটারের মধ্যে বেলা ৩টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত প্রায় ৭০ শতাংশের ভোট হয়েছে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বরত একজন পোলিং অফিসার। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ লাইনে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন ভোটাররা। হলের রিটার্নিং অফিসার অধ্যাপক মীর ফেরদৌস হোসেন বলেন, ‘পাঁচটার আগে যারা লাইনে ছিলেন, তাদের ভোট অবশ্যই নেওয়া হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত ভোটার শেষ না হয়, ততক্ষণ ভোট গ্রহণ চলবে।’

ছাত্রদলের ভোট বর্জন
গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ভোট শেষ হওয়ার দেড় ঘণ্টা আগে ছাত্রদলের প্যানেল নেতারা ভোট বর্জনের কথা জানান। তাদের অভিযোগ, ব্যাপক অনিয়ম, ভোট কারচুপি ও প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বের কারণে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। গতকাল বেলা সাড়ে ৩টার দিকে মওলানা ভাসানী হলের অতিথি কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদপ্রার্থী তানজিলা হোসাইন বৈশাখী ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। এ সময় প্যানেলের সহসভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থী মো. শেখ সাদী হাসানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈশাখী বলেন, ‘শুরু থেকেই আমাদের আশঙ্কা ছিল এটি সাজানো নির্বাচন হবে। আমরা বারবার প্রশাসনকে জানিয়েছিলাম যে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না, কিন্তু প্রশাসন আমাদের দাবি উপেক্ষা করেছে।’

তানজিলা হোসাইন বৈশাখী অভিযোগ করে বলেন, ‘তাজউদ্দীন হলে আমাদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তালিকায় ভোটারদের ছবি নেই। ২১ নম্বর হলে মব সৃষ্টি করা হয়েছে। জাহানারা ইমাম হলে স্বতন্ত্র প্রার্থীর গায়ে হাত তোলা হয়েছে।’

জাকসু নির্বাচন নিরপেক্ষতা হারিয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘জামায়াত নেতার সরবরাহ করা ওএমআর মেশিন আমরা চাইনি। কিন্তু ওই প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ করা ব্যালটেই ভোট হচ্ছে।’

বৈশাখী বলেন, ‘মেয়েদের হলে একই মেয়ে বারবার ভোট দিতে গেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হচ্ছে না। শিবিরপন্থি সাংবাদিকরা খারাপ ব্যবহার করেছেন ছাত্রদলের প্রার্থীদের সঙ্গে। ছাত্রদলের দাবি, কারচুপি ও প্রহসনের নির্বাচন। প্রশাসন স্পষ্টভাবে নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। কাজেই নির্বাচন বর্জন করতে আমরা বাধ্য হচ্ছি।’

একই অভিযোগ ‘সম্প্রীতির ঐক্য’ প্যানেলের
সম্প্রীতির ঐক্য প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী শরণ এহসান বলেন, ‘বিস্মিত হয়ে দেখছি সকাল থেকে কেন্দ্রগুলোতে নানা অনিয়ম-অসংগতি চলছে। আমাদের প্যানেলের ভিপি প্রার্থীকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ভোট থেকে বাইরে রাখা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘অনিয়মের ধারাবাহিকতায় আজ (বৃহস্পতিবার) ভোট গ্রহণে চূড়ান্ত অনিয়ম এবং প্রশাসনের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ পরিলক্ষিত হচ্ছে। অনেক প্রার্থী ডোপ টেস্ট না করেও প্রার্থী হয়েছেন। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সুস্পষ্ট কোনো বক্তব্য নেই। আমরা সকাল থেকে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র ঘুরে নানা ধরনের অভিযোগ পাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘রোকেয়া হল, কাজী নজরুল ইসলাম হলসহ বিভিন্ন হলে সম্প্রীতির ঐক্য প্যানেলের পোলিং এজেন্টদের দীর্ঘ সময় ঢুকতে দেওয়া হয়নি। প্রশাসনের এমন আচরণ ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। সকাল থেকে অধিকাংশ হলেই ভোটারদের হাতে অমোচনীয় কালির মার্ক দেওয়া হয়নি। এ রকম লুকোচুরি আদতে নির্বাচনের স্বচ্ছতাকেই ভয়াবহভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।’

শরণ এহসান বলেন, ‘প্রতিটি হলেই ছাত্রশিবির ও ছাত্রী সংস্থার কর্মীরা নিজ প্রার্থীদের নাম সংবলিত চিরকুট বিলি করেছেন। যার তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করেছেন বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীরা। এ ছাড়া জাহানারা ইমাম হলে এক শিক্ষার্থীকে মারধরেরও অভিযোগ উঠেছে।’

বাগছাসের অভিযোগ
গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) সমর্থিত শিক্ষার্থী ঐক্য ফ্রন্ট প্যানেলের জিএস প্রার্থী আবু তৌহিদ মোহাম্মদ সিয়াম জাকসু নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, উদাসীনতা ও ‘পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ করেছেন। তাদের অভিযোগ, ব্যালট পেপার ও ওএমআর মেশিন জামায়াতে ইসলামীসংশ্লিষ্ট কোম্পানির মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, ভোটকেন্দ্রে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের প্রার্থীরা লিফলেট বিতরণ করেছেন, ভোটার শনাক্তকরণে শিথিলতা ছিল, প্রার্থীদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং অতিরিক্ত ব্যালট পেপার ছাপা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মুরাদ চত্বরে গতকাল দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগের কথা জানান তিনি।

সংশপ্তকের অভিযোগ 
এই প্যানেলের নেতারা বলেছেন, ১৫ নম্বর ছাত্রী হলে ছাত্রসংস্থার কর্মীরা জাল ভোট দিয়েছে এবং ভোটকক্ষে পূরণকৃত ব্যালট পাওয়া গেছে। শহিদ সালাম-বরকত হলে মোট ভোটার সংখ্যা ২৯৯ জন হলেও সেখানে ব্যালট পেপার পাঠানো হয়েছে ৪০০টি। ভোটার তালিকায় ছবি যুক্ত না থাকায় যে-কেউ এসে ভোট দিতে পেরেছেন। রফিক-জব্বার হলেও এ ধরনের ঘটনার প্রমাণ মিলেছে। প্রতিটি হলে বিভিন্ন সংগঠনের বহিরাগতদের অবস্থান লক্ষ করা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুরো প্রক্রিয়ায় পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছে। এক বিবৃতিতে সংশপ্তক পর্ষদ জানিয়েছে, ‘এই অনিয়মের কারণে আমরা জাকসু নির্বাচন বর্জন করছি, আসলে সব জায়গা শিবির ও প্রশাসনের দখলে। একই সঙ্গে সব প্যানেল ও শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি- আসুন ভেদাভেদ ভুলে প্রশাসন ও ছাত্রশিবিরের এই ভোট ডাকাতির চক্রান্ত প্রতিহত করতে একতাবদ্ধ হই।’

কেন্দ্র ছাড়লেন বিএনপিপন্থি তিন শিক্ষক
জাকসু নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন করেছেন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের তিন শিক্ষক। গতকাল বিকেল ৪টার আগেই তারা কেন্দ্র ত্যাগ করেন। ভোট বর্জনকারী শিক্ষকরা হলেন- ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক নাহরীন ইসলাম খান, গণিত বিভাগের অধ্যাপক নজরুল ইসলাম ও বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শামীমা সুলতানা।

কেন্দ্র ত্যাগের পর তারা নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের সামনে সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক নাহরীন ইসলাম খান বলেন, ‘প্রশাসন শুরু থেকেই দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করেছে। নানা অনিয়ম ও কারসাজির মাধ্যমে নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করেছে। আমরা মনে করি, এ ধরনের নির্বাচনের দায়ভার দায়িত্বশীল শিক্ষকদের নেওয়া উচিত নয়। তাই প্রতিবাদের জায়গা থেকে আমরা এই নির্বাচনকে বর্জন করেছি।’

ভোট গণনা হবে হাতে
ব্যালট পেপার ও ওএমআর মেশিন নিয়ে বিতর্কের পর জাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে হাতে ভোট গণনার সিদ্ধান্ত নেন কর্তৃপক্ষ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনিরুজ্জামান এবং সদস্যসচিব অধ্যাপক রাশেদুল আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ‘জাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন ২০২৫-এর ভোট গণনা কার্যক্রম ম্যানুয়ালি সম্পন্ন করা হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করছি। নির্বাচন কমিশনের সদস্য, ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার বলেছেন, ‘ছাত্রদল অভিযোগ দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন ভোট হাতে গণনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

কেন্দ্রে ছাত্রদল নেতাদের প্রবেশ, হট্টগোল
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫ নম্বর ছাত্রী হলে (সাবেক বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল) ভোট কারচুপির অভিযোগে ভোট গ্রহণ স্থগিত করার পর সেখানে প্রবেশ করেন ছাত্রদল নেতারা। গতকাল বেলা পৌনে ১২টার দিকে ভোটকেন্দ্রে উত্তেজনা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ‘ভোট কারচুপির জন্য ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে’- এমন দাবি তুলে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী শেখ সাদী হাসান এবং জিএস প্রার্থীসহ ৫-৭ জন নেতা-কর্মী হলে প্রবেশ করেন। তারা কেন্দ্রের সামনে গেলে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় ‘হলের ভেতরে ছাত্র কেন’- স্লোগান তুলে প্রতিবাদ জানান ওই হলের ছাত্রীরা। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জাকসুতে শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক পদপ্রার্থী ফারহানা বিনতে জিগার ফারিনা (বাগছাস সমর্থিত ‘শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরাম’ প্যানেল)। তিনি বলেন, ‘এখানে ভোট গ্রহণ স্থগিত ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে ছাত্রদলের নেতারা হলে ঢুকলেন? এটা তো মেয়েদের প্রাইভেসির বিষয়। তারা দল বেঁধে হলে ঢুকে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছেন।’

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ১৫ নম্বর ছাত্রী হলের প্রাধ্যক্ষ শামীমা নাসরীন জলি। তিনি বলেন, ‘হলে কোনো ভোট কারচুপির ঘটনা ঘটেনি। সমস্যা হয়েছিল অমোচনীয় কালি নিয়ে।’

অনিয়মের অভিযোগে দুই হলে সাময়িক ভোট বন্ধ
জাকসু নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হল ও শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ হলে ভোট গ্রহণ সাময়িক বন্ধ রাখা হয়। গতকাল দুপুরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভোটকেন্দ্রের ভেতরে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে এ সিদ্ধান্ত নেন কর্তৃপক্ষ। পরে অবশ্য ভালোভাবেই হল দুটিতে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ব্যালট পেপারে একজন প্রার্থীর ছবির জায়গায় অন্যজনের ছবি বসানো হয়েছে। এতে সহজেই কারচুপির সুযোগ তৈরি হয়েছে। ভোট দেওয়ার পর ভোটারদের হাতে অমোচনীয় কালি দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ ওঠে। এ সময় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলে ভোটকেন্দ্রের বাইরে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।

নতুন নির্বাচন চায় ছাত্রদলসহ বিভিন্ন প্যানেল
নতুন করে তফসিল দিয়ে আবার জাকসু নির্বাচনের দাবি জানিয়ে মিছিল করেছে জাহাঙ্গীরনগর শাখা ছাত্রদল। গতকাল ৯টার দিকে নতুন কলা ভবনসংলগ্ন কবির সরণি থেকে এ মিছিল শুরু হয়। মিছিলে অংশ নেন ছাত্রদল প্যানেলের ভিপি প্রার্থী সাদী, এজিএস প্রার্থী সাজ্জাদ। ছাত্রদলের শতাধিক নেতা-কর্মী এ মিছিল নিয়ে ট্রান্সপোর্ট চত্বর হয়ে চৌরঙ্গী গিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন। মিছিলে তারা ‘প্রহসনের নির্বাচন মানি না’, ‘প্রহসনের জাকসু মানব না’, জাকসু বয়কট’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

ট্রান্সপোর্টে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ছাত্রদল জাবি শাখার আহ্বায়ক জহিরউদ্দিন বাবর বলেন, ‘ছাত্রদল সর্বপ্রথম জাকসু নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আশ্বস্ত করেছিল। আমরা বিশ্বাস করেছিলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় তারা প্রথম থেকেই তা করেনি। সকালে যখন আমাদের পোলিং এজেন্টরা হলে হলে যায় তখন তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়। ভোট নিয়ে অনিয়ম ও কারসাজি হয়েছে। নতুন নির্বাচন চেয়ে গতকাল রাতে জাবি ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছে সম্প্রীতির ঐক্য, সংশপ্তক পর্ষদ, স্বতন্ত্র অঙ্গীকার পর্ষদ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (মোট ৪টি প্যানেল) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

চুয়েট জব ফেয়ার-২০২৬: চাকরিপ্রত্যাশীদের পদচারণায় মুখর ক্যাম্পাস

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৪:৩৭ পিএম
চুয়েট জব ফেয়ার-২০২৬: চাকরিপ্রত্যাশীদের পদচারণায় মুখর ক্যাম্পাস
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘চুয়েট জব ফেয়ার-২০২৬’।

শনিবার (১৩ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্কেটবল মাঠে আয়োজিত এ চাকরি মেলা ছিল তিন দিনব্যাপী ‘চুয়েট ক্যারিয়ার ফেস্ট ২০২৬’-এর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।

সকাল থেকেই চাকরি মেলায় শিক্ষার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্কেটবল মাঠজুড়ে স্থাপিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টলে ভিড় করেন চাকরিপ্রত্যাশীরা। কেউ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কর্মপরিবেশ, নিয়োগ প্রক্রিয়া ও ক্যারিয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন, আবার কেউ সরাসরি জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) জমা দেন। পুরো এলাকা দিনভর ছিল উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত।

মেলায় এন. মোহাম্মদ গ্রুপ, বিএসআরএম, প্রাণ, সিনজেনটা, ইস্পাহানিসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় একাধিক প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের বিভিন্ন সুযোগ সম্পর্কে ধারণা দেন।

প্রাণ গ্রুপের নিয়োগ ও মানবসম্পদ বিভাগের সহকারী ম্যানেজার মো. জুবায়ের হোসেন খবরের কাগজকে জানান, “আজকের এই মেলার পরিবেশ অসাধারণ। গত দুই-তিন বছরের তুলনায় এবার প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আমরা বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছি। প্রোডাকশন, মেইনটেন্যান্স, সাপ্লাই চেইন, আইটি প্রভৃতি ক্ষেত্রে আমরা তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল, যন্ত্রকৌশল, বস্তু ও ধাতব কৌশল  বিভাগের শিক্ষার্থীদের প্রতি আমাদের আগ্রহ রয়েছে। নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যপুস্তক জ্ঞানের পাশাপাশি ইতিবাচক উপস্থাপনার দিকেও আমাদের নজর থাকে। ”

টেকসই ও নিরাপদ কৃষি নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান সিনজেনটার সহকারী ম্যানেজার প্রদীপ্ত সাহা জানান, “অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও উদ্দীপনা আমাদের মুগ্ধ করেছে। প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইইই, যন্ত্রকৌশল, মেকাট্রনিক্স বিভাগ থেকে আমরা প্রতিবছরই ইন্টার্ন শিক্ষার্থী নেই। ইতোমধ্যেই চুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী নুসরাত ও পরশ আমাদের প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত আছেন। দক্ষতা ও নিজেকে উপস্থাপনায় পারদর্শী শিক্ষার্থীরা যাতে আমাদের সাথে যুক্ত হয়, সেই আশাবাদ ব্যক্ত করছি।”

চাকরি মেলায় অংশ নেওয়া যন্ত্রকৌশল বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী সিয়াম ইসলাম বলেন, “একসঙ্গে এতগুলো প্রতিষ্ঠানের কাছে সিভি জমা দেওয়ার সুযোগ পাওয়া সত্যিই দারুণ অভিজ্ঞতা। এতে চাকরির বাজার সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পাওয়া যায় এবং নিজের প্রস্তুতি যাচাই করার সুযোগ তৈরি হয়।”

চুয়েট ক্যারিয়ার ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অংকন চৌধুরী বলেন, “চাকরি মেলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা করপোরেট জগতের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের সুযোগ পেয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে তারা নিজেদের ক্যারিয়ার পরিকল্পনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা লাভ করতে পেরেছে।”

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুপুর ১ পর্যন্ত আয়োজিত এ চাকরি মেলায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঁচ শতাধিক জীবনবৃত্তান্ত জমা পড়েছে। 

উল্লেখ্য, গত ১১ জুন শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী ‘চুয়েট ক্যারিয়ার ফেস্ট ২০২৬’-এর প্রথম দিনে অনুষ্ঠিত হয় হুয়াওয়ে প্রযুক্তিগত কর্মশালা এবং অন-ক্যাম্পাস নিয়োগ পরীক্ষা। দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত হয় উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন, রবি আজিয়াটা প্রযুক্তিগত কর্মশালা, করপোরেট সেশন, বিসিএস ও ব্যাংক চাকরি প্রস্তুতিবিষয়ক আলোচনা এবং কেস কম্পিটিশন ‘প্রেজেন্টএক্স’-এর সেমিফাইনাল ও ফাইনাল পর্ব।

উৎসবের শেষ দিনে চাকরি মেলার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও উদ্যোক্তা উন্নয়নবিষয়ক সেমিনার, করপোরেট দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালা, সমাপনী অনুষ্ঠান এবং পুরস্কার বিতরণের আয়োজন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘চুয়েট ক্যারিয়ার ফেস্ট ২০২৬’-এর সফল সমাপ্তি ঘটে।

ইবাদ হোসেন/এসএন

পরিবেশ রক্ষায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ জাককানইবির এক শিক্ষার্থীর

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৩:২৩ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৩:৩৩ পিএম
পরিবেশ রক্ষায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ জাককানইবির এক শিক্ষার্থীর
ছবি: সংগৃহীত

ট্রেন ছুটে চলেছে নড়াইল থেকে ঢাকার পথে। আর ওই ছুটে চলা সময়েই প্রকৃতিকে সাজানোর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) শিক্ষার্থী শেখ সাকিবুর রহমান। তিনি নড়াইল থেকে ঢাকায় রূপসী বাংলা এক্সপ্রেসে যাওয়ার পথে এবং জাহানাবাদ এক্সপ্রেসে ঢাকা থেকে নড়াইলে ফেরার পথে রেললাইনের দুই ধারে ২০ হাজার খেজুর বীজ ও এক হাজার কাঁঠালের বীজ ছড়িয়েছেন।

মঙ্গলবার (৯ জুন) গাছ বন্ধু নেটওয়ার্কের সহযোগিতায় তিনি গাছের বীজ ছড়ানোর মতো মহৎ একটি কাজ করেন।

শেখ সাকিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের একজন শিক্ষার্থী। বীজ ছড়ানোর বিষয়ে তিনি খবরের কাগজকে বলেন, কিছু পাগলামিতে যদি কিছু জীবনের জন্ম হয় তো আমি এমন পাগলামি বারবার করতে চাই। গাছ আমাদের বন্ধু। আর তাল গাছ, খেজুর গাছ এগুলো বজ্রপাত প্রতিরোধী। এজন্য গাছ লাগানোর ক্ষেত্রে আমি এই দুটো গাছ বেশি লাগাই যেন বজ্রপাতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হয়। কিন্তু আজ পৃথিবীতে অতিরিক্ত হারে গাছ কাটা হচ্ছে। যা নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করছে প্রকৃতিতে। চারিদিকে যখন গাছ কাটার মহোৎসব চলছে, তখন আমি প্রকৃতিতে কিছু প্রাণের সঞ্চার করার জন্য এই বীজ ছড়িয়েছি। সবুজ ছড়িয়ে পড়ুক সারা বিশ্বে।

উল্লেখ্য, তিনি এর আগেও এমন সামাজিক কাজকর্ম করেছেন। গত ১১ মে নিজ উদ্যোগে নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবন সংলগ্ন পুকুরের প্লাস্টিক ও অপচনশীল বর্জ্য পরিষ্কার করেন।

এ ছাড়াও ১৬ মে তিনি বিভিন্ন দেয়াল ও বেলকনিতে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো ৪৫-৫০টি বটগাছের চারা সংগ্রহ করে ত্রিশাল উপজেলার বিভিন্ন রাস্তা ঘুরে ঘুরে রাস্তার পাশ দিয়ে ও বিভিন্ন ব্রিজের পাশে রোপণ করেন।

তাসনিম রাফি/তামান্না রুপা/

শাবিপ্রবি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ জ্বালানিপ্রতিষ্ঠানে ড. সাকিব

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম
শাবিপ্রবি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ জ্বালানিপ্রতিষ্ঠানে ড. সাকিব
কর্মস্থলে সহকর্মীদের সঙ্গে ড. আহমেদ নাজমুস সাকিব। ছবি : সংগৃহীত

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রাক্তন শিক্ষার্থী ড. আহমেদ নাজমুস সাকিব যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় জ্বালানিপ্রতিষ্ঠান ডিটিই এনার্জির সিনিয়র প্রকৌশলী পদে যোগদান করেছেন। 

এই অর্জন শুধু তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবদান। বহির্বিশ্বে ড. সাকিবের কর্মদক্ষতা বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সক্ষমতার আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। 

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড পলিমার সায়েন্স বিভাগের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সাকিব যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ খাতের অন্যতম বড় প্রতিষ্ঠান ডিটিই এনার্জির বিদ্যুৎ, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রতিষ্ঠানটি লাখো গ্রাহককে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়ার পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রযুক্তির উন্নয়নেও কাজ করছে।

এমন একটি প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র প্রকৌশলী হিসেবে ড. সাকিবের যোগদান তার দক্ষতা ও গবেষণা সক্ষমতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বহন করে।

শাবিপ্রবির কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড পলিমার সায়েন্স বিভাগ থেকে একাডেমিক ভিত্তি গড়ে তোলা ড. সাকিব শুরু থেকেই গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনী কাজের প্রতি আগ্রহী ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে অর্জিত জ্ঞান, গবেষণাভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছেছেন। 

তার পদায়নে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান বিশ্বে জ্বালানি খাতে প্রযুক্তিগত রূপান্তর এবং টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় দক্ষ প্রকৌশলীদের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। ড. আহমেদ নাজমুস সাকিবের এই সাফল্য বাংলাদেশের তরুণ প্রকৌশলীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

ইসফাক আলী/আজহার

গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির অগ্রণী ভূমিকা

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১২:১৮ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ১২:৩০ পিএম
গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির অগ্রণী ভূমিকা
ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ব্যবহারিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক প্রকৌশল শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদে আধুনিক ল্যাবরেটরি, ফলাফলভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা বা Outcome-Based Education (OBE), ডিজিটাল লার্নিং প্ল্যাটফর্ম, গবেষণামুখী পরিবেশ এবং শিল্প-সংযুক্ত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

প্রকৌশল শিক্ষায় তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের বিষয় টিকে গুরুত্ব দিয়ে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে বর্তমানে ৫৫টিরও বেশি আধুনিক ও সুসজ্জিত ল্যাবরেটরি রয়েছে।

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, মেকাট্রনিক্সসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ল্যাব কার্যক্রম, প্রজেক্ট ডিজাইন, গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর অনুশীলনের মাধ্যমে বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে।

বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার গুরুত্ব বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়টি একটি সমন্বিত ডিজিটাল লার্নিং প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা লাইভ ক্লাস, লেকচার, অ্যাসাইনমেন্ট, একাডেমিক মূল্যায়ন, আলোচনা ফোরাম এবং অন্যান্য শিক্ষাসহায়ক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারে। পাশাপাশি সমৃদ্ধ ই-লাইব্রেরির মাধ্যমে দেশি-বিদেশি গবেষণা জার্নাল, ই-বুক ও একাডেমিক প্রকাশনায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল শিক্ষা যুগোপযোগী কারিকুলামের পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত Outcome-Based Education (OBE) কাঠামোর আলোকে পরিচালিত হয়। এই পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষার ফলাফলের ওপর নয়, বরং সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, উদ্ভাবনী চিন্তা, গবেষণার সামর্থ্য এবং পেশাগত প্রস্তুতির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের গুণগত মান নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের Institutional Quality Assurance Cell (IQAC) সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

IQAC-এর মাধ্যমে নিয়মিত একাডেমিক অডিট, পাঠদান পদ্ধতির মূল্যায়ন এবং ধারাবাহিক মানোন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষার উৎকর্ষ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে IQAC বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও সচেতনতামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে।

ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের অন্যতম শক্তি হলো এর দক্ষ ও গবেষণামুখী শিক্ষকবৃন্দ। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০ জনের বেশি অভিজ্ঞ ও যোগ্যতাসম্পন্ন পূর্ণকালীন শিক্ষক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৫০ জনের বেশি পিএইচডি ডিগ্রিধারী শিক্ষক ও গবেষক কর্মরত আছেন। তাঁদের শিক্ষা, গবেষণা ও একাডেমিক নেতৃত্ব শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সমৃদ্ধ শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করেছে।

ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ নিয়মিতভাবে গবেষণা কার্যক্রমে আর্থিক সহায়তা প্রদান, গবেষণা অনুদান বা Research Grant বরাদ্দ এবং বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্পে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করে থাকে। শিক্ষক ও গবেষকদের আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা, জার্নাল প্রকাশনা, সম্মেলনে অংশগ্রহণ এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও তহবিল প্রদান করা হচ্ছে। এর ফলে গবেষণামুখী শিক্ষার পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরাও গবেষণা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

শিল্প-সংযোগ আরও শক্তিশালী করতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ১০০টিরও বেশি সমঝোতা স্মারক বা MoU স্বাক্ষরিত হয়েছে। এসব সহযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টার্নশিপ, শিল্প-সংযুক্ত প্রশিক্ষণ, যৌথ গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কনসালটিং ফার্ম, নির্মাণপ্রতিষ্ঠান, সফটওয়্যার কোম্পানি এবং প্রযুক্তি খাতে
ইন্টার্নশিপ ও প্রকল্পভিত্তিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছে।

নিয়মিত সেমিনার, ওয়ার্কশপ, ইন্ডাস্ট্রি ভিজিট, টেকনিক্যাল প্রতিযোগিতা এবং ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট কার্যক্রমের মাধ্যমেও শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্র- উপযোগী দক্ষতা অর্জনে উৎসাহিত করা হয়।

কর্মজীবী ও ডিপ্লোমা প্রকৌশলী শিক্ষার্থীদের জন্যও বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ একাডেমিক ব্যবস্থা রয়েছে। তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব ও সময়ের বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে শুক্রবার ও শনিবার তাত্ত্বিক ক্লাসের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ল্যাব ক্লাস পরিচালনা করা হয়। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে পরিবহন সুবিধা প্রদান করা হয়।

শিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার প্রতিফলন হিসেবে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন র‌্যাঙ্কিংয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। WURI Ranking 2026-এ বিশ্বের উদ্ভাবনী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ১৩৩তম স্থান এবং বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ৪র্থ অবস্থান অর্জন করেছে।

পাশাপাশি Financial Impact-Driven Technology Transfer (C8) ক্যাটাগরিতে ৭ম, Digital and AI Transformation in Strategy and Management (B3) ক্যাটাগরিতে ৮ম, Funding for Sustainability (B5) ক্যাটাগরিতে ১৫তম, Future-Oriented Responses to Global Uncertainty and
Geopolitical Risk (A7) ক্যাটাগরিতে ২১তম এবং Industrial Application (A3) ক্যাটাগরিতে ২৪তম স্থান অর্জন করেছে। একইভাবে QS Asia University Rankings 2026 এবং UI GreenMetric World University Rankings 2025-এও বিশ্ববিদ্যালয়টির অর্জন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এর ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতা, উদ্ভাবনী সক্ষমতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক উৎকর্ষতার স্বীকৃতি বহন করে।

ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ আধুনিক অবকাঠামো, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কারিকুলাম, গবেষণামুখী শিক্ষা, শিল্প-একাডেমিক সহযোগিতা এবং দক্ষ শিক্ষকবৃন্দের সমন্বয়ে জাতীয় ও বৈশ্বিক চাহিদা পূরণে সক্ষম প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদ তৈরির লক্ষ্যে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।দেশের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ওমানবসম্পদ বিকাশেও বিশ্ববিদ্যালয়টি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

বিজ্ঞপ্তি

প্রাইম ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ৩য় পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১১:০৩ এএম
প্রাইম ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ৩য় পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত
ছবি: খবরের কাগজ

প্রাইম ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন (চটঅঅ)-এর উদ্যোগে প্রাইম ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে বহুল প্রতীক্ষিত ‘৩য় পুনর্মিলনী-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়।

শুক্রবার (১২ জুন) বেলা ১১টায় এই পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়। এই পুনর্মিলনীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও ব্যাচের বিপুল সংখ্যক অ্যালামনাই অংশগ্রহণ করেন। 

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মাহমুদ হাসান নিসান, সাংগঠনিক সম্পাদক ও আবু সালেহ, ইইই বিভাগ, প্রাইম ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাইম ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী দীন মোহাম্মদ খসরু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মীর সাহাবুদ্দীন, সাবেক চেয়ারম্যান, বোর্ড অব ট্রাস্টিজ, মামুন সোবহান, সদস্য, বোর্ড অব ট্রাস্টি, ফিরোজ মাহমুদ হোসাইন, সদস্য, বোর্ড অব ট্রাস্টিজ এবং প্রফেসর ড. আবদুর রহমান, উপ-উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) ও কোষাধ্যক্ষ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রাইম ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন (চটঅঅ) এর সভাপতি এস. এম. মেহেদী আকরাম। এ উপলক্ষে আয়োজিত পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে বক্তারা অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের বিভিন্ন কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যালামনাইদের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে সংগঠনটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।

এছাড়াও খোন্দকার হাসানুজ্জামান, আহ্বায়ক, ৩য় পুনর্মিলনী আয়োজক কমিটি, গোলাম সারোয়ার, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট (চটঅঅ) এবং বিভিন্ন বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। তারা এ ধরনের আয়োজনকে অ্যালামনাইদের পারস্পরিক যোগাযোগ, পেশাগত নেটওয়ার্কিং এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সক্রিয় অংশগ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করেন।

দিনব্যাপী এ আয়োজনে ছিল অ্যালামনাইদের মিলনমেলা, স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, র‌্যাফেল ড্র, সম্মাননা প্রদান এবং প্রীতিভোজ। এছাড়া জনপ্রিয় ব্যান্ড ও সংগীতশিল্পীদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠানে যোগ হয় এক বিশেষ মাত্রা। সাংস্কৃতিক পর্বে অংশ নেয় প্রাইম ইউনিভার্সিটির সাংস্কৃতিক দল, কারার সুফি ব্যান্ড, দাগ ব্যান্ডসহ দেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীরা।

প্রাইম ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন যে, এ পুনর্মিলনী অ্যালামনাইদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি তাদের সম্পৃক্ততা ও অবদানকে আরও গতিশীল করবে।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী অ্যালামনাই, অতিথি, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও আয়োজকদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয়।

অন্তরা/